📄 ওযীফার চেয়ে গোনাহ ছাড়ার বিষয়ে অধিক যত্নবান হওয়া উচিত
মোটকথা, অধিক নফল ইবাদতে নিমগ্ন তো ভালো কাজ, কিন্তু এর চেয়ে অধিক জরুরী কাজ হলো গোনাহ থেকে বাঁচা। আমার কাছে প্রতিদিন অনেক মানুষের বিশেষ করে মহিলাদের ফোন আসে যে, অমুক কাজের দু'আ বলে দিন, অমুক উদ্দেশ্য সাধনের দু'আ বলে দিন। কতক মহিলার ধারণা প্রত্যেক উদ্দেশ্য সাধনের পৃথক দু'আ রয়েছে, পৃথক ওযীফা আছে। আরে ভাই! এসব দু'আ ও ওযীফার ফযীলত রয়েছে, কিন্তু যাতে গোনাহ না হয় এ বিষয়ে অধিক যত্নশীল হওয়া দরকার। নিজেও গোনাহ থেকে বাঁচুন, নিজের পরিবার-পরিজন এবং সন্তানদেরকেও গোনাহ থেকে বাঁচান। যতক্ষণ পর্যন্ত এ কাজ করবেন না, ততক্ষণ পর্যন্ত মনে রাখবেন এসব ওযীফা কোনো কাজে আসবে না। ওযীফা তখন কাজে আসে, যখন অন্তরে গোনাহ থেকে বাঁচার ফিকির ও তার উদ্দীপনা থাকে। গোনাহ থেকে বাঁচার প্রতি যখন গুরুত্ব থাকে তখন এ সমস্ত ওযীফা ও দু'আর দ্বারা অন্তরে শক্তি ও সাহস সঞ্চার হয়। ফলে গোনাহ থেকে বাঁচা সহজ হয়। কিন্তু যদি গোনাহ থেকে বাঁচার চিন্তা- চেষ্টা না থাকে, গাফলতীর মধ্যে সময় কাটে, সাথে ওযীফা ও নফল চলতে থাকে, তখন এসব ওযীফা দ্বারা কোনো ফায়দা হয় না।
📄 গোনাহের উপর সমীক্ষা চালান
সারকথা হলো, আমাদেরকে গোনাহ থেকে বাঁচার চিন্তা-চেষ্টা করতে হবে। নিজের জীবনের সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সমীক্ষা চালাতে হবে। গোনাহের তালিকা তৈরী করতে হবে। কোন কোন কাজ আল্লাহর মর্জির বিরুদ্ধে হচ্ছে। তারপর দেখতে হবে যে, এ সমস্ত গোনাহের মধ্যে থেকে কোন কোন গোনাহ অবিলম্বে ছাড়া সম্ভব, সেগুলোকে তাৎক্ষণিকভাবে ছেড়ে দিবে। যে সমস্ত গোনাহ ছাড়ার জন্য কোনো ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে, সেগুলোর জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। নিজের সমস্ত গোনাহ থেকে তাওবা ও ইসতিগফার করবে। আল্লাহ দিকে প্রত্যাবর্তন করবে। আল্লাহ তা'আলা আমাদের সকলকে গোনাহ থেকে বাঁচার সাহস ও তাওফীক দান করুন।
📄 তাহাজ্জুদগুজার থেকে অগ্রগামী হওয়ার উপায়
এক হাদীসে উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি. বলেন, যে ব্যক্তির বাসনা রয়েছে যে, আমি ইবাদতগুজার ও তাহাজ্জুদগুজার ব্যক্তির চেয়ে অগ্রগামী হবো, সে যেন নিজেকে গোনাহ থেকে দূরে রাখে। যেমন আমরা আল্লাহ ওয়ালাদের জীবনীতে পড়ি যে, তারা সারারাত ইবাদত করতেন, এতো রাকাত নফল নামায পড়তেন, এতো পারা কুরআন তিলাওয়াত করতেন, এখন কেউ যদি চায় যে, আমি ঐ ইবাদতগুজার ব্যক্তির চেয়ে অগ্রগামী হবো, তাহলে সে যেন নিজেকে গোনাহ থেকে বাঁচিয়ে রাখে। গোনাহ থেকে বাঁচার কারণে ইনশাআল্লাহ তারাও মুক্তি লাভ করবে, আপনিও মুক্তি লাভ করবেন। তারাও যদি গোনাহ থেকে বেঁচে থাকেন তাহলে এতটুকু মাত্র পার্থক্য হবে যে, তারা উঁচু মর্যাদার অধিকারী হবেন আর আপনি হবেন নিম্ন মর্যাদার অধিকারী। কিন্তু মুক্তি লাভের ব্যাপারে উভয়ে সমান হবেন। আর যদি কোনো ব্যক্তি ইবাদতও করতো সাথে গোনাহের কাজও করতো তাহলে আপনি তার চেয়ে সম্মুখে অগ্রসর হবেন। কারণ, আপনি নিজেকে গোনাহ থেকে বাঁচিয়েছেন।
📄 মুমিন ও তার ঈমানের দৃষ্টান্ত
অপর একটি হাদীস হযরত আবু সাঈদ খুদরি রাযি. থেকে বর্ণিত। হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, একজন মুমিন এবং তার ঈমানের দৃষ্টান্ত এমন, যেমন একটি ঘোড়া লম্বা রশি দিয়ে খুঁটির সঙ্গে বাধা রয়েছে, যার ফলে ঐ ঘোড়া ঘুরতে থাকে কিন্তু একটি সীমানায় গিয়ে ঐ খুঁটি তাকে আটকিয়ে ফেলে। ঐ ঘোড়া সামান্য চক্কর দিয়ে আবার ফিরে এসে ঐ খুঁটির নিকট বসে পড়ে। এভাবে ঐ খুঁটি দুটি কাজ করে। একটি হলো, সে ঘোড়াকে বিশেষ একটি সীমানা থেকে সম্মুখে অগ্রসর হতে বাধা দেয়। দ্বিতীয় হলো, ঐ খুঁটি ঘোড়াটির আশ্রয়স্থল হয়। ঘোড়া এদিক সেদিক চক্কর লাগিয়ে আবার ঐ খুঁটির কাছে এসেই বসে পড়ে।'
এই দৃষ্টান্ত বর্ণনা করে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, মুমিনের খুঁটি হলো তার ঈমান। ঈমানের দাবি হলো, মুমিন ব্যক্তি একটি সীমা পর্যন্ত এদিক সেদিক ঘুরবে, চক্কর দিবে, কিন্তু সীমার চেয়ে আগে বাড়তে চাইলে ঈমান তার রশি টেনে ধরবে। এদিক সেদিক ঘোরার পর অবশেষে মুমিন ব্যক্তি তার ঈমানের খুঁটির কাছে ফিরে আসবে। এ হাদীসের উদ্দেশ্য হলো, মুমিন ব্যক্তির ঈমান এতো শক্তিশালী হয় যে, সে তাকে গোনাহ করতে দেয় না। কখনো ভুলে গোনাহ হয়ে গেলে ফিরে আবার সে ঈমানের খুঁটির কাছে চলে আসে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কতো চমৎকার দৃষ্টান্ত দিয়েছেন। আল্লাহ তা'আলা নিজ অনুগ্রহে আমাদের এই খুঁটিকে শক্তিশালী করে দিন。
টিকাঃ
১. মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১০৯০৭