📄 খুন-খারাবির একমাত্র সমাধান
আজ আমরা এ সমস্ত হত্যাকাণ্ড ও খুন-খারাবির বিভিন্ন সমাধান খুঁজছি। কেউ বলছে রাজনৈতিক সমাধান প্রয়োজন এবং কেউ বলছে পারস্পরিক আলোচনার প্রয়োজন। বিভিন্ন উপায় আমরা তালাশ করছি। কিন্তু আমাদের জানা নেই যে, এ সব বিপর্যয়ের মূল কারণ গোনাহের বিস্তার ঘটা। কোনো জাতির মধ্যে যখন গোনাহের বিস্তার ঘটে তখন আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে তাদের বদ আমলের পরিণতি স্বরূপ এই অবস্থার বিস্তার ঘটানো হয়। এজন্য সেদিকে মনযোগ দেওয়া উচিত। আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে সুস্থ বুদ্ধি দান করুন। এসব গোনাহ ছাড়ার তাওফীক দান করুন। আমাদের প্রথম কাজ আল্লাহ তা'আলার সামনে নিজেদের সমস্ত গোনাহ থেকে তাওবা করা। বদ আমলের পরিণতি থেকে পানাহ চাওয়া। আল্লাহ তা'আলার নিকট দু'আ করুন, হে আল্লাহ! আমাদের থেকে আমাদের মন্দ কর্মের অশুভ পরিণতি দূর করে দিন।
📄 ওযীফার চেয়ে গোনাহ ছাড়ার বিষয়ে অধিক যত্নবান হওয়া উচিত
মোটকথা, অধিক নফল ইবাদতে নিমগ্ন তো ভালো কাজ, কিন্তু এর চেয়ে অধিক জরুরী কাজ হলো গোনাহ থেকে বাঁচা। আমার কাছে প্রতিদিন অনেক মানুষের বিশেষ করে মহিলাদের ফোন আসে যে, অমুক কাজের দু'আ বলে দিন, অমুক উদ্দেশ্য সাধনের দু'আ বলে দিন। কতক মহিলার ধারণা প্রত্যেক উদ্দেশ্য সাধনের পৃথক দু'আ রয়েছে, পৃথক ওযীফা আছে। আরে ভাই! এসব দু'আ ও ওযীফার ফযীলত রয়েছে, কিন্তু যাতে গোনাহ না হয় এ বিষয়ে অধিক যত্নশীল হওয়া দরকার। নিজেও গোনাহ থেকে বাঁচুন, নিজের পরিবার-পরিজন এবং সন্তানদেরকেও গোনাহ থেকে বাঁচান। যতক্ষণ পর্যন্ত এ কাজ করবেন না, ততক্ষণ পর্যন্ত মনে রাখবেন এসব ওযীফা কোনো কাজে আসবে না। ওযীফা তখন কাজে আসে, যখন অন্তরে গোনাহ থেকে বাঁচার ফিকির ও তার উদ্দীপনা থাকে। গোনাহ থেকে বাঁচার প্রতি যখন গুরুত্ব থাকে তখন এ সমস্ত ওযীফা ও দু'আর দ্বারা অন্তরে শক্তি ও সাহস সঞ্চার হয়। ফলে গোনাহ থেকে বাঁচা সহজ হয়। কিন্তু যদি গোনাহ থেকে বাঁচার চিন্তা- চেষ্টা না থাকে, গাফলতীর মধ্যে সময় কাটে, সাথে ওযীফা ও নফল চলতে থাকে, তখন এসব ওযীফা দ্বারা কোনো ফায়দা হয় না।
📄 গোনাহের উপর সমীক্ষা চালান
সারকথা হলো, আমাদেরকে গোনাহ থেকে বাঁচার চিন্তা-চেষ্টা করতে হবে। নিজের জীবনের সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সমীক্ষা চালাতে হবে। গোনাহের তালিকা তৈরী করতে হবে। কোন কোন কাজ আল্লাহর মর্জির বিরুদ্ধে হচ্ছে। তারপর দেখতে হবে যে, এ সমস্ত গোনাহের মধ্যে থেকে কোন কোন গোনাহ অবিলম্বে ছাড়া সম্ভব, সেগুলোকে তাৎক্ষণিকভাবে ছেড়ে দিবে। যে সমস্ত গোনাহ ছাড়ার জন্য কোনো ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে, সেগুলোর জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। নিজের সমস্ত গোনাহ থেকে তাওবা ও ইসতিগফার করবে। আল্লাহ দিকে প্রত্যাবর্তন করবে। আল্লাহ তা'আলা আমাদের সকলকে গোনাহ থেকে বাঁচার সাহস ও তাওফীক দান করুন।
📄 তাহাজ্জুদগুজার থেকে অগ্রগামী হওয়ার উপায়
এক হাদীসে উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি. বলেন, যে ব্যক্তির বাসনা রয়েছে যে, আমি ইবাদতগুজার ও তাহাজ্জুদগুজার ব্যক্তির চেয়ে অগ্রগামী হবো, সে যেন নিজেকে গোনাহ থেকে দূরে রাখে। যেমন আমরা আল্লাহ ওয়ালাদের জীবনীতে পড়ি যে, তারা সারারাত ইবাদত করতেন, এতো রাকাত নফল নামায পড়তেন, এতো পারা কুরআন তিলাওয়াত করতেন, এখন কেউ যদি চায় যে, আমি ঐ ইবাদতগুজার ব্যক্তির চেয়ে অগ্রগামী হবো, তাহলে সে যেন নিজেকে গোনাহ থেকে বাঁচিয়ে রাখে। গোনাহ থেকে বাঁচার কারণে ইনশাআল্লাহ তারাও মুক্তি লাভ করবে, আপনিও মুক্তি লাভ করবেন। তারাও যদি গোনাহ থেকে বেঁচে থাকেন তাহলে এতটুকু মাত্র পার্থক্য হবে যে, তারা উঁচু মর্যাদার অধিকারী হবেন আর আপনি হবেন নিম্ন মর্যাদার অধিকারী। কিন্তু মুক্তি লাভের ব্যাপারে উভয়ে সমান হবেন। আর যদি কোনো ব্যক্তি ইবাদতও করতো সাথে গোনাহের কাজও করতো তাহলে আপনি তার চেয়ে সম্মুখে অগ্রসর হবেন। কারণ, আপনি নিজেকে গোনাহ থেকে বাঁচিয়েছেন।