📄 গোনাহের তৃতীয় খারাবি অন্ধকার
আমরা গোনাহের পরিবেশে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। এজন্য গোনাহের অন্ধকার ও ঘৃণা আত্মা থেকে মুছে গেছে। অন্যথায় প্রত্যেক গোনাহের মধ্যে এমন অন্ধকার ও ঘৃণা রয়েছে যে, আল্লাহ তা'আলা যদি কাউকে সঠিক ও পরিপূর্ণ ঈমান দান করেন তাহলে সে এই অন্ধকার ও ঘৃণাকে সহ্য করতে পারবে না। হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ ইয়াকূব নানুতুবী রহ. বলেন, একবার ভুলক্রমে হারাম আয়ের একটি লোকমা আমার মুখে চলে যায়। এর কারণ এই হয়েছিলো যে, এক ব্যক্তি দাওয়াত করলে তিনি তার ওখানে খানা খেতে যান। পরবর্তীতে জানতে পারেন যে, তার আয় ছিলো হারাম। তিনি বলেন, দুই মাস পর্যন্ত ঐ হারাম খাদ্যের অন্ধকার আমার অন্তরে অনুভব করতাম। এই অন্ধকারের ফলে ঐ দুই মাস অন্তরে বার বার গোনাহের চাহিদা সৃষ্টি হতে থাকে। কখনো এই গোনাহ করতে মন চাইত, কখনো ঐ গোনাহ করতে মন চাইত। এ সব ছিলো একটি গোনাহের প্রভাব ও অন্ধকার।
আমরা গোনাহের পরিবেশে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। এজন্য গোনাহের অন্ধকার ও ঘৃণা আত্মা থেকে মুছে গেছে। অন্যথায় প্রত্যেক গোনাহের মধ্যে এমন অন্ধকার ও ঘৃণা রয়েছে যে, আল্লাহ তা'আলা যদি কাউকে সঠিক ও পরিপূর্ণ ঈমান দান করেন তাহলে সে এই অন্ধকার ও ঘৃণাকে সহ্য করতে পারবে না। হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ ইয়াকূব নানুতুবী রহ. বলেন, একবার ভুলক্রমে হারাম আয়ের একটি লোকমা আমার মুখে চলে যায়। এর কারণ এই হয়েছিলো যে, এক ব্যক্তি দাওয়াত করলে তিনি তার ওখানে খানা খেতে যান। পরবর্তীতে জানতে পারেন যে, তার আয় ছিলো হারাম। তিনি বলেন, দুই মাস পর্যন্ত ঐ হারাম খাদ্যের অন্ধকার আমার অন্তরে অনুভব করতাম। এই অন্ধকারের ফলে ঐ দুই মাস অন্তরে বার বার গোনাহের চাহিদা সৃষ্টি হতে থাকে। কখনো এই গোনাহ করতে মন চাইত, কখনো ঐ গোনাহ করতে মন চাইত। এ সব ছিলো একটি গোনাহের প্রভাব ও অন্ধকার।
📄 গোনাহে অভ্যস্ত হওয়ার দৃষ্টান্ত
আমাদের অন্তরে গোনাহের অন্ধকার এজন্য অনুভূত হয় না যে, আমরা এগুলোতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। এর দৃষ্টান্ত এমন, যেমন একটি দুর্গন্ধময় ঘর। তার মধ্যে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। পঁচা জিনিস ঐ ঘরে পড়ে আছে। বাহির থেকে কোনো ব্যক্তি ঐ ঘরে গেলে সেখানে সামান্য সময় দাঁড়ানোও তার জন্য কঠিন হয়ে পড়বে, কিন্তু কোনো ব্যক্তি যদি ঐ ঘরেই বসবাস করে, তাহলে ঐ দুর্গন্ধ তার অনুভব হবে না। কারণ, সে তাতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। তার সুগন্ধ আর দুর্গন্ধের বোধশক্তিই নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে সে আরামে ঐ বাড়িতে বাস করে। কেউ যদি তাকে বলে, তুমি এমন নোংরা ও দুর্গন্ধ ঘরে বাস করো! তাহলে সে তাকে পাগল বলবে। বলবে, আমি তো খুব আরামে এ বাড়িতে রয়েছি। এখানে কোনো প্রকার কষ্ট নেই। কারণ ঐ ব্যক্তি এই দুর্গন্ধে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। আর যে ব্যক্তিকে আল্লাহ তা'আলা ঐ দুর্গন্ধ থেকে হেফাজত করেছেন, বরং সুগন্ধ পরিবেশে রেখেছেন, তার অবস্থা তো এমন হবে যে, দূর থেকে সামান্য দুর্গন্ধ আসলেও তার মাথা খারাপ হয়ে যাবে। এমনিভাবে যারা প্রকৃত ঈমানদার এবং যাদের আত্মা তাকওয়ার কারণে আয়নার মতো স্বচ্ছ, তারা গোনাহের অন্ধকারকে ও ঘৃণা করেন ও তা খুব বেশি অনুভব করেন। মোটকথা, গোনাহের তৃতীয় বড়ো খারাবি ও পরিণতি অন্তরে অন্ধকার সৃষ্টি হওয়া।
আমাদের অন্তরে গোনাহের অন্ধকার এজন্য অনুভূত হয় না যে, আমরা এগুলোতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। এর দৃষ্টান্ত এমন, যেমন একটি দুর্গন্ধময় ঘর। তার মধ্যে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। পঁচা জিনিস ঐ ঘরে পড়ে আছে। বাহির থেকে কোনো ব্যক্তি ঐ ঘরে গেলে সেখানে সামান্য সময় দাঁড়ানোও তার জন্য কঠিন হয়ে পড়বে, কিন্তু কোনো ব্যক্তি যদি ঐ ঘরেই বসবাস করে, তাহলে ঐ দুর্গন্ধ তার অনুভব হবে না। কারণ, সে তাতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। তার সুগন্ধ আর দুর্গন্ধের বোধশক্তিই নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে সে আরামে ঐ বাড়িতে বাস করে। কেউ যদি তাকে বলে, তুমি এমন নোংরা ও দুর্গন্ধ ঘরে বাস করো! তাহলে সে তাকে পাগল বলবে। বলবে, আমি তো খুব আরামে এ বাড়িতে রয়েছি। এখানে কোনো প্রকার কষ্ট নেই। কারণ ঐ ব্যক্তি এই দুর্গন্ধে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। আর যে ব্যক্তিকে আল্লাহ তা'আলা ঐ দুর্গন্ধ থেকে হেফাজত করেছেন, বরং সুগন্ধ পরিবেশে রেখেছেন, তার অবস্থা তো এমন হবে যে, দূর থেকে সামান্য দুর্গন্ধ আসলেও তার মাথা খারাপ হয়ে যাবে। এমনিভাবে যারা প্রকৃত ঈমানদার এবং যাদের আত্মা তাকওয়ার কারণে আয়নার মতো স্বচ্ছ, তারা গোনাহের অন্ধকারকে ও ঘৃণা করেন ও তা খুব বেশি অনুভব করেন। মোটকথা, গোনাহের তৃতীয় বড়ো খারাবি ও পরিণতি অন্তরে অন্ধকার সৃষ্টি হওয়া।
📄 গোনাহের চতুর্থ খারাবি বুদ্ধি নষ্ট হয়ে যাওয়া
গোনাহের চতুর্থ খারাবি এই যে, মানুষ যখন গোনাহ করতে থাকে তখন তার বুদ্ধি নষ্ট হয়ে যায়। তার মত উল্টা হয়ে যায়। তার চিন্তা ও বুঝ ভুল পথে পরিচালিত হয়। তখন সে ভালো জিনিসকে খারাপ এবং খারাপ জিনিসকে ভালো মনে করতে আরম্ভ করে। তাকে যদি সঠিক কথাও নরমভাবে বুঝানো হয় তাহলে তা তার মগজে ঢুকবে না। তার সম্পর্কেই আল্লাহ তা'আলা বলেন, আল্লাহ যাকে বিপথগামী করেন তার হেদায়েতের কোনো পথ নেই। আল্লাহ তা'আলা অহেতুক কাউকে বিপথগামী করেন না। কোনো মানুষ অব্যাহতভাবে নাফরমানী করতে থাকলে তার অকল্যাণে সঠিক কথা তার বুঝেই আসে না।
গোনাহের চতুর্থ খারাবি এই যে, মানুষ যখন গোনাহ করতে থাকে তখন তার বুদ্ধি নষ্ট হয়ে যায়। তার মত উল্টা হয়ে যায়। তার চিন্তা ও বুঝ ভুল পথে পরিচালিত হয়। তখন সে ভালো জিনিসকে খারাপ এবং খারাপ জিনিসকে ভালো মনে করতে আরম্ভ করে। তাকে যদি সঠিক কথাও নরমভাবে বুঝানো হয় তাহলে তা তার মগজে ঢুকবে না। তার সম্পর্কেই আল্লাহ তা'আলা বলেন, আল্লাহ যাকে বিপথগামী করেন তার হেদায়েতের কোনো পথ নেই। আল্লাহ তা'আলা অহেতুক কাউকে বিপথগামী করেন না। কোনো মানুষ অব্যাহতভাবে নাফরমানী করতে থাকলে তার অকল্যাণে সঠিক কথা তার বুঝেই আসে না।
📄 গোনাহ শয়তানের বুদ্ধিকে উল্টিয়ে দিয়েছে
দেখুন! ইবলীস শয়তান হলো গোনাহের উৎস, কেন্দ্র ও প্রতিষ্ঠাতা। কারণ, সর্বপ্রথম সেই এই দুনিয়াতে গোনাহ আবিষ্কার করেছে। নিজেও গোনাহে লিপ্ত হয়েছে এবং হযরত আদম আলাইহিস সালামের মতো মহান নবীকেও বিপথগামী করেছে। এই গোনাহ করার ফলে তার বুদ্ধি উল্টে গেছে। তাই যখন আল্লাহ তা'আলা তাকে হযরত আদম আলাইহিস সালামের সামনে সিজদা করার হুকুম দিলেন তখন সে হুকুম না মেনে উল্টা যুক্তি পেশ করতে আরম্ভ করলো যে, আপনি আমাকে আগুন দ্বারা সৃষ্টি করেছেন আর আদমকে সৃষ্টি করেছেন মাটি দ্বারা। বাহ্যিকভাবে প্রমাণটি খুব চমৎকার। আগুন উত্তম আর তার তুলনায় মাটি অনুত্তম। কিন্তু তার বুদ্ধিতে ধরেনি যে, আগুনও আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন এবং মাটিও আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টিকর্তা যখন হুকুম দিচ্ছেন যে, আগুনের উচিত মাটিকে সিজদা করা তাহলে আগুনের শ্রেষ্ঠত্ব কিভাবে থাকলো, আর মাটিই বা অনুত্তম হলো কিভাবে। একথা তার বুঝে আসেনি। পরিণতিতে সে বিতাড়িত হলো। মারদূদ হলো, লাঞ্ছিত হলো। তাছাড়া আল্লাহ তা'আলার নিকট তাওবার দরজা তো খোলা, মানুষের জন্যও এবং শয়তানের জন্যও। সে যদি বুদ্ধিকে সঠিকভাবে ব্যবহার করে আল্লাহ তা'আলাকে বলতো আমার ভুল হয়ে গেছে আমাকে মাফ করে দিন। আপনি যা বলেছেন আমি তা করবো, কিন্তু এ কথা বলতে সে আজও প্রস্তুত নয়।
দেখুন! ইবলীস শয়তান হলো গোনাহের উৎস, কেন্দ্র ও প্রতিষ্ঠাতা। কারণ, সর্বপ্রথম সেই এই দুনিয়াতে গোনাহ আবিষ্কার করেছে। নিজেও গোনাহে লিপ্ত হয়েছে এবং হযরত আদম আলাইহিস সালামের মতো মহান নবীকেও বিপথগামী করেছে। এই গোনাহ করার ফলে তার বুদ্ধি উল্টে গেছে। তাই যখন আল্লাহ তা'আলা তাকে হযরত আদম আলাইহিস সালামের সামনে সিজদা করার হুকুম দিলেন তখন সে হুকুম না মেনে উল্টা যুক্তি পেশ করতে আরম্ভ করলো যে, আপনি আমাকে আগুন দ্বারা সৃষ্টি করেছেন আর আদমকে সৃষ্টি করেছেন মাটি দ্বারা। বাহ্যিকভাবে প্রমাণটি খুব চমৎকার। আগুন উত্তম আর তার তুলনায় মাটি অনুত্তম। কিন্তু তার বুদ্ধিতে ধরেনি যে, আগুনও আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন এবং মাটিও আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টিকর্তা যখন হুকুম দিচ্ছেন যে, আগুনের উচিত মাটিকে সিজদা করা তাহলে আগুনের শ্রেষ্ঠত্ব কিভাবে থাকলো, আর মাটিই বা অনুত্তম হলো কিভাবে। একথা তার বুঝে আসেনি। পরিণতিতে সে বিতাড়িত হলো। মারদূদ হলো, লাঞ্ছিত হলো। তাছাড়া আল্লাহ তা'আলার নিকট তাওবার দরজা তো খোলা, মানুষের জন্যও এবং শয়তানের জন্যও। সে যদি বুদ্ধিকে সঠিকভাবে ব্যবহার করে আল্লাহ তা'আলাকে বলতো আমার ভুল হয়ে গেছে আমাকে মাফ করে দিন। আপনি যা বলেছেন আমি তা করবো, কিন্তু এ কথা বলতে সে আজও প্রস্তুত নয়।