📄 গোনাহের চিন্তার ক্ষেত্রে মুমিন ও ফাসেক এর পার্থক্য
এক বর্ণনায় হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. বলেন, যেই মুমিন এখনো গোনাহে অভ্যস্ত হয়নি, সে গোনাহকে এমন মনে করে যেমন তার মাথার উপর পাহাড় ভেঙ্গে পড়েছে। আর পাপী ব্যক্তি গোনাহকে এমন হালকা ও মামুলী মনে করে, যেমন নাকের উপর মাছি এসে পড়েছে আর সে হাত মেরে তা উড়িয়ে দিলো। অর্থাৎ, সে গোনাহকে খুব মামুলি মনে করে। গোনাহ করার পর এজন্য তার কোন অনুশোচনা ও অনুতাপ জাগে না। কিন্তু একজন মুমিন যাকে আল্লাহ তা'আলা ঈমানের বরকত দান করেছেন, সে গোনাহকে একটি পাহাড় মনে করে। ভুলে কোনো গোনাহের কাজ হয়ে গেলে তার মাথার উপর পাহাড় ভেঙ্গে পড়ে। ফলে সে দুঃখ-বেদনায় আক্রান্ত হয়।
এক বর্ণনায় হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. বলেন, যেই মুমিন এখনো গোনাহে অভ্যস্ত হয়নি, সে গোনাহকে এমন মনে করে যেমন তার মাথার উপর পাহাড় ভেঙ্গে পড়েছে। আর পাপী ব্যক্তি গোনাহকে এমন হালকা ও মামুলী মনে করে, যেমন নাকের উপর মাছি এসে পড়েছে আর সে হাত মেরে তা উড়িয়ে দিলো। অর্থাৎ, সে গোনাহকে খুব মামুলি মনে করে। গোনাহ করার পর এজন্য তার কোন অনুশোচনা ও অনুতাপ জাগে না। কিন্তু একজন মুমিন যাকে আল্লাহ তা'আলা ঈমানের বরকত দান করেছেন, সে গোনাহকে একটি পাহাড় মনে করে। ভুলে কোনো গোনাহের কাজ হয়ে গেলে তার মাথার উপর পাহাড় ভেঙ্গে পড়ে। ফলে সে দুঃখ-বেদনায় আক্রান্ত হয়।
📄 নেককাজ ছুটে গেলে ঈমানদারদের অবস্থা
গোনাহ তো দূরের কথা, একজন মুমিনের যদি নেক কাজ করার সুযোগ লাভ হয়, আর সেই সুযোগ যদি হাতছাড়া হয়ে যায় তাহলেও তার উপর দুঃখের পাহাড় ভেঙ্গে পড়ে। হায়! নেক কাজ করার সুযোগটি লাভ হয়েছিলো কিন্তু আফসোস তা আমার হাতছাড়া হয়ে গেলো। এ সম্পর্কে মাওলানা রূমী রহ. বলেন,
بر دل سالک ہزاراں غم بود گر ز باغ دل خلال کم بود
অর্থাৎ, আল্লাহর পথের পথিকের আত্মার বাগান থেকে একটি কুটা পরিমাণ জিনিসও কমে গেলে অর্থাৎ, নেক কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলো কিন্তু সে নেকী করতে পারেনি তখন তার আত্মার উপর দুঃখের হাজার হাজার পাহাড় ভেঙ্গে পড়ে। আফসোস! আমার এই নেককাজটি ছুটে গেলো। নেক কাজ ছুটে গেলে যদি এই পরিমাণ ব্যথা হয় তাহলে গোনাহের কাজ হয়ে গেলে কি পরিমাণ ব্যাথা হবে! তখন তো এরচে' অধিক বেদনা হবে। আল্লাহ তা'আলা এই অবস্থা থেকে আমাদেরকে হেফাজত করুন যে, গোনাহের কারণে অন্তরে দাগ লাগতে থাকার ফলে গোনাহকে এতো সাধারণ মনে করে, যেমন নাকের উপর মাছি এসে বসলো আর সে তা উড়িয়ে দিলো। গোনাহের জন্য তার কোনো দুঃখ-বেদনাই হয় না। যাইহোক, গোনাহের একটি খারাপ দিক এই যে, তা মানুষকে গাফেল বানিয়ে দেয়। এর ফলে অন্তরে পর্দা পড়ে যায়।
গোনাহ তো দূরের কথা, একজন মুমিনের যদি নেক কাজ করার সুযোগ লাভ হয়, আর সেই সুযোগ যদি হাতছাড়া হয়ে যায় তাহলেও তার উপর দুঃখের পাহাড় ভেঙ্গে পড়ে। হায়! নেক কাজ করার সুযোগটি লাভ হয়েছিলো কিন্তু আফসোস তা আমার হাতছাড়া হয়ে গেলো। এ সম্পর্কে মাওলানা রূমী রহ. বলেন,
بر دل سالک ہزاراں غم بود گر ز باغ دل خلال کم بود
অর্থাৎ, আল্লাহর পথের পথিকের আত্মার বাগান থেকে একটি কুটা পরিমাণ জিনিসও কমে গেলে অর্থাৎ, নেক কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলো কিন্তু সে নেকী করতে পারেনি তখন তার আত্মার উপর দুঃখের হাজার হাজার পাহাড় ভেঙ্গে পড়ে। আফসোস! আমার এই নেককাজটি ছুটে গেলো। নেক কাজ ছুটে গেলে যদি এই পরিমাণ ব্যথা হয় তাহলে গোনাহের কাজ হয়ে গেলে কি পরিমাণ ব্যাথা হবে! তখন তো এরচে' অধিক বেদনা হবে। আল্লাহ তা'আলা এই অবস্থা থেকে আমাদেরকে হেফাজত করুন যে, গোনাহের কারণে অন্তরে দাগ লাগতে থাকার ফলে গোনাহকে এতো সাধারণ মনে করে, যেমন নাকের উপর মাছি এসে বসলো আর সে তা উড়িয়ে দিলো। গোনাহের জন্য তার কোনো দুঃখ-বেদনাই হয় না। যাইহোক, গোনাহের একটি খারাপ দিক এই যে, তা মানুষকে গাফেল বানিয়ে দেয়। এর ফলে অন্তরে পর্দা পড়ে যায়।
📄 গোনাহের তৃতীয় খারাবি অন্ধকার
আমরা গোনাহের পরিবেশে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। এজন্য গোনাহের অন্ধকার ও ঘৃণা আত্মা থেকে মুছে গেছে। অন্যথায় প্রত্যেক গোনাহের মধ্যে এমন অন্ধকার ও ঘৃণা রয়েছে যে, আল্লাহ তা'আলা যদি কাউকে সঠিক ও পরিপূর্ণ ঈমান দান করেন তাহলে সে এই অন্ধকার ও ঘৃণাকে সহ্য করতে পারবে না। হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ ইয়াকূব নানুতুবী রহ. বলেন, একবার ভুলক্রমে হারাম আয়ের একটি লোকমা আমার মুখে চলে যায়। এর কারণ এই হয়েছিলো যে, এক ব্যক্তি দাওয়াত করলে তিনি তার ওখানে খানা খেতে যান। পরবর্তীতে জানতে পারেন যে, তার আয় ছিলো হারাম। তিনি বলেন, দুই মাস পর্যন্ত ঐ হারাম খাদ্যের অন্ধকার আমার অন্তরে অনুভব করতাম। এই অন্ধকারের ফলে ঐ দুই মাস অন্তরে বার বার গোনাহের চাহিদা সৃষ্টি হতে থাকে। কখনো এই গোনাহ করতে মন চাইত, কখনো ঐ গোনাহ করতে মন চাইত। এ সব ছিলো একটি গোনাহের প্রভাব ও অন্ধকার।
আমরা গোনাহের পরিবেশে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। এজন্য গোনাহের অন্ধকার ও ঘৃণা আত্মা থেকে মুছে গেছে। অন্যথায় প্রত্যেক গোনাহের মধ্যে এমন অন্ধকার ও ঘৃণা রয়েছে যে, আল্লাহ তা'আলা যদি কাউকে সঠিক ও পরিপূর্ণ ঈমান দান করেন তাহলে সে এই অন্ধকার ও ঘৃণাকে সহ্য করতে পারবে না। হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ ইয়াকূব নানুতুবী রহ. বলেন, একবার ভুলক্রমে হারাম আয়ের একটি লোকমা আমার মুখে চলে যায়। এর কারণ এই হয়েছিলো যে, এক ব্যক্তি দাওয়াত করলে তিনি তার ওখানে খানা খেতে যান। পরবর্তীতে জানতে পারেন যে, তার আয় ছিলো হারাম। তিনি বলেন, দুই মাস পর্যন্ত ঐ হারাম খাদ্যের অন্ধকার আমার অন্তরে অনুভব করতাম। এই অন্ধকারের ফলে ঐ দুই মাস অন্তরে বার বার গোনাহের চাহিদা সৃষ্টি হতে থাকে। কখনো এই গোনাহ করতে মন চাইত, কখনো ঐ গোনাহ করতে মন চাইত। এ সব ছিলো একটি গোনাহের প্রভাব ও অন্ধকার।
📄 গোনাহে অভ্যস্ত হওয়ার দৃষ্টান্ত
আমাদের অন্তরে গোনাহের অন্ধকার এজন্য অনুভূত হয় না যে, আমরা এগুলোতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। এর দৃষ্টান্ত এমন, যেমন একটি দুর্গন্ধময় ঘর। তার মধ্যে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। পঁচা জিনিস ঐ ঘরে পড়ে আছে। বাহির থেকে কোনো ব্যক্তি ঐ ঘরে গেলে সেখানে সামান্য সময় দাঁড়ানোও তার জন্য কঠিন হয়ে পড়বে, কিন্তু কোনো ব্যক্তি যদি ঐ ঘরেই বসবাস করে, তাহলে ঐ দুর্গন্ধ তার অনুভব হবে না। কারণ, সে তাতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। তার সুগন্ধ আর দুর্গন্ধের বোধশক্তিই নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে সে আরামে ঐ বাড়িতে বাস করে। কেউ যদি তাকে বলে, তুমি এমন নোংরা ও দুর্গন্ধ ঘরে বাস করো! তাহলে সে তাকে পাগল বলবে। বলবে, আমি তো খুব আরামে এ বাড়িতে রয়েছি। এখানে কোনো প্রকার কষ্ট নেই। কারণ ঐ ব্যক্তি এই দুর্গন্ধে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। আর যে ব্যক্তিকে আল্লাহ তা'আলা ঐ দুর্গন্ধ থেকে হেফাজত করেছেন, বরং সুগন্ধ পরিবেশে রেখেছেন, তার অবস্থা তো এমন হবে যে, দূর থেকে সামান্য দুর্গন্ধ আসলেও তার মাথা খারাপ হয়ে যাবে। এমনিভাবে যারা প্রকৃত ঈমানদার এবং যাদের আত্মা তাকওয়ার কারণে আয়নার মতো স্বচ্ছ, তারা গোনাহের অন্ধকারকে ও ঘৃণা করেন ও তা খুব বেশি অনুভব করেন। মোটকথা, গোনাহের তৃতীয় বড়ো খারাবি ও পরিণতি অন্তরে অন্ধকার সৃষ্টি হওয়া।
আমাদের অন্তরে গোনাহের অন্ধকার এজন্য অনুভূত হয় না যে, আমরা এগুলোতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। এর দৃষ্টান্ত এমন, যেমন একটি দুর্গন্ধময় ঘর। তার মধ্যে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। পঁচা জিনিস ঐ ঘরে পড়ে আছে। বাহির থেকে কোনো ব্যক্তি ঐ ঘরে গেলে সেখানে সামান্য সময় দাঁড়ানোও তার জন্য কঠিন হয়ে পড়বে, কিন্তু কোনো ব্যক্তি যদি ঐ ঘরেই বসবাস করে, তাহলে ঐ দুর্গন্ধ তার অনুভব হবে না। কারণ, সে তাতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। তার সুগন্ধ আর দুর্গন্ধের বোধশক্তিই নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে সে আরামে ঐ বাড়িতে বাস করে। কেউ যদি তাকে বলে, তুমি এমন নোংরা ও দুর্গন্ধ ঘরে বাস করো! তাহলে সে তাকে পাগল বলবে। বলবে, আমি তো খুব আরামে এ বাড়িতে রয়েছি। এখানে কোনো প্রকার কষ্ট নেই। কারণ ঐ ব্যক্তি এই দুর্গন্ধে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। আর যে ব্যক্তিকে আল্লাহ তা'আলা ঐ দুর্গন্ধ থেকে হেফাজত করেছেন, বরং সুগন্ধ পরিবেশে রেখেছেন, তার অবস্থা তো এমন হবে যে, দূর থেকে সামান্য দুর্গন্ধ আসলেও তার মাথা খারাপ হয়ে যাবে। এমনিভাবে যারা প্রকৃত ঈমানদার এবং যাদের আত্মা তাকওয়ার কারণে আয়নার মতো স্বচ্ছ, তারা গোনাহের অন্ধকারকে ও ঘৃণা করেন ও তা খুব বেশি অনুভব করেন। মোটকথা, গোনাহের তৃতীয় বড়ো খারাবি ও পরিণতি অন্তরে অন্ধকার সৃষ্টি হওয়া।