📄 গোনাহ কী জিনিস?
এ সব গোনাহ কী জিনিস? গোনাহের পরিণতি কী হয়? প্রথমে এটা জানা জরুরী। গোনাহের অর্থ হলো অবাধ্যতা। যেমন আপনার বড়ো কেউ আপনাকে আদেশ করলো, এ কাজটি এভাবে করো। আপনি বললেন, আমি করবো না। বা বড়ো কেউ বললো, এ কাজ থেকে বিরত থাকো। আপনি বললেন, আমি এ কাজ অবশ্যই করবো। বড়োর কথা না মানাকেই নাফরমানী ও অবাধ্যতা বলে। এই নাফরমানী যদি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের হুকুমের ক্ষেত্রে করা হয় তাহলে তার নামই হলো গোনাহ। আল্লাহ তা'আলার নাফরমানীর প্রভাব এতো সুদূর প্রসারী, এতো খারাপ ও এতো জঘন্য যে, তা অনুমান করাও কঠিন।
এ সব গোনাহ কী জিনিস? গোনাহের পরিণতি কী হয়? প্রথমে এটা জানা জরুরী। গোনাহের অর্থ হলো অবাধ্যতা। যেমন আপনার বড়ো কেউ আপনাকে আদেশ করলো, এ কাজটি এভাবে করো। আপনি বললেন, আমি করবো না। বা বড়ো কেউ বললো, এ কাজ থেকে বিরত থাকো। আপনি বললেন, আমি এ কাজ অবশ্যই করবো। বড়োর কথা না মানাকেই নাফরমানী ও অবাধ্যতা বলে। এই নাফরমানী যদি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের হুকুমের ক্ষেত্রে করা হয় তাহলে তার নামই হলো গোনাহ। আল্লাহ তা'আলার নাফরমানীর প্রভাব এতো সুদূর প্রসারী, এতো খারাপ ও এতো জঘন্য যে, তা অনুমান করাও কঠিন।
📄 গোনাহের প্রথম খারাবি অকৃতজ্ঞতা
গোনাহের প্রথম খারাবি অকৃতজ্ঞতা। যেই দয়ালু সত্তা মানুষকে অস্তিত্ব দান করলেন। মানুষ সর্বদা তাঁর নেয়ামতের ভিতর নিমজ্জিত। মাথা থেকে পাতা পর্যন্ত আল্লাহ তা'আলার নেয়ামতসমূহ তার উপর বর্ষিত হচ্ছে। দেহের একেকটি অঙ্গ নিয়ে চিন্তা করুন যে, এর মূল্য কতো! এর গুরুত্ব কতো! এসব নেয়ামত বিনামূল্যে লাভ হয়েছে, অথচ এর জন্য অন্তরে কোনো গুরুত্ব নেই। আল্লাহ না করুন, কোনো সময় যদি এসব অঙ্গের একটি অঙ্গও ক্ষতিগ্রস্থ হয় তখন বুঝে আসবে যে, তা কতো বড়ো নেয়ামত এবং এই ক্ষতি কতো বড়ো ক্ষতি! এই চোখ কতো বড়ো নেয়ামত! এই কান কতো বড়ো নেয়ামত! এই জিহ্বা কতো বড়ো নেয়ামত! এই সুস্থতা কতো বড়ো নেয়ামত! এই রিযিক, যা সকাল-সন্ধ্যায় খাওয়ার জন্য আল্লাহ তা'আলা দান করছেন তা কতো বড়ো নেয়ামত! যেই বিরাট দয়ালু ও করুণাময়ের অসংখ্য নেয়ামত আমাদেরকে আচ্ছন্ন করে আছে, তিনি শুধু এ কথা বলেছেন যে, তোমরা মাত্র কয়েকটি জিনিস থেকে বিরত থাকবে। কিন্তু তোমার দ্বারা এই সামান্য কাজটুকুই হয় না। এজন্য গোনাহের সর্বপ্রথম খারাপ দিক হলো অকৃতজ্ঞতা, নাশুকরি ও দয়াময়ের হক আদায় না করা।
গোনাহের প্রথম খারাবি অকৃতজ্ঞতা। যেই দয়ালু সত্তা মানুষকে অস্তিত্ব দান করলেন। মানুষ সর্বদা তাঁর নেয়ামতের ভিতর নিমজ্জিত। মাথা থেকে পাতা পর্যন্ত আল্লাহ তা'আলার নেয়ামতসমূহ তার উপর বর্ষিত হচ্ছে। দেহের একেকটি অঙ্গ নিয়ে চিন্তা করুন যে, এর মূল্য কতো! এর গুরুত্ব কতো! এসব নেয়ামত বিনামূল্যে লাভ হয়েছে, অথচ এর জন্য অন্তরে কোনো গুরুত্ব নেই। আল্লাহ না করুন, কোনো সময় যদি এসব অঙ্গের একটি অঙ্গও ক্ষতিগ্রস্থ হয় তখন বুঝে আসবে যে, তা কতো বড়ো নেয়ামত এবং এই ক্ষতি কতো বড়ো ক্ষতি! এই চোখ কতো বড়ো নেয়ামত! এই কান কতো বড়ো নেয়ামত! এই জিহ্বা কতো বড়ো নেয়ামত! এই সুস্থতা কতো বড়ো নেয়ামত! এই রিযিক, যা সকাল-সন্ধ্যায় খাওয়ার জন্য আল্লাহ তা'আলা দান করছেন তা কতো বড়ো নেয়ামত! যেই বিরাট দয়ালু ও করুণাময়ের অসংখ্য নেয়ামত আমাদেরকে আচ্ছন্ন করে আছে, তিনি শুধু এ কথা বলেছেন যে, তোমরা মাত্র কয়েকটি জিনিস থেকে বিরত থাকবে। কিন্তু তোমার দ্বারা এই সামান্য কাজটুকুই হয় না। এজন্য গোনাহের সর্বপ্রথম খারাপ দিক হলো অকৃতজ্ঞতা, নাশুকরি ও দয়াময়ের হক আদায় না করা।
📄 গোনাহের দ্বিতীয় খারাবি অন্তরে মরিচা পড়া
গোনাহের দ্বিতীয় খারাবি এই যে, হাদীস শরীফে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, মানুষ যখন প্রথমবার গোনাহ করে তখন তার অন্তরে একটি কালো দাগ লাগিয়ে দেয়া হয়। সেই দাগের হাকীকত তো আল্লাহ তা'আলাই ভালো জানেন। যখন দ্বিতীয় গোনাহ করে তখন দ্বিতীয় দাগ লাগিয়ে দেওয়া হয়। যখন তৃতীয় গোনাহ করে তখন তৃতীয় দাগ লাগিয়ে দেওয়া হয়। এর মধ্যে যদি সে তাওবা করে তাহলে এসব দাগ মুছে দেওয়া হয়। কিন্তু যদি তাওবা না করে অব্যাহতভাবে গোনাহ করতেই থাকে তাহলে আস্তে আস্তে ঐ কালো দাগ তার পুরো আত্মাকে আচ্ছন্ন করে। তখন ঐ দাগ মরিচার রূপ ধারণ করে। অন্তরে মরিচা লেগে যায়। যখন অন্তরে মরিচা পড়ে যায় তখন হক কথা মানার যোগ্যতা নষ্ট হয়ে যায়। ফলে তার উপর এমন গাফলত আচ্ছন্ন করে যে, তখন গোনাহের অনুভূতি দূর হয়ে যায়। গোনাহের অনিষ্টতা ও অকল্যাণের বোধ বিলুপ্ত হয়ে যায়। মানুষের বুদ্ধি যেন নষ্ট হয়ে যায়।'
টিকাঃ
১. শু'আবুল ঈমান, খণ্ড-৫, পৃষ্ঠা-৪৪১, হাদীস নং ৭২০৭, আদদুররুল মানসূর, খণ্ড-৮, পৃষ্ঠা-৪৪৬, আযযুহদ, আবু দাউদ কৃত, খণ্ড-১, পৃষ্ঠা-২৯২, হাদীস নং ২৭১
গোনাহের দ্বিতীয় খারাবি এই যে, হাদীস শরীফে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, মানুষ যখন প্রথমবার গোনাহ করে তখন তার অন্তরে একটি কালো দাগ লাগিয়ে দেয়া হয়। সেই দাগের হাকীকত তো আল্লাহ তা'আলাই ভালো জানেন। যখন দ্বিতীয় গোনাহ করে তখন দ্বিতীয় দাগ লাগিয়ে দেওয়া হয়। যখন তৃতীয় গোনাহ করে তখন তৃতীয় দাগ লাগিয়ে দেওয়া হয়। এর মধ্যে যদি সে তাওবা করে তাহলে এসব দাগ মুছে দেওয়া হয়। কিন্তু যদি তাওবা না করে অব্যাহতভাবে গোনাহ করতেই থাকে তাহলে আস্তে আস্তে ঐ কালো দাগ তার পুরো আত্মাকে আচ্ছন্ন করে। তখন ঐ দাগ মরিচার রূপ ধারণ করে। অন্তরে মরিচা লেগে যায়। যখন অন্তরে মরিচা পড়ে যায় তখন হক কথা মানার যোগ্যতা নষ্ট হয়ে যায়। ফলে তার উপর এমন গাফলত আচ্ছন্ন করে যে, তখন গোনাহের অনুভূতি দূর হয়ে যায়। গোনাহের অনিষ্টতা ও অকল্যাণের বোধ বিলুপ্ত হয়ে যায়। মানুষের বুদ্ধি যেন নষ্ট হয়ে যায়।'
টিকাঃ
১. শু'আবুল ঈমান, খণ্ড-৫, পৃষ্ঠা-৪৪১, হাদীস নং ৭২০৭, আদদুররুল মানসূর, খণ্ড-৮, পৃষ্ঠা-৪৪৬, আযযুহদ, আবু দাউদ কৃত, খণ্ড-১, পৃষ্ঠা-২৯২, হাদীস নং ২৭১
📄 গোনাহের চিন্তার ক্ষেত্রে মুমিন ও ফাসেক এর পার্থক্য
এক বর্ণনায় হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. বলেন, যেই মুমিন এখনো গোনাহে অভ্যস্ত হয়নি, সে গোনাহকে এমন মনে করে যেমন তার মাথার উপর পাহাড় ভেঙ্গে পড়েছে। আর পাপী ব্যক্তি গোনাহকে এমন হালকা ও মামুলী মনে করে, যেমন নাকের উপর মাছি এসে পড়েছে আর সে হাত মেরে তা উড়িয়ে দিলো। অর্থাৎ, সে গোনাহকে খুব মামুলি মনে করে। গোনাহ করার পর এজন্য তার কোন অনুশোচনা ও অনুতাপ জাগে না। কিন্তু একজন মুমিন যাকে আল্লাহ তা'আলা ঈমানের বরকত দান করেছেন, সে গোনাহকে একটি পাহাড় মনে করে। ভুলে কোনো গোনাহের কাজ হয়ে গেলে তার মাথার উপর পাহাড় ভেঙ্গে পড়ে। ফলে সে দুঃখ-বেদনায় আক্রান্ত হয়।
এক বর্ণনায় হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. বলেন, যেই মুমিন এখনো গোনাহে অভ্যস্ত হয়নি, সে গোনাহকে এমন মনে করে যেমন তার মাথার উপর পাহাড় ভেঙ্গে পড়েছে। আর পাপী ব্যক্তি গোনাহকে এমন হালকা ও মামুলী মনে করে, যেমন নাকের উপর মাছি এসে পড়েছে আর সে হাত মেরে তা উড়িয়ে দিলো। অর্থাৎ, সে গোনাহকে খুব মামুলি মনে করে। গোনাহ করার পর এজন্য তার কোন অনুশোচনা ও অনুতাপ জাগে না। কিন্তু একজন মুমিন যাকে আল্লাহ তা'আলা ঈমানের বরকত দান করেছেন, সে গোনাহকে একটি পাহাড় মনে করে। ভুলে কোনো গোনাহের কাজ হয়ে গেলে তার মাথার উপর পাহাড় ভেঙ্গে পড়ে। ফলে সে দুঃখ-বেদনায় আক্রান্ত হয়।