📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 আত্মশুদ্ধিকামীদের জন্য প্রথম কাজ

📄 আত্মশুদ্ধিকামীদের জন্য প্রথম কাজ


বর্তমানে নিয়মে পরিণত হয়েছে যে, কোনো ব্যক্তি কোনো শাইখের নিকট ইসলাহী সম্পর্ক করতে গেলে ঐ শাইখ তাকে সাথে সাথে বলে দেয় যে, তুমি এই মা'মুলাত পালন করবে, এই পরিমাণ যিকির করবে, এই পরিমাণ তাসবীহ পাঠ করবে। কিন্তু হাকীমুল উম্মাত হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ.-এর নিয়ম এই ছিলো যে, তাঁর কাছে যখন কোনো ব্যক্তি আত্মশুদ্ধির উদ্দেশ্যে আসতো তখন তাকে যিকির-আযকার ও তাসবীহ-তাহলীল কিছু দিতেন না। সর্বপ্রথম বলতেন, গোনাহ ছাড়ো। এ পথে সর্বপ্রথম কাজ হলো পরিপূর্ণ তাওবা করা। মানুষকে সর্বপ্রথম সমস্ত গোনাহ থেকে তাওবা করতে হবে। বলতে হবে, হে আল্লাহ! ইতিপূর্বে যতো গোনাহ আমার দ্বারা হয়েছে মেহেরবানী করে আপনি সেগুলো মাফ করে দিন। আমি আগামীর জন্য সংকল্প করছি, ভবিষ্যতে আর এসব গোনাহ করবো না। অতপর ভবিষ্যতে এসব গোনাহ থেকে বাঁচার প্রতি যত্ন নিবে। শুধুমাত্র প্রসিদ্ধ কিছু গোনাহ থেকে বাঁচার যত্ন নিলে হবে না। প্রত্যেক গোনাহই গোনাহ। প্রত্যেক গোনাহ থেকে বাঁচার প্রতি গুরুত্বারোপ করতে হবে। কুরআনে কারীমে আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন,
وَذَرُوا ظَاهِرَ الْإِثْمِ وَبَاطِنَهُ
'বাহ্যিক গোনাহও ছাড়ো এবং অভ্যন্তরীণ গোনাহও ছাড়ো।'

এরপর বলেন,
إِنَّ الَّذِينَ يَكْسِبُونَ الْإِثْمَ سَيُجْزَوْنَ بِمَا كَانُوا يَقْتَرِفُوْنَ

'যারা গোনাহের কাজে লিপ্ত হয় কিয়ামতের দিন তাদেরকে সে সব কাজের শাস্তি দেওয়া হবে যা তারা দুনিয়াতে করতো।"

টিকাঃ
১. সূরা আনআম, আয়াত-১২০

বর্তমানে নিয়মে পরিণত হয়েছে যে, কোনো ব্যক্তি কোনো শাইখের নিকট ইসলাহী সম্পর্ক করতে গেলে ঐ শাইখ তাকে সাথে সাথে বলে দেয় যে, তুমি এই মা'মুলাত পালন করবে, এই পরিমাণ যিকির করবে, এই পরিমাণ তাসবীহ পাঠ করবে। কিন্তু হাকীমুল উম্মাত হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ.-এর নিয়ম এই ছিলো যে, তাঁর কাছে যখন কোনো ব্যক্তি আত্মশুদ্ধির উদ্দেশ্যে আসতো তখন তাকে যিকির-আযকার ও তাসবীহ-তাহলীল কিছু দিতেন না। সর্বপ্রথম বলতেন, গোনাহ ছাড়ো। এ পথে সর্বপ্রথম কাজ হলো পরিপূর্ণ তাওবা করা। মানুষকে সর্বপ্রথম সমস্ত গোনাহ থেকে তাওবা করতে হবে। বলতে হবে, হে আল্লাহ! ইতিপূর্বে যতো গোনাহ আমার দ্বারা হয়েছে মেহেরবানী করে আপনি সেগুলো মাফ করে দিন। আমি আগামীর জন্য সংকল্প করছি, ভবিষ্যতে আর এসব গোনাহ করবো না। অতপর ভবিষ্যতে এসব গোনাহ থেকে বাঁচার প্রতি যত্ন নিবে। শুধুমাত্র প্রসিদ্ধ কিছু গোনাহ থেকে বাঁচার যত্ন নিলে হবে না। প্রত্যেক গোনাহই গোনাহ। প্রত্যেক গোনাহ থেকে বাঁচার প্রতি গুরুত্বারোপ করতে হবে। কুরআনে কারীমে আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন,
وَذَرُوا ظَاهِرَ الْإِثْمِ وَبَاطِنَهُ
'বাহ্যিক গোনাহও ছাড়ো এবং অভ্যন্তরীণ গোনাহও ছাড়ো।'

এরপর বলেন,
إِنَّ الَّذِينَ يَكْسِبُونَ الْإِثْمَ سَيُجْزَوْنَ بِمَا كَانُوا يَقْتَرِفُوْنَ

'যারা গোনাহের কাজে লিপ্ত হয় কিয়ামতের দিন তাদেরকে সে সব কাজের শাস্তি দেওয়া হবে যা তারা দুনিয়াতে করতো।"

টিকাঃ
১. সূরা আনআম, আয়াত-১২০

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 সব ধরনের গোনাহ ত্যাগ করুন!

📄 সব ধরনের গোনাহ ত্যাগ করুন!


এজন্য কোনো গোনাহই এমন নেই, যার ব্যাপারে উদাসীন হওয়া যায়। না জাহেরী গোনাহ, না বাতেনী গোনাহ। এমন যেন না হয় যে, কিছু মোটা মোটা গোনাহ তো ছেড়ে দিলো কিন্তু অবশিষ্ট গোনাহ ছাড়ার দিকে কোনো মনযোগ নেই। যেমন মজলিসে গীবত করা হচ্ছে, মানুষের মনে কষ্ট দিয়ে কথা বলা হচ্ছে, অন্যের প্রতি হিংসা ও বিদ্বেষ পোষণ করা হচ্ছে, কিংবা অন্তরে অহঙ্কার ভরা। সম্পদের ভালোবাসা, পদ পদবীর ভালোবাসা, দুনিয়ার ভালোবাসা অন্তরে পরিপূর্ণ। তাহলে তো গোনাহ ছাড়া হলো না। প্রত্যেক এমন কাজ, যাকে আল্লাহ ও রাসূল গোনাহ সাব্যস্ত করেছেন সেগুলো ত্যাগ করতে হবে। সে বিষয়ে মানুষকে চিন্তাশীল হতে হবে।

এজন্য কোনো গোনাহই এমন নেই, যার ব্যাপারে উদাসীন হওয়া যায়। না জাহেরী গোনাহ, না বাতেনী গোনাহ। এমন যেন না হয় যে, কিছু মোটা মোটা গোনাহ তো ছেড়ে দিলো কিন্তু অবশিষ্ট গোনাহ ছাড়ার দিকে কোনো মনযোগ নেই। যেমন মজলিসে গীবত করা হচ্ছে, মানুষের মনে কষ্ট দিয়ে কথা বলা হচ্ছে, অন্যের প্রতি হিংসা ও বিদ্বেষ পোষণ করা হচ্ছে, কিংবা অন্তরে অহঙ্কার ভরা। সম্পদের ভালোবাসা, পদ পদবীর ভালোবাসা, দুনিয়ার ভালোবাসা অন্তরে পরিপূর্ণ। তাহলে তো গোনাহ ছাড়া হলো না। প্রত্যেক এমন কাজ, যাকে আল্লাহ ও রাসূল গোনাহ সাব্যস্ত করেছেন সেগুলো ত্যাগ করতে হবে। সে বিষয়ে মানুষকে চিন্তাশীল হতে হবে।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 পরিবার-পরিজনকে গোনাহ থেকে বাঁচান!

📄 পরিবার-পরিজনকে গোনাহ থেকে বাঁচান!


আরেকটি কথা বলছি, এসব গোনাহ ততক্ষণ পর্যন্ত ছুটবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত নিজের পরিবেশকে সংশোধন করার চিন্তা-চেষ্টা না করা হবে। কোনো ব্যক্তি যদি গোনাহ থেকে বাঁচতে চায় আর পরিবার-পরিজন ভুল পথে চলছে সেদিকে কোনো মনযোগ না দেয়, মনে রাখবেন! এভাবে কখনোই গোনাহ ছাড়তে পারবে না। গোনাহ ছাড়ার জন্য যতো চেষ্টাই করেন না কেন ঘরের পরিবেশ যদি খারাপ থাকে, পরিবার-পরিজন যদি ভুল পথে চলে আর সে বিষয়ে আপনার কোনো ফিকির না থাকে, তাহলে এই পরিবার-পরিজন একদিন না একদিন আপনাকে অবশ্যই গোনাহে লিপ্ত করবে। সুতরাং একজন মানুষের জন্য গোনাহ থেকে বাঁচা যেমন জরুরী, তেমনই জরুরী পরিবার-পরিজনকে বাঁচানো। সব সময় চিন্তা ফিকির থাকতে হবে পরিবার-পরিজন যেন কোনো গোনাহে লিপ্ত না হয়।

আরেকটি কথা বলছি, এসব গোনাহ ততক্ষণ পর্যন্ত ছুটবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত নিজের পরিবেশকে সংশোধন করার চিন্তা-চেষ্টা না করা হবে। কোনো ব্যক্তি যদি গোনাহ থেকে বাঁচতে চায় আর পরিবার-পরিজন ভুল পথে চলছে সেদিকে কোনো মনযোগ না দেয়, মনে রাখবেন! এভাবে কখনোই গোনাহ ছাড়তে পারবে না। গোনাহ ছাড়ার জন্য যতো চেষ্টাই করেন না কেন ঘরের পরিবেশ যদি খারাপ থাকে, পরিবার-পরিজন যদি ভুল পথে চলে আর সে বিষয়ে আপনার কোনো ফিকির না থাকে, তাহলে এই পরিবার-পরিজন একদিন না একদিন আপনাকে অবশ্যই গোনাহে লিপ্ত করবে। সুতরাং একজন মানুষের জন্য গোনাহ থেকে বাঁচা যেমন জরুরী, তেমনই জরুরী পরিবার-পরিজনকে বাঁচানো। সব সময় চিন্তা ফিকির থাকতে হবে পরিবার-পরিজন যেন কোনো গোনাহে লিপ্ত না হয়।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 মহিলাদের কাজের গুরুত্ব

📄 মহিলাদের কাজের গুরুত্ব


এ বিষয়ে মহিলাদের কৃতিত্ব অনেক গুরুত্বপূর্ণ। মহিলাদের অন্তরে যদি এই চিন্তা জাগে যে, আমাকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিধান মোতাবেক জীবন কাটাতে হবে এবং গোনাহ থেকে বাঁচতে হবে, তাহলে বাড়ির পরিবেশ ঠিক হয়ে যাবে। কারণ, মহিলারা হলো ঘরের ভিত্তি। মহিলাদের অন্তরে যদি আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্যের উদ্দীপনা সৃষ্টি হয় তাহলে পুরো পরিবার পরিশুদ্ধ হয়ে উঠবে। কিন্তু মহিলার অবস্থা যদি এই হয় যে, পর্দার বিষয়ে তার কোনো চিন্তা নেই, মাথা উন্মুক্ত, চুল খোলা, মনমস্তিষ্কে খারাপ চিন্তা, অহেতুক বিষয়ে নিমগ্ন, তাহলে এর পরিণতিতে ঘরের পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাবে। এজন্য মহিলাদের উপর গোনাহের কাজ ত্যাগ করার ব্যাপারে দায়িত্ব অধিক বর্তায়।

এ বিষয়ে মহিলাদের কৃতিত্ব অনেক গুরুত্বপূর্ণ। মহিলাদের অন্তরে যদি এই চিন্তা জাগে যে, আমাকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিধান মোতাবেক জীবন কাটাতে হবে এবং গোনাহ থেকে বাঁচতে হবে, তাহলে বাড়ির পরিবেশ ঠিক হয়ে যাবে। কারণ, মহিলারা হলো ঘরের ভিত্তি। মহিলাদের অন্তরে যদি আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্যের উদ্দীপনা সৃষ্টি হয় তাহলে পুরো পরিবার পরিশুদ্ধ হয়ে উঠবে। কিন্তু মহিলার অবস্থা যদি এই হয় যে, পর্দার বিষয়ে তার কোনো চিন্তা নেই, মাথা উন্মুক্ত, চুল খোলা, মনমস্তিষ্কে খারাপ চিন্তা, অহেতুক বিষয়ে নিমগ্ন, তাহলে এর পরিণতিতে ঘরের পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাবে। এজন্য মহিলাদের উপর গোনাহের কাজ ত্যাগ করার ব্যাপারে দায়িত্ব অধিক বর্তায়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00