📄 গোনাহ ছাড়ার চিন্তা নেই
আজকাল আমাদের সমাজে গোনাহ থেকে বাঁচার চিন্তা একেবারে কমে গেছে। কারো অন্তরে দ্বীনের উপর চলার আগ্রহ হলে এবং আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে এর তাওফীক লাভ হলে সে চিন্তা করে যে, আমাকে কিছু ওযীফা বলে দেয়া হোক, কিছু আমল শিখিয়ে দেওয়া হোক, যিকিরের নিয়ম বলে দেওয়া হোক। নফল ইবাদত কিভাবে করবো এবং কখন করবো তা বলা হোক। এই বাহ্যিক কিছু আমলের দিকে তার মনযোগ যায়। মা'মুলাত পুরা করার কাজে দিন রাত লেগে থাকে। কিন্তু এ বিষয়ে তার ফিকির হয় না আমার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জীবনে কতগুলো গোনাহের কাজ হচ্ছে। কতো কাজ আল্লাহর মর্জির খেলাফ হচ্ছে। ভালো ভালো শিক্ষিত দ্বীনদার মানুষকে দেখেছি, তারা প্রথম কাতারে নিয়মিত নামায পড়ে, মসজিদে নিয়মিত জামাতের সাথে নামায আদায় করে, ওযীফা পালন করে, খুব গুরুত্বের সাথে নফল ইবাদত, তাহাজ্জুদ ও ইশরাক আদায় করে, কিন্তু তার এ বিষয়ে চিন্তা নেই যে, বাড়িতে গোনাহের যেই গরম বাজার চলছে তা কিভাবে ঠিক করা যায়। বাজারে গেলে হালাল হারামের চিন্তা নেই। কথাবার্তায় গীবত ও মিথ্যার ব্যাপারে চিন্তা নেই। ঘরে নাজায়েয ও হারাম জিনিস থাকলে তা বের করার চিন্তা নেই। ফলে ফিল্ম দেখা হচ্ছে, নাজায়েয প্রোগ্রাম দেখা হচ্ছে, গান বাজনা হচ্ছে, সেদিকে মনোযোগ নেই। কিন্তু ওযীফার দিকে মনোযোগ আছে। অথচ এসব গোনাহ মানুষকে ধ্বংসকারী। প্রথমে তা থেকে বাঁচার চিন্তা-চেষ্টা করতে হবে।
আজকাল আমাদের সমাজে গোনাহ থেকে বাঁচার চিন্তা একেবারে কমে গেছে। কারো অন্তরে দ্বীনের উপর চলার আগ্রহ হলে এবং আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে এর তাওফীক লাভ হলে সে চিন্তা করে যে, আমাকে কিছু ওযীফা বলে দেয়া হোক, কিছু আমল শিখিয়ে দেওয়া হোক, যিকিরের নিয়ম বলে দেওয়া হোক। নফল ইবাদত কিভাবে করবো এবং কখন করবো তা বলা হোক। এই বাহ্যিক কিছু আমলের দিকে তার মনযোগ যায়। মা'মুলাত পুরা করার কাজে দিন রাত লেগে থাকে। কিন্তু এ বিষয়ে তার ফিকির হয় না আমার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জীবনে কতগুলো গোনাহের কাজ হচ্ছে। কতো কাজ আল্লাহর মর্জির খেলাফ হচ্ছে। ভালো ভালো শিক্ষিত দ্বীনদার মানুষকে দেখেছি, তারা প্রথম কাতারে নিয়মিত নামায পড়ে, মসজিদে নিয়মিত জামাতের সাথে নামায আদায় করে, ওযীফা পালন করে, খুব গুরুত্বের সাথে নফল ইবাদত, তাহাজ্জুদ ও ইশরাক আদায় করে, কিন্তু তার এ বিষয়ে চিন্তা নেই যে, বাড়িতে গোনাহের যেই গরম বাজার চলছে তা কিভাবে ঠিক করা যায়। বাজারে গেলে হালাল হারামের চিন্তা নেই। কথাবার্তায় গীবত ও মিথ্যার ব্যাপারে চিন্তা নেই। ঘরে নাজায়েয ও হারাম জিনিস থাকলে তা বের করার চিন্তা নেই। ফলে ফিল্ম দেখা হচ্ছে, নাজায়েয প্রোগ্রাম দেখা হচ্ছে, গান বাজনা হচ্ছে, সেদিকে মনোযোগ নেই। কিন্তু ওযীফার দিকে মনোযোগ আছে। অথচ এসব গোনাহ মানুষকে ধ্বংসকারী। প্রথমে তা থেকে বাঁচার চিন্তা-চেষ্টা করতে হবে।
📄 নফল ইবাদত ও গোনাহের উৎকৃষ্ট দৃষ্টান্ত
এর দৃষ্টান্ত এমন, মনে করুন যতো নফল ইবাদত আছে, নফল নামায হোক, তিলাওয়াত হোক, যিকির ও তাসবীহ হোক এগুলো হলো টনিক বা শক্তি বর্ধক। এগুলো দ্বারা শক্তি লাভ হয়। যেমন মানুষ শরীরে শক্তি বৃদ্ধির জন্য টনিক ব্যবহার করে, আর গোনাহ হলো বিষতুল্য। কোনো ব্যক্তি যদি টনিকও খায় আবার বিষও খায় তার ফল এই হবে যে, টনিক প্রভাব সৃষ্টি করবে না কিন্তু বিষ প্রভাব সৃষ্টি করবে। তার ধ্বংসের কারণ হবে। আরেক ব্যক্তি এমন যে কোনো টনিক বা শক্তিবর্ধক ঔষধ তো ব্যবহার করে না, শুধু ডাল রুটি খায়, কিন্তু সুস্থতার জন্য যেসব জিনিস ক্ষতিকর তা থেকে বিরত থাকে, তাহলে এ ব্যক্তি সুস্থ থাকবে। যদিও সে টনিক খায় না। আর প্রথম ব্যক্তি যে টনিকও খায় সাথে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর জিনিস থেকে বিরত থাকে না সে অবশ্যই অসুস্থ হয়ে পড়বে। একদিন সে ধ্বংস হয়ে যাবে। নফল ইবাদত ও গোনাহরে দৃষ্টান্ত ঠিক এমনই। এ জন্য সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জীবন থেকে গোনাহ বের হয়ে যাওয়ার চিন্তা করা উচিত। নিষিদ্ধ ও পাপকাজ বের হওয়ার ব্যাপারে যত্ন নেওয়া উচিত। যে পর্যন্ত এসব জিনিস বের না হবে সে পর্যন্ত এসব নফল ইবাদত আমাদের কোনো উপকার করতে পারবে না।
এর দৃষ্টান্ত এমন, মনে করুন যতো নফল ইবাদত আছে, নফল নামায হোক, তিলাওয়াত হোক, যিকির ও তাসবীহ হোক এগুলো হলো টনিক বা শক্তি বর্ধক। এগুলো দ্বারা শক্তি লাভ হয়। যেমন মানুষ শরীরে শক্তি বৃদ্ধির জন্য টনিক ব্যবহার করে, আর গোনাহ হলো বিষতুল্য। কোনো ব্যক্তি যদি টনিকও খায় আবার বিষও খায় তার ফল এই হবে যে, টনিক প্রভাব সৃষ্টি করবে না কিন্তু বিষ প্রভাব সৃষ্টি করবে। তার ধ্বংসের কারণ হবে। আরেক ব্যক্তি এমন যে কোনো টনিক বা শক্তিবর্ধক ঔষধ তো ব্যবহার করে না, শুধু ডাল রুটি খায়, কিন্তু সুস্থতার জন্য যেসব জিনিস ক্ষতিকর তা থেকে বিরত থাকে, তাহলে এ ব্যক্তি সুস্থ থাকবে। যদিও সে টনিক খায় না। আর প্রথম ব্যক্তি যে টনিকও খায় সাথে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর জিনিস থেকে বিরত থাকে না সে অবশ্যই অসুস্থ হয়ে পড়বে। একদিন সে ধ্বংস হয়ে যাবে। নফল ইবাদত ও গোনাহরে দৃষ্টান্ত ঠিক এমনই। এ জন্য সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জীবন থেকে গোনাহ বের হয়ে যাওয়ার চিন্তা করা উচিত। নিষিদ্ধ ও পাপকাজ বের হওয়ার ব্যাপারে যত্ন নেওয়া উচিত। যে পর্যন্ত এসব জিনিস বের না হবে সে পর্যন্ত এসব নফল ইবাদত আমাদের কোনো উপকার করতে পারবে না।
📄 আত্মশুদ্ধিকামীদের জন্য প্রথম কাজ
বর্তমানে নিয়মে পরিণত হয়েছে যে, কোনো ব্যক্তি কোনো শাইখের নিকট ইসলাহী সম্পর্ক করতে গেলে ঐ শাইখ তাকে সাথে সাথে বলে দেয় যে, তুমি এই মা'মুলাত পালন করবে, এই পরিমাণ যিকির করবে, এই পরিমাণ তাসবীহ পাঠ করবে। কিন্তু হাকীমুল উম্মাত হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ.-এর নিয়ম এই ছিলো যে, তাঁর কাছে যখন কোনো ব্যক্তি আত্মশুদ্ধির উদ্দেশ্যে আসতো তখন তাকে যিকির-আযকার ও তাসবীহ-তাহলীল কিছু দিতেন না। সর্বপ্রথম বলতেন, গোনাহ ছাড়ো। এ পথে সর্বপ্রথম কাজ হলো পরিপূর্ণ তাওবা করা। মানুষকে সর্বপ্রথম সমস্ত গোনাহ থেকে তাওবা করতে হবে। বলতে হবে, হে আল্লাহ! ইতিপূর্বে যতো গোনাহ আমার দ্বারা হয়েছে মেহেরবানী করে আপনি সেগুলো মাফ করে দিন। আমি আগামীর জন্য সংকল্প করছি, ভবিষ্যতে আর এসব গোনাহ করবো না। অতপর ভবিষ্যতে এসব গোনাহ থেকে বাঁচার প্রতি যত্ন নিবে। শুধুমাত্র প্রসিদ্ধ কিছু গোনাহ থেকে বাঁচার যত্ন নিলে হবে না। প্রত্যেক গোনাহই গোনাহ। প্রত্যেক গোনাহ থেকে বাঁচার প্রতি গুরুত্বারোপ করতে হবে। কুরআনে কারীমে আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন,
وَذَرُوا ظَاهِرَ الْإِثْمِ وَبَاطِنَهُ
'বাহ্যিক গোনাহও ছাড়ো এবং অভ্যন্তরীণ গোনাহও ছাড়ো।'
এরপর বলেন,
إِنَّ الَّذِينَ يَكْسِبُونَ الْإِثْمَ سَيُجْزَوْنَ بِمَا كَانُوا يَقْتَرِفُوْنَ
'যারা গোনাহের কাজে লিপ্ত হয় কিয়ামতের দিন তাদেরকে সে সব কাজের শাস্তি দেওয়া হবে যা তারা দুনিয়াতে করতো।"
টিকাঃ
১. সূরা আনআম, আয়াত-১২০
বর্তমানে নিয়মে পরিণত হয়েছে যে, কোনো ব্যক্তি কোনো শাইখের নিকট ইসলাহী সম্পর্ক করতে গেলে ঐ শাইখ তাকে সাথে সাথে বলে দেয় যে, তুমি এই মা'মুলাত পালন করবে, এই পরিমাণ যিকির করবে, এই পরিমাণ তাসবীহ পাঠ করবে। কিন্তু হাকীমুল উম্মাত হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ.-এর নিয়ম এই ছিলো যে, তাঁর কাছে যখন কোনো ব্যক্তি আত্মশুদ্ধির উদ্দেশ্যে আসতো তখন তাকে যিকির-আযকার ও তাসবীহ-তাহলীল কিছু দিতেন না। সর্বপ্রথম বলতেন, গোনাহ ছাড়ো। এ পথে সর্বপ্রথম কাজ হলো পরিপূর্ণ তাওবা করা। মানুষকে সর্বপ্রথম সমস্ত গোনাহ থেকে তাওবা করতে হবে। বলতে হবে, হে আল্লাহ! ইতিপূর্বে যতো গোনাহ আমার দ্বারা হয়েছে মেহেরবানী করে আপনি সেগুলো মাফ করে দিন। আমি আগামীর জন্য সংকল্প করছি, ভবিষ্যতে আর এসব গোনাহ করবো না। অতপর ভবিষ্যতে এসব গোনাহ থেকে বাঁচার প্রতি যত্ন নিবে। শুধুমাত্র প্রসিদ্ধ কিছু গোনাহ থেকে বাঁচার যত্ন নিলে হবে না। প্রত্যেক গোনাহই গোনাহ। প্রত্যেক গোনাহ থেকে বাঁচার প্রতি গুরুত্বারোপ করতে হবে। কুরআনে কারীমে আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন,
وَذَرُوا ظَاهِرَ الْإِثْمِ وَبَاطِنَهُ
'বাহ্যিক গোনাহও ছাড়ো এবং অভ্যন্তরীণ গোনাহও ছাড়ো।'
এরপর বলেন,
إِنَّ الَّذِينَ يَكْسِبُونَ الْإِثْمَ سَيُجْزَوْنَ بِمَا كَانُوا يَقْتَرِفُوْنَ
'যারা গোনাহের কাজে লিপ্ত হয় কিয়ামতের দিন তাদেরকে সে সব কাজের শাস্তি দেওয়া হবে যা তারা দুনিয়াতে করতো।"
টিকাঃ
১. সূরা আনআম, আয়াত-১২০
📄 সব ধরনের গোনাহ ত্যাগ করুন!
এজন্য কোনো গোনাহই এমন নেই, যার ব্যাপারে উদাসীন হওয়া যায়। না জাহেরী গোনাহ, না বাতেনী গোনাহ। এমন যেন না হয় যে, কিছু মোটা মোটা গোনাহ তো ছেড়ে দিলো কিন্তু অবশিষ্ট গোনাহ ছাড়ার দিকে কোনো মনযোগ নেই। যেমন মজলিসে গীবত করা হচ্ছে, মানুষের মনে কষ্ট দিয়ে কথা বলা হচ্ছে, অন্যের প্রতি হিংসা ও বিদ্বেষ পোষণ করা হচ্ছে, কিংবা অন্তরে অহঙ্কার ভরা। সম্পদের ভালোবাসা, পদ পদবীর ভালোবাসা, দুনিয়ার ভালোবাসা অন্তরে পরিপূর্ণ। তাহলে তো গোনাহ ছাড়া হলো না। প্রত্যেক এমন কাজ, যাকে আল্লাহ ও রাসূল গোনাহ সাব্যস্ত করেছেন সেগুলো ত্যাগ করতে হবে। সে বিষয়ে মানুষকে চিন্তাশীল হতে হবে।
এজন্য কোনো গোনাহই এমন নেই, যার ব্যাপারে উদাসীন হওয়া যায়। না জাহেরী গোনাহ, না বাতেনী গোনাহ। এমন যেন না হয় যে, কিছু মোটা মোটা গোনাহ তো ছেড়ে দিলো কিন্তু অবশিষ্ট গোনাহ ছাড়ার দিকে কোনো মনযোগ নেই। যেমন মজলিসে গীবত করা হচ্ছে, মানুষের মনে কষ্ট দিয়ে কথা বলা হচ্ছে, অন্যের প্রতি হিংসা ও বিদ্বেষ পোষণ করা হচ্ছে, কিংবা অন্তরে অহঙ্কার ভরা। সম্পদের ভালোবাসা, পদ পদবীর ভালোবাসা, দুনিয়ার ভালোবাসা অন্তরে পরিপূর্ণ। তাহলে তো গোনাহ ছাড়া হলো না। প্রত্যেক এমন কাজ, যাকে আল্লাহ ও রাসূল গোনাহ সাব্যস্ত করেছেন সেগুলো ত্যাগ করতে হবে। সে বিষয়ে মানুষকে চিন্তাশীল হতে হবে।