📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 পছন্দনীয় ব্যক্তি কে?

📄 পছন্দনীয় ব্যক্তি কে?


আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক রহ. বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.-কে জিজ্ঞাসা করলো, বলুন তো! এক ব্যক্তি আমল তো কম করে অর্থাৎ নফল ইবাদত ও নফল নামায খুব বেশি পড়ে না, বেশির ভাগ ফরয ওয়াজিব আদায় করে। নফল ইবাদত, যিকির-আযকার, ওযীফা ও তাসবীহ অধিক পাঠ করে না, কিন্তু তার গোনাহ কম। এমন ব্যক্তি আপনার নিকট অধিক পছন্দনীয়, নাকি ঐ ব্যক্তি আপনার নিকট অধিক পছন্দনীয়, যার নফল ইবাদতও অধিক এবং গোনাহও অধিক। যেমন তাহাজ্জুদ নামাযও পড়ে, ইশরাকও পড়ে, আওয়াবিনও পড়ে, তিলাওয়াতও খুব করে, ওযীফা ও তাসবীহ্-ও খুব পাঠ করে সাথে সাথে গোনাহের কাজও খুব করে। আপনার নিকট এই দুই ব্যক্তির মধ্যে কে উত্তম? প্রথম ব্যক্তির আমলও কম গোনাহও কম, দ্বিতীয় ব্যক্তির আমলও বেশি গোনাহও বেশি। উত্তরে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. বললেন, গোনাহ থেকে বেঁচে থাকার সমান আমি অন্য কিছুকে মনে করি না। অর্থাৎ, মানুষ গোনাহ থেকে বেঁচে থাকবে এটা এতো বড়ো নেয়ামত এবং এতো বেশি কল্যাণকর যে, অন্য কোনো আমল এর সমান নয়। গোনাহ থেকে বাঁচার ব্যাপারে যত্ন নেয়ার তুলনায় নফল ইবাদতের কোনো গুরুত্ব নেই।

আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক রহ. বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.-কে জিজ্ঞাসা করলো, বলুন তো! এক ব্যক্তি আমল তো কম করে অর্থাৎ নফল ইবাদত ও নফল নামায খুব বেশি পড়ে না, বেশির ভাগ ফরয ওয়াজিব আদায় করে। নফল ইবাদত, যিকির-আযকার, ওযীফা ও তাসবীহ অধিক পাঠ করে না, কিন্তু তার গোনাহ কম। এমন ব্যক্তি আপনার নিকট অধিক পছন্দনীয়, নাকি ঐ ব্যক্তি আপনার নিকট অধিক পছন্দনীয়, যার নফল ইবাদতও অধিক এবং গোনাহও অধিক। যেমন তাহাজ্জুদ নামাযও পড়ে, ইশরাকও পড়ে, আওয়াবিনও পড়ে, তিলাওয়াতও খুব করে, ওযীফা ও তাসবীহ্-ও খুব পাঠ করে সাথে সাথে গোনাহের কাজও খুব করে। আপনার নিকট এই দুই ব্যক্তির মধ্যে কে উত্তম? প্রথম ব্যক্তির আমলও কম গোনাহও কম, দ্বিতীয় ব্যক্তির আমলও বেশি গোনাহও বেশি। উত্তরে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. বললেন, গোনাহ থেকে বেঁচে থাকার সমান আমি অন্য কিছুকে মনে করি না। অর্থাৎ, মানুষ গোনাহ থেকে বেঁচে থাকবে এটা এতো বড়ো নেয়ামত এবং এতো বেশি কল্যাণকর যে, অন্য কোনো আমল এর সমান নয়। গোনাহ থেকে বাঁচার ব্যাপারে যত্ন নেয়ার তুলনায় নফল ইবাদতের কোনো গুরুত্ব নেই।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 আসল জিনিস গোনাহ থেকে বাঁচা

📄 আসল জিনিস গোনাহ থেকে বাঁচা


এই হাদীসে এ কথা বলা উদ্দেশ্য যে, যতো নফল ইবাদত আছে তা যথাস্থানে অনেক বেশি ফযীলতের জিনিস, কিন্তু এই নফল ইবাদতের উপর ভরসা করে মানুষ যদি চিন্তা করে যে, আমি তো নফল ইবাদত অনেক করি, তাই সে গোনাহ থেকে পরহেয করলো না তাহলে এটা হবে বড়ো ধরনের আত্ম প্রবঞ্চনা। আসল জিনিস হলো গোনাহ থেকে বাঁচার ফিকির করা। গোনাহ থেকে বাঁচার পর মনে করুন তার যদি অধিক পরিমাণে নফল ইবাদত করার সুযোগ নাও হয় তাহলেও সে ক্ষতিগ্রস্থ হবে না। ইনশাআল্লাহ সে আল্লাহর নিকট নাজাত পেয়ে যাবে। কিন্তু যদি নফল ইবাদত খুব করে সাথে অনেক গোনাহও করে তাহলে তার মুক্তির কোনো নিশ্চয়তা নেই। এটা খুবই বিপজ্জনক ব্যাপার।

এই হাদীসে এ কথা বলা উদ্দেশ্য যে, যতো নফল ইবাদত আছে তা যথাস্থানে অনেক বেশি ফযীলতের জিনিস, কিন্তু এই নফল ইবাদতের উপর ভরসা করে মানুষ যদি চিন্তা করে যে, আমি তো নফল ইবাদত অনেক করি, তাই সে গোনাহ থেকে পরহেয করলো না তাহলে এটা হবে বড়ো ধরনের আত্ম প্রবঞ্চনা। আসল জিনিস হলো গোনাহ থেকে বাঁচার ফিকির করা। গোনাহ থেকে বাঁচার পর মনে করুন তার যদি অধিক পরিমাণে নফল ইবাদত করার সুযোগ নাও হয় তাহলেও সে ক্ষতিগ্রস্থ হবে না। ইনশাআল্লাহ সে আল্লাহর নিকট নাজাত পেয়ে যাবে। কিন্তু যদি নফল ইবাদত খুব করে সাথে অনেক গোনাহও করে তাহলে তার মুক্তির কোনো নিশ্চয়তা নেই। এটা খুবই বিপজ্জনক ব্যাপার।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 গোনাহ ছাড়ার চিন্তা নেই

📄 গোনাহ ছাড়ার চিন্তা নেই


আজকাল আমাদের সমাজে গোনাহ থেকে বাঁচার চিন্তা একেবারে কমে গেছে। কারো অন্তরে দ্বীনের উপর চলার আগ্রহ হলে এবং আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে এর তাওফীক লাভ হলে সে চিন্তা করে যে, আমাকে কিছু ওযীফা বলে দেয়া হোক, কিছু আমল শিখিয়ে দেওয়া হোক, যিকিরের নিয়ম বলে দেওয়া হোক। নফল ইবাদত কিভাবে করবো এবং কখন করবো তা বলা হোক। এই বাহ্যিক কিছু আমলের দিকে তার মনযোগ যায়। মা'মুলাত পুরা করার কাজে দিন রাত লেগে থাকে। কিন্তু এ বিষয়ে তার ফিকির হয় না আমার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জীবনে কতগুলো গোনাহের কাজ হচ্ছে। কতো কাজ আল্লাহর মর্জির খেলাফ হচ্ছে। ভালো ভালো শিক্ষিত দ্বীনদার মানুষকে দেখেছি, তারা প্রথম কাতারে নিয়মিত নামায পড়ে, মসজিদে নিয়মিত জামাতের সাথে নামায আদায় করে, ওযীফা পালন করে, খুব গুরুত্বের সাথে নফল ইবাদত, তাহাজ্জুদ ও ইশরাক আদায় করে, কিন্তু তার এ বিষয়ে চিন্তা নেই যে, বাড়িতে গোনাহের যেই গরম বাজার চলছে তা কিভাবে ঠিক করা যায়। বাজারে গেলে হালাল হারামের চিন্তা নেই। কথাবার্তায় গীবত ও মিথ্যার ব্যাপারে চিন্তা নেই। ঘরে নাজায়েয ও হারাম জিনিস থাকলে তা বের করার চিন্তা নেই। ফলে ফিল্ম দেখা হচ্ছে, নাজায়েয প্রোগ্রাম দেখা হচ্ছে, গান বাজনা হচ্ছে, সেদিকে মনোযোগ নেই। কিন্তু ওযীফার দিকে মনোযোগ আছে। অথচ এসব গোনাহ মানুষকে ধ্বংসকারী। প্রথমে তা থেকে বাঁচার চিন্তা-চেষ্টা করতে হবে।

আজকাল আমাদের সমাজে গোনাহ থেকে বাঁচার চিন্তা একেবারে কমে গেছে। কারো অন্তরে দ্বীনের উপর চলার আগ্রহ হলে এবং আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে এর তাওফীক লাভ হলে সে চিন্তা করে যে, আমাকে কিছু ওযীফা বলে দেয়া হোক, কিছু আমল শিখিয়ে দেওয়া হোক, যিকিরের নিয়ম বলে দেওয়া হোক। নফল ইবাদত কিভাবে করবো এবং কখন করবো তা বলা হোক। এই বাহ্যিক কিছু আমলের দিকে তার মনযোগ যায়। মা'মুলাত পুরা করার কাজে দিন রাত লেগে থাকে। কিন্তু এ বিষয়ে তার ফিকির হয় না আমার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জীবনে কতগুলো গোনাহের কাজ হচ্ছে। কতো কাজ আল্লাহর মর্জির খেলাফ হচ্ছে। ভালো ভালো শিক্ষিত দ্বীনদার মানুষকে দেখেছি, তারা প্রথম কাতারে নিয়মিত নামায পড়ে, মসজিদে নিয়মিত জামাতের সাথে নামায আদায় করে, ওযীফা পালন করে, খুব গুরুত্বের সাথে নফল ইবাদত, তাহাজ্জুদ ও ইশরাক আদায় করে, কিন্তু তার এ বিষয়ে চিন্তা নেই যে, বাড়িতে গোনাহের যেই গরম বাজার চলছে তা কিভাবে ঠিক করা যায়। বাজারে গেলে হালাল হারামের চিন্তা নেই। কথাবার্তায় গীবত ও মিথ্যার ব্যাপারে চিন্তা নেই। ঘরে নাজায়েয ও হারাম জিনিস থাকলে তা বের করার চিন্তা নেই। ফলে ফিল্ম দেখা হচ্ছে, নাজায়েয প্রোগ্রাম দেখা হচ্ছে, গান বাজনা হচ্ছে, সেদিকে মনোযোগ নেই। কিন্তু ওযীফার দিকে মনোযোগ আছে। অথচ এসব গোনাহ মানুষকে ধ্বংসকারী। প্রথমে তা থেকে বাঁচার চিন্তা-চেষ্টা করতে হবে।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 নফল ইবাদত ও গোনাহের উৎকৃষ্ট দৃষ্টান্ত

📄 নফল ইবাদত ও গোনাহের উৎকৃষ্ট দৃষ্টান্ত


এর দৃষ্টান্ত এমন, মনে করুন যতো নফল ইবাদত আছে, নফল নামায হোক, তিলাওয়াত হোক, যিকির ও তাসবীহ হোক এগুলো হলো টনিক বা শক্তি বর্ধক। এগুলো দ্বারা শক্তি লাভ হয়। যেমন মানুষ শরীরে শক্তি বৃদ্ধির জন্য টনিক ব্যবহার করে, আর গোনাহ হলো বিষতুল্য। কোনো ব্যক্তি যদি টনিকও খায় আবার বিষও খায় তার ফল এই হবে যে, টনিক প্রভাব সৃষ্টি করবে না কিন্তু বিষ প্রভাব সৃষ্টি করবে। তার ধ্বংসের কারণ হবে। আরেক ব্যক্তি এমন যে কোনো টনিক বা শক্তিবর্ধক ঔষধ তো ব্যবহার করে না, শুধু ডাল রুটি খায়, কিন্তু সুস্থতার জন্য যেসব জিনিস ক্ষতিকর তা থেকে বিরত থাকে, তাহলে এ ব্যক্তি সুস্থ থাকবে। যদিও সে টনিক খায় না। আর প্রথম ব্যক্তি যে টনিকও খায় সাথে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর জিনিস থেকে বিরত থাকে না সে অবশ্যই অসুস্থ হয়ে পড়বে। একদিন সে ধ্বংস হয়ে যাবে। নফল ইবাদত ও গোনাহরে দৃষ্টান্ত ঠিক এমনই। এ জন্য সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জীবন থেকে গোনাহ বের হয়ে যাওয়ার চিন্তা করা উচিত। নিষিদ্ধ ও পাপকাজ বের হওয়ার ব্যাপারে যত্ন নেওয়া উচিত। যে পর্যন্ত এসব জিনিস বের না হবে সে পর্যন্ত এসব নফল ইবাদত আমাদের কোনো উপকার করতে পারবে না।

এর দৃষ্টান্ত এমন, মনে করুন যতো নফল ইবাদত আছে, নফল নামায হোক, তিলাওয়াত হোক, যিকির ও তাসবীহ হোক এগুলো হলো টনিক বা শক্তি বর্ধক। এগুলো দ্বারা শক্তি লাভ হয়। যেমন মানুষ শরীরে শক্তি বৃদ্ধির জন্য টনিক ব্যবহার করে, আর গোনাহ হলো বিষতুল্য। কোনো ব্যক্তি যদি টনিকও খায় আবার বিষও খায় তার ফল এই হবে যে, টনিক প্রভাব সৃষ্টি করবে না কিন্তু বিষ প্রভাব সৃষ্টি করবে। তার ধ্বংসের কারণ হবে। আরেক ব্যক্তি এমন যে কোনো টনিক বা শক্তিবর্ধক ঔষধ তো ব্যবহার করে না, শুধু ডাল রুটি খায়, কিন্তু সুস্থতার জন্য যেসব জিনিস ক্ষতিকর তা থেকে বিরত থাকে, তাহলে এ ব্যক্তি সুস্থ থাকবে। যদিও সে টনিক খায় না। আর প্রথম ব্যক্তি যে টনিকও খায় সাথে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর জিনিস থেকে বিরত থাকে না সে অবশ্যই অসুস্থ হয়ে পড়বে। একদিন সে ধ্বংস হয়ে যাবে। নফল ইবাদত ও গোনাহরে দৃষ্টান্ত ঠিক এমনই। এ জন্য সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জীবন থেকে গোনাহ বের হয়ে যাওয়ার চিন্তা করা উচিত। নিষিদ্ধ ও পাপকাজ বের হওয়ার ব্যাপারে যত্ন নেওয়া উচিত। যে পর্যন্ত এসব জিনিস বের না হবে সে পর্যন্ত এসব নফল ইবাদত আমাদের কোনো উপকার করতে পারবে না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00