📄 মেপে কথা বলুন
আরে ভাই! মিথ্যা, গীবত, যাচাই ছাড়া কথা বলা, এসব থেকে বেঁচে থাকুন। জিহ্বাকে চিন্তা করে করে ব্যবহার করুন। আল্লাহর ওলীগণ বলেছেন, আগে মাপো তারপর কথা বলো। জিহ্বা যেন লাগামহীন না চলে। এমন যেন না হয় যে, জিহ্বা দিয়ে কি বের হচ্ছে তার কোনো পরোয়া নেই। এজন্য চিন্তা করে করে কথা বলুন। যখন কারো সঙ্গে কথা বলবে, তখন ভয় করে কথা বলবে, এমন যেন না হয় যে, আমার কথায় তার কষ্ট হলো। ফলে আখেরাতে আল্লাহর সামনে জবাবদিহি হলো। এ বিষয়ে চিন্তা করুন। এজন্য নিজের জিহ্বা, নিজের চোখ এবং নিজের কানকে গোনাহ থেকে বাঁচান। কারণ, গীবত করা যেমন নাজায়েয গীবত শোনাও তেমন নাজায়েয। এজন্য হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
اتَّقِ الْمَحَارِمَ تَكُنْ أَعْبَدَ النَّاسِ
'হারাম থেকে বাঁচো তাহলে তুমি সবচে' বড়ো ইবাদতগুজার হতে পারবে।'
আরে ভাই! মিথ্যা, গীবত, যাচাই ছাড়া কথা বলা, এসব থেকে বেঁচে থাকুন। জিহ্বাকে চিন্তা করে করে ব্যবহার করুন। আল্লাহর ওলীগণ বলেছেন, আগে মাপো তারপর কথা বলো। জিহ্বা যেন লাগামহীন না চলে। এমন যেন না হয় যে, জিহ্বা দিয়ে কি বের হচ্ছে তার কোনো পরোয়া নেই। এজন্য চিন্তা করে করে কথা বলুন। যখন কারো সঙ্গে কথা বলবে, তখন ভয় করে কথা বলবে, এমন যেন না হয় যে, আমার কথায় তার কষ্ট হলো। ফলে আখেরাতে আল্লাহর সামনে জবাবদিহি হলো। এ বিষয়ে চিন্তা করুন। এজন্য নিজের জিহ্বা, নিজের চোখ এবং নিজের কানকে গোনাহ থেকে বাঁচান। কারণ, গীবত করা যেমন নাজায়েয গীবত শোনাও তেমন নাজায়েয। এজন্য হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
اتَّقِ الْمَحَارِمَ تَكُنْ أَعْبَدَ النَّاسِ
'হারাম থেকে বাঁচো তাহলে তুমি সবচে' বড়ো ইবাদতগুজার হতে পারবে।'
📄 প্রকৃত মুজাহিদ কে?
নফল পড়া তো সবাই দেখে। দর্শক মনে করে এ ব্যক্তি বড়ো আবেদ যাহেদ মানুষ। কিন্তু গোনাহ থেকে বেঁচে থাকা এবং তার প্রতি যত্নশীল হওয়া এমন জিনিস যা মানুষ বুঝতেও পারে না। যেমন অন্তরে গোনাহের চাহিদা সৃষ্টি হলো, মানুষ তা দমন করলো, সেই চাহিদা অনুপাতে কাজ করলো না, এটা এতো বড়ো জিহাদ, যার সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
الْمُجَاهِدُ مَنْ جَاهَدَ نَفْسَهُ
'প্রকৃত মুজাহিদ সে, যে নিজের নফসের সঙ্গে জিহাদ করে।"
এতো বড়ো জিহাদ করলো, অথচ কেউ জানতে পারলো না। এতে কোনো খ্যাতি লাভ হয় না। এতে রিয়ার সম্ভাবনা নেই। এতে রয়েছে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার চিন্তা। আল্লাহ তা'আলা স্বীয় অনুগ্রহে আমাকে ও আপনাদের সকলকে এর তাওফীক দান করুন। রমাযানুল মুবারকের রোযা সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা বলেন,
يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُوْنَ
'হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোযা ফরয করা হলো যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর ফরয করা হয়েিেছলো যাতে তোমরা পরহেযগার হয়ে যাও।"
এই আয়াতে আল্লাহ তা'আলা রোযার উদ্দেশ্য বর্ণনা করেছেন, যেন তোমাদের মধ্যে তাকওয়া সৃষ্টি হয়, গোনাহ থেকে বাঁচার চিন্তা-চেষ্টার নাম তাকওয়া। এজন্য রমাযান মাসে এই চিন্তা জাগ্রত করতে হবে। আল্লাহ তা'আলা রোযা ও তারাবীহের বরকতে আমাদের অন্তরে এ চিন্তা সৃষ্টি করে দিন। যখন রমাযানের মুবারক মাস শেষ হবে তখনও যেন আমরা নিজেদেরকে গোনাহ থেকে বাঁচাতে পারি। আমাদের মধ্যে গোনাহের ধ্বংসলীলা সম্পর্কে চিন্তা জাগ্রত হয় যে, এটা থেকে বাঁচা জরুরী। যদি চোখের হেফাজত, মুখের হেফাজত, কানের হেফাজত এবং আত্মার হেফাজত করতে পারি, তখন দেখবেন আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে কেমন নূর ও বরকত নাযিল হয়!
টিকাঃ
১. সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ১৫৪৬, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ২২৮৩৩
১. সূরা বাকারাহ ১৮৩
নফল পড়া তো সবাই দেখে। দর্শক মনে করে এ ব্যক্তি বড়ো আবেদ যাহেদ মানুষ। কিন্তু গোনাহ থেকে বেঁচে থাকা এবং তার প্রতি যত্নশীল হওয়া এমন জিনিস যা মানুষ বুঝতেও পারে না। যেমন অন্তরে গোনাহের চাহিদা সৃষ্টি হলো, মানুষ তা দমন করলো, সেই চাহিদা অনুপাতে কাজ করলো না, এটা এতো বড়ো জিহাদ, যার সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
الْمُجَاهِدُ مَنْ جَاهَدَ نَفْسَهُ
'প্রকৃত মুজাহিদ সে, যে নিজের নফসের সঙ্গে জিহাদ করে।"
এতো বড়ো জিহাদ করলো, অথচ কেউ জানতে পারলো না। এতে কোনো খ্যাতি লাভ হয় না। এতে রিয়ার সম্ভাবনা নেই। এতে রয়েছে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার চিন্তা। আল্লাহ তা'আলা স্বীয় অনুগ্রহে আমাকে ও আপনাদের সকলকে এর তাওফীক দান করুন। রমাযানুল মুবারকের রোযা সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা বলেন,
يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُوْنَ
'হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোযা ফরয করা হলো যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর ফরয করা হয়েিেছলো যাতে তোমরা পরহেযগার হয়ে যাও।"
এই আয়াতে আল্লাহ তা'আলা রোযার উদ্দেশ্য বর্ণনা করেছেন, যেন তোমাদের মধ্যে তাকওয়া সৃষ্টি হয়, গোনাহ থেকে বাঁচার চিন্তা-চেষ্টার নাম তাকওয়া। এজন্য রমাযান মাসে এই চিন্তা জাগ্রত করতে হবে। আল্লাহ তা'আলা রোযা ও তারাবীহের বরকতে আমাদের অন্তরে এ চিন্তা সৃষ্টি করে দিন। যখন রমাযানের মুবারক মাস শেষ হবে তখনও যেন আমরা নিজেদেরকে গোনাহ থেকে বাঁচাতে পারি। আমাদের মধ্যে গোনাহের ধ্বংসলীলা সম্পর্কে চিন্তা জাগ্রত হয় যে, এটা থেকে বাঁচা জরুরী। যদি চোখের হেফাজত, মুখের হেফাজত, কানের হেফাজত এবং আত্মার হেফাজত করতে পারি, তখন দেখবেন আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে কেমন নূর ও বরকত নাযিল হয়!
টিকাঃ
১. সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ১৫৪৬, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ২২৮৩৩
১. সূরা বাকারাহ ১৮৩
📄 চোখ কান জিহ্বা বন্ধ করুন
মাওলানা রূমী রহ. বলেন,
چشم بند و گوش بند ولب بند گر نه بینی نور حق بر من بخند
মাওলানা রূমী রহ. বলেন, নিজের চোখ বন্ধ করো। বন্ধ করার অর্থ হলো, যত্ন নাও যাতে এই চোখ নাজায়েয জায়গা না দেখে। কান বন্ধ করো। কান বন্ধ করার অর্থ হলো, কান যেন গোনাহের কথা না শোনে, সে ব্যাপারে যত্নশীল হও। যেমন গান শোনা, গীবত ও মিথ্যা কথা শোনা। ঠোট বন্ধ করো, কোনো নাজায়েয কথা যেন মুখ দিয়ে বের না হয়। এই তিনটি কাজ করো। এই তিন কাজ করার পরও যদি আল্লাহর নূর দৃষ্টিগোচর না হয় তাহলে আমাকে নিয়ে হাসাহাসি করো। একথা এমন ব্যক্তি বলছেন, যার সারাটি জীবন আল্লাহ তা'আলার পথে অতিবাহিত হয়েছে। আল্লাহর নূর তখন দৃষ্টি গোচর হয়, যখন মানুষ নিজেকে এসব গোনাহ থেকে হেফাজত করে। আল্লাহ তা'আলা নিজ অনুগ্রহে এই হাদীসের নির্দেশের উপর আমল করার তাওফীক দান করুন। আমীন।
আজ এই হাদীসের একটি বাক্যের উপর বয়ান হলো, বাকী বিষয়ের বয়ান ইনশাআল্লাহ কাল করবো। আল্লাহ তা'আলা আমাকে এবং আপনাদের সকলকে এর উপর আমল করার তাওফীক দান করুন।
وَاخِرُ دَعْوَانَا أَنِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَلَمِينَ
মাওলানা রূমী রহ. বলেন,
چشم بند و گوش بند ولب بند گر نه بینی نور حق بر من بخند
মাওলানা রূমী রহ. বলেন, নিজের চোখ বন্ধ করো। বন্ধ করার অর্থ হলো, যত্ন নাও যাতে এই চোখ নাজায়েয জায়গা না দেখে। কান বন্ধ করো। কান বন্ধ করার অর্থ হলো, কান যেন গোনাহের কথা না শোনে, সে ব্যাপারে যত্নশীল হও। যেমন গান শোনা, গীবত ও মিথ্যা কথা শোনা। ঠোট বন্ধ করো, কোনো নাজায়েয কথা যেন মুখ দিয়ে বের না হয়। এই তিনটি কাজ করো। এই তিন কাজ করার পরও যদি আল্লাহর নূর দৃষ্টিগোচর না হয় তাহলে আমাকে নিয়ে হাসাহাসি করো। একথা এমন ব্যক্তি বলছেন, যার সারাটি জীবন আল্লাহ তা'আলার পথে অতিবাহিত হয়েছে। আল্লাহর নূর তখন দৃষ্টি গোচর হয়, যখন মানুষ নিজেকে এসব গোনাহ থেকে হেফাজত করে। আল্লাহ তা'আলা নিজ অনুগ্রহে এই হাদীসের নির্দেশের উপর আমল করার তাওফীক দান করুন। আমীন।
আজ এই হাদীসের একটি বাক্যের উপর বয়ান হলো, বাকী বিষয়ের বয়ান ইনশাআল্লাহ কাল করবো। আল্লাহ তা'আলা আমাকে এবং আপনাদের সকলকে এর উপর আমল করার তাওফীক দান করুন।
وَاخِرُ دَعْوَانَا أَنِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَلَمِينَ
📄 গোনাহের ক্ষতিসমূহ
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. হলেন হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চাচাত ভাই। হযরত আব্বাস রাযি. ছিলেন হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চাচা। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. তাঁর ছেলে। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বরকতময় যুগে তিনি ছিলেন খুব অল্প বয়সী। হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তিকালের সময় তাঁর বয়স হয়েছিলো দশ বছরের মতো। কমবয়সী হওয়া সত্ত্বেও আল্লাহ তা'আলা তাঁকে ইলমের অনেক উঁচু স্তর দান করেছিলেন। কারণ, একবার হযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জন্য দু'আ করেছিলেন-
اللَّهُمَّ عَلِّمْهُ الْكِتَابَ وَ فَقِّهْهُ فِي الدِّينِ
'হে আল্লাহ! তাকে কুরআনে কারীমের ইলম দান করুন এবং দ্বীনের ফিকহ দান করুন।'
যদিও হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তিকালের সময় তার বয়স ছিলোমাত্র দশ বছর। দশ বছর আর এমন কি বয়স! কিন্তু একদিকে তিনি হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগের কথাসমূহ মন-মগজে গেঁথে নিয়েছিলেন। উপরন্ত হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তিকালের পর তিনি চিন্তা করলেন এখন তো হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়ে গেছেন, কিন্তু বড়ো বড়ো সাহাবী তো এখনো বিদ্যমান আছেন। আমি তাদের খেদমতে গিয়ে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস ও শিক্ষা অর্জন করি। তিনি সাহাবায়ে কেরামের নিকট যেতেন। এতদোদ্দেশ্যে সফর করতেন। কষ্ট করতেন। এভাবে তিনি বড়ো বড়ো সাহাবী থেকে ইলম অর্জন করেন। ফলে আজ তাঁকে ইমামুল মুফাসসিরীন বলা হয়। অর্থাৎ, সকল মুফাসসিরের ইমাম। কারণ, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জন্য দু'আ করেছিলেন, হে আল্লাহ! তাকে কিতাবুল্লাহর ইলম দান করুন। কুরআনের তাফসীরের বিষয়ে তাঁর চেয়ে অধিক নির্ভরযোগ্য কথা আর কারো নেই। আমি এখন যে কথাটি আপনাদের সামনে পাঠ করলাম তা তাঁরই উক্তি。
টিকাঃ
১. কিতাবুয যুহদ, ইবনুল মুবারক কৃত, খণ্ড-১, পৃষ্ঠা-২২, হাদীস নং ৬৬, আযযুহদ, হান্নাদ কৃত, খণ্ড-২, পৃষ্ঠা-৪৫৪, হাদীস নং ৯০২, ফাতহুল বারী, খণ্ড-১১, পৃষ্ঠা-২৫৭, রওযাতুল মুহাদ্দিসীন, খণ্ড-৬, পৃষ্ঠা-৩৩০, হাদীস নং ২৬০৫
১. হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.-কে দু'টি দু'আ দিয়েছিলেন, প্রথম দু'আ হলো اللَّهُمَّ عَلِّمْهُ الْكِتَابَ সহীহ বুখারী, হাদীস ৭৩, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ৩২০৬, দ্বিতীয় দু'আটি ছিলো ﴿ وَفَقِّهَهُ فِي الدِّينِ সহীহ বুখারী, হাদীস ১৪০০, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ২২৭৪
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. হলেন হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চাচাত ভাই। হযরত আব্বাস রাযি. ছিলেন হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চাচা। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. তাঁর ছেলে। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বরকতময় যুগে তিনি ছিলেন খুব অল্প বয়সী। হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তিকালের সময় তাঁর বয়স হয়েছিলো দশ বছরের মতো। কমবয়সী হওয়া সত্ত্বেও আল্লাহ তা'আলা তাঁকে ইলমের অনেক উঁচু স্তর দান করেছিলেন। কারণ, একবার হযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জন্য দু'আ করেছিলেন-
اللَّهُمَّ عَلِّمْهُ الْكِتَابَ وَ فَقِّهْهُ فِي الدِّينِ
'হে আল্লাহ! তাকে কুরআনে কারীমের ইলম দান করুন এবং দ্বীনের ফিকহ দান করুন।'
যদিও হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তিকালের সময় তার বয়স ছিলোমাত্র দশ বছর। দশ বছর আর এমন কি বয়স! কিন্তু একদিকে তিনি হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগের কথাসমূহ মন-মগজে গেঁথে নিয়েছিলেন। উপরন্ত হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তিকালের পর তিনি চিন্তা করলেন এখন তো হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়ে গেছেন, কিন্তু বড়ো বড়ো সাহাবী তো এখনো বিদ্যমান আছেন। আমি তাদের খেদমতে গিয়ে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস ও শিক্ষা অর্জন করি। তিনি সাহাবায়ে কেরামের নিকট যেতেন। এতদোদ্দেশ্যে সফর করতেন। কষ্ট করতেন। এভাবে তিনি বড়ো বড়ো সাহাবী থেকে ইলম অর্জন করেন। ফলে আজ তাঁকে ইমামুল মুফাসসিরীন বলা হয়। অর্থাৎ, সকল মুফাসসিরের ইমাম। কারণ, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জন্য দু'আ করেছিলেন, হে আল্লাহ! তাকে কিতাবুল্লাহর ইলম দান করুন। কুরআনের তাফসীরের বিষয়ে তাঁর চেয়ে অধিক নির্ভরযোগ্য কথা আর কারো নেই। আমি এখন যে কথাটি আপনাদের সামনে পাঠ করলাম তা তাঁরই উক্তি。
টিকাঃ
১. কিতাবুয যুহদ, ইবনুল মুবারক কৃত, খণ্ড-১, পৃষ্ঠা-২২, হাদীস নং ৬৬, আযযুহদ, হান্নাদ কৃত, খণ্ড-২, পৃষ্ঠা-৪৫৪, হাদীস নং ৯০২, ফাতহুল বারী, খণ্ড-১১, পৃষ্ঠা-২৫৭, রওযাতুল মুহাদ্দিসীন, খণ্ড-৬, পৃষ্ঠা-৩৩০, হাদীস নং ২৬০৫
১. হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.-কে দু'টি দু'আ দিয়েছিলেন, প্রথম দু'আ হলো اللَّهُمَّ عَلِّمْهُ الْكِتَابَ সহীহ বুখারী, হাদীস ৭৩, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ৩২০৬, দ্বিতীয় দু'আটি ছিলো ﴿ وَفَقِّهَهُ فِي الدِّينِ সহীহ বুখারী, হাদীস ১৪০০, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ২২৭৪