📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 মুখ থেকে উচ্চারিত একটি শব্দ

📄 মুখ থেকে উচ্চারিত একটি শব্দ


তারপর তিনি বলেন, কতক সময় মানুষ নিজের মুখ দ্বারা এমন কথা উচ্চারণ করে যাকে সে কোনো গুরুত্ব দিচ্ছিলো না, কিন্তু এই একটি কথার কারণে সে জাহান্নামের উপযুক্ত হয়ে যায়। কোনো কোনো বর্ণনায় আছে, সেই শব্দ তাকে জাহান্নামের এতো গভীরে নিক্ষেপ করে, যা ৭০ বছরের দূরত্বের পথ। যেমন মিথ্যা বললো, গীবত করলো, কারো মন ভেঙ্গে দিলো, কাউকে গালমন্দ করলো, যার ফলে এই শব্দ তাকে ৭০ বছরের দূরত্বের গভীরে নিক্ষেপ করলো। একটি শব্দ যখন এতো গভীরে নিক্ষেপ করে তাহলে এই জিহ্বা যা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সারাক্ষণ নির্দ্বিধায় কেঁচির মতো চলছে, জানা নেই তা আমাদেরকে জাহান্নামের কতো গভীরে নিক্ষেপ করবে!

তারপর তিনি বলেন, কতক সময় মানুষ নিজের মুখ দ্বারা এমন কথা উচ্চারণ করে যাকে সে কোনো গুরুত্ব দিচ্ছিলো না, কিন্তু এই একটি কথার কারণে সে জাহান্নামের উপযুক্ত হয়ে যায়। কোনো কোনো বর্ণনায় আছে, সেই শব্দ তাকে জাহান্নামের এতো গভীরে নিক্ষেপ করে, যা ৭০ বছরের দূরত্বের পথ। যেমন মিথ্যা বললো, গীবত করলো, কারো মন ভেঙ্গে দিলো, কাউকে গালমন্দ করলো, যার ফলে এই শব্দ তাকে ৭০ বছরের দূরত্বের গভীরে নিক্ষেপ করলো। একটি শব্দ যখন এতো গভীরে নিক্ষেপ করে তাহলে এই জিহ্বা যা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সারাক্ষণ নির্দ্বিধায় কেঁচির মতো চলছে, জানা নেই তা আমাদেরকে জাহান্নামের কতো গভীরে নিক্ষেপ করবে!

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 আসরে গীবত ও সমালোচনা

📄 আসরে গীবত ও সমালোচনা


অপর এক হাদীসে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, মানুষকে অধঃমুখে জাহান্নামে নিক্ষেপকারী জিহ্বার চেয়ে বিপজ্জনক আর কিছু নেই।'
কিন্তু আমাদের কি এ বিষয়ে কোনো চিন্তা আছে যে, এই জিহ্বাকে আটকাবো, তাকে নিয়ন্ত্রণ করবো। তাকে শুধুমাত্র আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টির কাজে ব্যবহার করবো। আল্লাহর নাফরমানী ও গোনাহের কাজে ব্যবহার করবো না। মজলিসে বসেছি তো গীবত চলছে, আমাদের কোনো পরোয়া নেই। আলোচনার মাঝে কারো কারো অন্যদের সমালোচনা করার খুব আগ্রহ থাকে। কোনো বিষয়ে আলোচনা চলছে, তো তার মধ্যে অন্যের সমালোচনা আরম্ভ করে দেয়। সমালোচনার ফলে অন্যকে দংশন করছে, অন্যের মন ভাঙ্গছে, কিন্তু এ বিষয়ে তার কোনো পরোয়া নেই。

টিকাঃ
১. সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ২৫৪১, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৩৯৬৩, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ২১০০৮

অপর এক হাদীসে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, মানুষকে অধঃমুখে জাহান্নামে নিক্ষেপকারী জিহ্বার চেয়ে বিপজ্জনক আর কিছু নেই।'
কিন্তু আমাদের কি এ বিষয়ে কোনো চিন্তা আছে যে, এই জিহ্বাকে আটকাবো, তাকে নিয়ন্ত্রণ করবো। তাকে শুধুমাত্র আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টির কাজে ব্যবহার করবো। আল্লাহর নাফরমানী ও গোনাহের কাজে ব্যবহার করবো না। মজলিসে বসেছি তো গীবত চলছে, আমাদের কোনো পরোয়া নেই। আলোচনার মাঝে কারো কারো অন্যদের সমালোচনা করার খুব আগ্রহ থাকে। কোনো বিষয়ে আলোচনা চলছে, তো তার মধ্যে অন্যের সমালোচনা আরম্ভ করে দেয়। সমালোচনার ফলে অন্যকে দংশন করছে, অন্যের মন ভাঙ্গছে, কিন্তু এ বিষয়ে তার কোনো পরোয়া নেই。

টিকাঃ
১. সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ২৫৪১, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৩৯৬৩, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ২১০০৮

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 মেপে কথা বলুন

📄 মেপে কথা বলুন


আরে ভাই! মিথ্যা, গীবত, যাচাই ছাড়া কথা বলা, এসব থেকে বেঁচে থাকুন। জিহ্বাকে চিন্তা করে করে ব্যবহার করুন। আল্লাহর ওলীগণ বলেছেন, আগে মাপো তারপর কথা বলো। জিহ্বা যেন লাগামহীন না চলে। এমন যেন না হয় যে, জিহ্বা দিয়ে কি বের হচ্ছে তার কোনো পরোয়া নেই। এজন্য চিন্তা করে করে কথা বলুন। যখন কারো সঙ্গে কথা বলবে, তখন ভয় করে কথা বলবে, এমন যেন না হয় যে, আমার কথায় তার কষ্ট হলো। ফলে আখেরাতে আল্লাহর সামনে জবাবদিহি হলো। এ বিষয়ে চিন্তা করুন। এজন্য নিজের জিহ্বা, নিজের চোখ এবং নিজের কানকে গোনাহ থেকে বাঁচান। কারণ, গীবত করা যেমন নাজায়েয গীবত শোনাও তেমন নাজায়েয। এজন্য হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
اتَّقِ الْمَحَارِمَ تَكُنْ أَعْبَدَ النَّاسِ
'হারাম থেকে বাঁচো তাহলে তুমি সবচে' বড়ো ইবাদতগুজার হতে পারবে।'

আরে ভাই! মিথ্যা, গীবত, যাচাই ছাড়া কথা বলা, এসব থেকে বেঁচে থাকুন। জিহ্বাকে চিন্তা করে করে ব্যবহার করুন। আল্লাহর ওলীগণ বলেছেন, আগে মাপো তারপর কথা বলো। জিহ্বা যেন লাগামহীন না চলে। এমন যেন না হয় যে, জিহ্বা দিয়ে কি বের হচ্ছে তার কোনো পরোয়া নেই। এজন্য চিন্তা করে করে কথা বলুন। যখন কারো সঙ্গে কথা বলবে, তখন ভয় করে কথা বলবে, এমন যেন না হয় যে, আমার কথায় তার কষ্ট হলো। ফলে আখেরাতে আল্লাহর সামনে জবাবদিহি হলো। এ বিষয়ে চিন্তা করুন। এজন্য নিজের জিহ্বা, নিজের চোখ এবং নিজের কানকে গোনাহ থেকে বাঁচান। কারণ, গীবত করা যেমন নাজায়েয গীবত শোনাও তেমন নাজায়েয। এজন্য হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
اتَّقِ الْمَحَارِمَ تَكُنْ أَعْبَدَ النَّاسِ
'হারাম থেকে বাঁচো তাহলে তুমি সবচে' বড়ো ইবাদতগুজার হতে পারবে।'

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 প্রকৃত মুজাহিদ কে?

📄 প্রকৃত মুজাহিদ কে?


নফল পড়া তো সবাই দেখে। দর্শক মনে করে এ ব্যক্তি বড়ো আবেদ যাহেদ মানুষ। কিন্তু গোনাহ থেকে বেঁচে থাকা এবং তার প্রতি যত্নশীল হওয়া এমন জিনিস যা মানুষ বুঝতেও পারে না। যেমন অন্তরে গোনাহের চাহিদা সৃষ্টি হলো, মানুষ তা দমন করলো, সেই চাহিদা অনুপাতে কাজ করলো না, এটা এতো বড়ো জিহাদ, যার সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
الْمُجَاهِدُ مَنْ جَاهَدَ نَفْسَهُ
'প্রকৃত মুজাহিদ সে, যে নিজের নফসের সঙ্গে জিহাদ করে।"

এতো বড়ো জিহাদ করলো, অথচ কেউ জানতে পারলো না। এতে কোনো খ্যাতি লাভ হয় না। এতে রিয়ার সম্ভাবনা নেই। এতে রয়েছে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার চিন্তা। আল্লাহ তা'আলা স্বীয় অনুগ্রহে আমাকে ও আপনাদের সকলকে এর তাওফীক দান করুন। রমাযানুল মুবারকের রোযা সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা বলেন,
يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُوْنَ
'হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোযা ফরয করা হলো যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর ফরয করা হয়েিেছলো যাতে তোমরা পরহেযগার হয়ে যাও।"
এই আয়াতে আল্লাহ তা'আলা রোযার উদ্দেশ্য বর্ণনা করেছেন, যেন তোমাদের মধ্যে তাকওয়া সৃষ্টি হয়, গোনাহ থেকে বাঁচার চিন্তা-চেষ্টার নাম তাকওয়া। এজন্য রমাযান মাসে এই চিন্তা জাগ্রত করতে হবে। আল্লাহ তা'আলা রোযা ও তারাবীহের বরকতে আমাদের অন্তরে এ চিন্তা সৃষ্টি করে দিন। যখন রমাযানের মুবারক মাস শেষ হবে তখনও যেন আমরা নিজেদেরকে গোনাহ থেকে বাঁচাতে পারি। আমাদের মধ্যে গোনাহের ধ্বংসলীলা সম্পর্কে চিন্তা জাগ্রত হয় যে, এটা থেকে বাঁচা জরুরী। যদি চোখের হেফাজত, মুখের হেফাজত, কানের হেফাজত এবং আত্মার হেফাজত করতে পারি, তখন দেখবেন আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে কেমন নূর ও বরকত নাযিল হয়!

টিকাঃ
১. সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ১৫৪৬, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ২২৮৩৩
১. সূরা বাকারাহ ১৮৩

নফল পড়া তো সবাই দেখে। দর্শক মনে করে এ ব্যক্তি বড়ো আবেদ যাহেদ মানুষ। কিন্তু গোনাহ থেকে বেঁচে থাকা এবং তার প্রতি যত্নশীল হওয়া এমন জিনিস যা মানুষ বুঝতেও পারে না। যেমন অন্তরে গোনাহের চাহিদা সৃষ্টি হলো, মানুষ তা দমন করলো, সেই চাহিদা অনুপাতে কাজ করলো না, এটা এতো বড়ো জিহাদ, যার সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
الْمُجَاهِدُ مَنْ جَاهَدَ نَفْسَهُ
'প্রকৃত মুজাহিদ সে, যে নিজের নফসের সঙ্গে জিহাদ করে।"

এতো বড়ো জিহাদ করলো, অথচ কেউ জানতে পারলো না। এতে কোনো খ্যাতি লাভ হয় না। এতে রিয়ার সম্ভাবনা নেই। এতে রয়েছে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার চিন্তা। আল্লাহ তা'আলা স্বীয় অনুগ্রহে আমাকে ও আপনাদের সকলকে এর তাওফীক দান করুন। রমাযানুল মুবারকের রোযা সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা বলেন,
يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُوْنَ
'হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোযা ফরয করা হলো যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর ফরয করা হয়েিেছলো যাতে তোমরা পরহেযগার হয়ে যাও।"
এই আয়াতে আল্লাহ তা'আলা রোযার উদ্দেশ্য বর্ণনা করেছেন, যেন তোমাদের মধ্যে তাকওয়া সৃষ্টি হয়, গোনাহ থেকে বাঁচার চিন্তা-চেষ্টার নাম তাকওয়া। এজন্য রমাযান মাসে এই চিন্তা জাগ্রত করতে হবে। আল্লাহ তা'আলা রোযা ও তারাবীহের বরকতে আমাদের অন্তরে এ চিন্তা সৃষ্টি করে দিন। যখন রমাযানের মুবারক মাস শেষ হবে তখনও যেন আমরা নিজেদেরকে গোনাহ থেকে বাঁচাতে পারি। আমাদের মধ্যে গোনাহের ধ্বংসলীলা সম্পর্কে চিন্তা জাগ্রত হয় যে, এটা থেকে বাঁচা জরুরী। যদি চোখের হেফাজত, মুখের হেফাজত, কানের হেফাজত এবং আত্মার হেফাজত করতে পারি, তখন দেখবেন আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে কেমন নূর ও বরকত নাযিল হয়!

টিকাঃ
১. সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ১৫৪৬, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ২২৮৩৩
১. সূরা বাকারাহ ১৮৩

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00