📄 জাল সার্টিফিকেট তৈরী করা
কিন্তু আমি ঐসব বিষয়ের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, যেগুলো সম্পর্কে এই অনুভূতিও নেই যে, আমি গোনাহের কাজ করছি। যেমন জাল সার্টিফিকেট তৈরী করা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। ছুটি নিতে হবে এমনিতে ছুটি পাওয়া যাবে না, তাই কোনো ডাক্তার দিয়ে জাল মেডিকেল সার্টিফিকেট তৈরী করলো এবং তার ভিত্তিতে ছুটি লাভ করলো। এর ফলে নিজেও গোনাহ করলো যেই ডাক্তার দ্বারা সার্টিফিকেট তৈরী করলো তাকেও গোনাহে লিপ্ত করলো। কারণ, সেই ডাক্তার মিথ্যা বলেছে এবং ঘুষও নিয়েছে। আল্লাহর ওয়াস্তে তো সে এ কাজ করেনি। এভাবে ঐ ডাক্তার ঘুষ নেওয়ার গোনাহও করলো এবং মিথ্যা বলার গোনাহও করলো। আর এ ব্যক্তি হলো ঐ গোনাহের কারণ। এসব গোনাহ তো হলোই, তাছাড়া মাস শেষে যেই বেতন পেলো তার মধ্যে এ পরিমাণ অংশ হারাম হয়ে গেলো।
কিন্তু আমি ঐসব বিষয়ের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, যেগুলো সম্পর্কে এই অনুভূতিও নেই যে, আমি গোনাহের কাজ করছি। যেমন জাল সার্টিফিকেট তৈরী করা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। ছুটি নিতে হবে এমনিতে ছুটি পাওয়া যাবে না, তাই কোনো ডাক্তার দিয়ে জাল মেডিকেল সার্টিফিকেট তৈরী করলো এবং তার ভিত্তিতে ছুটি লাভ করলো। এর ফলে নিজেও গোনাহ করলো যেই ডাক্তার দ্বারা সার্টিফিকেট তৈরী করলো তাকেও গোনাহে লিপ্ত করলো। কারণ, সেই ডাক্তার মিথ্যা বলেছে এবং ঘুষও নিয়েছে। আল্লাহর ওয়াস্তে তো সে এ কাজ করেনি। এভাবে ঐ ডাক্তার ঘুষ নেওয়ার গোনাহও করলো এবং মিথ্যা বলার গোনাহও করলো। আর এ ব্যক্তি হলো ঐ গোনাহের কারণ। এসব গোনাহ তো হলোই, তাছাড়া মাস শেষে যেই বেতন পেলো তার মধ্যে এ পরিমাণ অংশ হারাম হয়ে গেলো।
📄 জিহ্বার হেফাযত করুন
বিশেষভাবে যেই কথাটি বলছি, যাতে ব্যাপকভাবে আমরা আক্রান্ত, তার মধ্যে একটা হলো জিহ্বার গোনাহ। আরেকটা হলো চোখের গোনাহ। ভালো ভালো মানুষ এই দুই গোনাহে আক্রান্ত। বাহ্যিকভাবে যাদেরকে আবেদ যাহেদ দেখা যায়, মুত্তাকী ও পরহেযগার দেখা যায়, তারাও নিজেদের দিকে তাকালে দেখতে পাবে যে, তারাও জিহ্বার গোনাহ ও চোখের গোনাহে আক্রান্ত। এজন্য আমাদের জিহ্বা দিয়ে এমন কোনো কথা যেন বের না হয়, যা আল্লাহ তা'আলাকে অসন্তুষ্ট করবে। এ ব্যাপারে যত্নশীল হতে হবে। এক হাদীসে হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, কতক সময় মানুষ নিজের মুখ দিয়ে উদাসীনভাবে এমন কোন কথা উচ্চারণ করে যার ফলে আল্লাহ তা'আলা তাকে জান্নাতে পৌছিয়ে দেন।'
যেমন কোন সময় আবেগের সাথে আল্লাহ তা'আলার প্রশংসা করতে গিয়ে 'আলহামদুলিল্লাহ' বললো বা 'সুবহানাল্লাহ' বললো বা অন্য কোনো যিকির করলো এবং এমন ইখলাস আর জযবার সাথে বললো যে, আমার মাওলা তা কবুল করে নিলেন আর এর ভিত্তিতেই তার ঘাটি পার হয়ে গেলো। বা মুখ দিয়ে এমন কোনো কথা বললো, যার দ্বারা কোনো ভাঙ্গা মন জোড়া লাগলো, তার হৃদয়ে প্রশান্তি লাভ হলো। বাহ্যিকভাবে আপনি গুরুত্বের সাথে সে কথা বলেননি, কিন্তু যেহেতু তার মাধ্যমে ভাঙ্গা মন শান্তি লাভ করলো এবং আল্লাহ তা'আলা তা কবুল করলেন তার বদৌলতে আপনার বেড়া পার করে দিলেন এবং জান্নাতে পৌছিয়ে দিলেন。
টিকাঃ
১. কানযুল উম্মাল, খণ্ড-৩, পৃষ্ঠা-৫৫১, হাদীস নং ৭৮৫৬, রওযাতুল মুহাদ্দিসীন, খণ্ড-৮, পৃষ্ঠা- ৩১০, হাদীস নং ৩৪৮১
বিশেষভাবে যেই কথাটি বলছি, যাতে ব্যাপকভাবে আমরা আক্রান্ত, তার মধ্যে একটা হলো জিহ্বার গোনাহ। আরেকটা হলো চোখের গোনাহ। ভালো ভালো মানুষ এই দুই গোনাহে আক্রান্ত। বাহ্যিকভাবে যাদেরকে আবেদ যাহেদ দেখা যায়, মুত্তাকী ও পরহেযগার দেখা যায়, তারাও নিজেদের দিকে তাকালে দেখতে পাবে যে, তারাও জিহ্বার গোনাহ ও চোখের গোনাহে আক্রান্ত। এজন্য আমাদের জিহ্বা দিয়ে এমন কোনো কথা যেন বের না হয়, যা আল্লাহ তা'আলাকে অসন্তুষ্ট করবে। এ ব্যাপারে যত্নশীল হতে হবে। এক হাদীসে হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, কতক সময় মানুষ নিজের মুখ দিয়ে উদাসীনভাবে এমন কোন কথা উচ্চারণ করে যার ফলে আল্লাহ তা'আলা তাকে জান্নাতে পৌছিয়ে দেন।'
যেমন কোন সময় আবেগের সাথে আল্লাহ তা'আলার প্রশংসা করতে গিয়ে 'আলহামদুলিল্লাহ' বললো বা 'সুবহানাল্লাহ' বললো বা অন্য কোনো যিকির করলো এবং এমন ইখলাস আর জযবার সাথে বললো যে, আমার মাওলা তা কবুল করে নিলেন আর এর ভিত্তিতেই তার ঘাটি পার হয়ে গেলো। বা মুখ দিয়ে এমন কোনো কথা বললো, যার দ্বারা কোনো ভাঙ্গা মন জোড়া লাগলো, তার হৃদয়ে প্রশান্তি লাভ হলো। বাহ্যিকভাবে আপনি গুরুত্বের সাথে সে কথা বলেননি, কিন্তু যেহেতু তার মাধ্যমে ভাঙ্গা মন শান্তি লাভ করলো এবং আল্লাহ তা'আলা তা কবুল করলেন তার বদৌলতে আপনার বেড়া পার করে দিলেন এবং জান্নাতে পৌছিয়ে দিলেন。
টিকাঃ
১. কানযুল উম্মাল, খণ্ড-৩, পৃষ্ঠা-৫৫১, হাদীস নং ৭৮৫৬, রওযাতুল মুহাদ্দিসীন, খণ্ড-৮, পৃষ্ঠা- ৩১০, হাদীস নং ৩৪৮১
📄 মুখ থেকে উচ্চারিত একটি শব্দ
তারপর তিনি বলেন, কতক সময় মানুষ নিজের মুখ দ্বারা এমন কথা উচ্চারণ করে যাকে সে কোনো গুরুত্ব দিচ্ছিলো না, কিন্তু এই একটি কথার কারণে সে জাহান্নামের উপযুক্ত হয়ে যায়। কোনো কোনো বর্ণনায় আছে, সেই শব্দ তাকে জাহান্নামের এতো গভীরে নিক্ষেপ করে, যা ৭০ বছরের দূরত্বের পথ। যেমন মিথ্যা বললো, গীবত করলো, কারো মন ভেঙ্গে দিলো, কাউকে গালমন্দ করলো, যার ফলে এই শব্দ তাকে ৭০ বছরের দূরত্বের গভীরে নিক্ষেপ করলো। একটি শব্দ যখন এতো গভীরে নিক্ষেপ করে তাহলে এই জিহ্বা যা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সারাক্ষণ নির্দ্বিধায় কেঁচির মতো চলছে, জানা নেই তা আমাদেরকে জাহান্নামের কতো গভীরে নিক্ষেপ করবে!
তারপর তিনি বলেন, কতক সময় মানুষ নিজের মুখ দ্বারা এমন কথা উচ্চারণ করে যাকে সে কোনো গুরুত্ব দিচ্ছিলো না, কিন্তু এই একটি কথার কারণে সে জাহান্নামের উপযুক্ত হয়ে যায়। কোনো কোনো বর্ণনায় আছে, সেই শব্দ তাকে জাহান্নামের এতো গভীরে নিক্ষেপ করে, যা ৭০ বছরের দূরত্বের পথ। যেমন মিথ্যা বললো, গীবত করলো, কারো মন ভেঙ্গে দিলো, কাউকে গালমন্দ করলো, যার ফলে এই শব্দ তাকে ৭০ বছরের দূরত্বের গভীরে নিক্ষেপ করলো। একটি শব্দ যখন এতো গভীরে নিক্ষেপ করে তাহলে এই জিহ্বা যা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সারাক্ষণ নির্দ্বিধায় কেঁচির মতো চলছে, জানা নেই তা আমাদেরকে জাহান্নামের কতো গভীরে নিক্ষেপ করবে!
📄 আসরে গীবত ও সমালোচনা
অপর এক হাদীসে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, মানুষকে অধঃমুখে জাহান্নামে নিক্ষেপকারী জিহ্বার চেয়ে বিপজ্জনক আর কিছু নেই।'
কিন্তু আমাদের কি এ বিষয়ে কোনো চিন্তা আছে যে, এই জিহ্বাকে আটকাবো, তাকে নিয়ন্ত্রণ করবো। তাকে শুধুমাত্র আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টির কাজে ব্যবহার করবো। আল্লাহর নাফরমানী ও গোনাহের কাজে ব্যবহার করবো না। মজলিসে বসেছি তো গীবত চলছে, আমাদের কোনো পরোয়া নেই। আলোচনার মাঝে কারো কারো অন্যদের সমালোচনা করার খুব আগ্রহ থাকে। কোনো বিষয়ে আলোচনা চলছে, তো তার মধ্যে অন্যের সমালোচনা আরম্ভ করে দেয়। সমালোচনার ফলে অন্যকে দংশন করছে, অন্যের মন ভাঙ্গছে, কিন্তু এ বিষয়ে তার কোনো পরোয়া নেই。
টিকাঃ
১. সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ২৫৪১, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৩৯৬৩, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ২১০০৮
অপর এক হাদীসে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, মানুষকে অধঃমুখে জাহান্নামে নিক্ষেপকারী জিহ্বার চেয়ে বিপজ্জনক আর কিছু নেই।'
কিন্তু আমাদের কি এ বিষয়ে কোনো চিন্তা আছে যে, এই জিহ্বাকে আটকাবো, তাকে নিয়ন্ত্রণ করবো। তাকে শুধুমাত্র আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টির কাজে ব্যবহার করবো। আল্লাহর নাফরমানী ও গোনাহের কাজে ব্যবহার করবো না। মজলিসে বসেছি তো গীবত চলছে, আমাদের কোনো পরোয়া নেই। আলোচনার মাঝে কারো কারো অন্যদের সমালোচনা করার খুব আগ্রহ থাকে। কোনো বিষয়ে আলোচনা চলছে, তো তার মধ্যে অন্যের সমালোচনা আরম্ভ করে দেয়। সমালোচনার ফলে অন্যকে দংশন করছে, অন্যের মন ভাঙ্গছে, কিন্তু এ বিষয়ে তার কোনো পরোয়া নেই。
টিকাঃ
১. সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ২৫৪১, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৩৯৬৩, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ২১০০৮