📄 হালাল খাওয়ার প্রতি গুরুত্বারোপ করুন
রমাযান মাসে তারাবীহের নামায পড়ার প্রতি আমরা কতো গুরুত্ব দিচ্ছি। যারা পাঁচ ওয়াক্ত নামাযে ত্রুটি করে তারা পর্যন্ত নির্দ্বিধায় রমাযানে তারাবীহের লম্বা লম্বা বিশ রাকাত নামাযে দাঁড়ায় এবং রাতে সাহরীর সময় তাহাজ্জুদও পড়ে, তাই নফল ইবাদত তো হচ্ছে, কিন্তু একই ব্যক্তি একথা চিন্তা করে না যে, সন্ধ্যায় ইফতার করার সময় যখন দস্তরখানে বসবে তখন খানা হালাল হবে না হারাম। সারাদিন রোযা রাখলো, রাতের বেলা তারাবীহ পড়লো এবং তাহাজ্জুদ পড়লো, কিন্তু মুখে যে লোকমা যাচ্ছে তা হালাল না হারাম এ চিন্তা নেই। এই হাদীসের মাধ্যমে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছেন যে, আসল চিন্তা এটা করো যে, তোমার দ্বারা কোনো গোনাহ যেন সংঘটিত না হয়। এটা যদি করো তাহলে নফল ইবাদত যদি তুমি বেশি নাও করো তাহলেও তোমাকে সবচে' বেশি ইবাদতগুজার বলে লেখা হবে।
রমাযান মাসে তারাবীহের নামায পড়ার প্রতি আমরা কতো গুরুত্ব দিচ্ছি। যারা পাঁচ ওয়াক্ত নামাযে ত্রুটি করে তারা পর্যন্ত নির্দ্বিধায় রমাযানে তারাবীহের লম্বা লম্বা বিশ রাকাত নামাযে দাঁড়ায় এবং রাতে সাহরীর সময় তাহাজ্জুদও পড়ে, তাই নফল ইবাদত তো হচ্ছে, কিন্তু একই ব্যক্তি একথা চিন্তা করে না যে, সন্ধ্যায় ইফতার করার সময় যখন দস্তরখানে বসবে তখন খানা হালাল হবে না হারাম। সারাদিন রোযা রাখলো, রাতের বেলা তারাবীহ পড়লো এবং তাহাজ্জুদ পড়লো, কিন্তু মুখে যে লোকমা যাচ্ছে তা হালাল না হারাম এ চিন্তা নেই। এই হাদীসের মাধ্যমে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছেন যে, আসল চিন্তা এটা করো যে, তোমার দ্বারা কোনো গোনাহ যেন সংঘটিত না হয়। এটা যদি করো তাহলে নফল ইবাদত যদি তুমি বেশি নাও করো তাহলেও তোমাকে সবচে' বেশি ইবাদতগুজার বলে লেখা হবে।
📄 উভয়ের মধ্যে উৎকৃষ্ট কে?
বিষয়টি আরেকটি দৃষ্টান্তের মাধ্যমে আরো ভালোভাবে বুঝুন। মনে করুন এক ব্যক্তি নফল ইবাদত করে, যিকির ও তিলাওয়াতে মশগুল থাকে এবং সবসময় তাসবীহ্-ও চলতে থাকে, কিন্তু একই সাথে সে গোনাহও করতে থাকে। অপর এক ব্যক্তি সারাজীবনে একটিও নফল ইবাদত করেনি; কিন্তু সারাজীবনে একটি গোনাহও সে করেনি। বলুন এই দু'জনের মধ্যে উৎকৃষ্ট কে? সেই ব্যক্তি উৎকৃষ্ট, যে গোনাহ থেকে আত্মরক্ষা করে জীবন কাটালো। যদিও নফল ইবাদতে তার বিশেষ কোনো অংশ নেই। এ ব্যক্তিকে আখেরাতে প্রশ্ন করা হবে না যে, তুমি নফল ইবাদত করোনি কেন? কারণ নফল ইবাদত ফরয নয়। একারণে ইনশাআল্লাহ সে সোজা জান্নাতে চলে যাবে। পক্ষান্তরে প্রথম ব্যক্তি নফল ইবাদতে খুব মশগুল ছিলো কিন্তু একই সাথে সে গোনাহও করেছে, আর গোনাহ এমন জিনিস আখেরাতে যার সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে।
مَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًا يَّرَهُ
'আর যে ব্যক্তি যাররা পরিমাণ কোনো গোনাহের কাজ করেছে, সে তা দেখতে পাবে।"
এজন্য তার কাছে প্রশ্ন করা হবে, তুমি নফল ইবাদত তো করেছো, কিন্তু এই গোনাহের কাজও তো করেছো। ফলে এই ব্যক্তি অত্যন্ত ক্ষতিগ্রস্থ হবে。
টিকাঃ
১. সূরা যিলযাল, আয়াত-৮
বিষয়টি আরেকটি দৃষ্টান্তের মাধ্যমে আরো ভালোভাবে বুঝুন। মনে করুন এক ব্যক্তি নফল ইবাদত করে, যিকির ও তিলাওয়াতে মশগুল থাকে এবং সবসময় তাসবীহ্-ও চলতে থাকে, কিন্তু একই সাথে সে গোনাহও করতে থাকে। অপর এক ব্যক্তি সারাজীবনে একটিও নফল ইবাদত করেনি; কিন্তু সারাজীবনে একটি গোনাহও সে করেনি। বলুন এই দু'জনের মধ্যে উৎকৃষ্ট কে? সেই ব্যক্তি উৎকৃষ্ট, যে গোনাহ থেকে আত্মরক্ষা করে জীবন কাটালো। যদিও নফল ইবাদতে তার বিশেষ কোনো অংশ নেই। এ ব্যক্তিকে আখেরাতে প্রশ্ন করা হবে না যে, তুমি নফল ইবাদত করোনি কেন? কারণ নফল ইবাদত ফরয নয়। একারণে ইনশাআল্লাহ সে সোজা জান্নাতে চলে যাবে। পক্ষান্তরে প্রথম ব্যক্তি নফল ইবাদতে খুব মশগুল ছিলো কিন্তু একই সাথে সে গোনাহও করেছে, আর গোনাহ এমন জিনিস আখেরাতে যার সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে।
مَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًا يَّرَهُ
'আর যে ব্যক্তি যাররা পরিমাণ কোনো গোনাহের কাজ করেছে, সে তা দেখতে পাবে।"
এজন্য তার কাছে প্রশ্ন করা হবে, তুমি নফল ইবাদত তো করেছো, কিন্তু এই গোনাহের কাজও তো করেছো। ফলে এই ব্যক্তি অত্যন্ত ক্ষতিগ্রস্থ হবে。
টিকাঃ
১. সূরা যিলযাল, আয়াত-৮
📄 দুই মহিলার ঘটনা
হাদীস শরীফে এসেছে, একবার হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মজলিসে দুই মহিলা সম্পর্কে আলোচনা হলো। এক মহিলা তো খুব ইবাদতে মশগুল থাকে, খুব নফল নামায পড়ে কিন্তু তার মুখ খারাপ। মুখ দিয়ে মানুষকে বিশেষ করে প্রতিবেশীদেরকে কষ্ট দেয়। আরেক মহিলা শুধু ফরয ও ওয়াজিব ইবাদত করে, নফল ইবাদত খুব বেশি করে না, কিন্তু তার ভাষা মধুর। মানুষের সাথে কথা বলতে সদাচরণ করে। প্রতিবেশী মহিলারা তার প্রতি সন্তুষ্ট। এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে জিজ্ঞাসা করা হলো, এই দুই জনের মধ্যে কোন মহিলা উত্তম? ঐ ইবাদতগুজার মহিলা, না এই পরহেযগার মহিলা? হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এই দ্বিতীয় মহিলা প্রথম মহিলার তুলনায় অনেক বেশি উৎকৃষ্ট। বরং এক বর্ণনায় এসেছে প্রথম মহিলা জাহান্নামী এবং দ্বিতীয় মহিলা জান্নাতী। কেন? কারণ, সে মুখ দিয়ে অন্যদেরকে কষ্ট দেয়।'
টিকাঃ
১. মুসনাদে আহমাদ ইবনে হাম্বল, হাদীস নং ৯২৯৮
হাদীস শরীফে এসেছে, একবার হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মজলিসে দুই মহিলা সম্পর্কে আলোচনা হলো। এক মহিলা তো খুব ইবাদতে মশগুল থাকে, খুব নফল নামায পড়ে কিন্তু তার মুখ খারাপ। মুখ দিয়ে মানুষকে বিশেষ করে প্রতিবেশীদেরকে কষ্ট দেয়। আরেক মহিলা শুধু ফরয ও ওয়াজিব ইবাদত করে, নফল ইবাদত খুব বেশি করে না, কিন্তু তার ভাষা মধুর। মানুষের সাথে কথা বলতে সদাচরণ করে। প্রতিবেশী মহিলারা তার প্রতি সন্তুষ্ট। এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে জিজ্ঞাসা করা হলো, এই দুই জনের মধ্যে কোন মহিলা উত্তম? ঐ ইবাদতগুজার মহিলা, না এই পরহেযগার মহিলা? হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এই দ্বিতীয় মহিলা প্রথম মহিলার তুলনায় অনেক বেশি উৎকৃষ্ট। বরং এক বর্ণনায় এসেছে প্রথম মহিলা জাহান্নামী এবং দ্বিতীয় মহিলা জান্নাতী। কেন? কারণ, সে মুখ দিয়ে অন্যদেরকে কষ্ট দেয়।'
টিকাঃ
১. মুসনাদে আহমাদ ইবনে হাম্বল, হাদীস নং ৯২৯৮
📄 এ বিষয়ে অধিক চিন্তা করুন
এই হাদীস দ্বারাও এ বিষয়টি পরিষ্কার হলো যে, নফল ইবাদত নিঃসন্দেহে উঁচু স্তরের নেয়ামত এবং অবশ্যই তা সম্পাদন করা উচিত, কিন্তু তার সাথে সাথে নিজেকে গোনাহ থেকে বাঁচানোর চিন্তা আরো অধিক করা উচিত। রমাযানুল মুবারকে আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহ তা'আলার দেওয়া তাওফীকে রোযা রাখলো, তিলাওয়াত করলো, জামাতের সাথে তারাবীহের নামায আদায় করলো, তাহাজ্জুদ পড়লো, নফল নামায পড়লো, ইতেকাফও করলো, কিন্তু যেই রমাযান বিদায় নিলো সেই আবার পুরাতন জীবন শুরু হলো। এখন না চোখের হেফাজত করছে না মুখের হেফাজত করছে, না কানের হেফাজত করছে, না হালাল-হারামের চিন্তা করছে, যার অর্থ হলো রমাযানুল মুবারকে নেকীর যেই পুঁজি সঞ্চয় করেছিলো তার সব লুটিয়ে দিলো। এজন্য গোনাহ থেকে বাঁচার ফিকির করতে হবে এবং এ জন্য পোক্ত সংকল্প করতে হবে। একই সঙ্গে আল্লাহ তা'আলার নিকট গোনাহ থেকে বাঁচার তাওফীকের জন্য দু'আও করবে। বলবে, হে আল্লাহ! আমাকে গোনাহ থেকে বাঁচার তাওফীক দান করুন।
এই হাদীস দ্বারাও এ বিষয়টি পরিষ্কার হলো যে, নফল ইবাদত নিঃসন্দেহে উঁচু স্তরের নেয়ামত এবং অবশ্যই তা সম্পাদন করা উচিত, কিন্তু তার সাথে সাথে নিজেকে গোনাহ থেকে বাঁচানোর চিন্তা আরো অধিক করা উচিত। রমাযানুল মুবারকে আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহ তা'আলার দেওয়া তাওফীকে রোযা রাখলো, তিলাওয়াত করলো, জামাতের সাথে তারাবীহের নামায আদায় করলো, তাহাজ্জুদ পড়লো, নফল নামায পড়লো, ইতেকাফও করলো, কিন্তু যেই রমাযান বিদায় নিলো সেই আবার পুরাতন জীবন শুরু হলো। এখন না চোখের হেফাজত করছে না মুখের হেফাজত করছে, না কানের হেফাজত করছে, না হালাল-হারামের চিন্তা করছে, যার অর্থ হলো রমাযানুল মুবারকে নেকীর যেই পুঁজি সঞ্চয় করেছিলো তার সব লুটিয়ে দিলো। এজন্য গোনাহ থেকে বাঁচার ফিকির করতে হবে এবং এ জন্য পোক্ত সংকল্প করতে হবে। একই সঙ্গে আল্লাহ তা'আলার নিকট গোনাহ থেকে বাঁচার তাওফীকের জন্য দু'আও করবে। বলবে, হে আল্লাহ! আমাকে গোনাহ থেকে বাঁচার তাওফীক দান করুন।