📄 পুরো সেনাবাহিনী বাজার দিয়ে অতিক্রম করলো
'তোমরা মুমিনের অন্তর্দৃষ্টি সম্পর্কে সতর্ক থাকো, কারণ তারা আল্লাহ তা'আলার নূর দিয়ে দেখে।”
এই সংবাদ পেয়ে হযরত আবু উবাইদা ইবনে জাররাহ রাযি.-এর মাথায় ধাক্কা লাগলো। তিনি চিন্তা করলেন, এতো দিন পর্যন্ত এরা মোকাবেলা করার জন্য প্রস্তুত ছিলো, দরজা খুলছিলো না, হঠাৎ এখন কি হলো যে, তারা দরজা খুলে দেওয়ার প্রস্তাব করছে। সৈন্যদেরকে প্রবেশ করার অনুমতি দিচ্ছে। অবশ্যই এর মধ্যে কোনো ষড়যন্ত্র আছে。
তিনি পুরো সেনাবাহিনীকে একত্রিত করলেন। তাদের সামনে খুৎবা দিলেন এবং বললেন, আল্লাহ তা'আলার শোকর দুশমন অস্ত্র সমর্পণ করেছে। তারা আমাদেরকে ভিতরে প্রবেশ করার দাওয়াত দিচ্ছে। আপনারা অবশ্যই ভিতরে প্রবেশ করবেন। তবে আমি আপনাদের সামনে কুরআনে কারীমের একটি আয়াত পাঠ করছি, আপনারা এই আয়াত পাঠ করতে করতে এবং তার উপর আমল করতে করতে প্রবেশ করবেন। তখন তিনি এই আয়াত তিলাওয়াত করলেন,
قُلْ لِلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ
'মুমিনদেরকে বলে দিন! তারা যেন নিজেদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে এটা তাদের জন্য পবিত্রতার রাস্তা।"
সুতরাং সেনাবাহিনী নত চোখে দুর্গের ভিতরে প্রবেশ করলো, এ অবস্থাতেই পুরো বাজার পার হয়ে গেলো এবং শাহী মহল পর্যন্ত পৌঁছে গেলো। কেউ ডান-বামে চোখ তুলে তাকালো না যে, কি ফেৎনা এই দোকানগুলোতে তাদের জন্য অপেক্ষা করছে?
টিকাঃ
১. সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ৩০৫২
২. সূরা নূর, আয়াত-৩০
📄 এই দৃশ্য দেখে তারা ইসলাম গ্রহণ করলো
শহরের অধিবাসীরা এ দৃশ্য দেখে পরস্পরে বলতে লাগলো, এরা কেমনতর মানুষ! কোনো সৈন্য যখন বিজয়ী হয়ে শহরে প্রবেশ করে তখন বুক টান করে প্রবেশ করে, স্বাধীন ভাব নিয়ে প্রবেশ করে, লুট করে, সতিত্ব হরণ করে, কিন্তু এই বিরল বিস্ময়কর সৈন্য বাহিনী এমনভাবে প্রবেশ করলো! তাদের সেনাপতি বলেছিলো দৃষ্টি নত রাখবে, তাদের সকলের দৃষ্টি নত ছিলো। এমতাবস্থায় পুরো সেনাবাহিনী বাজার পার হয়ে গেলো, শহরের অসংখ্য মানুষ শুধু এই দৃশ্য দেখে মুসলিম হয়ে গেলো। আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে ইসলামের তাওফীক দান করলেন।
📄 ইসলাম কি তরবারীর জোরে বিস্তার লাভ করেছে?
মানুষ বলে, ইসলাম তরবারীর জোরে বিস্তার লাভ করছে। কিন্তু বাস্ত বতা হলো, সাহাবায়ে কেরামের এই কীর্তির ফলে ইসলাম বিস্তার লাভ করেছে। তাদের আমলের ফলে ইসলাম বিস্তার লাভ করেছে। মোটকথা, দৃষ্টি নত রাখার এই আমল তাদেরকে শুধু দৈহিক, মানসিক ও জৈবিক ফেতনা থেকে রক্ষা করেনি বরং এর দ্বারা শত্রুর ষড়যন্ত্র এবং তাদের চক্রান্ত থেকেও হেফাজত করেছে।
📄 শয়তানের আক্রমণ চারদিক থেকে
আমাদের হযরত হাকীমুল উম্মত (কু.সি.) বলতেন, আল্লাহ তা'আলা যখন শয়তানকে জান্নাত থেকে বের করে দিলেন, তাকে বিতাড়িত করলেন, তখন সে আল্লাহ তা'আলার সামনে অত্যন্ত চ্যালেঞ্জের সঙ্গে বলেছিলো, আপনি যখন আমাকে জান্নাত থেকে বের করে দিয়েছেন এবং আমার এই দু'আও কবুল করেছেন যে, আমি কিয়ামত পর্যন্ত জীবিত থাকবো তাই আমি সংকল্প করছি, যেই আদমের কারণে আমাকে জান্নাত থেকে বের হতে হলো সেই আদমের সন্তানদেরকে আমি এভাবে গোমরাহ করবো-
لَآتِيَنَّهُمْ مِنْ بَيْنِ أَيْدِيهِمْ وَمِنْ خَلْفِهِمْ وَعَنْ أَيْمَانِهِمْ وَعَنْ شَمَائِلِهِمْ
'আমি তাদেরকে সামনে থেকে আক্রমণ করবো, পিছন থেকে আক্রমণ করবো, বাম দিক থেকে আক্রমণ করবো, ডান দিকে থেকে আক্রমণ করবো, চর্তুদিক থেকে তাদের উপর আক্রমণ করবো।"
তাই শয়তান চর্তুদিক থেকে ঘিরে রেখেছে। হযরত হাকীমুল উম্মত রহ. বলেন, দুটি দিকের কথা বলতে সে ভুলে যায়, এক উপর দিক, আরেক নিচের দিক। শয়তান চর্তুদিক থেকে তো আক্রমণ করবে, তাই তার থেকে বাঁচার রাস্তা হয় উপর দিক থেকে, না হয় নিচের দিক থেকে। উপর দিক দ্বারা উদ্দেশ্য আল্লাহ তা'আলার সাথে সম্পর্ক কায়েম করা। তার সাহায্য চাওয়া, তার শরণাপন্ন হওয়া, তার অভিমুখী হওয়া এবং বলা যে, হে আল্লাহ! এই শয়তান আমাকে চর্তুদিকে থেকে ঘিরে রেখেছে, আপনি দয়া ও অনুগ্রহ করে আমাকে শয়তানের আক্রমণ থেকে রক্ষা করুন। উপরের রাস্তা শয়তানের আক্রমণ থেকে এ জন্য সংরক্ষিত যে, তা আল্লাহ তা'আলার সাথে সম্পর্ক করার রাস্তা。
টিকাঃ
১. সূরা আরাফ, আয়াত-১৭