📄 চোখ অনেক বড়ো নেয়ামত
"দৃষ্টি শয়তানের বিষাক্ত তীরসমূহের মধ্যে থেকে একটি তীর।"
অনেক সময় একটি মাত্র দৃষ্টিপাত মানুষের আত্মাকে বরবাদ করে দেয়। তারমধ্যে বিপর্যয় সৃষ্টি করে। অনেক সময় একটি মাত্র দৃষ্টিপাতের ফলে মানুষের চিন্তা, কল্পনা, ভাবনা, আবেগ-উদ্দীপনা এমনকি তার কর্মকাণ্ডকেও নষ্ট করে দেয়। এজন্য শরীয়ত প্রথম পাহারা বসাচ্ছে মানুষের দৃষ্টির উপর。
এই চোখ আল্লাহ তা'আলার এতো বড়ো নেয়ামত যে, কোনো মানুষ যদি দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলে তাহলে লক্ষ-কোটি টাকা খরচ করেও সে এই নেয়ামত লাভ করতে সক্ষম হবে না। আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে এই নেয়ামত বিনামূল্যে এবং বিনা বিনিময়ে দান করেছেন। এজন্য এই নেয়ামতের কদর হয় না। জন্ম থেকে নিয়ে মৃত্যু পর্যন্ত এই নেয়ামত আপনার সাথে রয়েছে। এটি এতো নাজুক অঙ্গ যে, এর মধ্যে একটা চুল চলে গেলে বা একটু আঁচড় লাগলে তা বেকার হয়ে যায়। কিন্তু এতো নাজুক মেশিন পুরো জীবন মানুষকে সঙ্গ দেয়। এমনভাবে সঙ্গ দেয় যে, তার সার্ভিসিং- এরও প্রয়োজন পড়ে না, পেট্রোল দিতে হয় না, তেল দিতে হয় না। বরং আল্লাহ তা'আলা স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাপনার অধীনে তার সার্ভিসিং করেন, তার খাদ্যও পৌছান। সুতরাং ক্ষুধা নিবারণের জন্য আপনারা যেই গ্রাস গ্রহণ করেন তার মাধ্যমে আল্লাহ তা'আলা দেহের প্রত্যেক অংশে খাদ্য পৌছিয়ে থাকেন। একই ভাবে চোখকেও পৌছিয়ে থাকেন。
টিকাঃ
১. মাজমাউয যাওয়াইদ, খণ্ড-৮, পৃষ্ঠা-৬৩, কানযুল উম্মাল, খণ্ড-৫, পৃষ্ঠা-৪৮১, হাদীস নং ১৩০৬৮, ইদাতুস সাবিরীন ওয়া যাখীরাতুশ শাকিরীন, খণ্ড-১, পৃষ্ঠা-১৮
📄 চোখও ব্যভিচার করে
এই চোখ আপনাকে দেওয়া হয়েছে, যাতে আপনি তা দ্বারা দৃশ্য উপভোগ করেন। নিজের কাজ সম্পাদন করেন। এই চোখের উপর শুধুমাত্র কয়েকটি জিনিস না দেখার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। তা হলো কোনো পরনারীর দিকে কামনার দৃষ্টিতে দেখবে না। এটাকে গোনাহের কাজ সাব্যস্ত করা হয়েছে। এটাকে চোখের যেনা বলা হয়েছে। হাদীস শরীফে হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
الْعَيْنَانِ تَزْنِيَانِ، وَزِنَاهُمَا النَّظْرُ
📄 লজ্জাস্থানের হেফাযত চোখের হেফাযতের উপর নির্ভরশীল
'দুই চোখে যেনা করে আর তার যেনা হলো দেখা।"
উপভোগের উদ্দেশ্যে কামনার দৃষ্টিতে কোনো পরনারীর দিকে দেখা কুদৃষ্টির অন্তর্ভুক্ত। শরীয়ত এটাকে নাজায়েয ও হারাম সাব্যস্ত করেছে। আপনার দৃষ্টি যখন সংরক্ষিত থাকবে তখন আপনার চিন্তা ও কল্পনাও পবিত্র হবে এবং আপনার আবেগ-অনুভূতিও পবিত্র হবে, ফলে আপনার আমলও পবিত্র হবে。
কুরআনে কারীমে আল্লাহ তা'আলা হুকুম দিয়েছেন-
قُلْ لِلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ..
'হে মুহাম্মাদ! (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আপনি ঈমানদার পুরুষদেরকে বলুন, তারা যেন দৃষ্টিকে নত রাখে এবং নিজেদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। এটা তোমাদের জন্য পবিত্রতা অর্জনের সর্বোত্তম পন্থা এবং মুমিন নারীদেরকে বলুন, তারা যেন নিজেদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং নিজেদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে।'
এর মাধ্যমে বলে দিয়েছেন যে, লজ্জাস্থানের হেফাজতের পথের সূচনা হলো চোখের হেফাজত করা। চোখ যখন হেফাজতে থাকবে তখন লজ্জাস্থানও হেফাজতে থাকবে। পরিণতিতে তোমরা ব্যভিচার থেকে হেফাজতে থাকবে। এটা কোন মোল্লা-মৌলভীর নির্দেশ নয়। এটা কোনো পশ্চাদপদ ধার্মিক সন্ত্রাসীর নির্দেশ নয়, এটা আল্লাহ তা'আলার নির্দেশ, কুরআনে কারীমে যা তিনি বর্ণনা করেছেন。
টিকাঃ
১. মুখতাসারু ইরওয়াইল গালীল, খণ্ড-১, পৃষ্ঠা-৪৭১, হাদীস নং ২৩৭০, গায়াতুল মুরাম, খণ্ড-১, পৃষ্ঠা-১৩২, হাদীস নং ১৮৪, বুখারী মুসলিম ও আহমদ বিন হাম্বলের উল্লেখিত অনেক বর্ণনা দ্বারা এ হাদীস সমর্থিত হয়。
২. সূরা নূর, আয়াত-৩০
📄 দূর্গ অবরোধ করা
যতোদিন পর্যন্ত মুসলিমরা এই বিধানের উপর আমল করেছে আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে সকল ফেৎনা ফাসাদ থেকে হেফাজত করেছেন। আমি আমার ওয়ালেদ মাজেদ হযরত মাওলানা মুফতী মুহাম্মদ শফী ছাহেব রহ. থেকে এ ঘটনাটি শুনেছিলাম। এটি একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। হযরত ওমর ফারুক রাযি.-এর পবিত্র যুগে হযরত আবু উবাইদা ইবনে জাররাহ রাযি., যিনি আশারায়ে মুবাশশারার অন্যতম উঁচু স্তরের সাহাবী এবং শাম বিজয়ী।
শামের বিরাট অঞ্চলের বিজয়মুকুট আল্লাহ তা'আলা তার মস্তকে স্থাপন করেন। পরবর্তীতে তিনি শামের গভর্ণর ছিলেন। একবার তিনি অমুসলিমদের দুর্গ আক্রমণ করেন। দুর্গ অবরোধ করেন। অবরোধ কাল দীর্ঘ হয়। দুর্গ জয় হচ্ছিলো না। অবশেষে যখন দুর্গের লোকেরা দেখলো মুসলিমরা খুব দৃঢ়তার সাথে অবরোধ করে আছে তখন তারা একটা ষড়যন্ত্র করলো। তারা বললো, আমরা আপনাদের জন্য দুর্গের দরজা খুলে দিচ্ছি আপনারা আপনাদের সৈন্য সহ শহরে প্রবেশ করুন। তাদের ষড়যন্ত্র এই ছিলো যে, শহরের ফটক যেদিকে খুলতো সেদিকে দীর্ঘ বাজার ছিলো, যার উভয়দিকে ছিলো দোকান। সেই বাজারটি শাহী মহলে গিয়ে শেষ হতো। তারা বাজারের উভয় দিকে প্রত্যেকটা দোকানে নারীদেরকে সাজিয়ে একজন করে বসিয়ে দেয়। নারীদেরকে গুরুত্বের সাথে বলে দেয় যে, এই মুজাহিদরা প্রবেশ করার পর তোমাদেরকে উত্তপ্ত করতে চাইলে, তোমাদের সাথে কোনো কিছু করতে চাইলে, তোমরা অস্বীকার করবে না, বাধা দিবে না। তারা চিন্তা করেছিলো এরা আরব ভূমি থেকে এসেছে। কয়েক মাস ধরে বাড়ি থেকে দূরে অবস্থান করছে। ভিতরে প্রবেশ করার পর আকস্মিকভাবে যখন তারা সুন্দর ও সজ্জিত নারীদেরকে দেখতে পাবে তারা সেদিকে আকৃষ্ট হবে যখন তারা এদের নিয়ে ব্যস্ত হবে তখন আমরা পিছন দিক থেকে তাদের উপর আক্রমণ করবো।