📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি 📄 দৃষ্টিপাত সওয়াবের কারণ

📄 দৃষ্টিপাত সওয়াবের কারণ


এর মাধ্যমে আমি যেন আমার পরিবার-পরিজনকে দেখতে পারি, আমার ভাই-বোনকে দেখতে পারি, আমার বাড়ি দেখতে পারি, তখন তো লিখিত চুক্তি দিতে তৈরী হবে। কারণ দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে গেছে এখন তা ফিরিয়ে আনার কোনো পথ নেই। কিন্তু আল্লাহ তা'আলা বিনা চুক্তিতে আপনাকে এই নেয়ামত দিয়েছেন। এই নেয়ামত দিয়ে আল্লাহ বলেছেন, এই দৃষ্টিশক্তি যেই জায়গায় ব্যবহারের জন্য দিলাম শুধু সেখানে ব্যবহার করবে।

যদি শুধু এসব জায়গায় ব্যবহার করো তাহলে তোমার আমলনামায় নেকীর স্তুপ হতে থাকবে। আখেরাতে পুরস্কার ও ছওয়াবের ভাণ্ডার জমা হতে থাকবে। হাদীস শরীফে হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কোনো ব্যক্তি যদি নিজের মা-বাবাকে একবার ভালোবাসার দৃষ্টিতে দেখে তাহলে একটি হজ্জ ও একটি ওমরার ছওয়াব লাভ হয়।'

অপর এক হাদীসে হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, একজন স্বামী ঘরে প্রবেশ করলো এবং নিজের স্ত্রীর দিকে ভালোবাসার দৃষ্টিতে দেখলো এবং স্ত্রী তার স্বামীর দিকে ভালোবাসার নজরে তাকালো তখন আল্লাহ তা'আলা উভয়ের প্রতি রহমতের দৃষ্টিতে তাকান।'

এবার লক্ষ্য করুন! সঠিক জায়গায় দৃষ্টিশক্তির ব্যবহার করলে আল্লাহ তা'আলা নেকীর স্তুপ দান করেন。

টিকাঃ
১. শুয়াবুল ঈমান, খণ্ড-১৬, পৃষ্ঠা-৩৬৫, হাদীস নং ১১৭৬, কানযুল উম্মাল, খণ্ড-১৬, পৃষ্ঠা-৪৭৭, হাদীস নং ৪৫৫৩৫, আদদুররুল মানসূর খণ্ড-৫, পৃষ্ঠা-২৬৪
২. কানযুল উম্মাল, খণ্ড-১৬, পৃষ্ঠা-২৭৬, হাদীস নং ৪৪৪৩৭, জামেউল আহাদীস, খণ্ড-৭, পৃষ্ঠা-২৭৯, হাদীস নং ৬২৯৬

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি 📄 দৃষ্টির হেফাযতের একটি পদ্ধতি

📄 দৃষ্টির হেফাযতের একটি পদ্ধতি


আল্লাহ না করুন, মানুষ যদি নিষিদ্ধ জায়গায় দৃষ্টিপাত করে এবং পরনারীর দিকে কামনার দৃষ্টিতে তাকায়, সে সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এটা শয়তানের বিষাক্ত তীরসমূহের একটি তীর।

বর্তমানে আমরা বলি, এ যুগে চোখ বাঁচানো খুব কঠিন। চেষ্টা করেও চোখ রক্ষা করা যায় না। মানুষ যাবে কোথায়? বাঁচবে কিভাবে? এ থেকে বাঁচার উপায় হলো, আপনি এ কথা চিন্তা করুন যে, আজ যদি আমার দৃষ্টিশক্তি চলে যায় আর কেউ আমাকে বলে, তুমি দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাবে তবে শর্ত হলো, কোনো পরনারীকে দেখতে পারবে না। এই ওয়াদা যদি করতে পারো, পোক্ত অঙ্গীকার করতে পারো, লিখিত দাও, তাহলে দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাবে, নইলে পাবে না। বলুন! তখন এই ওয়াদা করার জন্য এবং লিখিত দেওয়ার জন্য আপনি সম্মত হবেন কি না? এমন কোন মানুষ আছে, যে এই ওয়াদা করার জন্য এবং লিখিত দেওয়ার জন্য রাজী হবে না। এমন কোন মানুষ আছে, যে বলবে, আমি যদি পরনারীকে দেখতে না পারি তাহলে আমার এই দৃষ্টিশক্তির প্রয়োজন নেই। কোনো মানুষ কি এমন বলবে, কখনই বলবে না। তখন যদি আপনি এই ওয়াদা করতে এবং লিখিত দিতে তৈরী হন, তাহলে যে মেহেরবান মালিক কোনো প্রকার চুক্তি ছাড়া আগে থেকেই আপনাকে ঐ দৃষ্টিশক্তি দিয়ে রেখেছেন, তারপর তিনি বলছেন যে, দৃষ্টিশক্তির অপব্যবহার করো না তাহলে তা আপনার মুশকিল মনে হয় কেন! কেন পেরেশানী লাগে! যখন কুদৃষ্টির পরিবেশ সৃষ্টি হয়, তখন চিন্তা করুন যে, আমি কুদৃষ্টি করলে আমার দৃষ্টিশক্তি চলে যাবে।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি 📄 সাহসিকতার সাথে কাজ করুন

📄 সাহসিকতার সাথে কাজ করুন


বাস্তবতা এই যে, মানুষ যখন নিজের দৃষ্টিশক্তিকে আল্লাহ তা'আলার নাফরমানীর কাজে ব্যবহার করে, তখন বাস্তবে তা দৃষ্টিশক্তি নয়, তা তো অন্ধত্ব, তার দৃষ্টিশক্তি তো হারিয়ে গেছে। কুরআনে কারীমে আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন,
مَنْ كَانَ فِي هَذِةٍ أَعْنَى فَهُوَ فِي الْآخِرَةِ أَعْنَى وَأَضَلُّ سَبِيلًا
'যে ব্যক্তি দুনিয়াতে অন্ধ হয়ে থাকতো সে আখেরাতে অন্ধ বরং অধিকতর পথহারা থাকবে।'
এজন্য মানুষ অঙ্গীকার করবে, আমি দৃষ্টিশক্তিকে নাজায়েয জায়গায় ব্যবহার করবো না। আল্লাহ তা'আলা মানুষের হিম্মত ও সাহসিকতার মধ্যে এবং অঙ্গীকার ও সংকল্পের মধ্যে বিরাট শক্তি রেখেছেন। মানুষের সাহসিকতা রাবারের মতো। ইচ্ছা মতো তা টেনে লম্বা করা যায়। মানুষ যখন সাহসকে ব্যবহার করে আল্লাহ তা'আলা তার মধ্যে বরকত ও উন্নতি দান করেন。

টিকাঃ
১. সূরা বানী ইসরাঈল, আয়াত-৭২

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি 📄 সারকথা

📄 সারকথা


মোটকথা, দৃষ্টিশক্তির উপর দুটি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। একটি হলো পরনারীকে কামনার দৃষ্টিতে দেখা, আরেকটি হলো কোনো মুসলিমকে তাচ্ছিল্যের দৃষ্টিতে দেখা। কোনো মুসলমানের প্রতি তাচ্ছিল্যের দৃষ্টিতে তাকানোও চোখের গোনাহ। এই দুই গোনাহ থেকে বাঁচার প্রতি যত্ন নিলে ইনশাআল্লাহ জীবন পরিশুদ্ধ হয়ে যাবে। চিন্তা ও উদ্দীপনা পবিত্র হবে। আল্লাহ তা'আলা সন্তুষ্ট হবেন। আখেরাতের প্রস্তুতি হবে। আর যদি আল্লাহর দেয়া এ মেশিনকে বল্গাহীনভাবে ব্যবহার করা হয়, তাকে নিয়ন্ত্রণ করা না হয়, তাহলে এই চোখই আপনাকে জাহান্নামের গর্তে নিক্ষেপ করবে। আল্লাহ তা'আলার আযাবের হকদার বানাবে। এ জন্য চোখের হেফাজতের প্রয়োজন রয়েছে। আল্লাহ তা'আলা আমাদের সকলকে চোখের হেফাজত করার তাওফীক দান করুন। আমীন। আলোচনা এখনো রয়ে গেছে কিন্তু সময় শেষ হয়ে গেছে, বেঁচে থাকলে ইনশাআল্লাহ আগামী জুমায় আলোচনা করবো।

وَاخِرُ دَعْوَانَا أَنِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَلَمِينَ

ফন্ট সাইজ
15px
17px