📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 চোখের উপর শুধু দুটি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে

📄 চোখের উপর শুধু দুটি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে


এসব ব্যবস্থা আল্লাহ তা'আলা করে রেখেছেন। এই ব্যবস্থাপনার জন্য কোনো পয়সা চাননি যে, এতো টাকা দিলে তবে চোখ পাবে। বরং স্বয়ংক্রিয় এই মেশিন জন্মের সময় থেকে আপনাকে দিয়ে দিয়েছেন। শুধু এতটুকু বলেছেন যে, এটা সরকারি মেশিন, যেখানে ইচ্ছা তুমি ব্যবহার করো শুধুমাত্র অল্প কয়টি জায়গায় একে ব্যবহার করবে না। চোখ দিয়ে আসমান দেখো, জমিন দেখো, নৈসর্গিক দৃশ্য দেখো, বাগান দেখো, ফল দেখো, ফুল দেখো, নদী দেখো, নালা দেখো, পাহাড় দেখো, প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখো, আপনজনকে দেখো, বন্ধু-বান্ধবকে দেখো এবং স্বাদ উপভোগ করো। শুধু দুইটি জিনিস থেকে বেঁচে থাকবে এক কোন পরনারীর প্রতি কামনার দৃষ্টিতে দেখবে না আর কোন মানুষের প্রতি তাচ্ছিল্যের দৃষ্টিতে তাকাবে না। শুধু এই দুটি নিষেধাজ্ঞা আপনার উপর আরোপ করা হয়েছে। বাকী সবকিছু দেখা হালাল করা হয়েছে। আল্লাহ তা'আলার দেয়া এই সরকারি মেশিন ইচ্ছা মতো ব্যবহার করুন।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেওয়ার সময় যদি শর্ত আরোপ করা হয়

📄 দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেওয়ার সময় যদি শর্ত আরোপ করা হয়


এর পরও যদি মানুষ বলে, এ কাজ খুব কঠিন। বিশ্ব চরাচরের সমস্ত ব্যবস্থাপনা দেখানোর জন্য এতো বড়ো আয়োজন আল্লাহ তা'আলা আপনাকে দিয়েছেন, আল্লাহ না করুন কোনো সময় যদি আপনার চোখের পর্দা ফেটে যায়, কোনো দিন যদি আপনার চোখের দৃষ্টি শক্তি নষ্ট হয়ে যায়, আর তখন যদি আপনাকে বলা হয় যে, দৃষ্টিশক্তি তো তুমি ফিরে পাবে কিন্তু শর্ত হলো এই এই জিনিস তুমি দেখবে না তখন মানুষ উত্তরে বলবে, সারাজীবন এগুলো না দেখার লিখিত চুক্তি নিন কিন্তু আমাকে দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিন।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 দৃষ্টিপাত সওয়াবের কারণ

📄 দৃষ্টিপাত সওয়াবের কারণ


এর মাধ্যমে আমি যেন আমার পরিবার-পরিজনকে দেখতে পারি, আমার ভাই-বোনকে দেখতে পারি, আমার বাড়ি দেখতে পারি, তখন তো লিখিত চুক্তি দিতে তৈরী হবে। কারণ দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে গেছে এখন তা ফিরিয়ে আনার কোনো পথ নেই। কিন্তু আল্লাহ তা'আলা বিনা চুক্তিতে আপনাকে এই নেয়ামত দিয়েছেন। এই নেয়ামত দিয়ে আল্লাহ বলেছেন, এই দৃষ্টিশক্তি যেই জায়গায় ব্যবহারের জন্য দিলাম শুধু সেখানে ব্যবহার করবে।

যদি শুধু এসব জায়গায় ব্যবহার করো তাহলে তোমার আমলনামায় নেকীর স্তুপ হতে থাকবে। আখেরাতে পুরস্কার ও ছওয়াবের ভাণ্ডার জমা হতে থাকবে। হাদীস শরীফে হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কোনো ব্যক্তি যদি নিজের মা-বাবাকে একবার ভালোবাসার দৃষ্টিতে দেখে তাহলে একটি হজ্জ ও একটি ওমরার ছওয়াব লাভ হয়।'

অপর এক হাদীসে হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, একজন স্বামী ঘরে প্রবেশ করলো এবং নিজের স্ত্রীর দিকে ভালোবাসার দৃষ্টিতে দেখলো এবং স্ত্রী তার স্বামীর দিকে ভালোবাসার নজরে তাকালো তখন আল্লাহ তা'আলা উভয়ের প্রতি রহমতের দৃষ্টিতে তাকান।'

এবার লক্ষ্য করুন! সঠিক জায়গায় দৃষ্টিশক্তির ব্যবহার করলে আল্লাহ তা'আলা নেকীর স্তুপ দান করেন。

টিকাঃ
১. শুয়াবুল ঈমান, খণ্ড-১৬, পৃষ্ঠা-৩৬৫, হাদীস নং ১১৭৬, কানযুল উম্মাল, খণ্ড-১৬, পৃষ্ঠা-৪৭৭, হাদীস নং ৪৫৫৩৫, আদদুররুল মানসূর খণ্ড-৫, পৃষ্ঠা-২৬৪
২. কানযুল উম্মাল, খণ্ড-১৬, পৃষ্ঠা-২৭৬, হাদীস নং ৪৪৪৩৭, জামেউল আহাদীস, খণ্ড-৭, পৃষ্ঠা-২৭৯, হাদীস নং ৬২৯৬

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 দৃষ্টির হেফাযতের একটি পদ্ধতি

📄 দৃষ্টির হেফাযতের একটি পদ্ধতি


আল্লাহ না করুন, মানুষ যদি নিষিদ্ধ জায়গায় দৃষ্টিপাত করে এবং পরনারীর দিকে কামনার দৃষ্টিতে তাকায়, সে সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এটা শয়তানের বিষাক্ত তীরসমূহের একটি তীর।

বর্তমানে আমরা বলি, এ যুগে চোখ বাঁচানো খুব কঠিন। চেষ্টা করেও চোখ রক্ষা করা যায় না। মানুষ যাবে কোথায়? বাঁচবে কিভাবে? এ থেকে বাঁচার উপায় হলো, আপনি এ কথা চিন্তা করুন যে, আজ যদি আমার দৃষ্টিশক্তি চলে যায় আর কেউ আমাকে বলে, তুমি দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাবে তবে শর্ত হলো, কোনো পরনারীকে দেখতে পারবে না। এই ওয়াদা যদি করতে পারো, পোক্ত অঙ্গীকার করতে পারো, লিখিত দাও, তাহলে দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাবে, নইলে পাবে না। বলুন! তখন এই ওয়াদা করার জন্য এবং লিখিত দেওয়ার জন্য আপনি সম্মত হবেন কি না? এমন কোন মানুষ আছে, যে এই ওয়াদা করার জন্য এবং লিখিত দেওয়ার জন্য রাজী হবে না। এমন কোন মানুষ আছে, যে বলবে, আমি যদি পরনারীকে দেখতে না পারি তাহলে আমার এই দৃষ্টিশক্তির প্রয়োজন নেই। কোনো মানুষ কি এমন বলবে, কখনই বলবে না। তখন যদি আপনি এই ওয়াদা করতে এবং লিখিত দিতে তৈরী হন, তাহলে যে মেহেরবান মালিক কোনো প্রকার চুক্তি ছাড়া আগে থেকেই আপনাকে ঐ দৃষ্টিশক্তি দিয়ে রেখেছেন, তারপর তিনি বলছেন যে, দৃষ্টিশক্তির অপব্যবহার করো না তাহলে তা আপনার মুশকিল মনে হয় কেন! কেন পেরেশানী লাগে! যখন কুদৃষ্টির পরিবেশ সৃষ্টি হয়, তখন চিন্তা করুন যে, আমি কুদৃষ্টি করলে আমার দৃষ্টিশক্তি চলে যাবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00