📄 চোখের হেফাযতের জন্য পয়সা খরচ করতে প্রস্তুত
যেদিন দৃষ্টিশক্তি সামান্য এদিক সেদিক হয় সেদিন আপনার মধ্যে ভয়ে কম্পন সৃষ্টি হয়ে যায় যে, আমার দৃষ্টি শক্তি আবার নষ্ট হয়ে না যায়! আল্লাহ না করুন, দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে গেলে তখন মানুষ সারা দুনিয়ার সম্পদ খরচ করতে তৈরী হয়ে যাবে, আমার সব সম্পদ শেষ হয়ে গেলেও যেন আমার দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাই। আমার স্ত্রীকে যেন দেখতে পাই, আমার সন্তানকে যেন দেখতে পাই, আমার মা-বাপকে যেন দেখতে পাই। দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হওয়া তো দূরের কথা, এর মধ্যে যদি সামান্য হেরফের হয়, বাঁকা দেখা যায়, চোখের সামনে সরিষার ফুল দেখা যায়, চোখের সামনে বৃত্ত দেখা যায়, তখন মানুষ ঘাবড়ে যায় এ কি হলো! তখন চক্ষু বিশেষজ্ঞের কাছে দৌড়ায়। যে কোনোভাবে আমার চোখের সমস্যা দূর হোক। আমরা বিনামূল্যে এ সম্পদ পেয়েছি। মৃত্যু পর্যন্ত তা কাজ করে যাচ্ছে। যার সার্ভিসিং-এরও প্রয়োজন পড়ে না এবং তেল দেওয়ারও প্রয়োজন পড়ে না।
📄 বিস্ময়কর চোখের মণি
চোখের মধ্যে আল্লাহ তা'আলা এক বিস্ময়কর ব্যবস্থা রেখেছেন। আমাকে একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ বলেন, মানুষ যখন আলোর মধ্যে যায় তখন তার চোখের মণি বিস্তৃত হয়, আর যখন অন্ধকারে আসে তখন চোখের মণির স্নায়ুসমূহ সংকুচিত হয়। কারণ, অন্ধকারের মধ্যে ঠিকভাবে দেখার জন্য তা সংকুচিত হওয়া জরুরী। ঐ ডাক্তার বলেন যে, এই বিস্তৃত হওয়া ও সংকুচিত হওয়ার কাজে মানুষের চোখের শিরা সাত মাইলের দূরত্ব অতিক্রম করে। এ কাজটি নিজে নিজে হয়ে যায়। এই কাজ যদি মানুষের হাতে ন্যস্ত করা হতো আর বলা হতো যে, যখন তুমি অন্ধকারের মধ্যে যাবে তখন এই বোতামটি চাপবে আর যখন আলোর মধ্যে যাবে তখন এই দ্বিতীয় বোতামটি চাপবে তাহলে তোমার চোখ ঠিকভাবে কাজ করবে। তাহলে ফল এই হতো যে, বিষয়টি কারো বুঝে আসতো, আর কারো বুঝে আসতো না। ভুল সময়ে বোতাম চাপতো, প্রয়োজনের অধিক বোতাম চাপতো, ফলে আল্লাহ জানেন সেই চোখের পরিণতি কি হতো! কিন্তু আল্লাহ তা'আলা একটি স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাপনা চোখে বসিয়ে দিয়েছেন। প্রয়োজন মতো চোখের মণি বিস্তৃত ও সংকুচিত হয়।
📄 চোখের হেফাজতের খোদায়ী ব্যবস্থা
চোখ এতো সংবেদনশীল অঙ্গ যে, পুরো মানব দেহে এরচে' অধিক সংবেদনশীল অঙ্গ হয়তো আরেকটি নেই। আপনাদের অভিজ্ঞতা থাকবে, বালু বা মাটির সামান্য অংশ যা দেখাও যায় না যদি চোখের মধ্যে চলে যায় তাহলে মানুষ অস্থির হয়ে পড়ে। ব্যথায় ব্যকুল হয়ে পড়ে। চোখ মানুষের মুখমণ্ডলের একদম সম্মুখে অবস্থিত। সম্মুখ দিকে থেকে মানুষের উপর আক্রমণ করা হলে বা কারো সাথে সংঘর্ষ হলে তখন সর্বপ্রথম মানুষের চেহারার উপর আঘাত লাগে। কিন্তু চোখের হেফাজতের জন্য আল্লাহ তা'আলা দুটি পাহারাদার বসিয়ে দিয়েছেন, মাথার হাড্ডি ও গালের হাড্ডি। এই দুই হাড্ডির দূর্গের মাঝে মানুষের চোখকে স্থাপন করেছেন। যাতে করে চেহারায় কোনো আঘাত লাগলে হাড্ডি তা বহন করে আর চোখ সংরক্ষিত থাকে। আল্লাহ তা'আলা চোখের উপর পাপড়ি বিশিষ্ট দুটি পাতা দিয়েছেন, যেন তার মধ্যে কোনো ধুলাবালি যেতে না পারে। মাটি বা ধুলাবালি উড়ে আসলে এই পাতা নিজের উপর তা নিয়ে নেয় এবং চোখকে রক্ষা করে। চূড়ান্ত পর্যায়ে গিয়ে কেবল চোখে আঘাত লাগে, অন্যথায় চোখের হেফাজতের জন্য আল্লাহ তা'আলা এই স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা রেখেছেন। এগুলোর মাধ্যমে মানুষের মুখমণ্ডলের সৌন্দর্যও বৃদ্ধি পেয়েছে এবং চোখের নেয়ামতের হেফাজতেরও ব্যবস্থা হয়েছে।
📄 চোখের উপর শুধু দুটি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে
এসব ব্যবস্থা আল্লাহ তা'আলা করে রেখেছেন। এই ব্যবস্থাপনার জন্য কোনো পয়সা চাননি যে, এতো টাকা দিলে তবে চোখ পাবে। বরং স্বয়ংক্রিয় এই মেশিন জন্মের সময় থেকে আপনাকে দিয়ে দিয়েছেন। শুধু এতটুকু বলেছেন যে, এটা সরকারি মেশিন, যেখানে ইচ্ছা তুমি ব্যবহার করো শুধুমাত্র অল্প কয়টি জায়গায় একে ব্যবহার করবে না। চোখ দিয়ে আসমান দেখো, জমিন দেখো, নৈসর্গিক দৃশ্য দেখো, বাগান দেখো, ফল দেখো, ফুল দেখো, নদী দেখো, নালা দেখো, পাহাড় দেখো, প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখো, আপনজনকে দেখো, বন্ধু-বান্ধবকে দেখো এবং স্বাদ উপভোগ করো। শুধু দুইটি জিনিস থেকে বেঁচে থাকবে এক কোন পরনারীর প্রতি কামনার দৃষ্টিতে দেখবে না আর কোন মানুষের প্রতি তাচ্ছিল্যের দৃষ্টিতে তাকাবে না। শুধু এই দুটি নিষেধাজ্ঞা আপনার উপর আরোপ করা হয়েছে। বাকী সবকিছু দেখা হালাল করা হয়েছে। আল্লাহ তা'আলার দেয়া এই সরকারি মেশিন ইচ্ছা মতো ব্যবহার করুন।