📄 প্রথম সীমানা, দৃষ্টির হেফাযত
হারাম পন্থা থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহ তা'আলা এমন পাহারা বগেছেন, যেগুলো রক্ষা করা হলে মানুষ কখনোই জৈবিক বিপথগামিতার শিকার হবে না। তার মধ্যে সর্ব প্রথম নিজের চোখের হেফাজতের হুকুম দিয়েছে। রাসূলে কারীম সালালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
النَّظْرُ سَهُمْ مَسْمُوْمٌ مِنْ سِهَا مِ إِبْلِيسَ
'মানুষের চোখ ইবলিসের তীরসমূহের মধ্যে থেকে একটি বিষাক্ত তীর।' অর্থাৎ, শয়তান মানুষকে এই চোখের মাধ্যমে ভুল পথে পরিচালিত করে। দৃষ্টিকে নিষিদ্ধ জায়গায় ফেলাতে চায়। এর ফলে মানুষের অন্তরে কুচিন্তা জন্মে। অবৈধ প্রেরণা সৃষ্টি হয়। যার ফলে পরিশেষে মানুষকে ভুল পথে নিয়ে যায়।
টিকাঃ
১. মাজমাউয যাওয়াইদ, খণ্ড-৮, পৃষ্ঠা-৬৩, কানযুল উম্মাল, খণ্ডঃ৫, পৃষ্ঠা-৪৮১, হাদীস নং ১৩০৬৮, ইদাতুস সাবিরীন ওয়া যাখীরাতুশ শাকিরীন, খণ্ড-১, পৃষ্ঠা-১৮
📄 চক্ষু অবনত রাখুন
কুরআনে কারীমে আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন,
قُلْ لِلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ
'আপনি ঈমানদারদের বলুন তারা যেন দৃষ্টি নত রাখে এবং নিজেদের লজ্জাস্থানকে হেফাজত করে।"
যেন এ কথা বলে দিয়েছেন যে, লজ্জাস্থানের হেফাজতের সর্বপ্রথম পদ্ধতি হলো, নিজের দৃষ্টির হেফাজত করা। দৃষ্টি যেন অপাত্রে না পড়ে। কোনো পরনারীর দিকে উপভোগের উদ্দেশ্যে দৃষ্টিপাত করা ব্যভিচারের প্রথম ধাপ। এক হাদীসে রাসূল সালালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
الْعَيْنَانِ تَزْنِيَانِ، وَزِنَاهُمَا النَّظْرُ
'চোখও ব্যভিচার করে, আর তার ব্যভিচার হলো দেখা।"২
চোখ দ্বারা পরনারীকে উপভোগের উদ্দেশ্যে দেখা ব্যভিচারের প্রথম ধাপ। শরীয়ত এর উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে。
টিকাঃ
১. সূরা নূর, আয়াত-৩০
২. মুখতাসারু ইরওয়াইল গালীল, খণ্ড-১, পৃষ্ঠা-৪৭১, হাদীস নং ২৩৭০, গায়াতুল মুরাম, খণ্ড-১, পৃষ্ঠা-১৩২, হাদীস নং ১৮৪, বুখারী, মুসলিম ও আহমাদ বিন হাম্বলের উল্লেখিত অনেক বর্ণনা দ্বারা এ হাদীসটি সমর্থিত হয়।
📄 বর্তমানে চোখের হেফাযত করা কঠিন হয়ে পড়েছে
বর্তমান সমাজে কোথাও চোখ রাখার সুযোগ নেই, সর্বত্র ফেৎনা ছড়িয়ে আছে, অথচ হুকুম দেওয়া হয়েছে যে, দৃষ্টিকে নত রাখো। চোখের অবৈধ ব্যবহার করো না। এ যুগের যুবকরা বলবে, দৃষ্টি নত রেখে চলা বড়ো কঠিন কাজ। কারণ কোথাও বোর্ডের উপর ছবি দৃষ্টি গোচর হচ্ছে এবং কোথাও পত্র পত্রিকায় ছবি দৃষ্টি গোচর হচ্ছে। কোনো ম্যাগাজিন দেখলে তার মধ্যে ছবি রয়েছে, বাজার থেকে কোনো জিনিস ক্রয় করলে তার উপর ছবি রয়েছে, বেপর্দা নারী সব জায়গায় চলাফেরা করছে, এ জন্য চোখের হেফাজত করা তো বড়ো কঠিন কাজ।
📄 চোখ কতো বড়ো নেয়ামত!
কিন্তু এই কঠিন কাজকে আয়ত্ব করার জন্য একটু চিন্তা করে দেখুন যে, যেই চোখ আল্লাহ তা'আলা আপনাকে দিয়েছেন এটা কেমন জিনিস! এমন এক মেশিন আল্লাহ তা'আলা আপনাকে দান করেছেন, যা জন্ম থেকে নিয়ে মৃত্যু পর্যন্ত কোনো পয়সা ছাড়া এবং কোনো পরিশ্রম ছাড়া কাজ করে যাচ্ছে। এমনভাবে কাজ করছে যে, যা ইচ্ছা তা এই চোখ দিয়ে দেখতে পারছেন। যে কোনো দৃশ্য দেখে উপভোগ করতে পারছেন। আল্লাহ তা'আলা যদি আপনাকে এই মেশিন নিয়ে চিন্তা ভাবনা করার তাওফীক দান করেন তখন বুঝতে পারবেন যে, ছোট্ট এই জায়গায় আল্লাহ তা'আলা কেমন কারখানা বসিয়ে দিয়েছেন। চক্ষু বিশেষজ্ঞরা কলেজ, ইউনির্ভাসিটি ও হাসপাতালে সারাজীবন দিয়ে দিলো কিন্তু এই রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হলো না যে, এটা কেমন কারখানা! এই কারখানার মধ্যে কতগুলো পর্দা রয়েছে, কতগুলো ঝালোড় রয়েছে! আল্লাহ তা'আলা এর মধ্যে কতগুলো পর্দা ফিট করে দিয়েছেন। কিন্তু যেহেতু এটা বিনামূল্যে পাওয়া গেছে, এর জন্য কোনো পয়সা খরচ করতে হয়নি, কোনো পরিশ্রম করতে হয়নি, এ জন্য এই নেয়ামতের কোনো কদর নেই।