📄 পশ্চিমা সভ্যতার অভিশাপ
যে সব সমাজে বিবাহবর্হিভূত পন্থায় জৈবিক চাহিদা প্রশমনের দ্বার উন্মুক্ত করা হয়েছে তারা নৈতিকভাবে ও সামাজিকভাবে ধ্বংসের শিকার হয়েছে। আজ পশ্চিমা জগত ইউরোপ ও আমেরিকার সভ্যতার ডংকা দুনিয়ায় বাজছে। কিন্তু তারা জৈবিক চাহিদা প্রশমনের জন্য বিবাহবর্হিভূত পন্থাসমূহ অবলম্বনের চেষ্টা করেছে, ফলে এই জৈবিক চাহিদা তাদেরকে কুকুর, বিড়াল ও গাধার কাতারে নামিয়েছে। কতক সমাজের রেকর্ডের মধ্যে রয়েছে যে, সেখানকার ৭০-৮০ শতাংশ অধিবাসী অবৈধ সন্তান। তাদের পারিবারিক ব্যবস্থা ধ্বংস হয়েছে। ফ্যামিলি সিস্টেমের সর্বনাশ ঘটেছে। বাপ-বেটা, মা-বেটি, ভাই-বোনের চিন্তা বিলুপ্ত হয়ে চলছে। আজ পশ্চিমা জগতের চিন্তাশীলরা চিৎকার করে বলছে, আমরা এ দিক থেকে নিজেদেরকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌছিয়ে দিয়েছি। এটা এ কারণে হয়েছে যে, কুরআনে কারীম পথ বলে দিয়েছিলো যে, বিবাহের মাধ্যমে জৈবিক চাহিদা প্রশমিত করো। তারা এ পথ ছেড়ে অন্যান্য পথ অবলম্বন করেছে।
📄 এ চাহিদা কোথাও গিয়ে থামবে না
আল্লাহ তা'আলা এমন ব্যবস্থা বানিয়েছেন যে, এই জৈবিক চাহিদা যদি জায়েয সীমার মধ্যে থাকে তাহলে তা মানব জাতির টিকে থাকার উপকরণ হয়। এর মাধ্যমে মানুষ অনেক উপকার লাভ করে। কিন্তু যখন এ চাহিদা বৈধ সীমারেখা অতিক্রম করে যায় তখন তা এক অতৃপ্ত ক্ষুধা ও অপূরণীয় তৃষ্ণায় পরিণত হয়। কোনো মানুষ অবৈধ পন্থায় নিজের কামনা পুরা করলে তার অবশ্যম্ভাবী পরিণতি এই দাঁড়ায় যে, সে কোনো সীমায় গিয়ে থামতে পারে না। কোনো সীমারেখায় গিয়ে তার শান্তি ও স্থীরতা লাভ হয় না। সে আরো সম্মুখে অগ্রসর হতে থাকে। কখনোই তার ক্ষুৎ-পিপাসা নীবারিত হয় না। ইস্তিসকার রোগী, যে হাজার বার পানি পান করলেও এবং মটকার পর মটকা পানি পেটে ভরলেও যার পিপাসা নিবারিত হয় না, একই অবস্থা হয় ঐ সময়ও যখন জৈবিক চাহিদা যৌক্তিক সীমা অতিক্রম করে যায়।
📄 তারপরও প্রশমিত হয় না
আজ পশ্চিমা জগতে এ অবস্থাই দেখা দিয়েছে। একপন্থায় জৈবিক চাহিদা পুরা করতে আরম্ভ করেছে কিন্তু সে পন্থায় প্রশমন লাভ হয়নি, তখন আরো সম্মুখে অগ্রসর হয়েছে। তারপরও পরিপূর্ণ প্রশান্তি লাভ হয়নি, তখন আরো সম্মুখে অগ্রসর হয়েছে। তারপরও পরিপূর্ণ প্রশান্তি লাভ হয়নি। অবশেষে অবস্থা এই দাঁড়িয়েছে যে, পশ্চিমা জগতে এমন অসংখ্য ঘটনা ঘটছে যে, এখন কোনো নারীর সঙ্গে জৈবিক চাহিদা পুরা করার পর তাকে হত্যা না করা পর্যন্ত কতক মানুষের জৈবিক চাহিদা প্রশমিত হয় না।
📄 সীমা অতিক্রম করার পরিণতি
পশ্চিমা জগতের এক বিস্ময়কর দৃশ্য এই যে, তাদের সমাজ নারীদেরকে এতো সস্তা করেছে যে, পদে পদে তাদেরকে উপভোগ করার ও জৈবিক চাহিদা পুরা করার দ্বার উন্মুক্ত করে দিয়েছে। কোনো প্রকার বাধা ও নিয়ম- নীতি তাদের নেই। কিন্তু যে সব দেশে নারী এতো সস্তা সে সব দেশেই ধর্ষণের ঘটনা সারা পৃথিবীর মধ্যে সব চেয়ে বেশি। এর কারণ এই যে, সম্মতির সাথে জৈবিক চাহিদা পুরা করার পরও যখন নফস পরিতৃপ্ত হয়নি, তখন চিন্তা জেগেছে যে, ধর্ষণের মধ্যে অধিক উপভোগ রয়েছে। ধর্ষণের সীমা এ পর্যায়ে গড়িয়েছে যে, যেই নারীর সাথে জৈবিক চাহিদা পুরা করা হচ্ছে তাকে সেই মুহূর্তেই হত্যা না করা পর্যন্ত জৈবিক চাহিদা প্রশমিত হচ্ছে না। আজ ঐ সমাজে এমন ঘটনা এতো অসংখ্য পরিমাণে ঘটছে যে, সেখানের চিন্তাশীলরা এখন চিন্তা করছে, আমরা আমাদের সমাজকে ধ্বংসের কোন অতল গহ্বরে নিক্ষেপ করেছি। কুরআনে কারীমের বক্তব্য হলো, যে সব লোক বিবাহের এই বন্ধন থেকে সরে গিয়ে জৈবিক চাহিদা প্রশমনের পথ তালাশ করে তারা সীমালঙ্ঘনকারী। সীমালঙ্ঘনের পর কোনো সীমাতেই আর তাদের স্থীরতা লাভ হয় না। আল্লাহ তা'আলা বলেন, আমি বিবাহের মাধ্যমে তোমাদের জন্য একটি জায়েয পন্থা করে দিয়েছি। সেই জায়েয পদ্ধতিতে ফযীলত রেখেছি। মানুষ যদি নিজের স্ত্রীর সাথে তার জৈবিক চাহিদা পুরা করে তা শুধু জায়েযই নয়, বরং তাতে সে ছওয়াবও পায়। এ ছাড়া অন্য সব পন্থা হারাম করেছেন।