📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি 📄 আরো তাওবার তাওফীক লাভ হয়

📄 আরো তাওবার তাওফীক লাভ হয়


আসলকথা এই যে, গোনাহ থেকে বাঁচার দু'আ কবুল তো হয়েছে, তবে তার প্রভাব এই হবে যে, প্রথমত গোনাহ সংঘটিত হবে না ইনশাআল্লাহ। আর যদি গোনাহ হয়েও যায় তাহলে অবশ্যই তাওবার তাওফীক লাভ হবে, ইনশাআল্লাহ। এটা হতে পারে না যে, তাওবার তাওফীক হবে না। এ জন্য দ্বীনের বিষয়ে দু'আ কখনো ব্যর্থ হতে পারে না। কখনো দু'আ বেকার হতে পারে না। বৃথা যেতে পারে না। আর যদি গোনাহের পর তাওবার তাওফীক লাভ হয় তখন ঐ তাওবা কতক সময় মানুষকে এতো উপরে নিয়ে যায় এবং তার মর্যাদা এতো বৃদ্ধি করে যে, কতক সময় গোনাহ না করার অবস্থায় এতো মর্যাদা হয় না এবং এতো উঁচু মাকামে পৌঁছতে পারে না। এ জন্য গোনাহ হয়ে যাওয়ার পর যখন আল্লাহ তা'আলার সামনে সে তাওবা করলো, কেঁদে ফেললো, রোনাজারি করলো তখন আল্লাহ তা'আলা এর পরিণতিতে তার মর্যাদা আরো উঁচু করে দেন।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি 📄 তখন আমি তোমাকে উচু মাকামে পৌছাবো

📄 তখন আমি তোমাকে উচু মাকামে পৌছাবো


এ জন্য আমাদের হযরত ডা. ছাহেব (কু.সি.) বলতেন, দু'আ করা সত্ত্বেও যদি পা পিছলে যায় এবং সেই গোনাহ সংঘটিত হয় তাহলে আল্লাহ তা'আলার ব্যাপারে কু-ধারণা করো না যে, আল্লাহ তা'আলা আমার দু'আ কবুল করেননি। আরে নাদান! তুমি কি জানো, আমি তোমাকে কোথায় পৌঁছাতে চাই? গোনাহ হয়ে গেলে আমি তোমাকে তাওবার তাওফীক দিবো। অতঃপর আমার সাত্তার ও গাফফার নামের গুণে তোমার গোনাহকে ঢেকে দিবো এবং তোমাকে রহমতের পাত্র বানাবো। এ জন্য দু'আ করাকে কখনোই বৃtha মনে করবে না এবং বেকার মনে করবে না। বাস, এ দুটি কাজ করতে থাকো, হিম্মতের সাথে কাজ করো, হিম্মতকে কাজে লাগাও এবং দু'আ চাইতে থাকো। তারপর দেখো কি থেকে কি হয়, ইনশাআল্লাহ!

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি 📄 সমস্ত গোনাহ থেকে বাঁচার একটাই ব্যবস্থা

📄 সমস্ত গোনাহ থেকে বাঁচার একটাই ব্যবস্থা


কুদৃষ্টি সম্পর্কে এ কয়টি কথা আমি নিবেদন করলাম। আল্লাহ তা'আলা নিজ অনুগ্রহে এর উপর আমল করার তাওফীক দান করুন, আমীন। শুধু কুদৃষ্টিই নয় দুনিয়াতে যতো গোনাহ আছে, সব গোনাহ থেকে আত্মরক্ষার ব্যাপারে নিজের সাহসকে ব্যবহার করা, ইচ্ছাশক্তিকে কাজে লাগানো, বার বার ইচ্ছাশক্তিকে জাগ্রত করা, আল্লাহ তা'আলার শরণাপন্ন হওয়া এবং দু'স' করা জরুরী। এই দুটি জিনিস জরুরী। এ দু'টির একটি দিয়ে কাজ হবে না।

শুধু যদি দু'আ করতে থাকে আর সাহস করে কাজ না করে তাহলে এই জিনিস লাভ হবে না। যেমন এক ব্যক্তি পূর্বদিকে দৌড়াচ্ছে আর আল্লাহ তা'আলার কাছে দু'আ করছে যে, হে আল্লাহ! আমাকে পশ্চিমে পৌছিয়ে দিন। আরে তুমি দৌড়াচ্ছো পূর্ব দিকে আর দু'আ করছো পশ্চিমে যাওয়ার! এ দু'আ কিভাবে কবুল হবে? কম পক্ষে প্রথমে নিজে পশ্চিম দিক হয়ে নাও। এরপর তোমার সাধ্যে যতটুকু আছে, তা করো। তারপর আল্লাহ তা'আলার কাছে দু'আ করো, হে আল্লাহ! আমাকে পশ্চিমে পৌছিয়ে দিন। তখন ঐ দু'আ কাজে আসবে। অন্যথায় ওটা দু'আই নয়। ওটা তো আল্লাহর সঙ্গে ঠাট্টা করা।

এজন্য আগে সেদিকে মুখ করুন, সাহস করুন, যতটুকু সম্ভব আগে বাড়ুন, এরপর আল্লাহ তা'আলার কাছে দু'আ করুন। সমস্ত গোনাহ থেকে বাঁচার এটাই ব্যবস্থা। এটাই উপায়। এছাড়া আর কোনো ব্যবস্থাপত্র নেই। সমস্ত ইবাদত অর্জন করার ব্যবস্থাপত্রও এই একটাই। আল্লাহ তা'আলা আমাদের সকলকে এর উপর আমল করার তাওফীক দান করুন। আমীন।

وَاخِرُ دَعْوَانَا آنِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَلَمِينَ

ফন্ট সাইজ
15px
17px