📄 দুনিয়ার উদ্দেশ্যে দু‘আ কবুল হওয়া
দেখুন! যখন মানুষ কোনো দুনিয়াবী উদ্দেশ্যে আল্লাহ তা'আলার কাছে দু'আ করে, যেমন এই দু'আ করলো যে, হে আল্লাহ! আমাকে সুস্থতা দান করুন, হে আল্লাহ! আমাকে টাকা পয়সা দিন, হে আল্লাহ! আমাকে অমুক চাকুরিটা দিন, হে আল্লাহ! আমাকে অমুক পদ দিন, তখন এ সব দু'আই কবুল হয়, তবে কবুল হওয়ার ধরন বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে। কখনো ঠিক ঐ জিনিসই আল্লাহ তা'আলা দান করেন যা সে চেয়েছে। যেমন টাকা পয়সা চেয়েছিলো, তো আল্লাহ তা'আলা টাকা পয়সা দিয়ে দিলেন। কিংবা কোনো পদ চেয়েছিলো, তা দিয়েদিলেন। কিন্তু কতক সময় আল্লাহ তা'আলা দেখেন যে এ ব্যক্তি নির্বুদ্ধিতার কারণে এমন জিনিস চাচ্ছে, আমি যদি তা দেই তা তার জন্য আযাবের কারণ হবে। যেমন টাকা পয়সা চাচ্ছে, আমি যদি তাকে টাকা পয়সা দেই তাহলে তার মস্তিষ্ক নষ্ট হয়ে যাবে। সে ফেরাউন হয়ে যাবে। নিজের দুনিয়াও খারাপ করবে, আখেরাতও খারাপ করবে। এজন্য আমি তাকে বেশি টাকা পয়সা দিবো না। কিংবা এক ব্যক্তি কোনো পদ-পদবী চাচ্ছে, কিন্তু আল্লাহ তা'আলা জানেন, সে যদি এই পদ লাভ করে তাহলে কি বিপর্যয় ঘটাবে, চরম বিপর্যয় ঘটাবে। এজন্য কতক সময় ঐ প্রার্থিত জিনিস দেওয়া সমীচীন হয় না, এজন্য আল্লাহ তা'আলা তার পরিবর্তে এর চেয়ে ভালো জিনিস দিয়ে থাকেন।
📄 দ্বীনি উদ্দেশ্যের দু‘আ অবশ্যই কবুল হয়ে থাকে
কিন্তু কোনো ব্যক্তি যদি দ্বীন চায় আর দু'আ করে, হে আল্লাহ! আমাকে দ্বীনের উপরে পরিচালিত করুন, আমাকে সুন্নাতের উপর পরিচালিত করুন, আমাকে গোনাহ থেকে রক্ষা করুন। তাহলে কি এখানে কোনো সম্ভাবনা আছে যে, দ্বীনের উপর চলার কারণে অধিক ক্ষতি হবে, আর অন্য পথে চললে ক্ষতি কম হবে? ফলে আল্লাহ তা'আলা দ্বীনের পরিবর্তে ঐ পথে পরিচালিত করবেন। যেহেতু এখানে এ সম্ভাবনা নেই। এজন্য যেই দু'আ দ্বীনের জন্য চাওয়া হয় এবং বলা হয় যে, হে আল্লাহ! আমাকে দ্বীন দান করুন, হে আল্লাহ! আমাকে গোনাহ থেকে রক্ষা করুন, হে আল্লাহ! আমাকে ইবাদতের তাওফীক নসীব করুন। এসব দু'আ অবশ্যই কবুল হয়ে থাকে। এখানে কবুল না হওয়ার কোনো সম্ভাবনাই নেই। এজন্য যখনই আল্লাহ তা'আলার কাছে দু'আ করবে একীনের সাথে দু'আ করবে। অবশ্যই তা কবুল হবে।
📄 দু‘আ করার পর যদি গোনাহ হয়ে যায়
আমাদের হযরত ডা. ছাহেব (কু.সি.) বলতেন, তুমি যখন এই দু'আ করলে যে, হে আল্লাহ! আমাকে গোনাহ থেকে বাঁচান। কিন্তু দু'আর পর আবারো তুমি গোনাহে লিপ্ত হয়ে গেলে, এর অর্থ এই নয় যে, দু'আ কবুল হয়নি। দুনিয়ার বিষয়ে তো বলা হয়েছিলো যে, যেই জিনিস বান্দা চেয়েছিলো তা যেহেতু তার জন্য সমীচীন ছিলো না সে জন্য আল্লাহ তা'আলা তা দেননি। বরং তার চেয়ে ভালো কোনো জিনিস দান করেছেন। কিন্তু এক ব্যক্তি এই দু'আ করছে যে, হে আল্লাহ! আমি গোনাহ থেকে বাঁচতে চাই। আমাকে গোনাহ থেকে বাঁচার তাওফীক দান করুন। তো এখানেও কি বলা যাবে যে, গোনাহ থেকে বাঁচা ভালো ছিলো না তাই এর চেয়ে ভালো কোনো জিনিস আল্লাহ তা'আলা ঐ দু'আকারীকে দান করেছেন?
📄 আরো তাওবার তাওফীক লাভ হয়
আসলকথা এই যে, গোনাহ থেকে বাঁচার দু'আ কবুল তো হয়েছে, তবে তার প্রভাব এই হবে যে, প্রথমত গোনাহ সংঘটিত হবে না ইনশাআল্লাহ। আর যদি গোনাহ হয়েও যায় তাহলে অবশ্যই তাওবার তাওফীক লাভ হবে, ইনশাআল্লাহ। এটা হতে পারে না যে, তাওবার তাওফীক হবে না। এ জন্য দ্বীনের বিষয়ে দু'আ কখনো ব্যর্থ হতে পারে না। কখনো দু'আ বেকার হতে পারে না। বৃথা যেতে পারে না। আর যদি গোনাহের পর তাওবার তাওফীক লাভ হয় তখন ঐ তাওবা কতক সময় মানুষকে এতো উপরে নিয়ে যায় এবং তার মর্যাদা এতো বৃদ্ধি করে যে, কতক সময় গোনাহ না করার অবস্থায় এতো মর্যাদা হয় না এবং এতো উঁচু মাকামে পৌঁছতে পারে না। এ জন্য গোনাহ হয়ে যাওয়ার পর যখন আল্লাহ তা'আলার সামনে সে তাওবা করলো, কেঁদে ফেললো, রোনাজারি করলো তখন আল্লাহ তা'আলা এর পরিণতিতে তার মর্যাদা আরো উঁচু করে দেন।