📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 হযরত ইউনুস আলাইহিস সালামের পদ্ধতি অবলম্বন করুন

📄 হযরত ইউনুস আলাইহিস সালামের পদ্ধতি অবলম্বন করুন


যদিও তোমার সামনে এই দুনিয়াতে কোন পথ ও আশ্রয়স্থল পাচ্ছো না, চর্তুদিক থেকে গোনাহের দাওয়াত দেওয়া হচ্ছে কিন্তু তুমি পাগলের মতো পালাও। পাগলের মতো এমনভাবে পালাও যেভাবে হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম পালিয়েছিলেন। তুমি যতটুকু পালিয়ে যেতে পারো দৌড়াতে পারো ততটুকু দৌড়াও, বাকী আল্লাহর কাছে চাও। যাই হোক, মানুষ যদি এ দুটি কাজ করে, এক নিজের সাধ্য মতো কাজ করা, দ্বিতীয় আল্লাহর কাছে চাওয়া, তাহলে নিশ্চিত বিশ্বাস করুন, দুনিয়াতে কামিয়াবী লাভের মূল কথা এটাই।
আমাদের হযরত ডা. আব্দুল হাই ছাহেব (কু.সি.) খুব বিস্ময়কর কথা বলতেন। তিনি বলেন, আল্লাহ তা'আলা হযরত ইউনুস আলাইহিস সালামকে তিন দিন পর্যন্ত মাছের পেটে রেখেছিলেন। সেখান থেকে বের হওয়ার কোনো পথ ছিলো না। চর্তুদিকে অন্ধকার। বিষয়টি সাধ্যের বাইরে চলে গেছিলো। তখন তিনি সমস্ত অন্ধকারের ভিতর অবস্থান করে আল্লাহ তা'আলাকে ডাকলেন আর এই কালিমা পড়লেন,
لَّا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَنَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّلِمِينَ

'হে আল্লাহ তুমি ছাড়া কোনো মাবুদ নাই, তুমি সব দোষ থেকে পবিত্র। নিঃসন্দেহে আমিই অপরাধী।"
আল্লাহ তা'আলা বলেন, যখন তিনি আমাকে অন্ধকারের ভিতর থেকে ডাকলেন তখন আমি বললাম,
فَاسْتَجَبْنَا لَهُ وَنَجَيْنَهُ مِنَ الْغَمِّ وَكَذَلِكَ نُجِي الْمُؤْمِنِينَ
অর্থাৎ, আমি তার ডাক শুনলাম এবং তাকে কষ্ট থেকে মুক্তি দিলাম। সুতরাং তিন দিন পর মাছের পেট থেকে বের হয়ে এলেন। এরপর আল্লাহ তা'আলা বলেন, এভাবেই আমি ঈমানদারদেরকে নাজাত দিয়ে থাকি এবং দেবো。

হযরত ডা. ছাহেব বলতেন, তোমরা একটু চিন্তা করো তো দেখি, আল্লাহ তা'আলা এখানে কেমন কথা বললেন যে, আমি ঈমানদারদেরকেও এভাবে মুক্তি দিবো? সব ঈমানদার কি তাহলে প্রথমে মাছের পেটে যাবে, তারপর সেখানে গিয়ে আল্লাহ তা'আলাকে ডাকবে, তখন আল্লাহ তা'আলা তাকে নাজাত দিবেন? এ আয়াতের অর্থ কি তাই? এ আয়াতের অর্থ তা নয়। বরং আয়াতের অর্থ হলো, হযরত ইউনূস আলাইহিস সালাম মাছের পেটে অনেক অন্ধকারের ভিতর আক্রান্ত হয়েছিলেন তেমনিভাবে তোমরাও অন্য ধরনের অন্ধকারের মধ্যে আক্রান্ত হতে পারো কিন্তু সেখানেও তোমাদের অবলম্বন তাই যা হযরত ইউনুস আলাইহিস সালাম গ্রহণ করেছিলেন, আর তা হলো আমাকে এই শব্দ দিয়ে ডাকা।
لَّا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَنَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّلِمِينَ
'হে আল্লাহ! আপনি ছাড়া কোনো মা'বুদ নাই, আপনি সব ধরনের দোষ থেকে মুক্ত। নিঃসন্দেহে আমি অপরাধী।"

যখন তুমি এই কালিমার মাধ্যমে আমাকে ডাকবে তখন তুমি যে ধরনের অন্ধকারে আক্রান্ত হবে আমি তোমাকে তা থেকে নাজাত দিবো।

এ জন্য যখন নফসের চাহিদার অন্ধকার সামনে আসবে এবং পরিবেশের অন্ধকার সামনে আসবে তখন তুমি আমাকে ডাকো, হে আল্লাহ! এসব অন্ধকার থেকে রক্ষা করুন, এসব অন্ধকার থেকে বের করে দিন, এগুলোর অনিষ্ট থেকে রক্ষা করুন। এভাবে যখন দু'আ করবে তখন এই দু'আ কবুল না হওয়া অসম্ভব。

টিকাঃ
১. সূরা আম্বিয়া, আয়াত-৮৮
২. সূরা আম্বিয়া, আয়াত-৮৮
১. সূরা আল আম্বিয়া, আয়াত-৮৮

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 দুনিয়ার উদ্দেশ্যে দু‘আ কবুল হওয়া

📄 দুনিয়ার উদ্দেশ্যে দু‘আ কবুল হওয়া


দেখুন! যখন মানুষ কোনো দুনিয়াবী উদ্দেশ্যে আল্লাহ তা'আলার কাছে দু'আ করে, যেমন এই দু'আ করলো যে, হে আল্লাহ! আমাকে সুস্থতা দান করুন, হে আল্লাহ! আমাকে টাকা পয়সা দিন, হে আল্লাহ! আমাকে অমুক চাকুরিটা দিন, হে আল্লাহ! আমাকে অমুক পদ দিন, তখন এ সব দু'আই কবুল হয়, তবে কবুল হওয়ার ধরন বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে। কখনো ঠিক ঐ জিনিসই আল্লাহ তা'আলা দান করেন যা সে চেয়েছে। যেমন টাকা পয়সা চেয়েছিলো, তো আল্লাহ তা'আলা টাকা পয়সা দিয়ে দিলেন। কিংবা কোনো পদ চেয়েছিলো, তা দিয়েদিলেন। কিন্তু কতক সময় আল্লাহ তা'আলা দেখেন যে এ ব্যক্তি নির্বুদ্ধিতার কারণে এমন জিনিস চাচ্ছে, আমি যদি তা দেই তা তার জন্য আযাবের কারণ হবে। যেমন টাকা পয়সা চাচ্ছে, আমি যদি তাকে টাকা পয়সা দেই তাহলে তার মস্তিষ্ক নষ্ট হয়ে যাবে। সে ফেরাউন হয়ে যাবে। নিজের দুনিয়াও খারাপ করবে, আখেরাতও খারাপ করবে। এজন্য আমি তাকে বেশি টাকা পয়সা দিবো না। কিংবা এক ব্যক্তি কোনো পদ-পদবী চাচ্ছে, কিন্তু আল্লাহ তা'আলা জানেন, সে যদি এই পদ লাভ করে তাহলে কি বিপর্যয় ঘটাবে, চরম বিপর্যয় ঘটাবে। এজন্য কতক সময় ঐ প্রার্থিত জিনিস দেওয়া সমীচীন হয় না, এজন্য আল্লাহ তা'আলা তার পরিবর্তে এর চেয়ে ভালো জিনিস দিয়ে থাকেন।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 দ্বীনি উদ্দেশ্যের দু‘আ অবশ্যই কবুল হয়ে থাকে

📄 দ্বীনি উদ্দেশ্যের দু‘আ অবশ্যই কবুল হয়ে থাকে


কিন্তু কোনো ব্যক্তি যদি দ্বীন চায় আর দু'আ করে, হে আল্লাহ! আমাকে দ্বীনের উপরে পরিচালিত করুন, আমাকে সুন্নাতের উপর পরিচালিত করুন, আমাকে গোনাহ থেকে রক্ষা করুন। তাহলে কি এখানে কোনো সম্ভাবনা আছে যে, দ্বীনের উপর চলার কারণে অধিক ক্ষতি হবে, আর অন্য পথে চললে ক্ষতি কম হবে? ফলে আল্লাহ তা'আলা দ্বীনের পরিবর্তে ঐ পথে পরিচালিত করবেন। যেহেতু এখানে এ সম্ভাবনা নেই। এজন্য যেই দু'আ দ্বীনের জন্য চাওয়া হয় এবং বলা হয় যে, হে আল্লাহ! আমাকে দ্বীন দান করুন, হে আল্লাহ! আমাকে গোনাহ থেকে রক্ষা করুন, হে আল্লাহ! আমাকে ইবাদতের তাওফীক নসীব করুন। এসব দু'আ অবশ্যই কবুল হয়ে থাকে। এখানে কবুল না হওয়ার কোনো সম্ভাবনাই নেই। এজন্য যখনই আল্লাহ তা'আলার কাছে দু'আ করবে একীনের সাথে দু'আ করবে। অবশ্যই তা কবুল হবে।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 দু‘আ করার পর যদি গোনাহ হয়ে যায়

📄 দু‘আ করার পর যদি গোনাহ হয়ে যায়


আমাদের হযরত ডা. ছাহেব (কু.সি.) বলতেন, তুমি যখন এই দু'আ করলে যে, হে আল্লাহ! আমাকে গোনাহ থেকে বাঁচান। কিন্তু দু'আর পর আবারো তুমি গোনাহে লিপ্ত হয়ে গেলে, এর অর্থ এই নয় যে, দু'আ কবুল হয়নি। দুনিয়ার বিষয়ে তো বলা হয়েছিলো যে, যেই জিনিস বান্দা চেয়েছিলো তা যেহেতু তার জন্য সমীচীন ছিলো না সে জন্য আল্লাহ তা'আলা তা দেননি। বরং তার চেয়ে ভালো কোনো জিনিস দান করেছেন। কিন্তু এক ব্যক্তি এই দু'আ করছে যে, হে আল্লাহ! আমি গোনাহ থেকে বাঁচতে চাই। আমাকে গোনাহ থেকে বাঁচার তাওফীক দান করুন। তো এখানেও কি বলা যাবে যে, গোনাহ থেকে বাঁচা ভালো ছিলো না তাই এর চেয়ে ভালো কোনো জিনিস আল্লাহ তা'আলা ঐ দু'আকারীকে দান করেছেন?

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00