📄 সাহসিকতার সাথে কাজ করুন
এরপর বলেন,
'সাহস করে কয়েকদিন যখন এমন করবে তখন সেদিকে আকর্ষণ কমে যাবে। এটাই চিকিৎসা, এছাড়া আর কোনো চিকিৎসা নেই। যদিও সারাজীবন উদ্ভ্রান্তের ন্যায় ঘুরুক না কেন।'
কারণ, মানুষ মেহনত ও কষ্ট সহ্য করলে আল্লাহ তা'আলা তার জন্য ওয়াদা করেছেন,
وَالَّذِينَ جَاهَدُوا فِيْنَا لَنَهْدِيَنَّهُمْ سُبُلَنَا
'যে ব্যক্তি আমার পথে মুজাহাদা করবে আমি অবশ্যই তাকে পথ দেখাবো।"
তিনি মুজাহাদা ও সাধনাকারীকে পথ দেখান। এ জন্য মুজাহাদা করে দৃষ্টি নত করো, অবশেষে আল্লাহ তা'আলা আকর্ষণও কমিয়ে দিবেন, ইনশাআল্লাহ। এটাই চিকিৎসা। এছাড়া কোনো চিকিৎসা নেই। যদিও সারাজীবন দিশেহারা হয়ে ঘুরুক না কেন? মানুষ চায় আমরা যখন শাইখের কাছে যাবো তখন শাইখ এমন এক ফুঁ দিবেন বা এমন এক ব্যবস্থাপত্র দিবেন বা এমন এক ওযীফা পড়তে দিবেন, যার ফলে চোখে আর আকর্ষণ থাকবে না। আরে ভাই! এমনটি হয় না। যে পর্যন্ত মানুষ হিম্মত করে কাজ না করে। এ দুটি কাজ করুন! একটি হলো হিম্মত করুন আর দ্বিতীয়টি হলো আল্লাহমুখী হোন। হিম্মত ব্যবহার করার অর্থ হলো সাধ্য মতো নিজেকে দূরে রাখুন। আর আল্লাহমুখী হওয়ার অর্থ হলো, যখনই এমন পরীক্ষা সামনে আসবে সাথে সাথে আল্লাহমুখী হোন, আল্লাহর শরণাপন্ন হোন। আল্লাহকে বলুন, হে আল্লাহ! নিজ দয়ায় আপনি আমাকে রক্ষা করুন, আমার চোখকে রক্ষা করুন, আমার চিন্তাকে রক্ষা করুন, আপনি যদি সাহায্য না করেন তাহলে তো আমি আক্রান্ত হয়ে যাবো。
টিকাঃ
১. সূরা আনকাবুত, আয়াত-৬৯
📄 হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালামের চরিত্র অবলম্বন করুন
হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম যখন পরীক্ষার শিকার হলেন তখন তিনি এই কাজই করেছিলেন। নিজের তরফ থেকে চেষ্টা করেছিলেন। যখন জুলায়খা চর্তুদিক থেকে দরজায় তালা লাগিয়ে হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালামকে গোনাহের দাওয়াত দিলো, তখন হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম নিজ চোখে দেখছিলেন যে, দরজায় তালা লাগানো আছে, বের হওয়ার কোনো পথ নেই। কিন্তু হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম দরজার দিকে দৌড়ালেন। যখন স্বচক্ষে দেখা যচ্ছে যে, দরজায় তালা লেগে আছে তখন দৌড়ে যাবেন কোথায়? পথ তো নেই। কিন্তু যেহেতু দরজা পর্যন্ত দৌড়ে যেতে তিনি সক্ষম ছিলেন, তাই নিজের সাধ্যের কাজটুকু তিনি করলেন। নিজের ইচ্ছাধীন যা ছিলো, তা তিনি বাস্তবায়ন করলেন। দরজা পর্যন্ত যাওয়ার ফলে তিনি আল্লাহ তা'আলার কাছে এই দু'আ করার হকদার হলেন যে, হে আল্লাহ! আমার সাধ্যে তো এতটুকুই ছিলো। এরচে' বেশি তো আমার সাধ্য নেই। এবার সামনে আপনার কাজ। যখন নিজের অংশের কাজ করে আল্লাহর কাছে চাইলেন, হে আল্লাহ! সামনের কাজ আপনার ক্ষমতাভুক্ত, তখন আল্লাহ তা'আলাও নিজের অংশেরটুকু করলেন। তিনিও দরজার তালা ভেঙ্গে দিলেন। এ বিষয়টিই মাওলানা রূমী রহ. খুব চমৎকারভাবে বর্ণনা করে বলেছেন,
گرچه رخنه نیست عالم را پدید خیره یوسف دار می باید دوید
📄 হযরত ইউনুস আলাইহিস সালামের পদ্ধতি অবলম্বন করুন
যদিও তোমার সামনে এই দুনিয়াতে কোন পথ ও আশ্রয়স্থল পাচ্ছো না, চর্তুদিক থেকে গোনাহের দাওয়াত দেওয়া হচ্ছে কিন্তু তুমি পাগলের মতো পালাও। পাগলের মতো এমনভাবে পালাও যেভাবে হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম পালিয়েছিলেন। তুমি যতটুকু পালিয়ে যেতে পারো দৌড়াতে পারো ততটুকু দৌড়াও, বাকী আল্লাহর কাছে চাও। যাই হোক, মানুষ যদি এ দুটি কাজ করে, এক নিজের সাধ্য মতো কাজ করা, দ্বিতীয় আল্লাহর কাছে চাওয়া, তাহলে নিশ্চিত বিশ্বাস করুন, দুনিয়াতে কামিয়াবী লাভের মূল কথা এটাই।
আমাদের হযরত ডা. আব্দুল হাই ছাহেব (কু.সি.) খুব বিস্ময়কর কথা বলতেন। তিনি বলেন, আল্লাহ তা'আলা হযরত ইউনুস আলাইহিস সালামকে তিন দিন পর্যন্ত মাছের পেটে রেখেছিলেন। সেখান থেকে বের হওয়ার কোনো পথ ছিলো না। চর্তুদিকে অন্ধকার। বিষয়টি সাধ্যের বাইরে চলে গেছিলো। তখন তিনি সমস্ত অন্ধকারের ভিতর অবস্থান করে আল্লাহ তা'আলাকে ডাকলেন আর এই কালিমা পড়লেন,
لَّا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَنَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّلِمِينَ
'হে আল্লাহ তুমি ছাড়া কোনো মাবুদ নাই, তুমি সব দোষ থেকে পবিত্র। নিঃসন্দেহে আমিই অপরাধী।"
আল্লাহ তা'আলা বলেন, যখন তিনি আমাকে অন্ধকারের ভিতর থেকে ডাকলেন তখন আমি বললাম,
فَاسْتَجَبْنَا لَهُ وَنَجَيْنَهُ مِنَ الْغَمِّ وَكَذَلِكَ نُجِي الْمُؤْمِنِينَ
অর্থাৎ, আমি তার ডাক শুনলাম এবং তাকে কষ্ট থেকে মুক্তি দিলাম। সুতরাং তিন দিন পর মাছের পেট থেকে বের হয়ে এলেন। এরপর আল্লাহ তা'আলা বলেন, এভাবেই আমি ঈমানদারদেরকে নাজাত দিয়ে থাকি এবং দেবো。
হযরত ডা. ছাহেব বলতেন, তোমরা একটু চিন্তা করো তো দেখি, আল্লাহ তা'আলা এখানে কেমন কথা বললেন যে, আমি ঈমানদারদেরকেও এভাবে মুক্তি দিবো? সব ঈমানদার কি তাহলে প্রথমে মাছের পেটে যাবে, তারপর সেখানে গিয়ে আল্লাহ তা'আলাকে ডাকবে, তখন আল্লাহ তা'আলা তাকে নাজাত দিবেন? এ আয়াতের অর্থ কি তাই? এ আয়াতের অর্থ তা নয়। বরং আয়াতের অর্থ হলো, হযরত ইউনূস আলাইহিস সালাম মাছের পেটে অনেক অন্ধকারের ভিতর আক্রান্ত হয়েছিলেন তেমনিভাবে তোমরাও অন্য ধরনের অন্ধকারের মধ্যে আক্রান্ত হতে পারো কিন্তু সেখানেও তোমাদের অবলম্বন তাই যা হযরত ইউনুস আলাইহিস সালাম গ্রহণ করেছিলেন, আর তা হলো আমাকে এই শব্দ দিয়ে ডাকা।
لَّا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَنَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّلِمِينَ
'হে আল্লাহ! আপনি ছাড়া কোনো মা'বুদ নাই, আপনি সব ধরনের দোষ থেকে মুক্ত। নিঃসন্দেহে আমি অপরাধী।"
যখন তুমি এই কালিমার মাধ্যমে আমাকে ডাকবে তখন তুমি যে ধরনের অন্ধকারে আক্রান্ত হবে আমি তোমাকে তা থেকে নাজাত দিবো।
এ জন্য যখন নফসের চাহিদার অন্ধকার সামনে আসবে এবং পরিবেশের অন্ধকার সামনে আসবে তখন তুমি আমাকে ডাকো, হে আল্লাহ! এসব অন্ধকার থেকে রক্ষা করুন, এসব অন্ধকার থেকে বের করে দিন, এগুলোর অনিষ্ট থেকে রক্ষা করুন। এভাবে যখন দু'আ করবে তখন এই দু'আ কবুল না হওয়া অসম্ভব。
টিকাঃ
১. সূরা আম্বিয়া, আয়াত-৮৮
২. সূরা আম্বিয়া, আয়াত-৮৮
১. সূরা আল আম্বিয়া, আয়াত-৮৮
📄 দুনিয়ার উদ্দেশ্যে দু‘আ কবুল হওয়া
দেখুন! যখন মানুষ কোনো দুনিয়াবী উদ্দেশ্যে আল্লাহ তা'আলার কাছে দু'আ করে, যেমন এই দু'আ করলো যে, হে আল্লাহ! আমাকে সুস্থতা দান করুন, হে আল্লাহ! আমাকে টাকা পয়সা দিন, হে আল্লাহ! আমাকে অমুক চাকুরিটা দিন, হে আল্লাহ! আমাকে অমুক পদ দিন, তখন এ সব দু'আই কবুল হয়, তবে কবুল হওয়ার ধরন বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে। কখনো ঠিক ঐ জিনিসই আল্লাহ তা'আলা দান করেন যা সে চেয়েছে। যেমন টাকা পয়সা চেয়েছিলো, তো আল্লাহ তা'আলা টাকা পয়সা দিয়ে দিলেন। কিংবা কোনো পদ চেয়েছিলো, তা দিয়েদিলেন। কিন্তু কতক সময় আল্লাহ তা'আলা দেখেন যে এ ব্যক্তি নির্বুদ্ধিতার কারণে এমন জিনিস চাচ্ছে, আমি যদি তা দেই তা তার জন্য আযাবের কারণ হবে। যেমন টাকা পয়সা চাচ্ছে, আমি যদি তাকে টাকা পয়সা দেই তাহলে তার মস্তিষ্ক নষ্ট হয়ে যাবে। সে ফেরাউন হয়ে যাবে। নিজের দুনিয়াও খারাপ করবে, আখেরাতও খারাপ করবে। এজন্য আমি তাকে বেশি টাকা পয়সা দিবো না। কিংবা এক ব্যক্তি কোনো পদ-পদবী চাচ্ছে, কিন্তু আল্লাহ তা'আলা জানেন, সে যদি এই পদ লাভ করে তাহলে কি বিপর্যয় ঘটাবে, চরম বিপর্যয় ঘটাবে। এজন্য কতক সময় ঐ প্রার্থিত জিনিস দেওয়া সমীচীন হয় না, এজন্য আল্লাহ তা'আলা তার পরিবর্তে এর চেয়ে ভালো জিনিস দিয়ে থাকেন।