📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 আত্মা ধাবিত হওয়া ও বিচলিত হওয়া গোনাহ নয়

📄 আত্মা ধাবিত হওয়া ও বিচলিত হওয়া গোনাহ নয়


এরপর হযরত আরেকটি মালফুযাতে ইরশাদ করেন, 'কুদৃষ্টির একটি স্তর হলো মন ধাবিত হওয়া, যা অনিচ্ছাকৃত। এর জন্য পাকড়াও করা হবে না। আরেকটি স্তর হলো তার চাহিদা অনুপাতে আমল করা, এটা ইচ্ছাকৃত। এর জন্য পাকড়াও করা হবে।'
মন ধাবিত হওয়ার অর্থ এই যে, দেখার জন্য খুব মন চাচ্ছে, মন বিচলিত হচ্ছে, এই মনের চাওয়া ও বিচলিত হওয়া এবং ধাবিত হওয়া এটা যেহেতু ইচ্ছাবর্হিভূত, এজন্য আল্লাহ তা'আলা এর কারণে পাকড়াও করবেন না। এতে কোনো গোনাহ হবে না। কিন্তু দ্বিতীয় স্তর হলো মনের চাহিদা অনুপাতে কাজ করা, তার দিকে দৃষ্টিপাত করা, এটা ইচ্ছাকৃত। এরজন্য পাকড়াও করা হবে। যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে দৃষ্টি পড়ে যায় এবং নিজের ইচ্ছায় তা অব্যাহত রাখে তাহলেও পাকড়াও করা হবে এবং গোনাহ হবে। তো মন ধাবিত হৎ র প্রথম স্তর হলো ইচ্ছাবর্হিভূত সেটা মাফ, সে জন্য পাকড়াও করা হবে না। আর দ্বিতীয় স্তর হলো ইচ্ছাকৃত এর জন্য পাকড়াও করা হবে।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 চিন্তা করে করে স্বাদ গ্রহণ করা হারাম

📄 চিন্তা করে করে স্বাদ গ্রহণ করা হারাম


এরপর বলেন, 'ইচ্ছা করে দেখা এবং চিন্তা করা সব এর অন্তর্ভুক্ত। নফসকে প্রতিহত করা, নিয়ন্ত্রণ করা ও দৃষ্টিকে অবনত রাখা হলো এর চিকিৎসা।'

আজনবী ও গায়রে মাহরাম কোনো মহিলার কথা চিন্তা করে স্বাদ উপভোগ করা তেমনি হারাম, যেমন কুদৃষ্টি করা হারাম। দেখাও এর অন্ত র্ভুক্ত। চিন্তা করাও এর অন্তর্ভুক্ত। এর চিকিৎসা এই বলেছেন যে, নফসকে নিয়ন্ত্রণ করো, দৃষ্টিকে নত রাখো। আগে-পিছে, এদিকে-ওদিকে এবং ডানে-বামে না দেখে জমিনের দিকে দৃষ্টি রেখে পথ চলো。

টিকাঃ
১. আনফাসে ঈসা, পৃষ্ঠা-১৪২

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 পথচলার সময় দৃষ্টি নত রাখুন

📄 পথচলার সময় দৃষ্টি নত রাখুন


হযরত ডা. আব্দুল হাই আরেফী রহ. বলেন, যখন আল্লাহ তা'আলা শয়তানকে জান্নাত থেকে বের করে দিলেন, তখন যেতে যেতে সে দু'আ করলো, হে আল্লাহ! আমাকে কিয়ামত পর্যন্ত হায়াত দিন, সুযোগ দিন, অবকাশ দিন। আল্লাহ তা'আলা তাকে অবকাশ দিলেন, তখন সে অহংকার দেখালো। সে বললো,
لَا تِيَنَّهُمْ مِنْ بَيْنِ أَيْدِيهِمْ وَمِنْ خَلْفِهِمْ وَعَنْ أَيْمَانِهِمْ وَعَنْ شَمَا بِلِهِمْ

'আমি ঐ বান্দাদের কাছে তাদের ডান দিক থেকে, বাম দিক থেকে, সামনের দিক থেকে এবং পিছনের দিক থেকে যাবো এবং চর্তুদিক থেকে তাদের উপর আক্রমণ করবো।"

হযরত বলেন, শয়তান চার দিকের কথা বর্ণনা করেছে। বোঝা গেলো শয়তান এই চারদিক থেকে আক্রমণ করে। কখনো সামনে থেকে, কখনো পিছন থেকে, কখনো ডান থেকে, কখনো বাম থেকে। কিন্তু দুটি দিকের কথা সে বলেনি, ছেড়ে দিয়েছে। এক উপরের দিক, আরেক নীচের দিক। এজন্য উপরের দিক থেকেও নিরাপদ এবং নীচের দিক থেকেও নিরাপদ। এখন যদি উপরের দিকে দৃষ্টি দিয়ে চলো তাহলে ধাক্কা খাবে, পড়ে 'বে। এজন্য এখন একটাই মাত্র রাস্তা বাকি আছে, তা হলো নীচের দিকে দৃষ্টি দিয়ে চলবে। তাহলে ইনশাআল্লাহ শয়তানের চার দিকের আক্রমণ থেকে মুক্ত থাকতে পারবে, নিরাপদে থাকতে পারবে। এ কারণে বিনা প্রয়োজনে ডানে-বামে তাকিও না। আল্লাহ আল্লাহ করতে করতে নীচের দিকে দৃষ্টি রেখে চলো। তারপর দেখবে আল্লাহ তা'আলা কিভাবে তোমাকে হেফাজত করেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
قُلْ لِلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ

'মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন নিজেদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে।২

খোদ কুরআনে কারীমে আল্লাহ তা'আলা দৃষ্টি নত রাখার নির্দেশ দিচ্ছেন। তারপর তার ফলাফল বলেছেন যে, এর কারণে লজ্জাস্থানের হেফাজত হবে, পবিত্রতা লাভ হবে。

টিকাঃ
১. সূরা আল আ'রাফ, আয়াত-১৭
২. সূরা নূর, আয়াত-৩০

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 এ কষ্ট জাহান্নামের কষ্টের চেয়ে কম

📄 এ কষ্ট জাহান্নামের কষ্টের চেয়ে কম


এরপর হযরত থানভী রহ. বলেন,
'নফসের যতো কষ্টই হোক সাহস করে এ দুটি বিষয়কে অবলম্বন করবে। কারণ, এ কষ্ট জাহান্নামে আগুনের কষ্টের চেয়ে কম।'

অর্থাৎ, এখন তো দৃষ্টি নত করতে নফসের কষ্ট হচ্ছে, কিন্তু এই কুদৃষ্টির কারণে জাহান্নামে যেই আযাব হবে, তার কষ্টের তুলনায় এ কষ্ট লাখ-কোটি বরং মিলিয়ন মিলিয়ন গুণ কম। বরং এখানের কষ্টের সাথে সেখানের কষ্টের কোনো তুলনাই হয় না। কারণ, সেখানের আযাব হলো অন্তহীন, কখনো তা শেষ হবে না। আর এখানের কষ্ট তো শেষ হয়ে যাবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00