📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 কুদৃষ্টি থেকে বাঁচার চিকিৎসা

📄 কুদৃষ্টি থেকে বাঁচার চিকিৎসা


এই কুদৃষ্টি থেকে বাঁচার একটাই পথ রয়েছে, আর তা হলো, সাহস করে কাজ নিতে হবে, দৃঢ় সংকল্প করতে হবে যে, এই দৃষ্টি দ্বারা আমি খারাপ জায়গায় দৃষ্টিপাত করবো না। তারপর আত্মা যদি বিদীর্ণও হয়ে যায় তবুও খারাপ জায়গায়, নিষিদ্ধ জায়গায় দৃষ্টিপাত করো না। কবি বলেন,
آرزوئیں خون ہوں، یا حسر میں پامال ہوں اب تو اس دل کو بنانا ہے ترے قابل مجھے

হিম্মত ও সংকল্প করেই দৃষ্টিকে বাঁচাতে হবে তারপর দেখবে আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে কেমন সাহায্য আসে। হযরত থানভী রহ. এই চোখকে কুদৃষ্টি থেকে বাঁচানোর জন্য কিছু তাদবীর বলেছেন, তা স্মরণ রাখার মতো। তিনি বলেন, 'কোনো মহিলা চোখে পড়লে মন যদি বলে, একবার দেখলে কি সমস্যা? কারণ তুমি তো আর ব্যভিচার করবে না। তখন মনে রাখতে হবে যে, এটা নফসের ষড়যন্ত্র। বাঁচার উপায় হলো তার কথা মতো আমল করবে না।"

কারণ এটা শয়তানের ধোঁকা। সে বলে, দেখলে কি সমস্যা? দেখা তো এ জন্য নিষেধ যে, মানুষ ব্যভিচারে লিপ্ত হবে। আর এখানে তো ব্যভিচারের সম্ভাবনা নেই তাই দেখে নাও, কোনো সমস্যা নেই। হযরত বলেন, এটা নফসের চক্রান্ত। এর চিকিৎসা হলো, তার কথা মতো কাজ করবে না। যতো আগ্রহই সৃষ্টি হোক দৃষ্টি সরিয়ে নিবে。

টিকাঃ
১. আনফাসে ঈসা, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা-১৪২

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 কামনামূলক চিন্তার চিকিৎসা

📄 কামনামূলক চিন্তার চিকিৎসা


হযরত ডাক্তার ছাহেব রহ. একবার বলেন যে, অন্তরে গোনাহের চাহিদা সৃষ্টি হলে এভাবে তার চিকিৎসা করবে, যেমন অন্তরে অপাত্রে দৃষ্টিপাত করে স্বাদ উপভোগ করার প্রচণ্ড চাহিদা সৃষ্টি হলে কল্পনা করবে যে, আমার বাবা যদি আমাকে এ অবস্থায় দেখেন তাহলেও কি আমার এ আচরণ অব্যাহত থাকবে? কিংবা আমি যদি জানতে পারি যে, আমার শাইখ আমাকে এ অবস্থায় দেখছেন তখনও কি এ কাজ অব্যাহত থাকবে? কিংবা আমি যদি বুঝতে পারি যে, আমার সন্তান আমার এ আচরণ দেখছে তাহলেও কি এ কাজ চালু থাকবে? বলাবাহুল্য যে, এদের মধ্যে থেকে যে কেউ আমার এ আচরণ দেখলে তখন আমি দৃষ্টি নত করে ফেলবো। এ কাজ করবো না। মনের মধ্যে যতো চাহিদাই হোক না কেন এ কাজ আর করবো না।

তারপর এ কথা চিন্তা করো যে, এদের দেখা না দেখার দ্বারা আমার দুনিয়া আখেরাতে কোনো তারতম্য হবে না। কিন্তু আমার এ অবস্থা আহকামুল হাকেমীন আল্লাহ তা'আলা দেখছেন। আমার এ বিষয়ে পরোয়া নেই কেন? কারণ তিনি তো আমাকে এ কারণে শাস্তি দিতেও সক্ষম। এই চিন্তার বরকতে আশা করা যায় ইনশাআল্লাহ আল্লাহ তা'আলা এই গোনাহ থেকে হেফাজত করবেন।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 তোমার জীবনের ফিল্ম চালিয়ে দেয়া হলে!

📄 তোমার জীবনের ফিল্ম চালিয়ে দেয়া হলে!


হযরত ডা. ছাহেব (কু.সি.)-এর আরেকটি কথা স্মরণ হলো, তিনি বলেন, একটু চিন্তা করো যে, আল্লাহ তা'আলা যদি আখেরাতে তোমাকে বলেন, আচ্ছা, জাহান্নামে যেতে যদি তোমার ভয় লাগে তাহলে চলো আমি তোমাকে জাহান্নাম থেকে এবং আগুন থেকে রক্ষা করবো, কিন্তু তার জন্য একটি শর্ত রয়েছে তা এই যে, আমি তোমার পুরা জীবন শিশু কাল, যৌবন কাল, বৃদ্ধ কাল এবং মৃত্যু কাল যেভাবে অতিবাহিত করেছো আমি তার ফিল্ম চালিয়ে দেবো। এই ফিল্ম যারা দেখবে তাদের মধ্যে তোমার বাপ, তোমার মা, তোমার ভাই-বোন, তোমার সন্তান, তোমার ছাত্র, তোমার ওস্তাদ, তোমার বন্ধু-বান্ধব সকলেই থাকবে। এই ফিল্মের মধ্যে তোমার পুরো জীবনের চিত্র তুলে ধরা হবে। যদি তুমি এটা মঞ্জুর করো তাহলে তোমাকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করা হবে।

এরপর হযরত বলেন, এমতাবস্থায় মানুষ হয়তো আগুনের আযাবকে মেনে নিবে, কিন্তু এসমস্ত মানুষের সামনে তার জীবনের নকশা চলে আসুক, চিত্র চলে আসুক তা মেনে নিবে না। তাই যখন নিজের মা-বাপ, দোস্ত-আহবাব, আত্মীয়-স্বজন ও সৃষ্টির সামনে নিজের জীবনের অবস্থা আসা এবং তা প্রকাশ পাওয়া সহ্য নয়, তাহলে এসমস্ত অবস্থা আল্লাহ তা'আলার সামনে আসা কি করে সহ্য হয়? এই কথাটা একটু চিন্তা করে দেখো।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 আত্মা ধাবিত হওয়া ও বিচলিত হওয়া গোনাহ নয়

📄 আত্মা ধাবিত হওয়া ও বিচলিত হওয়া গোনাহ নয়


এরপর হযরত আরেকটি মালফুযাতে ইরশাদ করেন, 'কুদৃষ্টির একটি স্তর হলো মন ধাবিত হওয়া, যা অনিচ্ছাকৃত। এর জন্য পাকড়াও করা হবে না। আরেকটি স্তর হলো তার চাহিদা অনুপাতে আমল করা, এটা ইচ্ছাকৃত। এর জন্য পাকড়াও করা হবে।'
মন ধাবিত হওয়ার অর্থ এই যে, দেখার জন্য খুব মন চাচ্ছে, মন বিচলিত হচ্ছে, এই মনের চাওয়া ও বিচলিত হওয়া এবং ধাবিত হওয়া এটা যেহেতু ইচ্ছাবর্হিভূত, এজন্য আল্লাহ তা'আলা এর কারণে পাকড়াও করবেন না। এতে কোনো গোনাহ হবে না। কিন্তু দ্বিতীয় স্তর হলো মনের চাহিদা অনুপাতে কাজ করা, তার দিকে দৃষ্টিপাত করা, এটা ইচ্ছাকৃত। এরজন্য পাকড়াও করা হবে। যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে দৃষ্টি পড়ে যায় এবং নিজের ইচ্ছায় তা অব্যাহত রাখে তাহলেও পাকড়াও করা হবে এবং গোনাহ হবে। তো মন ধাবিত হৎ র প্রথম স্তর হলো ইচ্ছাবর্হিভূত সেটা মাফ, সে জন্য পাকড়াও করা হবে না। আর দ্বিতীয় স্তর হলো ইচ্ছাকৃত এর জন্য পাকড়াও করা হবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00