📄 মুহূর্তে সাত মাইলের সফর
আমি একটি কিতাবে পড়েছিলাম, আল্লাহ তা'আলা মানুষের চোখে যেই মণি রেখেছেন এটা অন্ধকারের মধ্যে সংকুচিত হয়, আর আলোর মধ্যে বিস্তৃতি লাভ করে। যখন মানুষ অন্ধকার থেকে আলোর মধ্যে আসে বা আলো থেকে অন্ধকারে আসে তখন এই সংকোচন ও বিস্তৃতি লাভের ঘটনা ঘটে। এই সংকোচন ও বিস্তৃতি লাভের মধ্যে চোখের স্নায়ু সাত মাইলের দূরত্ব অতিক্রম করে। কিন্তু মানুষ এতো বড়ো ব্যাপারটি বুঝতেও পারে না! এমন এক নেয়ামত আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে দান করেছেন।
📄 চোখের সঠিক ব্যবহার
এই নেয়ামতের সঠিক ব্যবহার করা হলে আল্লাহ তা'আলা বলেন, আমি তোমাকে এর উপর ছওয়াবও দান করবো। যেমন এই চোখের মাধ্যমে নিজের মা বাবার প্রতি ভালোবাসার দৃষ্টিতে তাকালো, তাহলে হাদীস শরীফে এসেছে, একটি হজ্জ ও একটি ওমরাহ করার ছওয়াব লাভ হবে। আল্লাহ আকবার। অপর এক হাদীসে এসেছে, স্বামী ঘরে প্রবেশ করে যদি নিজের স্ত্রীকে ভালোবাসার দৃষ্টিতে দেখে এবং বিবি স্বামীকে ভালোবাসার দৃষ্টিতে দেখে, তাহলে আল্লাহ তা'আলা উভয়কে রহমতের দৃষ্টিতে দেখেন। যখন এই চোখকে সঠিক জায়গায় ব্যবহার করা হয় তখন শুধু এই নয় যে, আল্লাহ তা'আলা স্বাদ ও মজা দান করেন বরং এর উপর ছওয়াব ও প্রতিদানও দিয়ে থাকেন। কিন্তু যদি এর অপব্যবহার করা হয়, অন্যায় জায়গায় দৃষ্টিপাত করা হয়, খারাপ জিনিস দেখা হয় তখন এর আপদও মারাত্মক হয় এবং এ কাজ মানুষের অভ্যন্তরকে নষ্ট করে দেয়।
📄 কুদৃষ্টি থেকে বাঁচার চিকিৎসা
এই কুদৃষ্টি থেকে বাঁচার একটাই পথ রয়েছে, আর তা হলো, সাহস করে কাজ নিতে হবে, দৃঢ় সংকল্প করতে হবে যে, এই দৃষ্টি দ্বারা আমি খারাপ জায়গায় দৃষ্টিপাত করবো না। তারপর আত্মা যদি বিদীর্ণও হয়ে যায় তবুও খারাপ জায়গায়, নিষিদ্ধ জায়গায় দৃষ্টিপাত করো না। কবি বলেন,
آرزوئیں خون ہوں، یا حسر میں پامال ہوں اب تو اس دل کو بنانا ہے ترے قابل مجھے
হিম্মত ও সংকল্প করেই দৃষ্টিকে বাঁচাতে হবে তারপর দেখবে আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে কেমন সাহায্য আসে। হযরত থানভী রহ. এই চোখকে কুদৃষ্টি থেকে বাঁচানোর জন্য কিছু তাদবীর বলেছেন, তা স্মরণ রাখার মতো। তিনি বলেন, 'কোনো মহিলা চোখে পড়লে মন যদি বলে, একবার দেখলে কি সমস্যা? কারণ তুমি তো আর ব্যভিচার করবে না। তখন মনে রাখতে হবে যে, এটা নফসের ষড়যন্ত্র। বাঁচার উপায় হলো তার কথা মতো আমল করবে না।"
কারণ এটা শয়তানের ধোঁকা। সে বলে, দেখলে কি সমস্যা? দেখা তো এ জন্য নিষেধ যে, মানুষ ব্যভিচারে লিপ্ত হবে। আর এখানে তো ব্যভিচারের সম্ভাবনা নেই তাই দেখে নাও, কোনো সমস্যা নেই। হযরত বলেন, এটা নফসের চক্রান্ত। এর চিকিৎসা হলো, তার কথা মতো কাজ করবে না। যতো আগ্রহই সৃষ্টি হোক দৃষ্টি সরিয়ে নিবে。
টিকাঃ
১. আনফাসে ঈসা, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা-১৪২
📄 কামনামূলক চিন্তার চিকিৎসা
হযরত ডাক্তার ছাহেব রহ. একবার বলেন যে, অন্তরে গোনাহের চাহিদা সৃষ্টি হলে এভাবে তার চিকিৎসা করবে, যেমন অন্তরে অপাত্রে দৃষ্টিপাত করে স্বাদ উপভোগ করার প্রচণ্ড চাহিদা সৃষ্টি হলে কল্পনা করবে যে, আমার বাবা যদি আমাকে এ অবস্থায় দেখেন তাহলেও কি আমার এ আচরণ অব্যাহত থাকবে? কিংবা আমি যদি জানতে পারি যে, আমার শাইখ আমাকে এ অবস্থায় দেখছেন তখনও কি এ কাজ অব্যাহত থাকবে? কিংবা আমি যদি বুঝতে পারি যে, আমার সন্তান আমার এ আচরণ দেখছে তাহলেও কি এ কাজ চালু থাকবে? বলাবাহুল্য যে, এদের মধ্যে থেকে যে কেউ আমার এ আচরণ দেখলে তখন আমি দৃষ্টি নত করে ফেলবো। এ কাজ করবো না। মনের মধ্যে যতো চাহিদাই হোক না কেন এ কাজ আর করবো না।
তারপর এ কথা চিন্তা করো যে, এদের দেখা না দেখার দ্বারা আমার দুনিয়া আখেরাতে কোনো তারতম্য হবে না। কিন্তু আমার এ অবস্থা আহকামুল হাকেমীন আল্লাহ তা'আলা দেখছেন। আমার এ বিষয়ে পরোয়া নেই কেন? কারণ তিনি তো আমাকে এ কারণে শাস্তি দিতেও সক্ষম। এই চিন্তার বরকতে আশা করা যায় ইনশাআল্লাহ আল্লাহ তা'আলা এই গোনাহ থেকে হেফাজত করবেন।