📄 কুদৃষ্টির স্বরূপ
কুদৃষ্টি হলো, কোনো পরনারীর প্রতি দৃষ্টিপাত করা, বিশেষ করে কামনার সাথে স্বাদ উপভোগের জন্য দৃষ্টিপাত করা। সেই পরনারী প্রকৃত হোক বা তার ছবি হোক। ছবির উপরও দৃষ্টিপাত করা হারাম। এটাও কুদৃষ্টির অন্তর্ভুক্ত।
এই কুদৃষ্টি মানুষের আত্মশুদ্ধির পথে সবচেয়ে বড়ো প্রতিবন্ধক। কুদৃষ্টি মানুষের আত্মাকে এমনভাবে ধ্বংস করে যে, তা অন্য সমস্ত গোনাহ থেকে মারাত্মক। মানুষের আত্মাকে ধ্বংস করার ক্ষেত্রে এর অনেক বেশি দখল রয়েছে। এর সংশোধন না হওয়া এবং দৃষ্টি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত আধ্যাত্মিক পরিশুদ্ধির চিন্তা করাও প্রায় অসম্ভব। হাদীস শরীফে হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
النَّظْرُ سَهُمْ مَّسْمُوْمٌ مِّنْ سِهَامِ إِبْلِيسَ
'দৃষ্টি ইবলিসের তীরসমূহের মধ্যে থেকে একটি বিষ মিশ্রিত তীর, এই তীর ইবলিসের ধনুক থেকে বের হয়।"
কেউ যদি নির্দ্বিধায় তা মেনে নেয় এবং তার সামনে অস্ত্র সমর্পণ করে তার অর্থ এই যে, তার আত্মশুদ্ধির পথে মারাত্মক প্রতিবন্ধ সৃষ্টি হলো। কারণ মানুষের আত্মাকে বিনষ্ট করার ক্ষেত্রে এই কুদৃষ্টির যেই পরিমাণ দখল রয়েছে সম্ভবত অন্য কোনো গোনাহের এই পরিমাণ দখল নেই。
টিকাঃ
১. মাজমাউয যাওয়াইদ, খণ্ড-৮, পৃষ্ঠা-৬৩, কানযুল উম্মাল, হাদীস নং ১৩০৬৮, খণ্ড-৫, পৃষ্ঠা- ৪৮১, উদদাতুস সাবিরীন ওয়া যাখীরাতুশ শাকিরিন, খণ্ড-১, পৃষ্ঠা-১৮
📄 এই তিতা ঢোক পান করতে হবে
আমি আমার শাইখ হযরত ডা. আব্দুল হাই ছাহেব (কু.সি.) থেকে শুনেছি, তিনি বলতেন, দৃষ্টির অপব্যবহার মানুষের আত্মার জন্য জীবননাশক বিষতুল্য। যদি কেউ আত্মশুদ্ধি করতে চায় তাহলে তাকে সর্বপ্রথম দৃষ্টির হেফাজত করতে হবে। এই কাজটি খুব মশকিল মনে হয়। চেষ্টা করা সত্ত্বেও চোখের হেফাজত করা কঠিন হয়ে পড়ে। সর্বত্র বেপর্দা, নগ্নতা, অশ্লীলতার সয়লাব। এমন পরিস্থিতিতে নিজের দৃষ্টিকে বাঁচানো মুশকিল মনে হয় কিন্তু কেউ যদি ঈমানের মধুরতা লাভ করতে চায় আল্লাহ তা'আলার সাথে সঠিক সম্পর্ক ও ভালোবাসা অর্জন করতে চায়, নিজের অভ্যন্তরীণ পরিচ্ছন্নতা, বিশুদ্ধতা ও পবিত্রতা লাভ করতে চায়, তাহলে তাকে এই তিতা ঢোক পান করতেই হবে। এই তিতা ঢোক পান করা ছাড়া সম্মুখে অগ্রসর হওয়া যাবে না। কিন্তু এই তিতা ঢোক এমন যে, শুরুর দিকে তা খুব তিতা মনে হলেও একবার তার অভ্যাস করে নেওয়া হলে এ পরিমাণ মিষ্টি হয়ে যায় যে, এটা ছাড়া শান্তি পাওয়া যায় না।
📄 আরবদের কফি
আরবের লোকেরা কফি পান করে থাকে। আপনারাও দেখেছেন তারা ছোট ছোট পিয়ালায় কফি পান করে। আমার স্মরণ আছে, আমি যখন শিশু ছিলাম ঐ সময় কাতারের এক শাইখ করাচী এসেছিলেন। আমার ওয়ালেদ ছাহেবের সঙ্গে আমিও তার সঙ্গে সাক্ষাত করতে যাই। সেই সাক্ষাতকালে সেখানের বৈঠকে সর্বপ্রথম সেই কফি দেখি। সবাইকে কফি পান করতে দেওয়া হয়। কফি শব্দ শুনতেই মাথায় আসে যে এটা মিষ্টি জিনিস। কিন্তু মুখে লাগিয়ে দেখি তা এ পরিমাণ তিতা যে, গলাধঃকরণ করাও মুশকিল। কফি ছিলো সামান্য। সবার সামনে মজলিসের মধ্যে কুলি করে ফেলে দিতেও পারছিলাম না। বাধ্য হয়ে কোনো মতে তা গিলে ফেলি। কিন্তু যখন গলা থেকে ভিতরে যায় তখন তার স্বাদ অনুভব হয়। তারপর পরবর্তীতে আরেকটি মজলিসে এই কফি পান করার সুযোগ হয়। আস্তে আস্তে অবস্থা এই দাঁড়িয়েছে যে, এখন তা এতো মজার ও স্বাদের অনুভূত হয় যে, তার কোনো শেষ নেই। কারণ এখন তা পান করা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।
📄 এরপর মধুরতা ও স্বাদ উপভোগ হবে
এমনিভাবে এটাও এমন তিতা ঢোক যে, প্রথম প্রথম তা পান করা কঠিন মনে হয়, কিন্তু পান করার পর যখন তার আনন্দ ছেয়ে যাবে তখন দেখবে তার মধ্যে কত মজা রয়েছে। আল্লাহ তা'আলা আমাদের সকলকে এই মধুরতা দান করুন। মোটকথা, এটা এমন তিতা জিনিস একবার তার তিক্ততা সহ্য করো, অন্তরে পাথর বেঁধে একবার তার তিক্ততা গলাধঃকরণ করো তাহলে ইনশাআল্লাহ আল্লাহ তা'আলা এমন মধুরতা, এমন স্বাদ, এমন উপভোগ দান করবেন যে, তার সামনে এই কুদৃষ্টির স্বাদ অত্যাধিক গৌণ ও তুচ্ছ মনে হবে। তার সামনে এর কোনোই মূল্য থাকবে না।