📄 কানে জোরপূর্বক কথা প্রবেশ করাবে
বুযুর্গদের খেদমতে যাওয়া এবং তাদের কথা শোনার এটাই ফায়দা হয়ে থাকে যে, তারা কথা কানে দিতে থাকেন। অবশেষে তা মানুষের অন্তরে প্রবেশ করে। পরবর্তীতে যথা সময়ে তা স্মরণ হয়।
আমি এখন চিন্তা করি, হযরত ওয়ালেদ মাজেদ (কু.সি.) হযরত ডা. ছাহেব (কু.সি.) এবং হযরত মাওলানা মাছিহুল্লাহ খান ছাহেব (কু.সি.) এই তিন বুযুর্গের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছিলো। নিজের অবস্থা তো শোচনীয় ছিলো কিন্তু আল্লাহ তা'আলা এসব বুযুর্গের খেদমতে হাজির হওয়ার তাওফীক দান করেছিলেন। এটা তাঁর দয়া ও মেহেরবানী। এখন সারাজীবনও যদি এর উপর শোকর আদায় করি তবুও আদায় হবে না। এসকল বুযুর্গ জোরপূর্বক কিছু কথা কানে দিয়েছেন। নিজের পক্ষ থেকে যার কোনো চাহিদা ছিলো না, বাসনা ছিলো না। আমি যদি সেই কথাগুলো এখন নম্বর দিয়ে লিখতে চাই যেগুলো বুযুর্গদের মজলিসে শুনেছিলাম তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে সব কথা স্মরণ আসা মুশকিল। কিন্তু কোনো না কোনো সময় সেসব কথা স্মরণ হয়। বুযুর্গদের সাথে সম্পর্কের এটাই ফায়দা। বুযুর্গদের খেদমতে হাজির হওয়া যেমন নেয়ামত এবং তাদের কথা শোনা যেমন নেয়ামত তেমনিভাবে সেসকল বুযুর্গের মালফুযাত ও জীবনী পাঠ করাও নেয়ামত, এগুলোর দ্বারাও ফায়দা হয়। আজ এসকল বুযুর্গ নেই কিন্তু আল হামদুলিল্লাহ তারা সব কথা লিখে গেছেন। সেগুলো মুতালায়া করা উচিত। এসব কথা কাজে আসে। আল্লাহ তা'আলা নিজ দয়ায় আমাদেরকে এসকল বুযুর্গের আঁচল ধরে রাখার তাওফীক দান করুন।
📄 ওযর ও অলসতার মধ্যে পার্থক্য
মোটকথা, আমি বলছিলাম যে, যখনই অলসতা হবে তার মোকাবেলা করতে হবে, নিয়মিত আমল পুরা করতে হবে। মনে রাখবেন! ওযর এক জিনিস আর অলসতা আরেক জিনিস। ওযরের কারণে যদি আমল ছুটে যায় তাহলে দুঃশ্চিন্তার কিছু নেই। যেমন অসুস্থতার কারণে আমল ছুটে গেলো বা সফরের কারণে আমল ছুটে গেলো এতে কোন সমস্যা নেই। কারণ আল্লাহ তা'আলা যখন এর জন্য পাকড়াও করেননি বরং ওযরের কারণে ছাড় দিয়েছেন তাই আমরা কে বাধ্যবাধকতা আরোপকারী? এজন্য কোনো ওযরের কারণে আমল ছুটে গেলে ব্যাথিত হওয়া উচিত নয়।
📄 এ রোযা কার জন্য রাখছিলে?
আমাদের হযরত ডা. আব্দুল হাই ছাহেব (কু.সি.) হযরত থানভী রহ.-এর এ কথা বর্ণনা করতেন যে, এক ব্যক্তি রমাযান মাসে অসুস্থ হয়। অসুস্থতার কারণে তার রোযা ছুটে যায়। রমাযানের রোযা ছুটে যাওয়ার কারণে সে ব্যথিত ছিলো। হযরত বললেন, দুঃখ করার কোনো কারণ নেই। তুমি এটা দেখো যে, রোযা কার জন্য রাখছিলে? তুমি যদি নিজের জন্য, নিজের মনকে খুশি করার জন্য, নিজের আগ্রহ পুরা করার জন্য রোযা রাখছিলে তাহলে তো নিঃসন্দেহে দুঃখিত হও যে, অসুস্থতার কারণে রোযা ছুটে গেলো। কিন্তু যদি আল্লাহ জন্য রোযা রাখছো তাহলে ব্যথিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। কারণ, আল্লাহ তা'আলা নিজে বলেছেন যে, অসুস্থ অবস্থার রোযা ছেড়ে দাও।
তাই শরীয়তসম্মত ওযরের কারণে যদি রোযা কাযা হয় বা আমল ছুটে যায় যেমন অসুস্থতা, সফর, মেয়েদের স্বাভাবিক সমস্যা বা অধিক গুরুত্বপূর্ণ কোনো ব্যস্ততার কারণে- যা দ্বীনেরই দাবি ছিলো- আমল ছুটে যায়, উদাহরণস্বরূপ, মা-বাবা অসুস্থ তাদের খেদমতে ব্যস্ত থাকার ফলে আমল ছুটে গেলো, তাহলে এর জন্য মোটেই ব্যথিত হওয়া উচিত নয়। কিন্তু অলসতার কারণে আমল ছাড়া উচিত নয়।
📄 অলসতার চিকিৎসা
অলসতার একমাত্র চিকিৎসা তার মোকাবেলা করা। তার সামনে অবিচল হয়ে দাঁড়ানো। সাহসিকতার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা। নিজের সংকল্পকে ব্যবহার করা ছাড়া এর অন্য কোনো চিকিৎসা নেই। আমাদের জীবনেও যদি এতটুকু বিষয় চলে আসে অর্থাৎ, অলসতার মোকাবেলা করি তাহলে বুঝুন যে, অর্ধেক কাজ হয়ে গেছে। তারপর অবশিষ্ট অর্ধেক অর্জনের চেষ্টা করবে। আল্লাহ তা'আলা নিজ দয়ায় অলসতার মোকাবেলা করার হিম্মত ও তাওফীক দান করুন। আমীন।
وَاخِرُ دَعْوَانَا أَنِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَلَمِينَ