📄 দুনিয়ার পদ-পদবী
খেদমত বড়ো বিস্ময়কর জিনিস। আল্লাহ তা'আলা মেহেরবানী করে আমাদের অন্তরে এর অনুরাগ সৃষ্টি করে দিন। সবার খাদেম হোন, নিজের মধ্যে খেদমতের উদ্দীপনা সৃষ্টি করুন। হযরত ডা. ছাহেব (কু.সি.) বলতেন, দুনিয়ার সমস্ত পদের অবস্থা এই যে, তা অর্জন করা মানুষের ইচ্ছাধীন নয়। উদাহরণস্বরূপ, মন চাচ্ছে আমি রাষ্ট্রপ্রধান হবো, কিন্তু রাষ্ট্রপ্রধান হওয়া কারো এখতিয়ারে নয়। কিংবা মন চাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী হবো, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী হওয়া ইচ্ছাধীন নয়। মন চাচ্ছে সংসদ সদস্য হবো, তাও ইচ্ছাধীন নয়। কিংবা কোথাও অফিসার হতে চাচ্ছে, চাকুরি চাচ্ছে, তাহলে তার জন্য দরখাস্ত দিতে হবে, ইন্টারভিউ দিতে হবে, অনেক দৌড়-ঝাপ করতে হবে। এতো সব চেষ্টার পর ঐ পদ যখন লাভ হলো তখন মানুষ হিংসা করতে আরম্ভ করলো, এ ব্যক্তি তো আমাদের চেয়ে এগিয়ে গেলো। আমরা পিছনে পড়ে গেলাম। এবার তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু হয়ে গেলো। যে কোনোভাবে তার থেকে এই পদ কেড়ে নেয়া হবে।
📄 কথাগুলো এখন তোমার হয়ে গেলো, যথাসময়ে স্মরণ হবে
হযরত বলতেন, মজলিসে যেসব কথা হয় অনেক মানুষ চায় সেগুলো মুখস্থ করতে, কিন্তু সেগুলো মুখস্থ হয় না। এ প্রসঙ্গে নিজের ঘটনা শোনালেন যে, আমিও যখন হযরত থানভী রহ.-এর মজলিসে হাজির হতাম তখন মন চাইতো হযরতের কথাগুলো লিখে ফেলি। কেউ কেউ লিখতো। আমি দ্রুত লিখতে পারতাম না এজন্য আমার লেখা হতো না। আমি একদিন হযরত থানভী রহ.-এর কাছে নিবেদন করলাম, হযরত আমার মন চায় মালফুযাতগুলো লিখে ফেলি কিন্তু লেখা হয় না, ওদিকে স্মরণ থাকে না ভুলে যাই। হযরত থানভী রহ. উত্তরে বললেন, লেখার কি দরকার আছে? নিজে মালফূযের অধিকারী হওনা কেন? হযরত বলেন, আমি কেঁপে উঠলাম। আমি কি করে মালফুযের অধিকারী হবো? তখন হযরত থানভী রহ. বললেন, আসল কথা হলো, কথা যদি হক হয় এবং সুস্থ বুঝ ও বিশুদ্ধ চিন্তার উপর তার ভিত্তি হয়, এমন কথা যখন তোমার কানে পড়বে এবং তোমার আত্মা তা গ্রহণ করবে সে কথা তোমার হয়ে গেলো। এখন ঠিক ঐ কথা ঐ শব্দে মনে থাক বা না থাক যখন সময় হবে ইনশাআল্লাহ তখন স্মরণ হয়ে যাবে এবং তার উপর আমল করার তাওফীক লাভ হবে।
📄 কানে জোরপূর্বক কথা প্রবেশ করাবে
বুযুর্গদের খেদমতে যাওয়া এবং তাদের কথা শোনার এটাই ফায়দা হয়ে থাকে যে, তারা কথা কানে দিতে থাকেন। অবশেষে তা মানুষের অন্তরে প্রবেশ করে। পরবর্তীতে যথা সময়ে তা স্মরণ হয়।
আমি এখন চিন্তা করি, হযরত ওয়ালেদ মাজেদ (কু.সি.) হযরত ডা. ছাহেব (কু.সি.) এবং হযরত মাওলানা মাছিহুল্লাহ খান ছাহেব (কু.সি.) এই তিন বুযুর্গের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছিলো। নিজের অবস্থা তো শোচনীয় ছিলো কিন্তু আল্লাহ তা'আলা এসব বুযুর্গের খেদমতে হাজির হওয়ার তাওফীক দান করেছিলেন। এটা তাঁর দয়া ও মেহেরবানী। এখন সারাজীবনও যদি এর উপর শোকর আদায় করি তবুও আদায় হবে না। এসকল বুযুর্গ জোরপূর্বক কিছু কথা কানে দিয়েছেন। নিজের পক্ষ থেকে যার কোনো চাহিদা ছিলো না, বাসনা ছিলো না। আমি যদি সেই কথাগুলো এখন নম্বর দিয়ে লিখতে চাই যেগুলো বুযুর্গদের মজলিসে শুনেছিলাম তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে সব কথা স্মরণ আসা মুশকিল। কিন্তু কোনো না কোনো সময় সেসব কথা স্মরণ হয়। বুযুর্গদের সাথে সম্পর্কের এটাই ফায়দা। বুযুর্গদের খেদমতে হাজির হওয়া যেমন নেয়ামত এবং তাদের কথা শোনা যেমন নেয়ামত তেমনিভাবে সেসকল বুযুর্গের মালফুযাত ও জীবনী পাঠ করাও নেয়ামত, এগুলোর দ্বারাও ফায়দা হয়। আজ এসকল বুযুর্গ নেই কিন্তু আল হামদুলিল্লাহ তারা সব কথা লিখে গেছেন। সেগুলো মুতালায়া করা উচিত। এসব কথা কাজে আসে। আল্লাহ তা'আলা নিজ দয়ায় আমাদেরকে এসকল বুযুর্গের আঁচল ধরে রাখার তাওফীক দান করুন।
📄 ওযর ও অলসতার মধ্যে পার্থক্য
মোটকথা, আমি বলছিলাম যে, যখনই অলসতা হবে তার মোকাবেলা করতে হবে, নিয়মিত আমল পুরা করতে হবে। মনে রাখবেন! ওযর এক জিনিস আর অলসতা আরেক জিনিস। ওযরের কারণে যদি আমল ছুটে যায় তাহলে দুঃশ্চিন্তার কিছু নেই। যেমন অসুস্থতার কারণে আমল ছুটে গেলো বা সফরের কারণে আমল ছুটে গেলো এতে কোন সমস্যা নেই। কারণ আল্লাহ তা'আলা যখন এর জন্য পাকড়াও করেননি বরং ওযরের কারণে ছাড় দিয়েছেন তাই আমরা কে বাধ্যবাধকতা আরোপকারী? এজন্য কোনো ওযরের কারণে আমল ছুটে গেলে ব্যাথিত হওয়া উচিত নয়।