📄 নিজের উপকারের জন্য এসে থাকি
দ্বিতীয় বিষয় এই যে, এখানে মূলত আমি নিজের ফায়দার জন্য হাজির হই। আমি চিন্তা করি আল্লাহর নেক বান্দারা নেক নিয়ত নিয়ে দ্বীনের কথা শোনার জন্য একত্রিত হয়। তাদের বরকত আমারও লাভ হয়। আসল কথা এই যে, যখন আল্লাহর বান্দারা দ্বীনের খাতিরে কোথাও একত্রিত হয় তখন পরস্পরে একের উপর অপরের বরকত প্রতিফলিত হয়। এজন্য আমি সব সময় এই নিয়তে আসি যে, নেক লোকদের বরকত লাভ করবো।
📄 জীবনের সেই সময়গুলো কোন কাজের?
তৃতীয় বিষয় এই যে, হযরত থানভী রহ.-এর আরেকটি কথা স্মরণ হলো, এ কথাটিও আমি হযরত ডা. আব্দুল হাই আরেফী রহ.-এর কাছে শুনেছি। তিনি বলেন, হযরত থানভী রহ. যখন অন্তিম রোগে শয্যাশায়ী ছিলেন। ডাক্তাররা দেখা-সাক্ষাৎ ও কথাবার্তা নিষেধ করে দিয়েছিলো। একদিন তিনি চোখ বন্ধ করে বিছানায় শুয়ে ছিলেন। শুয়ে শুয়ে হঠাৎ চোখ খুললেন এবং বললেন মৌলভী মুহাম্মাদ শফী ছাহেব কোথায়? তাকে ডাকো। মৌলভী মুহাম্মাদ শফী ছাহেব দ্বারা আমার ওয়ালেদ মাজেদ উদ্দেশ্য ছিলো। হযরত থানভী রহ. আমার ওয়ালেদ ছাহেবকে আরবী ভাষায় আহকামুল কুরআন সংকলনের কাজে নিয়োজিত করেছিলেন। ওয়ালেদ ছাহেব যখন তাশরীফ আনলেন তখন তিনি বললেন, আপনি আহকামুল কুরআন লিখছেন, আমার এই মাত্র খেয়াল হলো কুরআনে কারীমের অমুক আয়াত দ্বারা অমুক মাসআলা বের হয়। এই মাসআলা আমি ইতিপূর্বে কোথাও দেখিনি। এই আয়াতে যখন পৌছবেন তখন এ মাসআলাটিও লিখবেন। একথা বলে আবার চোখ বন্ধ করে শুয়ে থাকলেন। আপনারা লক্ষ্য করুন! অন্তিম রোগে শায়িত কিন্তু মন-মগজে কুরআনে কারীমের আয়াত ও তার তাফসীর ঘুরপাক খাচ্ছে। অল্প কিছুক্ষণ পর আবার চোখ খুললেন বললেন, অমুককে ডেকে আনো। তিনি আসলে তার সাথে সম্পৃক্ত কিছু কাজের কথা বললেন। বার বার যখন তিনি এমন করছিলেন তখন মাওলানা শাব্বীর আলী ছাহেব যিনি হযরতের খানকার নাযেম এবং হযরতে সঙ্গে তার অকৃত্রিম সম্পর্ক ছিলো বললেন, হযরত ডাক্তার এবং হাকীম তো আপনাকে কথা বলতে নিষেধ করেছেন। কিন্তু আপনি বার বার মানুষদেরকে ডেকে তাদের সাথে কথা বলছেন। আল্লাহর ওয়াস্তে আপনি আমাদের উপর রহম করুন। উত্তরে হযরত থানভী রহ. বললেন,
'তুমি তো কথা ঠিক বলেছো, কিন্তু আমি চিন্তা করি যে, জীবনের ঐ সময়গুলো কোন কাজের যা কারো খেদমতে ব্যয় হলো না। কারো খেদমতে যদি এই জীবন কেটে যায় তাহলে তা আল্লাহ তা'আলার নেয়ামত।'
📄 দুনিয়ার পদ-পদবী
খেদমত বড়ো বিস্ময়কর জিনিস। আল্লাহ তা'আলা মেহেরবানী করে আমাদের অন্তরে এর অনুরাগ সৃষ্টি করে দিন। সবার খাদেম হোন, নিজের মধ্যে খেদমতের উদ্দীপনা সৃষ্টি করুন। হযরত ডা. ছাহেব (কু.সি.) বলতেন, দুনিয়ার সমস্ত পদের অবস্থা এই যে, তা অর্জন করা মানুষের ইচ্ছাধীন নয়। উদাহরণস্বরূপ, মন চাচ্ছে আমি রাষ্ট্রপ্রধান হবো, কিন্তু রাষ্ট্রপ্রধান হওয়া কারো এখতিয়ারে নয়। কিংবা মন চাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী হবো, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী হওয়া ইচ্ছাধীন নয়। মন চাচ্ছে সংসদ সদস্য হবো, তাও ইচ্ছাধীন নয়। কিংবা কোথাও অফিসার হতে চাচ্ছে, চাকুরি চাচ্ছে, তাহলে তার জন্য দরখাস্ত দিতে হবে, ইন্টারভিউ দিতে হবে, অনেক দৌড়-ঝাপ করতে হবে। এতো সব চেষ্টার পর ঐ পদ যখন লাভ হলো তখন মানুষ হিংসা করতে আরম্ভ করলো, এ ব্যক্তি তো আমাদের চেয়ে এগিয়ে গেলো। আমরা পিছনে পড়ে গেলাম। এবার তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু হয়ে গেলো। যে কোনোভাবে তার থেকে এই পদ কেড়ে নেয়া হবে।
📄 কথাগুলো এখন তোমার হয়ে গেলো, যথাসময়ে স্মরণ হবে
হযরত বলতেন, মজলিসে যেসব কথা হয় অনেক মানুষ চায় সেগুলো মুখস্থ করতে, কিন্তু সেগুলো মুখস্থ হয় না। এ প্রসঙ্গে নিজের ঘটনা শোনালেন যে, আমিও যখন হযরত থানভী রহ.-এর মজলিসে হাজির হতাম তখন মন চাইতো হযরতের কথাগুলো লিখে ফেলি। কেউ কেউ লিখতো। আমি দ্রুত লিখতে পারতাম না এজন্য আমার লেখা হতো না। আমি একদিন হযরত থানভী রহ.-এর কাছে নিবেদন করলাম, হযরত আমার মন চায় মালফুযাতগুলো লিখে ফেলি কিন্তু লেখা হয় না, ওদিকে স্মরণ থাকে না ভুলে যাই। হযরত থানভী রহ. উত্তরে বললেন, লেখার কি দরকার আছে? নিজে মালফূযের অধিকারী হওনা কেন? হযরত বলেন, আমি কেঁপে উঠলাম। আমি কি করে মালফুযের অধিকারী হবো? তখন হযরত থানভী রহ. বললেন, আসল কথা হলো, কথা যদি হক হয় এবং সুস্থ বুঝ ও বিশুদ্ধ চিন্তার উপর তার ভিত্তি হয়, এমন কথা যখন তোমার কানে পড়বে এবং তোমার আত্মা তা গ্রহণ করবে সে কথা তোমার হয়ে গেলো। এখন ঠিক ঐ কথা ঐ শব্দে মনে থাক বা না থাক যখন সময় হবে ইনশাআল্লাহ তখন স্মরণ হয়ে যাবে এবং তার উপর আমল করার তাওফীক লাভ হবে।