📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে যদি ডাক আসে

📄 প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে যদি ডাক আসে


আমাদের হযরত ডা. আব্দুল হাই ছাহেব (কু.সি.) বলতেন, তুমি নিয়ম বানিয়ে নিলে যে, অমুক সময় তিলাওয়াত করবো বা অমুক সময় নফল নামায পড়বো, কিন্তু সেই সময় ঘনিয়ে এলে শরীরে অলসতা লাগছে, উঠতে মন চাচ্ছে না, তাহলে এমন সময় নিজের নফসকে একটু তারবিয়াত করো। নফসকে বলো, আচ্ছা এখন তো তোমার অলসতা লাগছে, বিছানা থেকে তোমার উঠতে মন চাচ্ছে না, কিন্তু বলো! এখন যদি প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে এই পয়গাম আসে যে, আমি তোমাকে অনেক বড়ো পুরস্কার বা অনেক বড়ো পদ-পদবী দেবো। তুমি অবিলম্বে আমার কাছে চলে আসো, তাহলে কি তখন অলসতা থাকবে। সংবাদবাহককে কি তুমি এই উত্তর দিবে যে, এখন আমি আসতে পারছি না, কারণ আমার ঘুম পেয়েছে। যেই মানুষের মধ্যে সামান্য জ্ঞান বুদ্ধি আছে, রাষ্ট্রপ্রধানের এই পয়গাম শুনে তার সমস্ত অলসতা, ক্লান্তি ও নিদ্রা দূর হয়ে যাবে। আনন্দাতিশয্যে অবিলম্বে পুরস্কার লাভের জন্য দৌড়াবে।

এসময় যদি মন এই পুরস্কার লাভের জন্য দৌড়ায় তাহলে বোঝা যাবে, বিছানা ছেড়ে উঠতে বাস্তবে তার কোনো সমস্যা নেই। বাস্তবেই যদি তার কোনো সমস্যা থাকতো তাহলে রাষ্ট্রপ্রধানের সংবাদ শুনে সে ওঠতো না। বিছানায় পড়ে থাকতো। এর পর চিন্তা করো, দুনিয়ার একজন রাষ্ট্র প্রধান যে পরিপূর্ণ অক্ষম, চরম অক্ষম, মারাত্মক অক্ষম, সে যদি তোমাকে একটি পুরস্কার বা পদ দেওয়ার জন্য ডাকে তখন যদি তুমি তার জন্য এভাবে দৌড়াতে পারো তাহলে সেই আহকামুল হাকেমীন যার কুদরতের হাতে পুরো কায়েনাত নিয়ন্ত্রিত, তিনিই দান করেন, তিনিই ছিনিয়ে নেন, তার পক্ষ থেকে যখন আহবান আসছে তার দরবারে উপস্থিত হতে তুমি অলসতা করছো! এসব কথা চিন্তা করলে ইনশাআল্লাহ ঐ কাজের হিম্মত হবে এবং অলসতা দূর হবে।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 আজকের কাজ কালকের জন্য ফেলে রেখো না

📄 আজকের কাজ কালকের জন্য ফেলে রেখো না


কতক সময় অন্তরে একটি নেক আমলের চিন্তা জাগে, কিন্তু মানুষের নফস তাকে এভাবে বিভ্রান্ত করে যে, কাজটি তো ভালো তবে কাল থেকে তা আরম্ভ করবো। মনে রাখবেন! এটা নফসের চক্রান্ত। কারণ ঐ কাল আর কখনো আসে না। যে কাজ করতে হবে তা আজই বরং এখনই শুরু করুন। জানা তো নেই সেই কাল পাবো কি পাবো না। খবর তো নেই কাল সুযোগ হবে কি হবে না। কি জানি কাল এই চাহিদা থাকে কি না থাকে। খবর তো নেই কালকের অবস্থা অনুকূল হয় না প্রতিকূল। কাল বেঁচে থাকবো কি না তাও তো জানি না। এজন্য কুরআনে কারীমে আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন,
وَسَارِعُوا إِلَى مَغْفِرَةٍ مِنْ رَّبِّكُمْ وَجَنَّةٍ عَرْضُهَا السَّمَوتُ وَالْأَرْضُ

নিজের পরওয়ারদেগারের মাগফেরাতের দিকে দ্রুত ধাবিত হও, বিলম্ব করো না এবং সেই জান্নাতের দিকে দৌড়াও যার প্রশস্ততা সমস্ত আসমান ও জমীনের সমান।'

যাই হোক, আমি বলছিলাম যে, আজ আমার অলসতা লাগছিলো। কিন্তু আমার হযরতের এসব কথা স্মরণ হলো। যার ফলে আসার হিম্মত হলো। চলে আসলাম。

টিকাঃ
১. সূরা আল ইমরান, আয়াত-১৩৩

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 নিজের উপকারের জন্য এসে থাকি

📄 নিজের উপকারের জন্য এসে থাকি


দ্বিতীয় বিষয় এই যে, এখানে মূলত আমি নিজের ফায়দার জন্য হাজির হই। আমি চিন্তা করি আল্লাহর নেক বান্দারা নেক নিয়ত নিয়ে দ্বীনের কথা শোনার জন্য একত্রিত হয়। তাদের বরকত আমারও লাভ হয়। আসল কথা এই যে, যখন আল্লাহর বান্দারা দ্বীনের খাতিরে কোথাও একত্রিত হয় তখন পরস্পরে একের উপর অপরের বরকত প্রতিফলিত হয়। এজন্য আমি সব সময় এই নিয়তে আসি যে, নেক লোকদের বরকত লাভ করবো।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 জীবনের সেই সময়গুলো কোন কাজের?

📄 জীবনের সেই সময়গুলো কোন কাজের?


তৃতীয় বিষয় এই যে, হযরত থানভী রহ.-এর আরেকটি কথা স্মরণ হলো, এ কথাটিও আমি হযরত ডা. আব্দুল হাই আরেফী রহ.-এর কাছে শুনেছি। তিনি বলেন, হযরত থানভী রহ. যখন অন্তিম রোগে শয্যাশায়ী ছিলেন। ডাক্তাররা দেখা-সাক্ষাৎ ও কথাবার্তা নিষেধ করে দিয়েছিলো। একদিন তিনি চোখ বন্ধ করে বিছানায় শুয়ে ছিলেন। শুয়ে শুয়ে হঠাৎ চোখ খুললেন এবং বললেন মৌলভী মুহাম্মাদ শফী ছাহেব কোথায়? তাকে ডাকো। মৌলভী মুহাম্মাদ শফী ছাহেব দ্বারা আমার ওয়ালেদ মাজেদ উদ্দেশ্য ছিলো। হযরত থানভী রহ. আমার ওয়ালেদ ছাহেবকে আরবী ভাষায় আহকামুল কুরআন সংকলনের কাজে নিয়োজিত করেছিলেন। ওয়ালেদ ছাহেব যখন তাশরীফ আনলেন তখন তিনি বললেন, আপনি আহকামুল কুরআন লিখছেন, আমার এই মাত্র খেয়াল হলো কুরআনে কারীমের অমুক আয়াত দ্বারা অমুক মাসআলা বের হয়। এই মাসআলা আমি ইতিপূর্বে কোথাও দেখিনি। এই আয়াতে যখন পৌছবেন তখন এ মাসআলাটিও লিখবেন। একথা বলে আবার চোখ বন্ধ করে শুয়ে থাকলেন। আপনারা লক্ষ্য করুন! অন্তিম রোগে শায়িত কিন্তু মন-মগজে কুরআনে কারীমের আয়াত ও তার তাফসীর ঘুরপাক খাচ্ছে। অল্প কিছুক্ষণ পর আবার চোখ খুললেন বললেন, অমুককে ডেকে আনো। তিনি আসলে তার সাথে সম্পৃক্ত কিছু কাজের কথা বললেন। বার বার যখন তিনি এমন করছিলেন তখন মাওলানা শাব্বীর আলী ছাহেব যিনি হযরতের খানকার নাযেম এবং হযরতে সঙ্গে তার অকৃত্রিম সম্পর্ক ছিলো বললেন, হযরত ডাক্তার এবং হাকীম তো আপনাকে কথা বলতে নিষেধ করেছেন। কিন্তু আপনি বার বার মানুষদেরকে ডেকে তাদের সাথে কথা বলছেন। আল্লাহর ওয়াস্তে আপনি আমাদের উপর রহম করুন। উত্তরে হযরত থানভী রহ. বললেন,
'তুমি তো কথা ঠিক বলেছো, কিন্তু আমি চিন্তা করি যে, জীবনের ঐ সময়গুলো কোন কাজের যা কারো খেদমতে ব্যয় হলো না। কারো খেদমতে যদি এই জীবন কেটে যায় তাহলে তা আল্লাহ তা'আলার নেয়ামত।'

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00