📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 তাসাউফের সারকথা দুটি বিষয়

📄 তাসাউফের সারকথা দুটি বিষয়


আমাদের হযরত এমন ক্ষেত্রে হযরত থানভী রহ.-এর একটি মালফুয শোনাতেন। মূলত এই মালফূযটি স্মরণ রাখার মতো বরং অন্তরে অঙ্কন করে রাখার মতো। হযরত থানভী রহ, বলতেন, 'যেই সামান্য বিষয়টি তাসাওউফের সারকথা তা হলো, যখন কোনো ইবাদত করতে অলসতা লাগবে তখন অলসতার মোকাবিলা করে ঐ ইবাদত করবে। আর যখন কোনো গোনাহের চাহিদা সৃষ্টি হবে তখন ঐ চাহিদার মোকাবেলা করে সেই গোনাহ থেকে বেঁচে থাকবে। এ বিষয়টি যখন অর্জিত হবে তখন আর অন্য কিছুর প্রয়োজন থাকবে না। এর দ্বারাই আল্লাহ তা'আলার সাথে সম্পর্ক গড়ে উঠবে, এর দ্বারাই তা শক্তিশালী হবে এবং এর দ্বারাই তা উন্নত হবে।'

মোটকথা, অলসতা দূর করার রাস্তা একটি অর্থাৎ, সাহস করে তার মোকাবেলা করা। মানুষ মনে করে যে, শাইখ কোনো ব্যবস্থাপত্র দিবেন যা ধুয়ে পান করলে সব অলসতা দূর হয়ে যাবে। সব কাজ ঠিক মতো হতে থাকবে। মনে রাখবেন! সাহস করলেই অলসতার মোকাবেলা হয়। এ ছাড়া আর কোনো চিকিৎসা নেই।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 নফসকে ফুসিলয়ে কাজ নাও

📄 নফসকে ফুসিলয়ে কাজ নাও


আমাদের হযরত ডা. আব্দুল হাই ছাহেব (কু.সি.) বলতেন, নফসকে একটু ফুসলিয়ে তার দ্বারা কাজ আদায় করো। তারপর নিজের একটি ঘটনা শোনান। একদিন তাহাজ্জুদের সময় ঘুম ভাঙ্গলো। খুব অলসতা লাগছিলো। চিন্তা হলো আজ তো শরীরটা ভালো না, অলসতাও লাগছে, জীবন তো পড়ে আছে তাহাজ্জুদ নামায ওয়াজিব, ফরযও নয় ঘুমিয়ে থাকি। আজকে তাহাজ্জুদ না পড়লে এমন কি হবে?

হযরত বলেন, আমি নিজেকে নিজে বললাম, কথা তো ঠিক, তাহাজ্জুদ নামায ফরয-ওয়াজিব নয়, ওদিকে শরীর ভালো নয়, কিন্তু এটা তো আল্লাহ তা'আলার দরবারে কবুল হওয়ার সময়। হাদীস শরীফে আছে, রাতের এক তৃতীয়াংশ যখন অতিবাহিত হয় তখন আল্লাহ তা'আলার বিশেষ রহমত জগতবাসীর প্রতি আকৃষ্ট হয়। আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে আহবানকারী আহবান করতে থাকে, আছো কোনো ক্ষমাপ্রার্থী তাকে ক্ষমা করা হবে।'

এজন্য এমন বরকতময় সময় বেকার কাটানো ঠিক নয়। তারপর নিজের নফসকে সম্বোধন করে বললাম, আচ্ছা এক কাজ করো, নামায পড়ো না তবে বিছানার উপরে উঠে বসো, অল্প একটু দু'আ করো। দু'আ করে পুনরায় ঘুমিয়ে যাও। সুতরাং আমি অবিলম্বে উঠে বসে পড়লাম এবং দু'আ করতে আরম্ভ করলাম। দু'আ করতে করতে মনকে আবার বললাম, মিয়া উঠে যখন বসেছো, তো ঘুমতো ভেঙ্গে গেছে। এবার এক কাজ করো, গোসলখানায় যাও, এস্তেঞ্জা সারো তারপর আরামে শুয়ে থাকো। সুতরাং আমি গোসলখানায় চলে যাই এবং এস্তেঞ্জা সারি। তারপর নফসকে বলি, ঠিক আছে ওযুও করি, কারণ ওযু করে দু'আ করলে কবুল হওয়ার অধিক আশা রয়েছে। সুতরাং ওযু করে বিছানায় এসে বসি। দু'আ আরম্ভ করি। তারপর নফসকে বলি, বিছানায় বসে বসে কেমনতর দু'আ হচ্ছে! দু'আ করার তোমার যেই নির্ধারিত জায়গা আছে, জায়নামায আছে, সেখানে গিয়ে দু'আ করো। এ কথা বলে নফসকে জায়নামায পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাই। জায়নামাযের উপর পৌছে দ্রুত দু' রাকাত তাহাজ্জুদের নিয়ত করি。

অতপর বলেন, এভাবে নফসকে একটু ফুসলিয়ে ফুসলিয়ে কাজ করাতে হয়। নফস তোমার সঙ্গে নেক কাজে যেভাবে টালবাহানা করে, তুমিও তার সঙ্গে একই রূপ আচরণ করো। তাকে টেনে টেনে নিয়ে যাও। ইনশাআল্লাহ এর বরকতে আল্লাহ তা'আলা পরবর্তীতে এর উপর আমল করার তাওফীক দান করবেন。

টিকাঃ
১. কানযুল উম্মাল, হাদীস নং ২১৩৯৮, আল মু'যামুল কাবির, হাদীস নং ১৮৩৬২

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে যদি ডাক আসে

📄 প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে যদি ডাক আসে


আমাদের হযরত ডা. আব্দুল হাই ছাহেব (কু.সি.) বলতেন, তুমি নিয়ম বানিয়ে নিলে যে, অমুক সময় তিলাওয়াত করবো বা অমুক সময় নফল নামায পড়বো, কিন্তু সেই সময় ঘনিয়ে এলে শরীরে অলসতা লাগছে, উঠতে মন চাচ্ছে না, তাহলে এমন সময় নিজের নফসকে একটু তারবিয়াত করো। নফসকে বলো, আচ্ছা এখন তো তোমার অলসতা লাগছে, বিছানা থেকে তোমার উঠতে মন চাচ্ছে না, কিন্তু বলো! এখন যদি প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে এই পয়গাম আসে যে, আমি তোমাকে অনেক বড়ো পুরস্কার বা অনেক বড়ো পদ-পদবী দেবো। তুমি অবিলম্বে আমার কাছে চলে আসো, তাহলে কি তখন অলসতা থাকবে। সংবাদবাহককে কি তুমি এই উত্তর দিবে যে, এখন আমি আসতে পারছি না, কারণ আমার ঘুম পেয়েছে। যেই মানুষের মধ্যে সামান্য জ্ঞান বুদ্ধি আছে, রাষ্ট্রপ্রধানের এই পয়গাম শুনে তার সমস্ত অলসতা, ক্লান্তি ও নিদ্রা দূর হয়ে যাবে। আনন্দাতিশয্যে অবিলম্বে পুরস্কার লাভের জন্য দৌড়াবে।

এসময় যদি মন এই পুরস্কার লাভের জন্য দৌড়ায় তাহলে বোঝা যাবে, বিছানা ছেড়ে উঠতে বাস্তবে তার কোনো সমস্যা নেই। বাস্তবেই যদি তার কোনো সমস্যা থাকতো তাহলে রাষ্ট্রপ্রধানের সংবাদ শুনে সে ওঠতো না। বিছানায় পড়ে থাকতো। এর পর চিন্তা করো, দুনিয়ার একজন রাষ্ট্র প্রধান যে পরিপূর্ণ অক্ষম, চরম অক্ষম, মারাত্মক অক্ষম, সে যদি তোমাকে একটি পুরস্কার বা পদ দেওয়ার জন্য ডাকে তখন যদি তুমি তার জন্য এভাবে দৌড়াতে পারো তাহলে সেই আহকামুল হাকেমীন যার কুদরতের হাতে পুরো কায়েনাত নিয়ন্ত্রিত, তিনিই দান করেন, তিনিই ছিনিয়ে নেন, তার পক্ষ থেকে যখন আহবান আসছে তার দরবারে উপস্থিত হতে তুমি অলসতা করছো! এসব কথা চিন্তা করলে ইনশাআল্লাহ ঐ কাজের হিম্মত হবে এবং অলসতা দূর হবে।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 আজকের কাজ কালকের জন্য ফেলে রেখো না

📄 আজকের কাজ কালকের জন্য ফেলে রেখো না


কতক সময় অন্তরে একটি নেক আমলের চিন্তা জাগে, কিন্তু মানুষের নফস তাকে এভাবে বিভ্রান্ত করে যে, কাজটি তো ভালো তবে কাল থেকে তা আরম্ভ করবো। মনে রাখবেন! এটা নফসের চক্রান্ত। কারণ ঐ কাল আর কখনো আসে না। যে কাজ করতে হবে তা আজই বরং এখনই শুরু করুন। জানা তো নেই সেই কাল পাবো কি পাবো না। খবর তো নেই কাল সুযোগ হবে কি হবে না। কি জানি কাল এই চাহিদা থাকে কি না থাকে। খবর তো নেই কালকের অবস্থা অনুকূল হয় না প্রতিকূল। কাল বেঁচে থাকবো কি না তাও তো জানি না। এজন্য কুরআনে কারীমে আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন,
وَسَارِعُوا إِلَى مَغْفِرَةٍ مِنْ رَّبِّكُمْ وَجَنَّةٍ عَرْضُهَا السَّمَوتُ وَالْأَرْضُ

নিজের পরওয়ারদেগারের মাগফেরাতের দিকে দ্রুত ধাবিত হও, বিলম্ব করো না এবং সেই জান্নাতের দিকে দৌড়াও যার প্রশস্ততা সমস্ত আসমান ও জমীনের সমান।'

যাই হোক, আমি বলছিলাম যে, আজ আমার অলসতা লাগছিলো। কিন্তু আমার হযরতের এসব কথা স্মরণ হলো। যার ফলে আসার হিম্মত হলো। চলে আসলাম。

টিকাঃ
১. সূরা আল ইমরান, আয়াত-১৩৩

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00