📄 প্রশংসাপ্রীতির আপ
পদলিন্সার দ্বিতীয় অংশ প্রশংসাপ্রীতি। অর্থাৎ, একথার আগ্রহ যে মানুষ আমার প্রশংসা করবে। এটা এক মারাত্মক ব্যাধি যা পদলিপ্সার ভিত্তি। কোনো ব্যক্তি যতো ছোটই হোক না কেন সে তার প্রশংসা শুনতে চায়। যার ফলে ভালো ভালো নেক কাজ নষ্ট হয়ে যায়।
📄 উপঢৌকনের বিষয়ে একটি ভুল প্রচলন
উদাহরণস্বরূপ, একজন মুসলিম ভাইকে হাদিয়া ও উপঢৌকন দেওয়া অনেক বড়ো সওয়াবের কাজ। হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনেক ফযীলত বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এই উপঢৌকন যদি এজন্য দেওয়া হয় যে, এর মাধ্যমে আমার সুনাম হবে, মানুষ আমার প্রশংসা করবে তাহলে তার পুরো ছওয়াব বরবাদ হয়ে যাবে, উল্টা গোনাহ হবে।
আমাদের সমাজে সাধারণত আত্মীয়স্বজনের কাছে উপঢৌকন নিয়ে যাওয়ার খুব একটা প্রচলন নেই। কেউ উপঢৌকন দিতে চাইলেও পরামর্শ দেওয়া হয় যে, এখন বাদ দাও অমুক সময় অনুষ্ঠান হবে তখন দিও। তাহলে তোমার উপঢৌকনের নাম হবে, মানুষ প্রশংসা করবে যে, অমুক ব্যক্তি এই উপঢৌকন দিয়েছে। যার অর্থ এই যে, যা কিছু দেওয়া হচ্ছে তা শুধু নাম যশের জন্য এবং মানুষকে দেখানোর জন্য দেওয়া হচ্ছে। অথচ সাধারণ অবস্থায় সরলভাবে কেবল আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টি এবং একজন মুসলিমকে সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্যে উপঢৌকন দেওয়ায় অনেক ছওয়াব রয়েছে। কিন্ত যদি প্রশংসা পাওয়া উদ্দেশ্য হয় তাহলে এতে কোনো লাভ নেই।
📄 প্রশংসাপ্রীতি ভিত্তিহীন
আমার মুর্শিদ হযরত ডা. আব্দুল হাই আরেফী রহ. অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কথা বলতেন যে, প্রশংসাপ্রীতি এমন অর্থহীন জিনিস যে এর ভিত্তি অন্যের উপর। অর্থাৎ, প্রশংসা করবে অন্য মানুষ। আর অন্য মানুষ তো নিজের অধীন নয়। অন্য মানুষ প্রশংসা করতেও পারে, নাও করতে পারে। করলেও কতো দিন করবে। উদাহরণস্বরূপ, আপনি কাউকে উপঢৌকন দিলেন। সে বললো, আপনি খুবই উদার। দুই তিন বার বলে সে থেমে যাবে। আপনি তাকে বললেন, আপনার প্রশংসা আমার খুব ভালো লেগেছে, আবার একটু বলুন তো সে আবারও প্রশংসা করলো। এতে করে আপনার পুরো ছওয়াব নষ্ট হয়ে গেলো। কিন্তু এ সবকিছু যদি শুধু আল্লাহ তা'আলার জন্য হতো তাহলে অবশ্যই আখেরাতে এর পুরস্কার লাভ হতো। আমার মুর্শিদ একটি কবিতা পাঠ করতেন, যা মনে রাখার মতো। তার উপর আমল করা হলে পদলিপ্সার ব্যাধি দূর হয়ে যাবে। কবিতাটি এই,
ختم ہو جاتی ہے حب جاہ دنیا جس کے پاس
اک ذراسی بات ہے اے دل پھر کیا اس کے پاس
পদলিলা দুনিয়াতেই যার সবকিছু শেষ হয়ে যায়
এটা তো মৌখিক প্রশংসা মাত্র, এরপরে তার কাছে আর কি থাকে?
একটু চিন্তা করে দেখুন, যে ব্যক্তি কয়েকবার প্রশংসা করলো তারপর তার কাছে আর কি থাকলো? এ বিষয়টি যদি চিন্তা করা হয় তাহলে পদলিলা শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু কেউ যদি প্রশংসা লাভের পরিবর্তে কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য কাজ করে তাহলে সে চিরস্থায়ী ও অবিনশ্বর পুরস্কার লাভ করবে। আর একথাও মনে রাখবেন! যখন মানুষের উদ্দেশ্য কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করা হয়, প্রশংসা কুড়ানো না হয়, তখন আল্লাহ তা'আলা দুনিয়াতেও তার প্রশংসা করিয়ে থাকেন। একটু চিন্তা করে দেখুন, আপনি জীবনে এমন কোনো মানুষ দেখেছেন কি যার কেউ দোষ বর্ণনা করেনি? কেউ না কেউ অবশ্যই দোষ বর্ণনা করে থাকে। এমনকি নবীগণেরও দোষ বর্ণনা করা হয়েছে। কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত প্রশংসা ও নিন্দাকে উপেক্ষা করে আল্লাহ তা'আলার প্রশংসা না করবে ততক্ষণ পর্যন্ত তা পদলিন্সার অন্তর্ভুক্ত।
আমার ওয়ালেদ ছাহেব বলতেন যে, এমন ব্যক্তির প্রশংসাই গ্রহণযোগ্য, যার প্রশংসার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। যেমন আপনি বড়ো কোনো কৃতিত্বের কাজ করলেন, আর একজন মেথর আপনার প্রশংসা করলো তাহলে তার প্রশংসায় আপনার কি আনন্দ লাগবে? আনন্দ লাগবে তো ঐ ব্যক্তির প্রশংসা দ্বারা, যে এ বিষয় সম্পর্কে ভালোভাবে জানে।
📄 এক নাপিতের ঘটনা
আমার ওয়ালেদ মাজেদ (কু.সি.) একটি ঘটনা শোনাতেন যে, এক নাপিতকে বাদশাহ ক্ষৌরকার্যের জন্য ডেকে পাঠান। নাপিত সেখানে গিয়ে দেখে বাদশাহ ঘুমিয়ে পড়েছে। নাপিত এতো দক্ষতার সাথে চুল কেটে দেয় যে, বাদশাহ বুঝতেই পারে না। সে ঘুমিয়েই থাকে। ঘুম থেকে জেগে দেখে অতি চমৎকারভাবে চুল কাটা হয়েছে। সে জিজ্ঞাসা করলো, এটা কিভাবে হয়েছে? এক ব্যক্তি বললো, নাপিত এসেছিলো আপনার ঘুমের অবস্থাতেই সে ক্ষৌরকার্য সম্পাদন করে দিয়েছে। বাদশাহ বললো, খুব দক্ষ নাপিত।