📄 সুপারিশের অর্থ
এমনিভাবে বর্তমানে সুপারিশেরও খুব প্রচলন ঘটেছে। বড়ো কোনো মানুষের মাধ্যমে এজন্য সুপারিশ করানো হয়, যেন অন্য ব্যক্তি এর প্রভাবের চাপে অবশ্যই কাজটি করে দেয়। এটাও পদ-মর্যাদার অবৈধ ব্যবহার। সুপারিশের অর্থ এটা নয় যে, কারো উপর চাপ সৃষ্টি করে কাজ করাবে। সুপারিশের অর্থ হলো, মনোযোগ আকৃষ্ট করা ও পরামর্শ দেওয়া। যেমন এক ব্যক্তি কারো নামে সুপারিশ করে লিখলো যে, একে অমুক জায়গায় নিয়োগ দিন। এখন যার নামে চিঠি লেখা হয়েছে সে চিন্তা করে যে, এতো বড়ো মানুষের সুপারিশ কি করে ফেরত দেই। অথচ যার পক্ষে সুপারিশ করা হচ্ছে সে এ পদের যোগ্য নয়। আজকাল আমার নিকট অনেক মানুষ এসে বলে যে, অমুক ব্যক্তির নামে জোরালো ভাষায় সুপারিশ লিখে দিন। অথচ জোরালো ভাষায় সুপারিশ লেখাই জায়েয নেই। সুপারিশের অর্থ হলো, কাউকে এ কথা লিখবে যে, আমার ধারণায় অমুক ব্যক্তি মুখাপেক্ষীও এবং এর যোগ্যও। আপনার অবস্থার অনুকূল এবং আপনার কল্যাণ সম্মত হলে তার কাজটি করে দিন। আমি এর পক্ষে সুপারিশ করছি। তারপর যদি সে সুপারিশ কবুল না করে তাহলে অন্তরে কোনো চাপ সৃষ্টি হওয়া যাবে না। কিন্তু জোরালো ভাষায় এভাবে লেখা যে, যে কোনো অবস্থায় এবং যে কোনো মূল্যে আপনাকে এ কাজ করে দিতে হবে। এই সুপারিশ নাজায়েয ও হারাম। এমনিভাবে অন্য কারো উপর নিজের ব্যক্তিত্ব, ধন-সম্পদ ও পদ-পদবীর চাপ সৃষ্টি করাও শরীয়তে নিষিদ্ধ। শুধু ইবাদতের ক্ষেত্রে নয় বরং জীবনের সর্বক্ষেত্রে দ্বীনের তা'লীমের উপর আমল করা জরুরী। এ সব বিষয় বিস্মৃত হওয়ার ফলেই আজ আমাদের সমাজ বিকৃত হয়ে চলেছে। আমাদের জীবন ধ্বংস হচ্ছে। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে বলেছেন, পদ ও সম্পদের ভালোবাসা মানুষের দ্বীনকে চরমভাবে ধ্বংস করে দেয়, এখন হয়তো তার কিছুটা বুঝতে পেরেছেন। আমরা পদ-পদবী অর্জন করে যথারীতি তার অপব্যবহার করছি।
📄 পদের অন্যায় ব্যবহার
আমাদের দেশে যে নির্বাচন হয় তাতে প্রত্যেক প্রার্থী এ কথাই বলে যে, আমার মতো দ্বিতীয় আর কেউ নেই। নিজে নিজের গুণগান গাওয়া এবং অন্যের সমালোচনা করা নির্বাচনের আবশ্যকীয় অঙ্গে পরিণত হয়েছে। লক্ষ কোটি টাকা ব্যয় করা ছাড়া কেউ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করতে পারে না। লক্ষ কোটি টাকা ব্যয় করে যে ব্যক্তি সংসদ সদস্য হলো বা মন্ত্রিত্ব লাভে সক্ষম হলো, সে কি নিজের ব্যয় করা সমস্ত অর্থ আল্লাহর পথে কতাওবানী করলো? না, এটা তো বরং পুরোপুরি বিনিয়োগ। যে পর্যন্ত ব্যয় করা অর্থের দ্বিগুণ চর্তুগুণ উসুল না হবে সে পর্যন্ত তার এ পদ বেকার। যে ব্যক্তি এক কোটি টাকা খরচ করেছে সে দশ কোটি টাকা বানানোর জন্য এসব পদ অর্জন করছে। যদি দশ কোটি টাকা না বানায় তাহলে যেন সংসদ সদস্য হয়ে নির্বুদ্ধিতার কাজ করেছে। এর বিপর্যয় কিভাবে সমাজে ছড়িয়ে আছে তা আপনারা লক্ষ করুন। এ বাস্তবতাই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের ভাষায় বর্ণনা করছেন যে, পদলিপ্সা মানুষের দ্বীনের এতো বড়ো বিপর্যয় ঘটায়, ক্ষুধার্ত বাঘও ছাগল পালের মধ্যে যা ঘটায় না।
📄 প্রশংসাপ্রীতির আপ
পদলিন্সার দ্বিতীয় অংশ প্রশংসাপ্রীতি। অর্থাৎ, একথার আগ্রহ যে মানুষ আমার প্রশংসা করবে। এটা এক মারাত্মক ব্যাধি যা পদলিপ্সার ভিত্তি। কোনো ব্যক্তি যতো ছোটই হোক না কেন সে তার প্রশংসা শুনতে চায়। যার ফলে ভালো ভালো নেক কাজ নষ্ট হয়ে যায়।
📄 উপঢৌকনের বিষয়ে একটি ভুল প্রচলন
উদাহরণস্বরূপ, একজন মুসলিম ভাইকে হাদিয়া ও উপঢৌকন দেওয়া অনেক বড়ো সওয়াবের কাজ। হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনেক ফযীলত বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এই উপঢৌকন যদি এজন্য দেওয়া হয় যে, এর মাধ্যমে আমার সুনাম হবে, মানুষ আমার প্রশংসা করবে তাহলে তার পুরো ছওয়াব বরবাদ হয়ে যাবে, উল্টা গোনাহ হবে।
আমাদের সমাজে সাধারণত আত্মীয়স্বজনের কাছে উপঢৌকন নিয়ে যাওয়ার খুব একটা প্রচলন নেই। কেউ উপঢৌকন দিতে চাইলেও পরামর্শ দেওয়া হয় যে, এখন বাদ দাও অমুক সময় অনুষ্ঠান হবে তখন দিও। তাহলে তোমার উপঢৌকনের নাম হবে, মানুষ প্রশংসা করবে যে, অমুক ব্যক্তি এই উপঢৌকন দিয়েছে। যার অর্থ এই যে, যা কিছু দেওয়া হচ্ছে তা শুধু নাম যশের জন্য এবং মানুষকে দেখানোর জন্য দেওয়া হচ্ছে। অথচ সাধারণ অবস্থায় সরলভাবে কেবল আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টি এবং একজন মুসলিমকে সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্যে উপঢৌকন দেওয়ায় অনেক ছওয়াব রয়েছে। কিন্ত যদি প্রশংসা পাওয়া উদ্দেশ্য হয় তাহলে এতে কোনো লাভ নেই।