📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 খুশি মনের অনুমতি ছাড়া মহর মাফ হয় না

📄 খুশি মনের অনুমতি ছাড়া মহর মাফ হয় না


কুরআনে কারীমেও আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন, কোনো মহিলা যখন মহর মাফ করে দেয় তখন শুধু মৌখিক মাফ যথেষ্ট নয়, স্ত্রী যদি আত্মা থেকে মাফ করে দেয় তবেই মহর মাফ হবে। বিষয়টি কুরআন মাজীদে এভাবে উল্লেখ আছে,
فَإِنْ طِبْنَ لَكُمْ عَنْ شَيْءٍ مِنْهُ نَفْسًا فَكُلُوهُ هَنِيئًا مَرِيئًا
'হ্যাঁ, যদি তারা তা থেকে কিছু অংশ খুশি মনে ছেড়ে দেয় তাহলে সানন্দে তা ভোগ করো।" অর্থাৎ, স্ত্রীরা যদি খুশি মনে তোমাদেরকে কিছু দেয় তাহলে জায়েয অন্যথায় জায়েয নয়।

টিকাঃ
২. সূরা নিসা, আয়াত-৪

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 মহর মাফ নেওয়া একটি মন্দ প্রচলন

📄 মহর মাফ নেওয়া একটি মন্দ প্রচলন


সাধারণত মানুষের মধ্যে এই প্রচলন হয়ে গেছে যে, সারাজীবন এক সঙ্গে থাকে কিন্তু না কখনো মহর দেওয়ার কথা চিন্তায় আসে না তার ইচ্ছা করে। যখন অন্তীম শয্যায় শায়িত তখন স্ত্রীকে বলে যে, তোমার মহর আমার দায়িত্বে রয়ে গেছে তা মাফ করে দাও। এখন এমন সময় ঐ বেচারীর মুখ দিয়ে এ ছাড়া আর কি বের হবে যে, আমি মাফ করে দিলাম। অথচ কুরআন বলে এরূপ মাফ ধর্তব্য নয়। খুশি মনে যেটা মাফ করবে সেটা কেবল ধর্তব্য। পরিস্থিতির শিকার হয়ে বাধ্য হয়ে মাফ করে দেওয়া ধর্তব্য নয়। চাঁদার বিষয়টিও এমন। অবস্থা ও ব্যক্তির চাপে চাঁদা দিলে তা হালাল নয়। এটা ব্যক্তিত্বের অপব্যবহার।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 চাঁদার একটি জায়েয পদ্ধতি

📄 চাঁদার একটি জায়েয পদ্ধতি


এক ব্যক্তি চাঁদা দিতে চায় কিন্তু আপনি গেলে সে আস্থা পোষণ করতে পারে না যে, এই লোক চাঁদা সঠিক খাতে ব্যয় করবে। এজন্য আপনি এমন এক ব্যক্তিকে সাথে নিয়ে গেলেন যার কারণে চাঁদাদাতার আস্থা জন্মালো যে, চাঁদা সংগ্রহকারী অনির্ভরযোগ্য নয় তাহলে এ পদ্ধতি জায়েয। কিন্তু কোনো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে যদি এজন্য সাথে নিয়ে যাওয়া হয় যে, চাঁদাদাতা চাপে ও প্রভাবে পড়ে কিছু না কিছু দিবেই তাহলে এটা হারাম এবং পদের অপব্যবহার।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 সুপারিশের অর্থ

📄 সুপারিশের অর্থ


এমনিভাবে বর্তমানে সুপারিশেরও খুব প্রচলন ঘটেছে। বড়ো কোনো মানুষের মাধ্যমে এজন্য সুপারিশ করানো হয়, যেন অন্য ব্যক্তি এর প্রভাবের চাপে অবশ্যই কাজটি করে দেয়। এটাও পদ-মর্যাদার অবৈধ ব্যবহার। সুপারিশের অর্থ এটা নয় যে, কারো উপর চাপ সৃষ্টি করে কাজ করাবে। সুপারিশের অর্থ হলো, মনোযোগ আকৃষ্ট করা ও পরামর্শ দেওয়া। যেমন এক ব্যক্তি কারো নামে সুপারিশ করে লিখলো যে, একে অমুক জায়গায় নিয়োগ দিন। এখন যার নামে চিঠি লেখা হয়েছে সে চিন্তা করে যে, এতো বড়ো মানুষের সুপারিশ কি করে ফেরত দেই। অথচ যার পক্ষে সুপারিশ করা হচ্ছে সে এ পদের যোগ্য নয়। আজকাল আমার নিকট অনেক মানুষ এসে বলে যে, অমুক ব্যক্তির নামে জোরালো ভাষায় সুপারিশ লিখে দিন। অথচ জোরালো ভাষায় সুপারিশ লেখাই জায়েয নেই। সুপারিশের অর্থ হলো, কাউকে এ কথা লিখবে যে, আমার ধারণায় অমুক ব্যক্তি মুখাপেক্ষীও এবং এর যোগ্যও। আপনার অবস্থার অনুকূল এবং আপনার কল্যাণ সম্মত হলে তার কাজটি করে দিন। আমি এর পক্ষে সুপারিশ করছি। তারপর যদি সে সুপারিশ কবুল না করে তাহলে অন্তরে কোনো চাপ সৃষ্টি হওয়া যাবে না। কিন্তু জোরালো ভাষায় এভাবে লেখা যে, যে কোনো অবস্থায় এবং যে কোনো মূল্যে আপনাকে এ কাজ করে দিতে হবে। এই সুপারিশ নাজায়েয ও হারাম। এমনিভাবে অন্য কারো উপর নিজের ব্যক্তিত্ব, ধন-সম্পদ ও পদ-পদবীর চাপ সৃষ্টি করাও শরীয়তে নিষিদ্ধ। শুধু ইবাদতের ক্ষেত্রে নয় বরং জীবনের সর্বক্ষেত্রে দ্বীনের তা'লীমের উপর আমল করা জরুরী। এ সব বিষয় বিস্মৃত হওয়ার ফলেই আজ আমাদের সমাজ বিকৃত হয়ে চলেছে। আমাদের জীবন ধ্বংস হচ্ছে। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে বলেছেন, পদ ও সম্পদের ভালোবাসা মানুষের দ্বীনকে চরমভাবে ধ্বংস করে দেয়, এখন হয়তো তার কিছুটা বুঝতে পেরেছেন। আমরা পদ-পদবী অর্জন করে যথারীতি তার অপব্যবহার করছি।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00