📄 চাপ সৃষ্টি করে চাঁদা সংগ্রহ করা
উদাহরণ স্বরূপ, কোনো নেক কাজের জন্য চাঁদা সংগ্রহের জন্য প্রভাবশালী দু-চারজন লোককে সাথে নেওয়া হলো। তাদের মাধ্যমে মানুষ থেকে চাঁদা সংগ্রহ করা হলো যাতে করে তাদের কারণে চাঁদা দিতে অস্বীকার না করে। প্রভাবশালী লোক সাথে না থাকলে তাদের অন্তরে চাঁদা দেওয়ার ইচ্ছা হতেও পারে, নাও হতে পারে, কিংবা কম পরিমাণে দিতে পারে। কিন্তু প্রভাবশালী কোনো মানুষের দ্বারা চাপ প্রয়োগ করার ফলে চাঁদা দিতে অস্বীকার করতে পারলো না। অর্থাৎ, ঐ ব্যক্তির প্রভাবের ভিত্তিতে সে চাঁদা দিয়েছে, অন্যথায় মন থেকে চাঁদা দিতে সে রাজী ছিলো না। এমনটি করা পদমর্যাদার অপব্যবহার। হাদীস শরীফে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
لَا يَحِلُّ مَالُ امْرِي إِلَّا بِطِيبٍ نَفْسٍ
'কারো সম্পদ তার সন্তুষ্টি ছাড়া হালাল নয়।"
টিকাঃ
১. মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১৯৭৭৪
📄 খুশি মনের অনুমতি ছাড়া মহর মাফ হয় না
কুরআনে কারীমেও আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন, কোনো মহিলা যখন মহর মাফ করে দেয় তখন শুধু মৌখিক মাফ যথেষ্ট নয়, স্ত্রী যদি আত্মা থেকে মাফ করে দেয় তবেই মহর মাফ হবে। বিষয়টি কুরআন মাজীদে এভাবে উল্লেখ আছে,
فَإِنْ طِبْنَ لَكُمْ عَنْ شَيْءٍ مِنْهُ نَفْسًا فَكُلُوهُ هَنِيئًا مَرِيئًا
'হ্যাঁ, যদি তারা তা থেকে কিছু অংশ খুশি মনে ছেড়ে দেয় তাহলে সানন্দে তা ভোগ করো।" অর্থাৎ, স্ত্রীরা যদি খুশি মনে তোমাদেরকে কিছু দেয় তাহলে জায়েয অন্যথায় জায়েয নয়।
টিকাঃ
২. সূরা নিসা, আয়াত-৪
📄 মহর মাফ নেওয়া একটি মন্দ প্রচলন
সাধারণত মানুষের মধ্যে এই প্রচলন হয়ে গেছে যে, সারাজীবন এক সঙ্গে থাকে কিন্তু না কখনো মহর দেওয়ার কথা চিন্তায় আসে না তার ইচ্ছা করে। যখন অন্তীম শয্যায় শায়িত তখন স্ত্রীকে বলে যে, তোমার মহর আমার দায়িত্বে রয়ে গেছে তা মাফ করে দাও। এখন এমন সময় ঐ বেচারীর মুখ দিয়ে এ ছাড়া আর কি বের হবে যে, আমি মাফ করে দিলাম। অথচ কুরআন বলে এরূপ মাফ ধর্তব্য নয়। খুশি মনে যেটা মাফ করবে সেটা কেবল ধর্তব্য। পরিস্থিতির শিকার হয়ে বাধ্য হয়ে মাফ করে দেওয়া ধর্তব্য নয়। চাঁদার বিষয়টিও এমন। অবস্থা ও ব্যক্তির চাপে চাঁদা দিলে তা হালাল নয়। এটা ব্যক্তিত্বের অপব্যবহার।
📄 চাঁদার একটি জায়েয পদ্ধতি
এক ব্যক্তি চাঁদা দিতে চায় কিন্তু আপনি গেলে সে আস্থা পোষণ করতে পারে না যে, এই লোক চাঁদা সঠিক খাতে ব্যয় করবে। এজন্য আপনি এমন এক ব্যক্তিকে সাথে নিয়ে গেলেন যার কারণে চাঁদাদাতার আস্থা জন্মালো যে, চাঁদা সংগ্রহকারী অনির্ভরযোগ্য নয় তাহলে এ পদ্ধতি জায়েয। কিন্তু কোনো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে যদি এজন্য সাথে নিয়ে যাওয়া হয় যে, চাঁদাদাতা চাপে ও প্রভাবে পড়ে কিছু না কিছু দিবেই তাহলে এটা হারাম এবং পদের অপব্যবহার।