📄 সকল বুযুর্গ বিনয়ের ফলে আলাহর ওলী হয়েছেন
কতক সময় না চাইতেও আপনা আপনি পদ-পদবী ও প্রভাব-প্রতিপত্তি লাভ হয়। এগুলো সাধারণত ঐ সব আল্লাহ ওয়ালাদের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে যারা বিনয়ের মাধ্যমে নিজেদেরকে মেটাতে থাকেন। আর দুনিয়া তাদের পায়ের উপর এসে আছড়ে পড়ে। হাদীস শরীফে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
مَنْ تَوَاضَعَ لِلَّهِ رَفَعَهُ اللَّهُ
'আল্লাহ তা'আলাকে খুশি করার জন্য যে বিনয় অবলম্বন করে আল্লাহ তা'আলা তাকে উচ্চ মর্যাদা দান করেন।' যতো বুযুর্গ ও আল্লাহর ওলী আছেন তারা নিজেরা তো চান আমার সম্পর্কে কেউ না জানুক। গুমনাম হয়ে থাকি। কিন্তু তাদের থেকে যেই সৌরভ ছড়ায় তা মানুষকে পাগলপারা আকর্ষণ করে। তারা তাদের চর্তুদিকে প্রাচীর খাড়া করেন কিন্তু মানুষ তাদের পায়ের উপর আছড়ে পড়ে। কারণ আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে এমন সুগন্ধি দান করেন যা না চাইতেই লাভ হয়েছে এবং তা আল্লাহ তা'আলার একটি বড় নেয়ামত。
টিকাঃ
১. আততারগীব ওয়াততারহীব, খণ্ড-৩, পৃষ্ঠা-৩৫১, হাদীস নং ৪০৯৫, মাজমাউয যাওয়াইদ ও মামবাউল ফাওয়াইদ, খণ্ড-৩, পৃষ্ঠা-৪০৪, কানযুল উম্মাল, খণ্ড-৩, পৃষ্ঠা-২৪১, হাদীস নং ৬৩৪১, আযযাওয়াজির আন ইকতিরাফিল কাবাইর, খণ্ডঃ১, পৃষ্ঠা-১৯১, শু'আবুল ঈমান, খণ্ড-৬, পৃষ্ঠা-২৭৬, হাদীস নং ৮১৪০, মুসাননাফে ইবনে আবী শাইবা, খণ্ড-৮, পৃষ্ঠা-১৭৯, জামেউল আহাদীস, খণ্ড-৩৩, পৃষ্ঠা-২৯১, হাদীস নং ৩৬২৮১
📄 বৈধ পদের ভুল ব্যবহার
কিন্তু জায়েয পদ্ধতিতে এবং না চাইতেই যেই পদমর্যাদা লাভ হয় তা ব্যবহারে মারাত্মক ভুল ও গাফলতী হয়ে থাকে। যার দিকে মানুষের মনোযোগ আকৃষ্ট হয় না। ফলে মানুষ তাতে আক্রান্ত হয়ে যায়। বিষয়টি বোঝা দরকার। অনেক সময় নিজের ব্যক্তিত্ব ও পদের প্রভাব ও চাপ প্রয়োগ করে মানুষের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো কাজ করানো হয় যা সম্পূর্ণরূপে নাজায়েয।
📄 চাপ সৃষ্টি করে চাঁদা সংগ্রহ করা
উদাহরণ স্বরূপ, কোনো নেক কাজের জন্য চাঁদা সংগ্রহের জন্য প্রভাবশালী দু-চারজন লোককে সাথে নেওয়া হলো। তাদের মাধ্যমে মানুষ থেকে চাঁদা সংগ্রহ করা হলো যাতে করে তাদের কারণে চাঁদা দিতে অস্বীকার না করে। প্রভাবশালী লোক সাথে না থাকলে তাদের অন্তরে চাঁদা দেওয়ার ইচ্ছা হতেও পারে, নাও হতে পারে, কিংবা কম পরিমাণে দিতে পারে। কিন্তু প্রভাবশালী কোনো মানুষের দ্বারা চাপ প্রয়োগ করার ফলে চাঁদা দিতে অস্বীকার করতে পারলো না। অর্থাৎ, ঐ ব্যক্তির প্রভাবের ভিত্তিতে সে চাঁদা দিয়েছে, অন্যথায় মন থেকে চাঁদা দিতে সে রাজী ছিলো না। এমনটি করা পদমর্যাদার অপব্যবহার। হাদীস শরীফে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
لَا يَحِلُّ مَالُ امْرِي إِلَّا بِطِيبٍ نَفْسٍ
'কারো সম্পদ তার সন্তুষ্টি ছাড়া হালাল নয়।"
টিকাঃ
১. মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১৯৭৭৪
📄 খুশি মনের অনুমতি ছাড়া মহর মাফ হয় না
কুরআনে কারীমেও আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন, কোনো মহিলা যখন মহর মাফ করে দেয় তখন শুধু মৌখিক মাফ যথেষ্ট নয়, স্ত্রী যদি আত্মা থেকে মাফ করে দেয় তবেই মহর মাফ হবে। বিষয়টি কুরআন মাজীদে এভাবে উল্লেখ আছে,
فَإِنْ طِبْنَ لَكُمْ عَنْ شَيْءٍ مِنْهُ نَفْسًا فَكُلُوهُ هَنِيئًا مَرِيئًا
'হ্যাঁ, যদি তারা তা থেকে কিছু অংশ খুশি মনে ছেড়ে দেয় তাহলে সানন্দে তা ভোগ করো।" অর্থাৎ, স্ত্রীরা যদি খুশি মনে তোমাদেরকে কিছু দেয় তাহলে জায়েয অন্যথায় জায়েয নয়।
টিকাঃ
২. সূরা নিসা, আয়াত-৪