📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 শাইখের তত্ত্বাবধানে কাজ করুন

📄 শাইখের তত্ত্বাবধানে কাজ করুন


এজন্য এটা অত্যন্ত বিপজ্জনক ও নাজুক কাজ। কোনো বুযুর্গ কোনো আসনে না বসালে বা কারো নিয়মতান্ত্রিক তত্তাবধান না থাকলে অনেক সময় মানুষ পদলিন্সার শিকার হয়ে যায়। এজন্যই বুযুর্গগণ বলেছেন, কাজ করার পূর্বে এবং কাজ করার সময়ও কোনো আল্লাহ ওয়ালার সঙ্গে সম্পর্ক রাখো, যাতে করে নফস পদলিন্সার ব্যাধি থেকে হেফাযতে থাকে।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 শাইখ আবুল হাসান নূরী রহ.-এর ইখলাস

📄 শাইখ আবুল হাসান নূরী রহ.-এর ইখলাস


শাইখ আবুল হাসান নূরী রহ. অনেক উঁচু মাপের বুযুর্গ ছিলেন। তার সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে একবার তিনি কোথাও যাচ্ছিলেন। পথে দেখলেন সমুদ্র তীরে নৌকা থেকে কিছু মটকা নামানো হচ্ছে। জিজ্ঞাসা করে জানা গেলো, এগুলো মদের মটকা, যা দেশের শাসকের জন্য অন্য দেশ থেকে আনা হয়েছে। এখন একটি বড়ো জাহাজে বোঝাই করে তার নিকট নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। শাইখ আবুল হাসান নূরী রহ. খুব কষ্ট পেলেন। মুসলিম দেশের একজন বাদশাহ মদের মটকা আনাচ্ছে। তার মধ্যে মন্দ কাজে নিষেধ করার জযবা জাগলো। তিনি ঐ বিশটা মটকা একটা একটা করে ভাঙ্গতে আরম্ভ করলেন। উনিশটা মটকা ভাঙ্গলেন। বিশতম মটকা ভাঙ্গার জন্য যখন হাত উঠালেন তখন হঠাৎ অন্তরে একটি চিন্তা জাগার ফলে সেটি রেখে চলে আসলেন। বাদশাহর নিকট খবর পৌছলো যে, অমুক ব্যক্তি উনিশটা মটকা ভেঙ্গে ফেলেছে। বাদশাহ তাকে ডেকে পাঠালো। জিজ্ঞাসা করলো, এটা আপনি কি করলেন? তিনি বললেন, মূলত কুরআনে কারীমে আল্লাহ পাক বলেছেন, নেক কাজের নির্দেশ দাও, মন্দ কাজে বাধা দাও এবং এর ফলে যে কষ্ট আসে তাতে ধৈর্য ধারণ করো। যখন আমি দেখলাম এ মন্দ কাজ আপনার পর্যন্ত পৌঁছবে তারপর মানুষের মধ্যে তা ছড়িয়ে পড়বে তখন সেগুলো ভাঙ্গতে চাইলাম। কিন্তু যখন চিন্তা জাগলো যে, তুমি অনেক বড়ো বাহাদুর, বাদশাহর জেল-জুলুমকে উপেক্ষা করে আল্লাহ তা'আলার হুকুম বাস্ত বায়ন করছো। মানুষ যখন জানতে পারবে যে, আবুল হাসান বাদশাহর মটকা ভেঙ্গে দিয়েছে তখন মানুষের মধ্যে খুব খ্যাতি হবে। যখন আমার এ চিন্তা জাগলো তখন মটকা ভাঙ্গা আর আল্লাহর জন্য হতো না, বরং মানুষের প্রশংসা কুড়ানোর জন্য হতো। এ পর্যন্ত যতোগুলো মটকা ভেঙ্গেছিলাম সেগুলো ছিলো আল্লাহ তা'আলার হুকুম পালন ও সন্তুষ্টি লাভের জন্য। শেষ মটকাটি যদি ভাঙ্গতাম তাহলে তা হতো মানুষকে দেখানোর জন্য এবং নিজের নফসের খাতিরে। এজন্য সেটা রেখে চলে আসি।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 বাদশাহের উপর শাইখ আবুল হাসান রহ.-এর ইখলাসের প্রভাব

📄 বাদশাহের উপর শাইখ আবুল হাসান রহ.-এর ইখলাসের প্রভাব


বর্ণনায় এসেছে, বাদশাহের উপর শাইখ আবুল হাসান রহ.-এর এমন প্রভাব পড়লো যে, বাদশাহ তার হাতে বাইয়াত হলেন এবং বিশেষভাবে তাকে দায়িত্ব দিলেন যে, আপনি শহরের তত্ত্বাবধান করবেন, যতো গোনাহের কাজ দেখবেন সেগুলো বিলুপ্ত করবেন। মোটকথা, কাউকে নেক কাজের কথা বলা এবং গোনাহের কাজ থেকে বাধা দেওয়া তখন প্রশংসার যোগ্য, যখন তার উদ্দেশ্য একমাত্র আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টি ছাড়া আর কিছু না হয়। এ কাজই যদি নাম, যশ, খ্যাতি ও পরহেযগার উপাধী লাভের জন্য হয় তাহলে সব মেহনত বেকার হয়ে যাবে, উল্টা গোনাহগার হবে।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 হযরত শাইখুল হিন্দ রহ.-এর ঘটনা

📄 হযরত শাইখুল হিন্দ রহ.-এর ঘটনা


শাইখুল হিন্দ হযরত মাওলানা মাহমুদুল হাসান ছাহেব (কু.সি.) হযরত থানভী রহ.-এর উস্তাদ ছিলেন। উঁচু মাপের বুযুর্গ ছিলেন। হযরত থানভী রহ. দারুল উলূম দেওবন্দ থেকে লেখাপড়া শেষ করে কানপুরের মাদরাসায় পড়াতে আরম্ভ করেন। কানপুরের লোকদের মধ্যে বিদআত খুব জোরেশোরে চালু ছিলো। মানুষের মনোযোগ কুরাআন হাদীসের দিকে কম, মানতেক ও ফালসাফার দিকে বেশি ছিলো। পক্ষান্তরে উলামায়ে দেওবন্দের কুরআন সুন্নাহর দিকে মনোযোগ ছিলো বেশী। এজন্য তারা উলামায়ে দেওবন্দকে ছোট মনে করতো। হযরত থানভী রহ. একবার চিন্তা করলেন, আমি হযরত শাইখুল হিন্দ মাওলানা মাহমুদুল হাসান রহ.-কে কানপুর আনবো। তার দ্বারা এখানে ওয়ায করাবো। যাতে মানুষ দ্বীনের হাকীকত জানতে পারে এবং এটাও জানতে পারে যে, উলামায়ে দেওবন্দ সব শাস্ত্রে বিশেষজ্ঞ। সুতরাং জলসা করা হলো। হযরত শাইখুল হিন্দ রহ.-কে দাওয়াত দেওয়া হলো。

সমাবেশ চলাকালে হযরত থানভী রহ. হযরত শাইখুল হিন্দ রহ.-কে ইঙ্গিতে বলেছিলেন যে, হযরত অমুক মাসআলার বিষয়ে একটু বিশেষভাবে বর্ণনা করবেন। কারণ, এখানে ঐ বিষয়ে অনেক ভুল বুঝাবুঝি ছড়িয়ে আছে। মাসআলার সম্পর্ক ছিলো মানতেক ও ফালসাফার সঙ্গে। হযরত শাইখুল হিন্দ রহ. যখন বয়ান আরম্ভ করেন তখন ঐ সব লোক সেখানে এসে পৌছেনি যাদেরকে ওয়ায শোনানো উদ্দেশ্য ছিলো। কিছুক্ষণ পরেই তারা সেখানে এসে পৌছে। হযরত শাইখুল হিন্দ রহ. ঐ বিষয়ে আলোচনা আরম্ভ করলেন। সে সম্পর্কে খুব উচ্চাঙ্গের আলোচনা তুলে ধরলেন। বয়ান চলছিলো হঠাৎ শাইখুল হিন্দ রহ. বললেন, আমি আর আলোচনা করতে ক্ষমা চাচ্ছি এবং وَآخِرُ دَعْوَانَا أَنِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَلَمِينَ বলে বসে পড়লেন। হযরত থানভী রহ. বলেন, আমি খুব বিচলিত হলাম, যখন আলোচনার মূল সময় এসেছে তখন হযরত বসে পড়লেন। আমি হযরতকে জিজ্ঞাসা করলাম, এখন তো আলোচনার মূল সময় ছিলো কিন্তু আপনি আলোচনা শেষ করে দিলেন?

হযরত বললেন, মূলত আমার চিন্তা জাগে যে, আমি তাদের সামনে নিজের ইলম জাহির করছি। তখন যদি আমি আলোচনা অব্যাহত রাখতাম তাহলে তা আল্লাহ তা'আলার জন্য হতো না, বরং তা নিজের যোগ্যতা দেখানো ও ইলম প্রকাশ করার জন্য হতো। এমন ওয়ায বৃথা, যার দ্বারা আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টি উদ্দেশ্য নয় বরং নিজের ইলম জাহির করা উদ্দেশ্য হয়।

এটা কোনো মামুলি বিষয় নয় যে, মানুষ সমাবেশে আলোচনা করতে করতে একথা চিন্তা করে বসে পড়বে যে, এতক্ষণ পর্যন্ত যা বলছিলাম তা ছিলো আল্লাহর জন্য কিন্তু এখন যা বলবো তা নিজের ইলম জাহিরের জন্য হবে। মূলত পদলিলা থেকে বাঁচার জন্য এমনটি করতে হয়। যে কোনো পদ ও পদবী নিজের প্রভাব সৃষ্টির জন্য অর্জন করা খারাপ। তবে মানুষের আরামের জন্য পদ হাসিল করার অনুমতি রয়েছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00