📄 মাকবুল বক্তার জন্য সতর্কতা
আমাদের অবস্থা তো এমন যে, ওয়ায করতে আরম্ভ করলাম, কিছু লোক জমা হয়ে গেলো, তারা সম্মান করে কথা শুনতে আরম্ভ করলো তখন এই চিন্তা জাগে যে, এতগুলো লোক যখন আমার কথা শুনছে তাহলে আমার মধ্যে কিছুনা কিছু অবশ্যই আছে। এর ফলে মানুষের নফস খারাপ হয়ে যায়, মানুষ অহংকারে লিপ্ত হয়ে পড়ে।
📄 নফসের খারাবীর বিস্ময়কর ঘটনা
হাকীমুল উম্মত হযরত থানভী (কু.সি.) এর দৃষ্টান্ত দিয়ে একটি ঘটনা লিখেছেন। আরব দেশে একজন বিখ্যাত লোভী ব্যক্তি ছিলো তার নাম আশ'আব। একবার সে কোথাও যাচ্ছিলো। পথে কিছু মানুষকে পাত্র বানাতে দেখলো। সে তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলো, তোমরা এতো ছোট ছাট থাল কেন বানাচ্ছো। বড়ো বড়ো থাল বানাও। লোকেরা তাকে বললো, আমরা ছোট থাল বানাই বা বড়ো, তাতে তোমার কি? সে বললো, হতে পারে তোমরা যেই থাল বানাচ্ছো তা এমন কোনো ব্যক্তির নিকট যাবে যে ঐ থালে করে আমার জন্য উপঢৌকন নিয়ে আসবে। এজন্য তোমরা বড়ো থাল বানাও। তার লোভ সম্পর্কে প্রসিদ্ধ আছে যে, সে অনেক সময় বাইরে যেতো, শিশুদেরকে খেলতে দেখে মিথ্যা বানিয়ে বলতো যে, তোমরা এখানে কি করছো? অমুক জায়গায় যাও সেখানে মিষ্টি বিতরণ করা হচ্ছে। শিশুদের যেহেতু মিষ্টির প্রতি আকর্ষণ থাকে তাই তারা খেলা ছেড়ে সেদিকে দৌড়ায়। সব শিশু যখন দৌড়াতে আরম্ভ করে তখন সে নিজেও তাদের পিছনে দৌড়াতে আরম্ভ করে। এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলো, তুমি দৌড়াচ্ছো কেন? সে বললো, হতে পারে সেখানে মিষ্টি বিতরণ করা হচ্ছে।'
টিকাঃ
১. নাফহাতুল আরব, পৃঃ ১৫
📄 একটি ভুল চিন্তা
হাকীমুল উম্মত হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ. বলতেন, কিছু লোক অনেক সময় নিজের পরহেযগারী, বুযুর্গী ও জ্ঞান গরীমা দ্বারা মানুষকে নিজেই ধোঁকা দেয়। তারপর যখন কিছু লোক তার দিকে আকৃষ্ট হয় তখন চিন্তা করে যে, এতো মানুষ আমার দিকে আকৃষ্ট হচ্ছে অবশ্যই কোনো বিষয় আছে যে কারণে তারা আমার পিছনে ছুটছে। এই চিন্তা ভুল। অনেক সময় তা মানুষকে অহংকারে লিপ্ত করে।
'আমর বিল মা'রুফ ও নাহি আনিল মুনকার' অর্থাৎ, সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধ করা নিশ্চয়ই একটি বড়ো কাজ। কিন্তু তার ফায়দা তখনই লাভ হয় যখন মানুষ এ কাজ মানুষের প্রশংসা কুড়ানো, খ্যাতি লাভ বা পরহেযগার নাম অর্জনের জন্য না করে, বরং কেবল আল্লাহ তা'আলা সন্তুষ্টি ও তার রেযামন্দীর উদ্দেশ্যে করে।
📄 শাইখের তত্ত্বাবধানে কাজ করুন
এজন্য এটা অত্যন্ত বিপজ্জনক ও নাজুক কাজ। কোনো বুযুর্গ কোনো আসনে না বসালে বা কারো নিয়মতান্ত্রিক তত্তাবধান না থাকলে অনেক সময় মানুষ পদলিন্সার শিকার হয়ে যায়। এজন্যই বুযুর্গগণ বলেছেন, কাজ করার পূর্বে এবং কাজ করার সময়ও কোনো আল্লাহ ওয়ালার সঙ্গে সম্পর্ক রাখো, যাতে করে নফস পদলিন্সার ব্যাধি থেকে হেফাযতে থাকে।