📄 ভীষণ প্রয়োজন কি?
পদ কামনার জন্য ভীষণ প্রয়োজন এই যে, আমি যদি আগ বেড়ে গ্রহণ না করি তাহলে জালেম ব্যক্তিরা তা হস্তগত করে মানুষের ক্ষতি করবে। যেমন হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম করেছিলেন। বাদশাহ যখন তাকে কাছে ডেকে নিলো এবং নৈকট্য দান করলো তখন হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম নিজে মিসরের বাদশাহকে বললেন,
اجْعَلْنِي عَلَى خَزَائِنِ الْأَرْضِ إِنِّي حَفِيظٌ عَلِيمٌ
আপনি আমাকে সরকারি কোষাগারের দায়িত্ব দিন যাতে আমি ঠিকভাবে তা রক্ষণাবেক্ষণ করি।'
কারণ হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম জানতেন যে, আমি যদি এগিয়ে না যাই তাহলে কিছু মানুষ অন্যের হক আত্মসাৎ করবে। মানুষের উপর জুলুম অত্যাচার করবে। এজন্য মানুষকে জুলুমের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য তিনি এই পদ চেয়ে নেন। এটি একটি ব্যতিক্রমী অবস্থা। কোথাও এ অবস্থা দেখা দিলে তখন পদ চেয়ে নেওয়া জায়েয আছে। কিন্তু মৌলিক বিধান এই যে, নিজে অগ্রসর হয়ে পদ কামনা করবে না।
টিকাঃ
১. সূরা ইউসুফ, আয়াত-৫৫
📄 ওয়য ও বক্তব্য দানে সতর্কতা
আলেমগণ একথাও বলেছেন যে, নিজে অগ্রসর হয়ে বক্তা হওয়ার চেষ্টা করা উচিত নয়। কারণ এমন করলে বরকত হয় না। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
لَا يَقُصُّ إِلَّا أَمِيرٌ أَوْ مَأْمُورٌ أَوْ مُخْتَالٌ
ওয়ায হয় সে বলবে যে দ্বীনি বিষয়ে আমীর ও নেতা। আল্লাহ তা'আলা তাকে নেতৃত্বের পদ দান করেছেন বা ওয়ায করা তার হক যাকে আমীরের পক্ষ থেকে হুকুম দেওয়া হয়েছে।
উদাহরণস্বরূপ, কোনো আল্লাহওয়ালা কাউকে ওয়ায করার জন্য বসিয়ে দিলেন যে, তুমি এই খেদমত করো তাহলে তার জন্য ওয়ায করা জায়েয। এর বাইরে যে ওয়ায করবে তার সম্পর্কে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, সে হলো 'মুখতাল' তথা প্রদর্শক। মানুষকে দেখাচ্ছে, নিজেকে নিজে বড়ো মনে করে ওয়ায করছে। কতক লোক কেউ বলা ছাড়া নিজে নিজে দাঁড়িয়ে যায় তাদের ওয়ায নসিহতের মধ্যে বরকত নেই। উল্টা তারা অহংকারে লিপ্ত হয়। এজন্য বুযুর্গগণ বলেছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত কোনো আল্লাহ ওয়ালা বুযুর্গ কোনো পদে না বসিয়ে দেন ততক্ষণ পর্যন্ত নিজের থেকে ঐ পদে বসবে না।
টিকাঃ
২. সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৩১৮০, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১৭৩৫৮, সুনানে দারেমী, হাদীস নং ২৬৬০
📄 মাকবুল বক্তার জন্য সতর্কতা
আমাদের অবস্থা তো এমন যে, ওয়ায করতে আরম্ভ করলাম, কিছু লোক জমা হয়ে গেলো, তারা সম্মান করে কথা শুনতে আরম্ভ করলো তখন এই চিন্তা জাগে যে, এতগুলো লোক যখন আমার কথা শুনছে তাহলে আমার মধ্যে কিছুনা কিছু অবশ্যই আছে। এর ফলে মানুষের নফস খারাপ হয়ে যায়, মানুষ অহংকারে লিপ্ত হয়ে পড়ে।
📄 নফসের খারাবীর বিস্ময়কর ঘটনা
হাকীমুল উম্মত হযরত থানভী (কু.সি.) এর দৃষ্টান্ত দিয়ে একটি ঘটনা লিখেছেন। আরব দেশে একজন বিখ্যাত লোভী ব্যক্তি ছিলো তার নাম আশ'আব। একবার সে কোথাও যাচ্ছিলো। পথে কিছু মানুষকে পাত্র বানাতে দেখলো। সে তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলো, তোমরা এতো ছোট ছাট থাল কেন বানাচ্ছো। বড়ো বড়ো থাল বানাও। লোকেরা তাকে বললো, আমরা ছোট থাল বানাই বা বড়ো, তাতে তোমার কি? সে বললো, হতে পারে তোমরা যেই থাল বানাচ্ছো তা এমন কোনো ব্যক্তির নিকট যাবে যে ঐ থালে করে আমার জন্য উপঢৌকন নিয়ে আসবে। এজন্য তোমরা বড়ো থাল বানাও। তার লোভ সম্পর্কে প্রসিদ্ধ আছে যে, সে অনেক সময় বাইরে যেতো, শিশুদেরকে খেলতে দেখে মিথ্যা বানিয়ে বলতো যে, তোমরা এখানে কি করছো? অমুক জায়গায় যাও সেখানে মিষ্টি বিতরণ করা হচ্ছে। শিশুদের যেহেতু মিষ্টির প্রতি আকর্ষণ থাকে তাই তারা খেলা ছেড়ে সেদিকে দৌড়ায়। সব শিশু যখন দৌড়াতে আরম্ভ করে তখন সে নিজেও তাদের পিছনে দৌড়াতে আরম্ভ করে। এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলো, তুমি দৌড়াচ্ছো কেন? সে বললো, হতে পারে সেখানে মিষ্টি বিতরণ করা হচ্ছে।'
টিকাঃ
১. নাফহাতুল আরব, পৃঃ ১৫