📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 প্রয়োজনাতিরিক্ত মর্যাদা কামনা করা

📄 প্রয়োজনাতিরিক্ত মর্যাদা কামনা করা


কিন্তু কেউ যদি এ জন্য মর্যাদা কামনা করে যে, প্রয়োজনাতিরিক্ত সুবিধা ভোগ করবে। পদ-পদবী লাভ হলে মানুষের উপর প্রভাব বিস্তার করবে, নিজের সুবিধা ভোগ করবে, এটা পদলিপ্সা যা হারাম।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসের আলোকে পদলিপ্সা

📄 রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসের আলোকে পদলিপ্সা


হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, সরকারের যত পদ ও পদবী আছে কেউ যদি তা না চাইতেই পায় এবং আল্লাহ তা'আলার নির্ধারিত সীমার মধ্যে তা ব্যবহার করে তাহলে তা আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে নেয়ামত। ইনশাআল্লাহ তাকে সাহায্য করা হবে। কিন্তু কেউ যদি এই পদের জন্য দৌড়াতে থাকে, মানুষের মাধ্যমে সুপারিশ করায়, আবেদন করায়, তাহলে হাদীস শরীফে এসেছে আল্লাহ তা'আলা তাকে তার হাতে ন্যস্ত করেন। আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে তাকে সাহায্য করা হয় না।'

এজন্য শরীয়তের হুকুমও এই যে, মানুষ কোনো পদ পদবী, মন্ত্রিত্ব ও শাসন ক্ষমতা সেচ্ছায় গ্রহণ করবে না। তবে যদি জাতীয় স্বার্থের জন্য ভীষণ প্রয়োজন দেখা দেয়, সে ভিন্ন কথা।

টিকাঃ
১. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৬১৩, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩৪০১, সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ১২৪৬, সুনানে নাসাঈ, হাদীস নং ৫২৮৯, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ২৫৪০, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ২৩০০

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 ভীষণ প্রয়োজন কি?

📄 ভীষণ প্রয়োজন কি?


পদ কামনার জন্য ভীষণ প্রয়োজন এই যে, আমি যদি আগ বেড়ে গ্রহণ না করি তাহলে জালেম ব্যক্তিরা তা হস্তগত করে মানুষের ক্ষতি করবে। যেমন হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম করেছিলেন। বাদশাহ যখন তাকে কাছে ডেকে নিলো এবং নৈকট্য দান করলো তখন হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম নিজে মিসরের বাদশাহকে বললেন,
اجْعَلْنِي عَلَى خَزَائِنِ الْأَرْضِ إِنِّي حَفِيظٌ عَلِيمٌ

আপনি আমাকে সরকারি কোষাগারের দায়িত্ব দিন যাতে আমি ঠিকভাবে তা রক্ষণাবেক্ষণ করি।'

কারণ হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম জানতেন যে, আমি যদি এগিয়ে না যাই তাহলে কিছু মানুষ অন্যের হক আত্মসাৎ করবে। মানুষের উপর জুলুম অত্যাচার করবে। এজন্য মানুষকে জুলুমের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য তিনি এই পদ চেয়ে নেন। এটি একটি ব্যতিক্রমী অবস্থা। কোথাও এ অবস্থা দেখা দিলে তখন পদ চেয়ে নেওয়া জায়েয আছে। কিন্তু মৌলিক বিধান এই যে, নিজে অগ্রসর হয়ে পদ কামনা করবে না।

টিকাঃ
১. সূরা ইউসুফ, আয়াত-৫৫

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 ওয়য ও বক্তব্য দানে সতর্কতা

📄 ওয়য ও বক্তব্য দানে সতর্কতা


আলেমগণ একথাও বলেছেন যে, নিজে অগ্রসর হয়ে বক্তা হওয়ার চেষ্টা করা উচিত নয়। কারণ এমন করলে বরকত হয় না। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
لَا يَقُصُّ إِلَّا أَمِيرٌ أَوْ مَأْمُورٌ أَوْ مُخْتَالٌ

ওয়ায হয় সে বলবে যে দ্বীনি বিষয়ে আমীর ও নেতা। আল্লাহ তা'আলা তাকে নেতৃত্বের পদ দান করেছেন বা ওয়ায করা তার হক যাকে আমীরের পক্ষ থেকে হুকুম দেওয়া হয়েছে।

উদাহরণস্বরূপ, কোনো আল্লাহওয়ালা কাউকে ওয়ায করার জন্য বসিয়ে দিলেন যে, তুমি এই খেদমত করো তাহলে তার জন্য ওয়ায করা জায়েয। এর বাইরে যে ওয়ায করবে তার সম্পর্কে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, সে হলো 'মুখতাল' তথা প্রদর্শক। মানুষকে দেখাচ্ছে, নিজেকে নিজে বড়ো মনে করে ওয়ায করছে। কতক লোক কেউ বলা ছাড়া নিজে নিজে দাঁড়িয়ে যায় তাদের ওয়ায নসিহতের মধ্যে বরকত নেই। উল্টা তারা অহংকারে লিপ্ত হয়। এজন্য বুযুর্গগণ বলেছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত কোনো আল্লাহ ওয়ালা বুযুর্গ কোনো পদে না বসিয়ে দেন ততক্ষণ পর্যন্ত নিজের থেকে ঐ পদে বসবে না।

টিকাঃ
২. সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৩১৮০, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১৭৩৫৮, সুনানে দারেমী, হাদীস নং ২৬৬০

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00