📄 এক প্রকারের পদমর্যাদা লাভ করা শরীয়তেও কাঙ্ক্ষিত
পদমর্যাদার একটি অংশ শরীয়তেও কাম্য ও জায়েয। অর্থাৎ, মানুষের অন্তরে এতটুকু প্রভাব বিস্তার হওয়া যার ফলে অন্যের দেওয়া কষ্ট ও ক্ষতি থেকে নিজেকে রক্ষা করা যায়। কোনো মানুষ যদি একেবারেই মর্যাদাহীন ও গুরুত্বহীন হয়, যার ফলে অন্যের দেওয়া কষ্ট থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারে না, তাহলে এতটুকু মর্যাদা লাভ করা যার দ্বারা মানুষ নিজেকে কষ্ট থেকে বাঁচাতে পারে, এটা শুধু জায়েয তাই নয় বরং জরুরী। উদাহরণস্বরূপ, একজন মানুষের কারো চোখে তার কোনো সম্মান ও মর্যাদা নেই। কেউ এসে তাকে প্রহার করলো, কেউ তার ধন-সম্পদ ছিনিয়ে নিলো, কেউ তার জানের উপর আক্রমণ করলো, এখন কারো কাছে গিয়ে সে অভিযোগ করলে কেউ তার কথা শোনে না, থানায় গেলে পুলিশ রিপোর্ট লেখে না। বর্তমান যুগের এ পৃথিবী এমন গুরুত্বহীন মানুষকে মেরে ফেলবে। এজন্য এ পরিমাণ মর্যাদা যার দ্বারা কষ্ট দূর করা যায়, এটা জায়েয ও জরুরী। এতটুকু মর্যাদা যদি কেউ কামনা করে তাহলে শরীয়তে তা নিষেধ নয়।
📄 প্রয়োজনাতিরিক্ত মর্যাদা কামনা করা
কিন্তু কেউ যদি এ জন্য মর্যাদা কামনা করে যে, প্রয়োজনাতিরিক্ত সুবিধা ভোগ করবে। পদ-পদবী লাভ হলে মানুষের উপর প্রভাব বিস্তার করবে, নিজের সুবিধা ভোগ করবে, এটা পদলিপ্সা যা হারাম।
📄 রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসের আলোকে পদলিপ্সা
হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, সরকারের যত পদ ও পদবী আছে কেউ যদি তা না চাইতেই পায় এবং আল্লাহ তা'আলার নির্ধারিত সীমার মধ্যে তা ব্যবহার করে তাহলে তা আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে নেয়ামত। ইনশাআল্লাহ তাকে সাহায্য করা হবে। কিন্তু কেউ যদি এই পদের জন্য দৌড়াতে থাকে, মানুষের মাধ্যমে সুপারিশ করায়, আবেদন করায়, তাহলে হাদীস শরীফে এসেছে আল্লাহ তা'আলা তাকে তার হাতে ন্যস্ত করেন। আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে তাকে সাহায্য করা হয় না।'
এজন্য শরীয়তের হুকুমও এই যে, মানুষ কোনো পদ পদবী, মন্ত্রিত্ব ও শাসন ক্ষমতা সেচ্ছায় গ্রহণ করবে না। তবে যদি জাতীয় স্বার্থের জন্য ভীষণ প্রয়োজন দেখা দেয়, সে ভিন্ন কথা।
টিকাঃ
১. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৬১৩, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩৪০১, সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ১২৪৬, সুনানে নাসাঈ, হাদীস নং ৫২৮৯, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ২৫৪০, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ২৩০০
📄 ভীষণ প্রয়োজন কি?
পদ কামনার জন্য ভীষণ প্রয়োজন এই যে, আমি যদি আগ বেড়ে গ্রহণ না করি তাহলে জালেম ব্যক্তিরা তা হস্তগত করে মানুষের ক্ষতি করবে। যেমন হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম করেছিলেন। বাদশাহ যখন তাকে কাছে ডেকে নিলো এবং নৈকট্য দান করলো তখন হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম নিজে মিসরের বাদশাহকে বললেন,
اجْعَلْنِي عَلَى خَزَائِنِ الْأَرْضِ إِنِّي حَفِيظٌ عَلِيمٌ
আপনি আমাকে সরকারি কোষাগারের দায়িত্ব দিন যাতে আমি ঠিকভাবে তা রক্ষণাবেক্ষণ করি।'
কারণ হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম জানতেন যে, আমি যদি এগিয়ে না যাই তাহলে কিছু মানুষ অন্যের হক আত্মসাৎ করবে। মানুষের উপর জুলুম অত্যাচার করবে। এজন্য মানুষকে জুলুমের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য তিনি এই পদ চেয়ে নেন। এটি একটি ব্যতিক্রমী অবস্থা। কোথাও এ অবস্থা দেখা দিলে তখন পদ চেয়ে নেওয়া জায়েয আছে। কিন্তু মৌলিক বিধান এই যে, নিজে অগ্রসর হয়ে পদ কামনা করবে না।
টিকাঃ
১. সূরা ইউসুফ, আয়াত-৫৫