📄 জান্নাতের রুমাল এর চেয়ে উত্তম
হাদীস শরীফে আছে, একবার হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট শাম দেশ থেকে রেশমী কাপড় আসে। এমন কাপড় সাহাবায়ে কেরাম ইতিপূর্বে কখনো দেখেননি। এজন্য সাহাবায়ে কেরাম উঠে হাত লাগিয়ে দেখতে আরম্ভ করলেন। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন দেখলেন যে, সাহাবায়ে কেরাম কাপড়টি এভাবে দেখছেন তখন তিনি ইরশাদ করলেন,
لَمَنَا دِيلُ سَعْدِ بْنِ مُعَادٍ فِي الْجَنَّةِ أَفْضَلُ مِنْ هَذَا
এ কাপড় দেখে তোমরা কি অবাক হচ্ছো? তোমাদের কি এ কাপড় খুব পছন্দ হয়েছে? আরে সাদ ইবনে মু'য়াজ রাযি.-কে আল্লাহ তা'আলা জান্নাতে যে রুমাল দান করেছেন তা এ কাপড় থেকে অনেক উত্তম।'
হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবিলম্বে সাহাবায়ে কেরামের মনযোগ দুনিয়া থেকে সরিয়ে আখেরাতের দিকে ধাবিত করলেন। দুনিয়ার মহব্বত যেন তোমাদেরকে ধোঁকায় না ফেলে এবং তোমরা আখেরাতের নেয়ামতের ব্যাপারে গাফেল না হয়ে পড়ো। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পদে পদে সাহাবায়ে কেরামের মন-মগজে এ বিষয়টি গেঁথে দিয়েছেন যে, এ দুনিয়া মুল্যহীন, ক্ষণস্থায়ী এবং দুনিয়ার স্বাদ ও নেয়ামত ধ্বংসশীল। দুনিয়া মন লাগানোর জিনিস নয়।
টিকাঃ
১. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩০১০, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৫১৪, সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ৩৭৮২, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ১৫৩, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নাং ১১৭৭৬
📄 সারা পৃথিবী মশার পাখার সমানও নয়
এক হাদীসে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
لَوْ كَانَتْ الدُّنْيَا تَعْدِلُ عِنْدَ اللهِ جَنَاحَ بَعُوضَةٍ مَا سَقَى كَافِرًا مِنْهَا غَرْبَةً
আল্লাহ তা'আলার নিকট এ দুনিয়ার মূল্য যদি মশার একটি পাখার সমানও হতো তাহলে কোনো কাফেরকে দুনিয়ার এক ঢোক পানিও পান করতে দিতেন না।
তোমরা দেখছো যে, দুনিয়ার দৌলত কাফেররা খুব লাভ করছে, তারা খুব ভোগ বিলাসে আছে, অথচ তারা আল্লাহর নাফরমানী করছে, আল্লাহর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করছে তা সত্ত্বেও তারা দুনিয়া লাভ করছে, এর কারণ এই যে, আল্লাহ তা'আলার নিকট এ দুনিয়ার কোনো মূল্য নেই। মশার একটি পাখার সমানও সারা পৃথিবীর দাম নেই। দুনিয়ার মূল্য যদি মশার একটি ডানার সমানও হতো তাহলে কাফেরদেরকে এক ঢোক পানিও পান করতে দিতেন না।
একবার হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবায়ে কেরামের সঙ্গে পথ চলছিলেন। পথে তিনি একটি কান কাটা ছাগলের মৃত বাচ্চা পড়ে থাকতে দেখলেন। যা দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিলো। তিনি ঐ কান কাটা, মরা বকরীর বাচ্চার দিকে ইশারা করে সাহাবায়ে কেরামকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তি এই মরা বাচ্চাটিকে এক দিরহামের বিনিময়ে খরিদ করবে? সাহাবায়ে কেরাম নিবেদন করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ এই বাচ্চা যদি জীবিতও হতো তবুও কেউ এক দিরহামের বিনিময়ে এটা নিতে প্রস্তুত হতো না। আর এখন তো এটা মরা। এই লাশ নিয়ে আমরা কি করবো? এরপর হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এই পুরো দুনিয়া এবং তার ধন দৌলত আল্লাহ তা'আলার নিকট এরচে' অধিক মূল্যহীন ও নগণ্য, যেই পরিমাণ মূল্যহীন ও নগণ্য তোমাদের নিকট বকরীর এই মরা বাচ্চা।'
টিকাঃ
২. সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ২২৪২, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৪১০০
১. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৫২৫৭, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ১৫৮, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১৪৪০২
📄 সারা পৃথিবী তাদের দাসে পরিণত হয়
হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবায়ে কেরামের অন্তরে একথা গেঁথে দেন যে, দুনিয়ার সঙ্গে মন লাগিও না। দুনিয়ার প্রতি অনুরাগী হয়ো না। প্রয়োজনের সময় দুনিয়াকে ব্যবহার করো কিন্তু তাকে ভালোবেসো না। এটাই কারণ যে, যখন সাহাবায়ে কেরামের দিল থেকে দুনিয়া বের হয়ে যায় তখন আল্লাহ তা'আলা সারা দুনিয়াকে তাদের গোলাম বানিয়ে দেন। কিসরা তাদের পদতলে স্তুপিকৃত হয়। কায়সার তাদের পদতলে আছড়ে পড়ে। তারা তাদের ধন দৌলতের দিকে চোখ তুলেও দেখেননি।
📄 শামের গভর্ণর হযরত আবু উবাইদা ইবনে জাররাহ রাযি.
হযরত ওমর রাযি.-এর যামানায় হযরত আবু উবাইদা ইবনে জাররাহ রাযি.-কে শামের গভর্ণর বানানো হয়। কারণ, শামের বেশির ভাগ অঞ্চল তিনি জয় করেন। তখন শাম ছিলো অনেক বড়ো অঞ্চল। সেই শাম এখন চার দেশে বিভক্ত- সিরিয়া, জর্দান, ফিলিস্তিন, লেবানন। তখন এই চার দেশ মিলে ইসলামী সামরাজ্যের একটি প্রদেশ ছিলো। আবু উবাইদা ইবনে জাররাহ ছিলেন তার গভর্ণর। শাম প্রদেশটি ছিলো অত্যন্ত উর্বর। ধন-দৌলতের ছড়াছড়ি ছিলো। রোমানদের অত্যন্ত পছন্দনীয় ও কাঙ্খিত অঞ্চল ছিলো। হযরত ওমর রাযি. মদীনা মুনাওওয়ারায় বসে পুরো আলমে ইসলাম পরিচালনা করছিলেন। একবার তিনি পরিদর্শনের জন্য শামে সফরে বের হন। শাম সফরকালে একবার হযরত ওমর রাযি. বললেন, হে আবু উবাইদা! আমার মন চাচ্ছে আমি আমার ভাইয়ের ঘর দেখি যেখানে তুমি থাকো।