📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 এ দুনিয়া যেন তোমাদেরকে ধ্বংস না করে

📄 এ দুনিয়া যেন তোমাদেরকে ধ্বংস না করে


এজন্য হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আগামীতে প্রথমত উম্মতের উপর ব্যাপক অভাব অনটন আসবে না। সুতরাং মুসলিমদের পুরো ইতিহাস ঘেটে দেখুন হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর ব্যাপক অভাব অনটন কখনো আসেনি, বরং স্বচ্ছলতার যুগ এসেছে। তিনি বলেছেন, মুসলিমদের উপর অভাব অনটন আসলেও সে কারণে আমি ক্ষতির আশঙ্কা করি না, বেশির চে’ বেশি পার্থিব কষ্ট হবে, কিন্তু সে কারণে গোমরাহী ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা নেই। কিন্তু এ বিষয়ে আশঙ্কা রয়েছে যে, তোমাদের উপর এভাবে দুনিয়ার প্রসার ঘটানো হবে, যেভাবে পূর্ববর্তী উম্মতের উপর ঘটানো হয়েছে। তোমাদের চর্তুদিকে দুনিয়ার সাজ-সরঞ্জাম ও ধন-দৌলতের স্তুপ লেগে থাকবে তখন তোমরা পরস্পরে প্রতিযোগিতা করবে। একে অপরের থেকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করবে। চিন্তা করবে অমুকের যেমন বাংলো আছে আমারও যেন তেমন হয়। অমুকের যেমন গাড়ি আছে, আমারও যেন তেমন থাকে। অমুকের যেমন কাপড় আছে, আমারও যেন তেমন হয়। বরং তার চেয়ে আগে বাড়ার কামনা হবে। পরিণতি এই হবে যে, এ দুনিয়া তোমাদেরকে এমনভাবে ধ্বংস করবে, যেমন পূর্ববর্তী উম্মতকে ধ্বংস করেছে।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 যখন তোমাদের পায়ের নিচে গালিচা বিছানো থাকবে

📄 যখন তোমাদের পায়ের নিচে গালিচা বিছানো থাকবে


এক বর্ণনায় এসেছে যে, একবার হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবায়ে কেরামকে সম্বোধন করে বললেন, তখন তোমাদের কি অবস্থা হবে যখন তোমাদের পায়ের নীচে গালিচা বিছানো থাকবে? হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এ কথায় সাহাবায়ে কেরাম বড়ো বিস্মিত হলেন।

গালিচা তো দূরের কথা আমাদের তো বসার জন্য খেজুর পাতার চাটাইও জোটে না। খালি বিছানায় শুইতে হয়। আমাদের জন্য গালিচার তো প্রশ্নই আসে না। তাই তাঁরা হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন,
يَا رَسُولَ اللَّهِ وَأَنِّي لَنَا أَنْمَاطٌ

ইয়া রাসূল্লাল্লাহ! আমাদের নিকট গালিচা কোথেকে আসবে? উত্তরে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,
إِنَّهَا سَتَكُونُ

আজ যদিও তোমাদের কাছে গালিচা নেই, কিন্তু এমন এক সময় আসবে যখন তোমাদের নিকট গালিচা থাকবে।'

এজন্য হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদের অভাবের ভয় আমি করছি না, হ্যাঁ, আমি ঐ সময়ের ভয় করছি যখন তোমাদের পায়ের নীচে গালিচা বিছানো থাকবে, দুনিয়াবি সাজ সরঞ্জামের ছড়াছড়ি হবে, তোমাদের চর্তুদিকে দুনিয়া ছড়িয়ে থাকবে, তখন আবার তোমরা আল্লাহ তা'আলাকে ভুলে না যাও। তখন তোমাদের উপর দুনিয়া প্রবল হয়ে না যায়।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 জান্নাতের রুমাল এর চেয়ে উত্তম

📄 জান্নাতের রুমাল এর চেয়ে উত্তম


হাদীস শরীফে আছে, একবার হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট শাম দেশ থেকে রেশমী কাপড় আসে। এমন কাপড় সাহাবায়ে কেরাম ইতিপূর্বে কখনো দেখেননি। এজন্য সাহাবায়ে কেরাম উঠে হাত লাগিয়ে দেখতে আরম্ভ করলেন। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন দেখলেন যে, সাহাবায়ে কেরাম কাপড়টি এভাবে দেখছেন তখন তিনি ইরশাদ করলেন,
لَمَنَا دِيلُ سَعْدِ بْنِ مُعَادٍ فِي الْجَنَّةِ أَفْضَلُ مِنْ هَذَا

এ কাপড় দেখে তোমরা কি অবাক হচ্ছো? তোমাদের কি এ কাপড় খুব পছন্দ হয়েছে? আরে সাদ ইবনে মু'য়াজ রাযি.-কে আল্লাহ তা'আলা জান্নাতে যে রুমাল দান করেছেন তা এ কাপড় থেকে অনেক উত্তম।'

হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবিলম্বে সাহাবায়ে কেরামের মনযোগ দুনিয়া থেকে সরিয়ে আখেরাতের দিকে ধাবিত করলেন। দুনিয়ার মহব্বত যেন তোমাদেরকে ধোঁকায় না ফেলে এবং তোমরা আখেরাতের নেয়ামতের ব্যাপারে গাফেল না হয়ে পড়ো। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পদে পদে সাহাবায়ে কেরামের মন-মগজে এ বিষয়টি গেঁথে দিয়েছেন যে, এ দুনিয়া মুল্যহীন, ক্ষণস্থায়ী এবং দুনিয়ার স্বাদ ও নেয়ামত ধ্বংসশীল। দুনিয়া মন লাগানোর জিনিস নয়।

টিকাঃ
১. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩০১০, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৫১৪, সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ৩৭৮২, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ১৫৩, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নাং ১১৭৭৬

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 সারা পৃথিবী মশার পাখার সমানও নয়

📄 সারা পৃথিবী মশার পাখার সমানও নয়


এক হাদীসে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
لَوْ كَانَتْ الدُّنْيَا تَعْدِلُ عِنْدَ اللهِ جَنَاحَ بَعُوضَةٍ مَا سَقَى كَافِرًا مِنْهَا غَرْبَةً

আল্লাহ তা'আলার নিকট এ দুনিয়ার মূল্য যদি মশার একটি পাখার সমানও হতো তাহলে কোনো কাফেরকে দুনিয়ার এক ঢোক পানিও পান করতে দিতেন না।

তোমরা দেখছো যে, দুনিয়ার দৌলত কাফেররা খুব লাভ করছে, তারা খুব ভোগ বিলাসে আছে, অথচ তারা আল্লাহর নাফরমানী করছে, আল্লাহর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করছে তা সত্ত্বেও তারা দুনিয়া লাভ করছে, এর কারণ এই যে, আল্লাহ তা'আলার নিকট এ দুনিয়ার কোনো মূল্য নেই। মশার একটি পাখার সমানও সারা পৃথিবীর দাম নেই। দুনিয়ার মূল্য যদি মশার একটি ডানার সমানও হতো তাহলে কাফেরদেরকে এক ঢোক পানিও পান করতে দিতেন না।

একবার হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবায়ে কেরামের সঙ্গে পথ চলছিলেন। পথে তিনি একটি কান কাটা ছাগলের মৃত বাচ্চা পড়ে থাকতে দেখলেন। যা দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিলো। তিনি ঐ কান কাটা, মরা বকরীর বাচ্চার দিকে ইশারা করে সাহাবায়ে কেরামকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তি এই মরা বাচ্চাটিকে এক দিরহামের বিনিময়ে খরিদ করবে? সাহাবায়ে কেরাম নিবেদন করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ এই বাচ্চা যদি জীবিতও হতো তবুও কেউ এক দিরহামের বিনিময়ে এটা নিতে প্রস্তুত হতো না। আর এখন তো এটা মরা। এই লাশ নিয়ে আমরা কি করবো? এরপর হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এই পুরো দুনিয়া এবং তার ধন দৌলত আল্লাহ তা'আলার নিকট এরচে' অধিক মূল্যহীন ও নগণ্য, যেই পরিমাণ মূল্যহীন ও নগণ্য তোমাদের নিকট বকরীর এই মরা বাচ্চা।'

টিকাঃ
২. সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ২২৪২, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৪১০০
১. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৫২৫৭, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ১৫৮, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১৪৪০২

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00