📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 সাহাবায়ে কেরামের যুগে অভাব-অনটন

📄 সাহাবায়ে কেরামের যুগে অভাব-অনটন


মূলত উম্মতের অভাব অনটনের পূরোটা হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে বহন করেছেন। হযরত আয়েশা রাযি. বলেন, তিন তিন মাস পর্যন্ত আমাদের ঘরে আগুন জ্বলতো না। তখন শুধু দু'টা জিনিসের সমন্বয়ে আমাদের খাবার ছিলো, খেজুর ও পানি।'
দোজাহানের সরদার হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো দুই বেলা পেট পুরে রুটি খাননি। গম তো পাওয়াই যেতো না, যবের রুটিরও এ অবস্থা ছিলো। তাই সমস্ত অভাব অনটন তো হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে বহন করে গেছেন।

হযরত আয়েশা রাযি. বলেন, ঐ সময় আমাদের এ অবস্থা ছিলো যে, একবার আমাদের ঘরে কোথাও থেকে ছিট কাপড় হাদিয়া আসে। এটা নকশা করা এক ধরনের সূতী কাপড় ছিলো। খুব বেশি দামী কাপড় ছিলো না। কিন্তু পুরো মদীনার মধ্যে কারো যখন বিবাহ হতো এবং কোনো নারীকে বধূরূপে সাজানো হতো তখন আমার কাছে আবদার নিয়ে আসতো যে, ঐ ছিট কাপড় আমাদেরকে ধার দিন আমাদের বধূকে তা পরাবো। বিবাহের সময় তা বধূদেরকে পরানো হতো। পরবর্তীতে হযরত আয়েশা রাযি. বলেন, বর্তমানে ঐ ধরনের অনেক কাপড় বাজারে বিক্রি হচ্ছে। ঐ কাপড়ই আজ যদি আমি দাসী-বাঁদীকেও দেই তাহলেও সে নাক ছিটকিয়ে বলে, আমি তো এ কাপড় পরবো না। এতেই অনুমান করুন যে, হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময় কি পরিমাণ অভাব ছিলো, আর এখন কেমন সচ্ছলতা রয়েছে।

টিকাঃ
২. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫৯৭৮, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৫২৮২

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 এ দুনিয়া যেন তোমাদেরকে ধ্বংস না করে

📄 এ দুনিয়া যেন তোমাদেরকে ধ্বংস না করে


এজন্য হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আগামীতে প্রথমত উম্মতের উপর ব্যাপক অভাব অনটন আসবে না। সুতরাং মুসলিমদের পুরো ইতিহাস ঘেটে দেখুন হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর ব্যাপক অভাব অনটন কখনো আসেনি, বরং স্বচ্ছলতার যুগ এসেছে। তিনি বলেছেন, মুসলিমদের উপর অভাব অনটন আসলেও সে কারণে আমি ক্ষতির আশঙ্কা করি না, বেশির চে’ বেশি পার্থিব কষ্ট হবে, কিন্তু সে কারণে গোমরাহী ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা নেই। কিন্তু এ বিষয়ে আশঙ্কা রয়েছে যে, তোমাদের উপর এভাবে দুনিয়ার প্রসার ঘটানো হবে, যেভাবে পূর্ববর্তী উম্মতের উপর ঘটানো হয়েছে। তোমাদের চর্তুদিকে দুনিয়ার সাজ-সরঞ্জাম ও ধন-দৌলতের স্তুপ লেগে থাকবে তখন তোমরা পরস্পরে প্রতিযোগিতা করবে। একে অপরের থেকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করবে। চিন্তা করবে অমুকের যেমন বাংলো আছে আমারও যেন তেমন হয়। অমুকের যেমন গাড়ি আছে, আমারও যেন তেমন থাকে। অমুকের যেমন কাপড় আছে, আমারও যেন তেমন হয়। বরং তার চেয়ে আগে বাড়ার কামনা হবে। পরিণতি এই হবে যে, এ দুনিয়া তোমাদেরকে এমনভাবে ধ্বংস করবে, যেমন পূর্ববর্তী উম্মতকে ধ্বংস করেছে।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 যখন তোমাদের পায়ের নিচে গালিচা বিছানো থাকবে

📄 যখন তোমাদের পায়ের নিচে গালিচা বিছানো থাকবে


এক বর্ণনায় এসেছে যে, একবার হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবায়ে কেরামকে সম্বোধন করে বললেন, তখন তোমাদের কি অবস্থা হবে যখন তোমাদের পায়ের নীচে গালিচা বিছানো থাকবে? হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এ কথায় সাহাবায়ে কেরাম বড়ো বিস্মিত হলেন।

গালিচা তো দূরের কথা আমাদের তো বসার জন্য খেজুর পাতার চাটাইও জোটে না। খালি বিছানায় শুইতে হয়। আমাদের জন্য গালিচার তো প্রশ্নই আসে না। তাই তাঁরা হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন,
يَا رَسُولَ اللَّهِ وَأَنِّي لَنَا أَنْمَاطٌ

ইয়া রাসূল্লাল্লাহ! আমাদের নিকট গালিচা কোথেকে আসবে? উত্তরে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,
إِنَّهَا سَتَكُونُ

আজ যদিও তোমাদের কাছে গালিচা নেই, কিন্তু এমন এক সময় আসবে যখন তোমাদের নিকট গালিচা থাকবে।'

এজন্য হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদের অভাবের ভয় আমি করছি না, হ্যাঁ, আমি ঐ সময়ের ভয় করছি যখন তোমাদের পায়ের নীচে গালিচা বিছানো থাকবে, দুনিয়াবি সাজ সরঞ্জামের ছড়াছড়ি হবে, তোমাদের চর্তুদিকে দুনিয়া ছড়িয়ে থাকবে, তখন আবার তোমরা আল্লাহ তা'আলাকে ভুলে না যাও। তখন তোমাদের উপর দুনিয়া প্রবল হয়ে না যায়।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 জান্নাতের রুমাল এর চেয়ে উত্তম

📄 জান্নাতের রুমাল এর চেয়ে উত্তম


হাদীস শরীফে আছে, একবার হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট শাম দেশ থেকে রেশমী কাপড় আসে। এমন কাপড় সাহাবায়ে কেরাম ইতিপূর্বে কখনো দেখেননি। এজন্য সাহাবায়ে কেরাম উঠে হাত লাগিয়ে দেখতে আরম্ভ করলেন। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন দেখলেন যে, সাহাবায়ে কেরাম কাপড়টি এভাবে দেখছেন তখন তিনি ইরশাদ করলেন,
لَمَنَا دِيلُ سَعْدِ بْنِ مُعَادٍ فِي الْجَنَّةِ أَفْضَلُ مِنْ هَذَا

এ কাপড় দেখে তোমরা কি অবাক হচ্ছো? তোমাদের কি এ কাপড় খুব পছন্দ হয়েছে? আরে সাদ ইবনে মু'য়াজ রাযি.-কে আল্লাহ তা'আলা জান্নাতে যে রুমাল দান করেছেন তা এ কাপড় থেকে অনেক উত্তম।'

হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবিলম্বে সাহাবায়ে কেরামের মনযোগ দুনিয়া থেকে সরিয়ে আখেরাতের দিকে ধাবিত করলেন। দুনিয়ার মহব্বত যেন তোমাদেরকে ধোঁকায় না ফেলে এবং তোমরা আখেরাতের নেয়ামতের ব্যাপারে গাফেল না হয়ে পড়ো। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পদে পদে সাহাবায়ে কেরামের মন-মগজে এ বিষয়টি গেঁথে দিয়েছেন যে, এ দুনিয়া মুল্যহীন, ক্ষণস্থায়ী এবং দুনিয়ার স্বাদ ও নেয়ামত ধ্বংসশীল। দুনিয়া মন লাগানোর জিনিস নয়।

টিকাঃ
১. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩০১০, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৫১৪, সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ৩৭৮২, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ১৫৩, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নাং ১১৭৭৬

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00