📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 দুনিয়া ছায়ার ন্যায়

📄 দুনিয়া ছায়ার ন্যায়


জনৈক ব্যক্তি দুনিয়ার বড়ো চমৎকার দৃষ্টান্ত দিয়েছেন, তিনি বলেছেন, দুনিয়ার দৃষ্টান্ত মানুষের ছায়ার ন্যায়। কেউ যদি নিজের ছায়ার পশ্চাদ গমন করতে চায় এবং তাকে ধরতে চায় তাহলে তার ফল এই হবে যে, সে তার ছায়ার পিছনে যতো দৌড়াবে তার ছায়া আরো সম্মুখে দৌড়াতে থাকবে। কখনই তাকে ধরতে পারবে না। কিন্তু মানুষ যদি তার ছায়া থেকে মুখ ঘুরিয়ে নিয়ে বিপরীত দিকে দৌড়াতে আরম্ভ করে তাহলে ছায়া তার পিছনে পিছনে আসবে। আল্লাহ তা'আলা দুনিয়াকেও এমনই বানিয়েছেন। দুনিয়ার অনুসন্ধানী হয়ে এবং তার ভালোবাসা অন্তরে নিয়ে তার পিছনে পিছনে যদি দৌড়াও তাহলে এ দুনিয়া তোমার আগে আগে দৌড়াবে। কখনই তুমি তাকে ধরতে পারবে না। কিন্তু যেদিন একবার তুমি তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে তখন দেখবে, আল্লাহ তা'আলা কিভাবে তাকে লাঞ্ছিত করে নিয়ে আসেন। এমন অসংখ্য দৃষ্টান্ত রয়েছে যে, দুনিয়া এমন ব্যক্তির কাছে আসে আর সে তাকে লাথি মারে। কিন্তু এ দুনিয়া আবারো তার পায়ের উপরে এসে পড়ে। এর জন্যে একবার খাঁটি অন্তরে দুনিয়া থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে হবে। আর এটা লাভ হয় দুনিয়ার স্বরূপ বুঝলে। দুনিয়ার স্বরূপ হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিম্নের হাদীসসমূহে বর্ণনা করেছেন, এসব হাদীস পড়ে দুনিয়ার ভালোবাসা আত্মা থেকে বের করার চিন্তা ও চেষ্টা করা উচিত।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 বাহরাইন থেকে সম্পদ এলো

📄 বাহরাইন থেকে সম্পদ এলো


حَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى بْنِ عَبْدِ اللَّهِ يَعْنِي ابْنَ حَرْمَلَةَ بْنِ عِمْرَانَ التُّجِيبِيَّ أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ أَخْبَرَنِي يُونُسُ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ أَنَّ الْمِسْوَرَ بْنَ مَخْرَمَةَ أَخْبَرَهُ أَنَّ عَمْرَو بْنَ عَوْفٍ وَهُوَ حَلِيفٌ بَنِي عَامِرِ بْنِ لُؤَيٍّ وَكَانَ شَهِدَ بَدْرًا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَخْبَرَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَعَثَ أَبَا عُبَيْدَةَ بْنَ الْجَرَاحِ إِلَى الْبَحْرَيْنِ يَأْتِي بِجِزْيَتِهَا وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هُوَ صَالَحَ أَهْلَ الْبَحْرَيْنِ وَأَمَرَ عَلَيْهِمْ الْعَلَاءَ بْنَ الْحَضْرَمِي فَقَدِمَ أَبُو عُبَيْدَةَ بِمَالٍ مِنْ الْبَحْرَيْنِ فَسَمِعَتْ الْأَنْصَارُ بِقُدُومِ أَبِي عُبَيْدَةً فَوَافَوْا صَلَاةَ الْفَجْرِ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمَّا صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ انْصَرَفَ فَتَعَرَّضُوا لَهُ فَتَبَسَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَ رَاهُمْ ثُمَّ قَالَ أَظُنُّكُمْ سَمِعْتُمْ أَنَّ أَبَا عُبَيْدَةَ قَدِمَ بِشَيْءٍ مِنْ الْبَحْرَيْنِ فَقَالُوا أَجَلْ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ فَأَبْشِرُوا وَأَمِّلُوا مَا يَسُرُّكُمْ فَوَاللَّهِ مَا الْفَقْرَ أَخْشَى عَلَيْكُمْ وَلَكِنِّي أَخْشَى عَلَيْكُمْ أَنْ تُبْسَطَ الدُّنْيَا عَلَيْكُمْ كَمَا بُسِطَتْ عَلَى مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ فَتَنَافَسُوهَا كَمَا تَنَافَسُوهَا وَتُهْلِكَكُمْ كَمَا أَهْلَكَتْهُمْ

হযরত আমর ইবনে আউফ আনসারী রাযি. বলেন, হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আবু উবাইদা ইবনে জাররাহ রাযি.-কে বাহরাইনের গভর্ণর বানিয়ে পাঠান। তার উপর এ কাজও ন্যস্ত করেন যে, সেখানকার কাফের ও মুশরিকদের উপর যেসব জিযিয়া ও ট্যাক্স অবধারিত রয়েছে সেগুলো তাদের থেকে উসূল করে আনবেন। একবার তিনি বাহরাইন থেকে ট্যাক্স ও জিযিয়া নিয়ে মদীনা তাইয়্যেবায় হাজির হলেন, সেগুলো টাকার আকারেও ছিলো, কাপড়ের আকারেও ছিলো। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিযিয়ার মাল সাহাবায়ে কেরামের মাঝে বণ্টন করে দিতেন। সুতরাং যখন কিছু আনসারী সাহাবী জানতে পারলেন যে, হযরত আবু উবাইদা রাযি. বাহরাইন থেকে মাল এনেছেন তখন তারা ফজরের নামাযে মসজিদে নববীতে হাজির হলেন। হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের নামায শেষ করে ঘরে তাশরীফ নিয়ে যেতে আরম্ভ করলেন। তখন ঐ সাহাবীগণ হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে আসলেন। মুখে কিছু বললেন না। সামনে আসার উদ্দেশ্য এই ছিলো যে, বাহরাইন থেকে যে মাল এসেছে তা আমাদের মধ্যে বণ্টন করে দিন। এটা ঐ সময় ছিলো যখন সাহাবায়ে কেরام চরম অভাব অনটনের মধ্যে ছিলেন। কয়েক বেলা করে উপবাস করতে হতো। পরিধান করার কাপড় ছিলো না। চরম সংকটকাল চলছিলো। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবাগণকে এভাবে সামনে আসতে দেখে মুচকি হাসলেন। তিনি বুঝতে পারলেন এরা সম্পদ বণ্টন করার আবেদন নিয়ে এসেছে। তিনি বললেন, আমার মনে হয় তোমরা হয়তো জানতে পেরেছো আবু উবাইদা ইবনে জাররাহ বাহরাইন থেকে কিছু মাল নিয়ে এসেছে। তারা বললেন, জি হ্যাঁ, ইয়া রাসূল্লাল্লাহ। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথমে তাদেরকে বললেন, তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ করো, তোমাদেরকে আনন্দ দানকারী জিনিস তোমরা পাবে। এই সম্পদ তোমরা লাভ করবে।'

টিকাঃ
১. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩৭১২, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৫২৬১, সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ২৩৮৬, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৩৯৮৭, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১৬৫৯৯

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 তোমাদের ব্যাপারে অভাব অনটনের ভয় নেই

📄 তোমাদের ব্যাপারে অভাব অনটনের ভয় নেই


কিন্তু হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনুভব করলেন, সাহাবায়ে কেরামের এভাবে আসা নিজেদেরকে এ জন্য পেশ করা এবং সম্পদ লাভের জন্য প্রতীক্ষা করা আবার তাদের অন্তরে দুনিয়ার ভালোবাসা সৃষ্টি না করে। এজন্য তিনি তাদেরকে সুসংবাদ শোনানোর পর অবিলম্বে বলেন,
فَوَاللَّهِ مَا الْفَقْرَ أَخْشَى عَلَيْكُمْ وَلَكِنِّي أَخْشَى عَلَيْكُمْ أَنْ تُبْسَطَ الدُّنْيَا عَلَيْكُمْ كَمَا بُسِطَتْ عَلَى مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ فَتَنَافَسُوهَا كَمَا تَنَافَسُوهَا وَتُهْلِكَكُمْ كَمَا أَهْلَكَتْهُمْ

আল্লাহর শপথ তোমাদের উপর অভাব অনটনের আশঙ্কা আমি করি না। অর্থাৎ, এ বিষয়ের আশঙ্কা নেই যে, তোমাদের উপর অভাব অনটন অতিবাহিত হবে। তোমরা জীবিকার সঙ্কটে আক্রান্ত হবে। কষ্ট ও পেরেশানীতে আক্রান্ত হবে। কারণ, এখন তো ইনশাআল্লাহ এমন এক জামানা আগমন করবে, যখন মুসলিমদের মধ্যে সচ্ছলতা বিস্তার লাভ করবে।'

টিকাঃ
১. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩৭১২, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৫২৬১, সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ২৩৮৬, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৩৯৮৭, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১৬৫৯৯

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 সাহাবায়ে কেরামের যুগে অভাব-অনটন

📄 সাহাবায়ে কেরামের যুগে অভাব-অনটন


মূলত উম্মতের অভাব অনটনের পূরোটা হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে বহন করেছেন। হযরত আয়েশা রাযি. বলেন, তিন তিন মাস পর্যন্ত আমাদের ঘরে আগুন জ্বলতো না। তখন শুধু দু'টা জিনিসের সমন্বয়ে আমাদের খাবার ছিলো, খেজুর ও পানি।'
দোজাহানের সরদার হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো দুই বেলা পেট পুরে রুটি খাননি। গম তো পাওয়াই যেতো না, যবের রুটিরও এ অবস্থা ছিলো। তাই সমস্ত অভাব অনটন তো হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে বহন করে গেছেন।

হযরত আয়েশা রাযি. বলেন, ঐ সময় আমাদের এ অবস্থা ছিলো যে, একবার আমাদের ঘরে কোথাও থেকে ছিট কাপড় হাদিয়া আসে। এটা নকশা করা এক ধরনের সূতী কাপড় ছিলো। খুব বেশি দামী কাপড় ছিলো না। কিন্তু পুরো মদীনার মধ্যে কারো যখন বিবাহ হতো এবং কোনো নারীকে বধূরূপে সাজানো হতো তখন আমার কাছে আবদার নিয়ে আসতো যে, ঐ ছিট কাপড় আমাদেরকে ধার দিন আমাদের বধূকে তা পরাবো। বিবাহের সময় তা বধূদেরকে পরানো হতো। পরবর্তীতে হযরত আয়েশা রাযি. বলেন, বর্তমানে ঐ ধরনের অনেক কাপড় বাজারে বিক্রি হচ্ছে। ঐ কাপড়ই আজ যদি আমি দাসী-বাঁদীকেও দেই তাহলেও সে নাক ছিটকিয়ে বলে, আমি তো এ কাপড় পরবো না। এতেই অনুমান করুন যে, হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময় কি পরিমাণ অভাব ছিলো, আর এখন কেমন সচ্ছলতা রয়েছে।

টিকাঃ
২. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫৯৭৮, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৫২৮২

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00