📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 সেই দৌলত আপনাকে দেওয়া হলো

📄 সেই দৌলত আপনাকে দেওয়া হলো


রাতের বেলা শাইখ নিজের শাইখ হযরত আব্দুল কুদ্দুস গাঙ্গুহী রহ.-কে স্বপ্ন দেখলেন। তিনি বললেন, মিয়াঁ আমি তো তোমার দ্বারা এতো পরিশ্রম করাইনি। তখন তিনি সতর্ক হলেন। তাকে কাছে ডাকলেন, বুকে জড়িয়ে ধরলেন এবং বললেন, আপনি যেই দৌলত নিতে এসেছেন, আল্লাহ তা'আলা আমাকে যেই দৌলত আপনাদের ঘরে দান করেছিলেন আলহামদুলিল্লাহ আমি তার পুরোটা আপনাকে ন্যস্ত করেছি। দাদার উত্তরাধীকার আপনার কাছে স্থানান্তরিত হয়েছে। আল্লাহ তা'আলার দয়ায় এখন আপনি নিশ্চিন্তে দেশে ফিরে যান।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 ইসলাহের আসল উদ্দেশ্য

📄 ইসলাহের আসল উদ্দেশ্য


এ ঘটনা শোনানোর মূল উদ্দেশ্য হলো, সূফীয়ায়ে কেরামের আসল কাজ ছিলো আধ্যাত্মিক রোগের চিকিৎসা। কেবল ওযীফা, যিকির, তাসবীহ ও মা'মুলাত বলে দেয়া নয়। যিকির ওযীফা তাসবীহ ও মা'মুলাত হলো শক্তিবর্ধক খাবারের মতো। ইসলাহের সহযোগিতার জন্য এগুলো করানো হতো। কিন্তু আসল উদ্দেশ্য ছিলো আধ্যাত্মিক রোগ দূর করা। আত্মা থেকে অহংকার, হিংসা, বিদ্বেষ, আত্মশ্লাঘা, কপটতা, প্রদর্শন প্রবৃত্তি, পদলিপ্সা, দুনিয়ার মোহ ইত্যাদি বের করা। আত্মাকে এসব থেকে মুক্ত করা। আল্লাহর ভয় সৃষ্টি করা। আল্লাহর প্রতি আশা জাগ্রত করা। তাওয়াক্কুল, ইস্তিকামাত, ইখলাস ও আল্লাহর জন্য বিনয় সৃষ্টি করা তাসাউফের আসল উদ্দেশ্য।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 আত্মশুদ্ধি জরুরী কেন?

📄 আত্মশুদ্ধি জরুরী কেন?


মানুষ মনে করে যে, তাসাওউফ শরীয়ত থেকে ভিন্ন কোনো জিনিস। ভালো করে বুঝুন যে, এটা শরীয়তেরই একটা অংশ। মানুষের বাহ্যিক কাজ-কর্মের সাথে সম্পৃক্ত যতো বিধান রয়েছে তার সমষ্টির নাম শরীয়ত। আর অভ্যন্তরীণ আমল-আখলাক সম্পৃক্ত বিধানসমূহের সমষ্টির নাম তরীকত ও তাসাওউফ। আত্মার গুরুত্ব এ জন্য বেশি যে, এটা ঠিক না হলে বাহ্যিক আমলও বেকার হয়ে যায়। মনে করুন আমলের মধ্যে ইখলাস নেই। ইখলাস অর্থ কি? ইখলাস অর্থ হলো সব কাজে আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টি তালাশ করা। মানুষ যে কোনো কাজ করবে কেবল আল্লাহ তা'আলাকে খুশি করার জন্য করবে। এটা হলো ইখলাস। ইখলাস একটি অভ্যন্তরীণ আমল। কোনো ব্যক্তি যদি ইখলাস ছাড়া নামায পড়ে, এজন্য নামায পড়ে যে, মানুষ আমাকে মুত্তাকী ও পরহেযগার মনে করবে, ইবাদতগুজার মনে করবে, তার বাহ্যিক আমল তো ঠিক আছে, কিন্তু যেহেতু ভিতরে ইখলাসের প্রাণ নেই এজন্য তার বাহ্যিক এ আমল বেকার। বরং গুনাহের কারণ হবে। হাদীস শরীফে হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

مَنْ صَلَّى يُرَائِي فَقَدْ أَشْرَكَ
'যে ব্যক্তি মানুষকে দেখানোর জন্য নামায পড়লো সে আল্লাহর সঙ্গে শিরক করলো।" সে যেন আল্লাহর সঙ্গে মাখলুককে শরীক করলো। আল্লাহর পরিবর্তে মাখলুককে খুশি করতে চায়। এজন্য বাহ্যিক আমলকে ঠিক করার জন্যও অভ্যন্তরীণ পরিশুদ্ধি জরুরী। এটা না হলে বাহ্যিক আমলও বেকার হয়ে যাবে।

টিকাঃ
১. মুসনাদে আহমাদ ইবনে হাম্বল, হাদীস নং ১৬৫১৭

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 নিজের জন্য আধ্যাত্মিক চিকিৎসক খুঁজে নিন

📄 নিজের জন্য আধ্যাত্মিক চিকিৎসক খুঁজে নিন


আমাদের বুযুর্গগণ বলেছেন যে, মানুষ যেহেতু এসব রোগের চিকিৎসা নিজে করতে পারে না, এজন্য কোনো আধ্যাত্যিক চিকিৎসক খুঁজে নিতে হবে। এই চিকিৎসককে পীর বলুন, শাইখ বলুন বা ওস্তাদ বলুন, কিছু আসলে তিনি আধ্যাত্যিক রোগের ডাক্তার। এ পদ্ধতি অবলম্বন না করা পর্যন্ত মানুষ এসব আধ্যাত্যিক রোগে আক্রান্ত থাকবে। পরিণতিতে তার আমল খারাপ হতে থাকবে।

সামনে যেই অধ্যায় শুরু হচ্ছে এটা তার সামান্য পরিচয়। আখলাকের যতো শাখা রয়েছে তার একেকটির বর্ণনা সামনে আসবে। ভালো আখলাক অর্জনের জন্য কি করতে হবে এবং মন্দ আখলাক দূর করার জন্য কি করতে হবে- তার বিবরণ আসবে। আল্লাহ তা'আলা নিজ অনুগ্রহে আমাদেরকে বিষয়টি বোঝার এবং সে অনুপাতে আমল করার তাওফীক দান করুন। আমীন।

وَاخِرُ دَعْوَانَا أَنِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَلَمِينَ

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00