📄 এখনও ত্রুটি রয়েছে
আগুন জ্বালাতে জ্বালাতে যখন কিছু দিন পার হয়ে গেলো, তখন শাইখ একদিন মেথরকে নির্দেশ দিলেন যে, হাম্মামের কাছে এক ব্যক্তি বসা আছে, ময়লার টুকরি নিয়ে তার নিকট দিয়ে যাবে। এমনভাবে যাবে যাতে ময়লার গন্ধ তার নাকে লাগে। সে টুকরি নিয়ে হাম্মামের নিকট দিয়ে অতিক্রম করলো। সে তো ছিলো সাহেবজাদা, নওয়াবজাদার মতো জীবন কাটিয়েছে, কড়া দৃষ্টিতে তার দিকে তাকালো এবং বললো, তোর এতো বড় সাহস! এই ময়লার টুকরি নিয়ে আমার কাছ দিয়ে যাস! গাঙ্গুহ্ হলে দেখিয়ে দিতাম! শাইখ মেথরকে ডেকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি যখন টুকরি নিয়ে গেলে তখন কি হলো? সে বললো, সে তো অনেক রাগ হয়েছে এবং বলেছে- গাঙ্গুহ হলে তোমাকে শক্ত শাস্তি দিতাম। তিনি বললেন, ওহো! এখনো তো অনেক ত্রুটি আছে। এখনো চাউল গলেনি।
আরো কিছু দিন অতিবাহিত হলে শাইখ মেথরকে বললেন, এখন টুকরি নিয়ে এমনভাবে অতিক্রম করবে, যেন টুকরি তার শরীরের সাথে লেগে যায় তারপর আমাকে বলবে কি হলো? সে তাই করলো। শাইখ জানতে চাইলেন কি হলো? সে বললো, যখন আমি টুকরি নিয়ে তার নিকট দিয়ে অতিক্রম করি এবং তার শরীরের সাথে টুকরির ঘষা লাগে, তখন সে অত্যন্ত কড়া দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকায় কিন্তু মুখে কিছু বলেনি। শাইখ বললেন, আলহামদুলিল্লাহ। উপকার হচ্ছে।
📄 এখন দিলের ভূত ভেঙ্গেছে
তার কিছুদিন পর শাইখ বললেন, এবার এমনভাবে অতিক্রম করবে যে, টুকরি পড়ে গিয়ে অল্প ময়লা তার উপরেও যেন পড়ে। তারপর সে কি বলে তা আমাকে বলবে। সে তাই করলো। শাইখ জিজ্ঞাসা করলেন, এখন কি অবস্থা? সে বললো, এবার তো অবাক করার মতো ঘটনা ঘটেছে। আমি টুকরি ফেললে তার উপরও ময়লা পড়লো এবং আমিও পড়ে গেলাম। তখন সে তার নিজের কাপড়ের ব্যাপারে কোনো চিন্তা না করে আমাকে জিজ্ঞাসা করতে লাগলো যে, ব্যথা লাগেনি তো? শাইখ বললেন, আলহামদুলিল্লাহ! আল্লাহর শোকর। অন্তরে যে ভুত ছিলো তা বের হয়ে গেছে।
এবার তাকে ডেকে দায়িত্ব পরিবর্তন করে দিলেন। বললেন, এখন আর তোমাকে হাম্মামের কাজ করতে হবে না। এখন তুমি আমার সঙ্গে থাকবে। আমি কখনো কখনো শিকার করতে যাই। তখন আমার শিকারী কুত্তার শিকল ধরে আমার সাথে যাবে। এখন কিছুটা উঁচু স্তর লাভ হলো। শাইখের সঙ্গে সোহবত ও সাহচর্যের মর্যাদা লাভ হলো। তবে কুকুরের শিকল ধরে সাথে চলার নির্দেশ দেওয়া হলো। শিকার করার সময় কুকুর কোনো শিকার দেখলে সেদিকে দৌড় দেয়। শাইখ হুকুম করেছেন শিকল ছাড়বে না। এজন্য তিনি শিকল ছাড়েন না। কুকুর জোরে দৌড়াচ্ছিলো, কিন্তু তিনি শিকল ছাড়ছিলেন না। এমতাবস্থায় তিনি মাটিতে পড়ে যান। কুকুরের পিছনে পিছনে মাটিতে ছেঁচড়িয়ে চলছিলেন। শরীরের কয়েক জায়গা যখম হয়ে যায়। তিনি রক্তাক্ত হয়ে যান।
📄 সেই দৌলত আপনাকে দেওয়া হলো
রাতের বেলা শাইখ নিজের শাইখ হযরত আব্দুল কুদ্দুস গাঙ্গুহী রহ.-কে স্বপ্ন দেখলেন। তিনি বললেন, মিয়াঁ আমি তো তোমার দ্বারা এতো পরিশ্রম করাইনি। তখন তিনি সতর্ক হলেন। তাকে কাছে ডাকলেন, বুকে জড়িয়ে ধরলেন এবং বললেন, আপনি যেই দৌলত নিতে এসেছেন, আল্লাহ তা'আলা আমাকে যেই দৌলত আপনাদের ঘরে দান করেছিলেন আলহামদুলিল্লাহ আমি তার পুরোটা আপনাকে ন্যস্ত করেছি। দাদার উত্তরাধীকার আপনার কাছে স্থানান্তরিত হয়েছে। আল্লাহ তা'আলার দয়ায় এখন আপনি নিশ্চিন্তে দেশে ফিরে যান।
📄 ইসলাহের আসল উদ্দেশ্য
এ ঘটনা শোনানোর মূল উদ্দেশ্য হলো, সূফীয়ায়ে কেরামের আসল কাজ ছিলো আধ্যাত্মিক রোগের চিকিৎসা। কেবল ওযীফা, যিকির, তাসবীহ ও মা'মুলাত বলে দেয়া নয়। যিকির ওযীফা তাসবীহ ও মা'মুলাত হলো শক্তিবর্ধক খাবারের মতো। ইসলাহের সহযোগিতার জন্য এগুলো করানো হতো। কিন্তু আসল উদ্দেশ্য ছিলো আধ্যাত্মিক রোগ দূর করা। আত্মা থেকে অহংকার, হিংসা, বিদ্বেষ, আত্মশ্লাঘা, কপটতা, প্রদর্শন প্রবৃত্তি, পদলিপ্সা, দুনিয়ার মোহ ইত্যাদি বের করা। আত্মাকে এসব থেকে মুক্ত করা। আল্লাহর ভয় সৃষ্টি করা। আল্লাহর প্রতি আশা জাগ্রত করা। তাওয়াক্কুল, ইস্তিকামাত, ইখলাস ও আল্লাহর জন্য বিনয় সৃষ্টি করা তাসাউফের আসল উদ্দেশ্য।