📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 তাসাউফ কি?

📄 তাসাউফ কি?


এ কারণেই কোনো লোক যখন কোনো পীর সাহেবের কাছে যায়, তার হাতে হাত দিয়ে বাইয়াত হয়, তিনি কিছু ওযীফা দেন, কিছু আমল শিখিয়ে দেন যে, সকালে এটা পড়বে, সন্ধ্যায় এটা পড়বে, জিকির করবে; আজ এর নাম হয়েছে তাসাওউফ। এখানেই শেষ। না আত্মশুদ্ধির চিন্তা, না আখলাক পরিশুদ্ধ করার গুরুত্ব, না উত্তম গুণাবলী অর্জন করার আগ্রহ, আর না মন্দ চরিত্র বিলুপ্ত করার চেষ্টা; এসবের কিছুই নেই, বসে বসে কেবল ওযীফা পাঠ করছে। অনেক সময় এই ওযীফা পাঠ করা আধ্যাত্মিক রোগকে আরো মারাত্মক বানিয়ে দেয়।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 ওযীফা ও আমলের হাকীকত

📄 ওযীফা ও আমলের হাকীকত


ওযীফা, যিকির ও আমলের দৃষ্টান্ত শক্তিবর্ধক জিনিসের ন্যায়। শক্তিবর্ধক জিনিসের মূলনীতি এই যে, অনেক সময় অসুস্থ ব্যক্তি রোগাক্রান্ত অবস্থায় শক্তিবর্ধক জিনিস খেলে তার শক্তি বৃদ্ধি না পেয়ে উল্টো রোগ শক্তিশালী হতে থাকে। অসুস্থতা বৃদ্ধি পেতে থাকে। অন্তরে যদি তাকাব্বুর ভরা থাকে, উজুব ভরা থাকে আর বসে বসে ওযীফা পাঠ করে, যিকির করে তাহলে অনেক সময় এর ফলে ইসলাহের পরিবর্তে তাকাব্বুর আরো বেড়ে যায়। এজন্য বলা হয় যে, যখনই কোনো ওযীফা পাঠ করবে বা যিকির করবে, কোনো শাইখের দিকনির্দেশনায় করবে। কারণ শাইখ জানেন যে, এর চে' বেশি যিকির দিলে তার মধ্যে অহংকার সৃষ্টি হবে। এজন্য তিনি থামিয়ে দেন যে, এখন অধিক যিকিরের প্রয়োজন নেই। হযরত হাকীমুল উম্মাত (কু.সি.) চিকিৎসা স্বরূপ অনেক মানুষের ওযীফা ও যিকির বন্ধ করে দিয়েছেন। যখন দেখেছেন যে, তার জন্য এ ওযীফা ক্ষতির কারণ হচ্ছে তখন তা ছাড়িয়ে দিয়েছেন।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 মুজাহাদার আসল উদ্দেশ্য

📄 মুজাহাদার আসল উদ্দেশ্য


কিন্তু আজকাল তাসাওউফ ও পীর মুরীদির পুরো জোর আমল ওযীফার উপর। অমুক সময় এই যিকির করবে, অমুক সময় এই যিকির করবে এখানেই শেষ। তারা শুধু যিকিরের পিছনে লেগে আছে। ভিতরে যতো ব্যাধি উদ্বেলিত হোক না কেন সে দিকে লক্ষ নেই। আগের জামানায় সূফীয়ায়ে কেরাম আত্মশুদ্ধির প্রথম ধাপ হিসেবে মুরীদের ইসলাহের ফিকির করতেন। এরজন্য মুজাহাদা করাতেন, সাধনা করাতেন, ঘষা মাজা করাতেন। এর ফলে মানুষ পরিশুদ্ধ হতো, যোগ্য হতো।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 শাইখ আব্দুল কুদ্দুস গাঙ্গুহীর রহ.-এর নাতীর ঘটনা

📄 শাইখ আব্দুল কুদ্দুস গাঙ্গুহীর রহ.-এর নাতীর ঘটনা


হযরত শাইখ আব্দুল কুদ্দুস গাঙ্গুহী রহ. খুব উঁচু স্তরের আল্লাহর ওলী ছিলেন। আমাদের বুযুর্গদের শাজারার মধ্যে তাঁর অবস্থান অনেক উঁচুতে। তাঁর একজন নাতী ছিলেন। শাইখ জীবিত থাকতে নাতীর মধ্যে আত্মশুদ্ধির চিন্তা জাগেনি। সারা দুনিয়ার মানুষ এসে দাদার থেকে ফয়েয লাভ করতো কিন্তু তিনি সাহেবযাদা হওয়ার চিন্তায় নিমজ্জিত ছিলেন। নিজের আত্মশুদ্ধির জন্য দাদার শরণাপন্ন হননি। শাইখের ইন্তেকাল হলে তার আফসোস হয় যে, হায় আল্লাহ! আমি তো চরম বঞ্চিত হলাম। কতো দূর-দূরান্তের মানুষ এসে ফয়েয লাভ করলো আর আমি ঘরে থেকেও কিছু লাভ করতে পারলাম না! বাতির নীচে অন্ধকার। আফসোস জাগলে চিন্তা করতে লাগলেন যে, এখন কি করি? ক্ষতিপূরণ কি করে হতে পারে? মনে হলো, আমার দাদার থেকে যেসব লোক আত্মশুদ্ধির এই দৌলত লাভ করেছেন তাদের মধ্য থেকে কোনো একজনের শরণাপন্ন হই। দাদার খলিফাদের মধ্য উঁচু স্তরের বুযুর্গ কে তা খোঁজ করতে আরম্ভ করলেন। জানতে পারলেন যে, বলখে উঁচু স্তরের একজন বুযুর্গ আছেন। কোথায় গাঙ্গুহ্, আর কোথায় বলখ! যখন ঘরে এই দৌলত ছিলো, সবসময় তার শরণাপন্ন হতে পারতো, তখন কিছু অর্জন করেনি। অবশেষে বলখের এই দীর্ঘ কষ্টকর পথ সফর করতে হলো। সত্যিকারের অন্বেষণ ছিলো এজন্য তিনি সফরে বের হলেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00