📄 ক্রোধের মধ্যেও ভারসাম্য কাম্য
ক্রোধ যদি ভারসাম্যের সীমা অতিক্রম করে যায় তাহলে এটাও ব্যাধি। অন্যের অনিষ্ট থেকে আত্মরক্ষার জন্য যদি ক্রোধের উদ্রেক হয়, তাহলে এ পরিমাণ ক্রোধ তো ঠিক আছে। কিন্তু যদি প্রয়োজনের চেয়ে অধিক ক্রোধ হয়, যেমন একটা থাপ্পড় মারলেই কাজ হয়ে যেতো কিন্তু সে ক্রোধের শিকার হয়ে অবিরাম মেরেই চলছে তাহলে এই ক্রোধ সীমাতিরিক্ত ও গোনাহ। বিধায় ক্রোধ কম হলেও তা আধ্যাত্মিক ব্যাধি এবং বেশি হলেও আধ্যাত্মিক ব্যাধি। ক্রোধ সীমার মধ্যে থাকতে হবে। প্রয়োজনের সময় প্রয়োগ করতে হবে। বিনা প্রয়োজনে প্রয়োগ করা যাবে না। বিনা প্রয়োজনে ক্রোধ সৃষ্টি হলেও তা প্রয়োগ করা যাবে না।
📄 হযরত আলী রাযি. ও ক্রোধ
হযরত আলী রাযি.-এর ঘটনা আছে যে, এক ইহুদি হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শানে বেয়াদবিপূর্ণ কোনো কথা বললে হযরত আলী রাযি. ক্রোধান্বিত হন। তিনি ঐ ইহুদিকে ধরাশায়ি করে তার বুকের উপর উঠে বসেন। ইহুদি যখন দেখলো আর কোনো উপায় নেই তখন সে মাটিতে শোয়া অবস্থায়ই হযরত আলী রাযি.-এর চেহারায় থুথু নিক্ষেপ করে। এবার তো সে আরো বেশি গোস্তাখি করলো, ফলে তাকে আরো বেশি মারা উচিত ছিলো, কিন্তু তিনি বললেন- সে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শানে গোস্তাখি করোছলো বলে আমি তাকে শাস্তি দিয়েছিলাম। তখন আমার ক্রোধ আমার নিজের জন্য ছিলো না, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মর্যাদা রক্ষার্থে ছিলো, এজন্য আমি তার উপর উঠে বসি। কিন্তু যখন সে আমাকে থুথু নিক্ষেপ করে তখন আমার অন্তরে নিজের জন্য ক্রোধের সৃষ্টি হয়, নিজের জন্য প্রতিশোধ গ্রহণের প্রেরণা অন্তরে জাগে, তখন আমার স্মরণ হয় যে, নিজের জন্য প্রতিশোধ গ্রহণ করা ভালো নয়। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাত এই যে, তিনি কখনই নিজের জন্য কারো থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করেননি। এজন্য আমি তাকে ছেড়ে দিয়েছি। এটা হলো ক্রোধের ভারসাম্য। প্রথমে ক্রোধের উপযুক্ত ক্ষেত্র ছিলো, তাই ক্রোধের সৃষ্টি হয়েছিলো এবং তার উপর আমলও করেছেন। দ্বিতীয়টি ক্রোধের সঠিক ক্ষেত্র ছিলো না তাই তার উপর আমল করেননি। তিনি ইহুদিকে ছেড়ে দিয়ে দাঁড়িয়ে যান।
📄 ভারসাম্য প্রয়োজন
মানবাত্মার সমস্ত আখলাকের এই অবস্থা। সত্তাগতভাবে সেগুলো খারাপ নয়। ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় থাকলে তা ঠিক আছে। যদি ভারসাম্যের চেয়ে কমে যায় তাহলেও তা ব্যাধি, আর যদি বেড়ে যায় তাহলেও তা ব্যাধি। আত্মশুদ্ধির অর্থ হলো, আধ্যাত্মিক চরিত্রকে ভারসাম্যের মধ্যে রাখা। কম বা বেশি হতে না দেওয়া।
📄 আত্মার গুরুত্ব
এ কারণেই নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-
أَلَا إِنَّ فِي الْجَسَدِ مُضْغَةً إِذَا صَلُحَتْ صَلُحَ الْجَسَدُ كُلُّهُ وَ إِذَا فَسَدَتْ فَسَدَ الْجَسَدُ كُلُّهُ أَلَا وَهِيَ الْقَلْبُ
'খুব ভালো করে মনে রেখো! মানব দেহের ভিতর একটি গোশতের টুকরো রয়েছে, তা ঠিক হলে পুরো দেহ ঠিক হয়ে যায় আর তা খারাপ হলে পুরো দেহ খারাপ হয়ে যায়। ভালো করে শোনো! সেই গোশতের টুকরা যার কারণে পুরো দেহ ভালো থাকে বা খারাপ হয়ে যায় তা হলো মানুষের আত্মা।'
কিন্তু এর দ্বারা হৃৎপিণ্ডের গোশতের টুকরা উদ্দেশ্য নয়। হৃৎপিণ্ড ফাড়া হলে তার মধ্যে এসব ব্যাধি দৃষ্টিগোচর হবে না। না অহংকার দৃষ্টি গোচর হবে, না হিংসা, না বিদ্বেষ। ডাক্তারের কাছে গেলে সে আত্মার বাহ্যিক রোগসমূহ পরীক্ষা করে বলবে তার স্পন্দন ঠিক আছে কি না। শিরা উপশিরা ঠিক মতো কাজ করছে কি না। রক্তের সরবরাহ ঠিক মতো হচ্ছে কি না। ডাক্তারী পরীক্ষা ও যন্ত্রপাতি কেবল আত্মার বাহ্যিক আমলের রূপরেখা তুলে ধরে।